শৈবাল

নস্টালজিআর আকাশ

Decrease Font Size Increase Font Size Text Size Print This Page

নস্টালজিআর আকাশ
… শৈবাল

অনেকদিন ধরে অনেক পরিবর্তনের পরে
পরিবর্তনেরও পরিবর্তন হয়েছে অনেকটা ,
তবে কিছু অনুভূতি বেশ অবিকৃত থেকে
পুরনো হতে থাকে ;প্রচীন ঈশ্বরমূর্তির মত ।
যেমন আমার ছেলেবেলার আকাশ
তাকিয়ে থাকতাম অপলক দৃষ্টিতে
এক ঝাঁক কাক উড়ে গেলে ভাবতাম
সব কাক একত্রে বুঝি ;ভয়ঙ্কর আধাঁর আঁকে
আর ভোর হতেই আধাঁর ভেঙে কাক হয়ে যায় ,
এমন অনেক অবান্তর ভাবতে ভাবতে
হোঁচট খেয়ে পড়তে গেলে বাবা তুলে দিয়ে
বলতেন -বাবা সামনে তাকিয়ে হাঁট ।

বাবা আগে টুকটাক গল্প লিখতেন
এখন মোটা কাগজে নকশা করেন ,
আমি আগে কিছুই করতাম না
তবে , এখন কবিতা লিখি হরদম ।
বাবা গন্তব্যে পৌঁছান স্রোতের বিপরীতে সাঁতরে
আমি জলে গা ভাসিয়ে বন্দর খুঁজে চলছি ,
আগেতো বাবাকে ভাবতাম পান্থসখা , তবে
এখন মনে হয় সমগ্র পথটাই তিনি ।

‘বাবা ‘ আমি আর আধাঁর ভয় পাই না ,
কাকগুলোকেও ভালবাসতে ইচ্ছে করে
হাঁটার সময় আকাশ দেখি না
তবু সে আকাশ আমায় উদাস করে
যদিও জানি আকাশ শুধুই শূন্যতা
এ কাকগুলো ভাবনার মতই অবান্তর ।

[ উত্‍সর্গ : আমার নস্টালজিআর আকাশ ; আমার বাবাকে ]

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।


13 Responses to নস্টালজিআর আকাশ

  1. snmhoque@yahoo.com'
    আজিজুল আগস্ট 22, 2010 at 8:19 পূর্বাহ্ন

    বাবাকে? এটা আমার বিশেষ পচন্দের একখানা কবিতা- জানেন্তো কেন? অবান্তর' নামক একটা লিখা লিখেছিলাম এরই ধারাবাহুকতায়

  2. imrul.kaes@ovi.com'
    শৈবাল আগস্ট 22, 2010 at 9:36 পূর্বাহ্ন

    ধন্যবাদ স্যার ! এটা আমারও অনেক প্রিয় কবিতা । বাবা কেও দেখিয়েছি , আমার অনেক লিখাই বাবা বাসায় সবাই কে ডেকে পড়ে শুনান কিন্তু এই কবিতাটা পড়তে পড়তে শেষটায় এসে আর আওয়াজ করে পড়তে পারলে না । উত্‍সর্গে ছাপা ছিল " আমার নস্টালজিআর আকাশটা কে যার বিস্তার আমার কাছে আকাশের থেকেও বিস্তর " মাকে বললাম বলতো মা কাকে নিয়ে লিখেছি ?মা বললেন -বুঝেছি নিজের বাবারে নিয়ে লিখছেন "

    … আপনার " অবান্তর " পড়েছি সহজ ভাবে কঠিন কথা ।

  3. রিপন কুমার দে আগস্ট 22, 2010 at 2:42 অপরাহ্ন

    আমি শুধু এটুকুই বলব আপনাকে, আপনার এই কবিতাটি আমার পড়া অন্যতম একটা ভাল কবিতা। আপনার বাবর প্রতি শ্রদ্ধা। ভালো থাকবেন।

    • imrul.kaes@ovi.com'
      শৈবাল আগস্ট 23, 2010 at 5:22 পূর্বাহ্ন

      ধন্যবাদ । আপনার মা লেখটাও মনে বেশ লাগল , আপনার ও আপনার মায়ের প্রতি আমার শ্রদ্ধা বিনীত হোক ।

  4. monir_bd@yahoo.com'
    অজ্ঞাতনামা কেউ একজন আগস্ট 22, 2010 at 3:07 অপরাহ্ন

    সুন্দর সুন্দর সুন্দর।

  5. tareq_bd@yahoo.com'
    তারেক আগস্ট 22, 2010 at 3:08 অপরাহ্ন

    বাবাকে নিয়ে আবেগঘন কবিতা সবসময়ই অসাধারন।

  6. imrul.kaes@ovi.com'
    শৈবাল আগস্ট 22, 2010 at 4:45 অপরাহ্ন

    কৃতজ্ঞ সবার প্রতি ।

  7. imrul.kaes@ovi.com'
    শৈবাল আগস্ট 23, 2010 at 5:17 পূর্বাহ্ন

    ধন্যবাদ , কিছু কষ্ট আছে যা মন কে তিক্ত করে আর কিছু কষ্ট আছে যাতে মন কে সিক্ত করে । সত্যিই বলতে কি , আমার লেখা মন কে সিক্ত করতে পারলেই আমি কৃর্তাথ … কবিতা কিছু চিত্রকল্প কিছু স্মৃতি কিছু অবান্তর ভাবনা থাকতে পারে … তখন নোয়াখালী জিলা স্কুলে পড়তাম ,প্রায় প্রতি দিন বিকেলে বাবার সাথে হাঁটতে যেতাম ।নোয়াখালী কলেজ এর সমানের ইটের তৈরী রাস্তা দিয়ে হাঁটা শুরু করতাম পাশে একটা দিঘী ছিল তার পাড়ে একটা সবুজ মাঠ তাতে অনেক অনেক সাদা কাশ , মাঠ পার হয়ে আরো অনেক দূর দূরে চলে যেতাম নীল আকাশটা লাল হয়ে যেত রেল ক্রস পার হলে দু পাশে ধান ক্ষেত রেখে নাম ভুলে যাওয়া গ্রামটায় ডুকে পড়তাম সেখানে বাঁশের তৈরী ছোট্ট একটা মসজিদ , নামাজ পড়ে বাসার দিকে আবার হাঁটা ,আঁধার হতে শুরু করা আকাশে অনেক পাখি অনেক পাখি …

    তারপর বাবার চাকরীতে বদলী হলে চলে এলাম পূর্বপুরুষের জেলা কুমিল্লায় , কুমিল্লা ভিক্টরিয়া তাও শেষ দেখতে না দেখতে তারপর বাড়ি ছেড়ে বাবা মা আর এক মাত্র বন্ধু বোন কে ছেড়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে , বাড়ির বাইরে প্রথম সারা দিন ক্লাস করে বিকেলে বসে থাকি জানলার পাশে পাহাড়ের ওপাশের আকাশ দেখি আর কবিতা পড়ি । এক দিন দেখি হোস্টেল আর পাহাড়ের মাঝ দিয়ে স্টাফ কোয়াটারের দিকে যাওয়া সরু রাস্তা দিয়ে ছোট্ট একটা মেয়ে তার বাবার হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছে , কথায় কথায় অনেক প্রশ্ন মেয়টার বাবা এটা কেন ওটা কেন ? তখনই এই নস্টালজিয়া কবিতার পত্তন হয় মনে মনে …

    বোধ হয় এই ভাবে লেখা আসে শব্দরা ভর করে অনুভূতিতে ।

  8. imrul.kaes@ovi.com'
    শৈবাল সেপ্টেম্বর 3, 2010 at 6:25 পূর্বাহ্ন

    ধন্যবাদ !

  9. rabeyarobbani@yahoo.com'
    রাবেয়া রব্বানি ডিসেম্বর 28, 2010 at 3:54 অপরাহ্ন

    আপনার এই কবিতাটা অসাধারনের উপরে । আমার মন ভার করে বাবার কথা মনে হলো । আমি কবিকে প্রশংসা করার ভাষা পাচ্ছিনা । আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক । প্রীয়তে নিলাম ।

    • imrul.kaes@ovi.com'
      শৈবাল ডিসেম্বর 28, 2010 at 5:11 অপরাহ্ন

      নতুন কিছু লিখতে পারছিনা , সময়ের আভিযোগে অভিমানী শব্দরা আমার ঘট গড়ের মাঠ করে রেখেছে , লিখবো লিখবোই বলেও লিখতে পারছি না ,মা ঠিকই বলেন যখন কাজের চাপে পড়বি তখন কবি ভূত এমনিতে লেজ তুলে পাড়া ছাড়বে , সত্যিই ঘুণপোকা ভূতগুলো আমার ঘিলু ঘুঁজি ছেড়ে পালিয়েছে ।

      … আপনি খুঁজে পুরনো ধুলো জমা কবিতাটি পড়লেন । কি বলে যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি !
      আপনার জন্যেও শান্তি কামনা করছি ।আমার জন্য আরেকটা দোয়া করবেন ঘুঙুর বাজানো শব্দরা যেন আড়ি ভেঙ্গে আবারো ফিরে আসে …

You must be logged in to post a comment Login