মুরাদুল ইসলাম

বৃদ্ধ ব্রিজ এবং বদলে যাওয়া কাকদের গল্প

Decrease Font Size Increase Font Size Text Size Print This Page

ব্রিজটার রঙ লাল।টকটকে লাল না হালকা লাল।হলুদ রঙের কুকুরের রঙ যেমন বৃদ্ধ বয়সে বদলে যায় ,একটু ফ্যাকাসে হয়ে যায় ঠিক তেমনি বদলে যাওয়া ফ্যাকাসে লাল রং।তবুও প্রতিদিন গোধূলী লগ্নে ব্রিজটি যেন জ্বলে উঠে।ব্রিজটিতে আসলে দুটি বিপরীতমুখী স্রোতের মিলনক্ষেত্র।বামদিক ঘেষে নগর ছাড়ছে মানুষ,ডানদিক দিয়ে প্রবেশ করছে ব্যস্ত নগরে।নগরের সকল ব্যস্ততার শুরু যেন ব্রিজটিতে।নগরে প্রবেশরত এবং নগর হতে পলায়নরত উভয় শ্রেনীর মানুষের স্রোতের মধ্যেই ব্যস্ততা।প্রতিটি মানুষের চোখে মুখে ব্যস্ততা।সবচেয়ে ব্যস্ত মনে হয় এম্বুলেন্স গুলো।প্রচন্ড শব্দে হুইসেল বাজিয়ে ছুটে চলে ব্রিজের উপর দিয়ে।মানুষের স্রোতের ফাকঁ দিয়ে।তীক্ষ্ণ শব্দ করে ছোটে চলা এম্বুলেন্সগুলো দৃষ্টি কাড়ে।সবার দৃষ্টি না।নদীর পাড়ে হাওয়া খেতে আসা কিছু মানুষের দৃষ্টি।যদিও উপরে লাল আলো জ্বলিয়ে নিভিয়ে ছুটে চলা গাড়িটির চলন্ত দৃশ্য যুগপত আনন্দ বেদনাময় তবুও কেন জানি সবাই একে বেদনার দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখে।হুইসেল থেকে যেন আসে বেদনার সুর।সবার কানে সে সুর বাড়ি খায় তবে প্রবেশ করে সামান্য কিছু মানুষের মধ্যে।

পারাপার।এক পার থেকে অন্য পারে।মানুষের স্রোত।চলন্ত মানুষের স্রোত।ছোট বড় মানুষ।সবাই চলছে।লক্ষ্য তাদের এক শুধুই চলা।মাঝে মাঝে রিকশা।রিকশার উপরে বসা যাত্রীর উদ্দেশ্যও যাত্রা।রিকশার চাকার উদ্দেশ্যও তাই।যাত্রা।এ যেন এক মহাযাত্রার যাত্রাপথ।রিকশা ব্রিজের উপর তুলতে পিছনে টেলছে ছোট শিশু, যুবক এবং বৃদ্ধেরা।দুই টাকার বিনিময়ে।ভাঙতি না থাকলে কেউ কেউ পাচটাকাও দেয়।কদাচিত বলে একটা শব্দ আছে।এটা এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।ব্রিজের যে মুখটা নগরে অর্থাৎ নগর ছাড়ার প্রবেশমুখ সেই মুখে বা পাশে কয়েকটা ঝুড়িতে বাংলা ভাষা।ভাষার প্রথম পাঠ শিশুপাঠ্য বই।অ আ ক খ।রঙবেড়ঙের বর্নগুলো দৃষ্টি কাড়ে।কিছু কৌতুহলী শিশুদের দৃষ্টি।তার পাশে কয়েকজন বৃদ্ধ আঙটি এবং পাথর নিয়ে বসে থাকে।পরের দুর্ভাগ্য বদলানোর ব্যর্থ প্রয়াসে এরা আড়াল করতে চায় নিজের আজন্ম ক্ষয়ে যাওয়া ভাগ্য।এদের চোখের ভিতরে থাকে পোকায় খাওয়া সুখ। তা দেখে বিধাতার কাছে কেউ কেউ প্রার্থনা করে দাও না ওদের পাথরে একটুখানি ভাগ্য বদলের ক্ষমতা।বদলে যাক কিছু হতভাগ্য মানুষের ভাগ্য এবং এই ক্ষুদ্র পাথর ব্যবসায়ীর।শুনে বিধাতা হয়ত মুচকী হাসেন।সেই হাসির শব্দ ঢাকা পড়ে যায় ব্রিজটির উপরের ব্যস্ত মানুষের কোলাহলে।ব্রিজের মুখে এবং শেষ মাথায় দাঁড়িয়ে থাকে আরো কিছু মানুষ।সবাইকে ই তারা ব্যস্ত হাতে কাগজ গুজেঁ দেয়। গোপনীয় সব চিকিৎসার কাগজ।বেশীরভাগই ফেলে দেয়।তবুও আশ্চর্য ক্ষীপ্রতায় এরা কাগজ গুজেঁ দিতে তাকে। এদের কর্তব্যপরায়নতা দেখে মুগ্ধ হতে হয় কিন্তু চোখ দেখে হতে হয় লজ্জিত।নষ্ঠ সময়ে লজ্জিত হতে নেই ভেবে ভেবে কেঊ লজ্জাহীন দৃষ্টি দেখে কেউ লজ্জিত হয় না।সবেগে এড়িয়ে চলে।

নিচে গোলাপানি।শান্ত নদী।ছুটে চলা শান্ত স্রোত।নদীর পাড়ে সিড়ি সিড়ি করা ঘাটের মত।মানুষ গোসল করছে প্রায় সবসময়ই।নদীর পাড় বাধাঁনো।ভাঙ্গনের হাত থেকে বাচাঁর যুতসই প্রয়াস।

এ পর্যন্ত গল্প লিখে হঠাত গল্পকার আমাকে প্রশ্ন করলেন, রূপপোজ়ীবিনী মানে কি বলতে পারেন?

এমন প্রশ্নে বিস্মিত হয়ে বললাম, যারা রূপ বিক্রি করে জীবন ধারন করে।

আর দেহপুজীবিনী? উতসুক চোখে গল্পকারের প্রশ্ন।

বললাম, যারা দেহ বিক্রি করে জীবন ধারন করে।

ব্যস্ত ভঙ্গিতে গল্পকার আবার লিখতে শুরু করলেন,

ব্রিজের নিচে নদীর পাড়ে দেহপুজীবিনীদের বসত বাটি।গিঞ্জির মত।একটা উপন্যাসের নামের মত।পোকা মাকড়ের ঘর বসতি।প্রতিদিন রাতে নগরের বিভিন্ন প্রান্ত হতে এক ঝাক কাক এসে এখানে ভীড় করে।রাতের শেষে প্রভাতের আলো ফোটার আগেই তারা ফিরে যায় সুশোভিত ওই ন্গরে। রাত বদলে দিন হয় কাক বদলে হয় অন্যকিছু।

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।


6 Responses to বৃদ্ধ ব্রিজ এবং বদলে যাওয়া কাকদের গল্প

  1. muradt20@gmail.com'
    মুরাদুল ইসলাম ডিসেম্বর 26, 2010 at 6:10 অপরাহ্ন

    পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

  2. imrul.kaes@ovi.com'
    শৈবাল ডিসেম্বর 26, 2010 at 10:15 অপরাহ্ন

    আমিও এক দমে পড়লাম ।

  3. rabeyarobbani@yahoo.com'
    রাবেয়া রব্বানি ডিসেম্বর 27, 2010 at 2:18 পূর্বাহ্ন

    গল্পটা আগেই পড়েছি । বরাবরের মত সাবলিলতা আর কথা শিল্প পাঠকমুগ্ধতা আনে ।

You must be logged in to post a comment Login