নক্ষত্রের গোধূলি, পর্ব-৪৪ (চতুর্থ অধ্যায়)

(পূর্ব প্রকাশের পর)
ভিক্টোরিয়া কোচ স্টেশন, এরাইভ্যাল টার্মিনাল। কোচ থেকে নেমে লাগেজ নামিয়ে লাউঞ্জ দিয়ে বের হয়ে এসে সাগরের মত মনে হল। কোথা দিয়ে কি ভাবে যাবেন কোন কুল কিনারা পেলেন না। ভেবেছিলেন বেকার স্ট্রিটে নামবেন, ওখান থেকে চেনা ছিল, আগে এসেছিলেন। জ্যাকেটের পকেট থেকে টিউব ম্যাপটা বের করলেন। এ কি! এতো ভিন্ন পথ! ভিন্ন লাইনে যেতে হবে। না, অস্থির হলে চলবে না, দেখেশুনে এগুতে হবে। কিছুক্ষণ ভাবলেন কি ভাবে যাবেন। ম্যাপ দেখে পথ বের করলেন। আগে যেতে হবে ভিক্টোরিয়া টিউব স্টেশন, সেখান থেকে হলুদ রঙের সার্কেল লাইনে নটিংহিল গেট নেমে পশ্চিম মুখি লাল রঙের সেন্ট্রাল লাইন ধরে ইস্ট এ্যকটন। পাশে দিয়ে একজন যাচ্ছিল তাকে জিজ্ঞেস করে টিউব স্টেশনের দিকে হাটা শুরু করলেন। প্রথমে বাম দিকে মোড় তারপর সোজা। সেদিন খালি হাতে ছিলেন আর আজ রয়েছে সাথে বিশাল দুই লাগেজ। কষ্ট হচ্ছে, গলা শুকিয়ে আসছে কিন্তু কিছু করার নেই। ফিরোজের বাসায় পৌঁছে সেখান থেকে আবার এখানে আসতে হবে স্কটল্যান্ডের গাড়ি ধরার জন্যে। একটা মুহু্র্তও নষ্ট করা যাবে না। ভাবতে ভাবতে এগুচ্ছেন কিন্তু ভিক্টোরিয়া টিউব স্টেশন পাচ্ছেন না। একটু দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক দেখলেন, না কিছুই বোঝা যাচ্ছেনা। আবার একজনকে জিজ্ঞেস করলেন, সে একটু হেসে দেখিয়ে দিলো ওইতো ভিক্টোরিয়া, পিছনে ফেলে এসেছ। আবার উল্টো পথে এসে ভিক্টোরিয়া টিউব স্টেশনে পৌঁছলেন। এলাহি কারবার, দোকানপাট, ব্যাঙ্ক, ইনফরমেশন ডেস্ক মনে হল হাজার হাজার মানুষ। কারো সময় নেই যার যেদিকে গন্তব্য ছুটছে, কারো এক মুহু্র্ত সময় নেই। শুধু খাবার দোকান গুলোর আশেপাশে কিছু লোকজন দেখা যাচ্ছে যারা ছুটছে না। গলা শুকিয়ে গেছে, ঢোক গিলতে পারছেন না। আশেপাশে অনেক ছোট ছোট খাবারের দোকান তার একটা থেকে আধা লিটারের এক বোতল পানি কিনলেন এক পাউন্ড দশ পেনি দিয়ে। দাঁড়িয়ে আস্তে আস্তে পানি খেয়ে শান্ত হলেন। এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখতে পেলেন যেখান দিয়ে লোকজন নিচে চলে যাচ্ছে তার উপরে লেখা রয়েছে টিউব স্টেশন। যাক বাঁচা গেল। পানি শেষ করে সেদিকে এগিয়ে গেলেন, হ্যাঁ এইতো টিকেট কাউন্টার। আজও জোন এক এবং দুই এর ডে টিকেট নিয়ে সোজা নিচে নেমে গেলেন সার্কেল লাইন ধরার জন্য।

ফিরোজ বাসায়ই ছিল। দরজা খুলে তাকে দেখে বলল কি ব্যাপার এতো দেরি কেন? আস ভিতরে আস, একটু পরে আমি বের হব, ভাবছিলাম তুমি কখন আস।
কোথায় যাবে?
আমি একটু লিভারপুল যাবো।
এখন?
না বিকেলে।
তাহলে এখন কোথায় যাবে?
এখন যাবো ভিক্টোরিয়া, টিকেট আনার জন্যে।
গাড়ি নিয়ে যাবে? না ওখানে গাড়ি রাখা অসুবিধা, টিউবে যাবো।
লিভারপুলে যাবে তা কোচে কেন গাড়ি নিয়েই তো যেতে পার।
না রাতে একা এত দূর ড্রাইভ করতে ভালো লাগে না।
চল তাহলে আমিও তোমার সাথে ভিক্টোরিয়া যাই।
হ্যাঁ খেয়ে নাও আগে, তারপর বের হই, আমিও খাবো।
হ্যাঁ তা করা যায়। ভাবি কোথায়?
আছে, মনে হয় কিচেনে দাঁড়াও দেখছি।
ভাবি আসলেন,
কি খবর ভাই কেমন আছেন?
হ্যাঁ ভালো, আপনি?
অই একই রকম, আসেন খেয়ে নেন।
পুই শাক ভাজি, ইলিশ মাছ, মিষ্টি কুমরা আর চিংড়ি, ভেড়ার মাংস একেবারে বাঙ্গালি খাবার। ভাবি আপনার এইসব রান্না বান্না দেখে কিন্তু মনে হয়না যে আপনি এদেশে জন্মেছেন, এদেশে বড় হয়েছেন।
না ভাই, আসলে ব্যাপার হোল আপনার বন্ধু কিছুতেই ইংলিশ খাবারে অভ্যস্ত হতে পারেনি তাই আমাকেও অভ্যাস বদলাতে হয়েছে, তবে আমার শাশুড়ি যদি এখানে না থাকতেন তাহলে আমি এসব পারতাম না।
ওই দ্যাখ দেখি ফুফু আম্মার কথা ভুলেই গিয়েছি, কোথায় উনি আগে দেখে আসি তারপর বসছি।
আছে রুমেই আছে এতক্ষণ এখানেই ছিল যান।
ফুফু কেমন আছেন?
আমি ভালো আছি তোমার খবর কি, কাজ করতে পারছ, প্রথম প্রথম কষ্ট হচ্ছে না? কি করবে, সহ্য করে করতে হবে। ভাগ্য যখন তোমাকে এখানে এনে ফেলেছে, অন্য কোথাও কোন কিছু পেয়েছ?
হ্যাঁ ফুফু অক্সফোর্ডের ওই কাজটা ছেড়ে দিয়ে এসেছি। আজকেই স্কটল্যান্ডে যাচ্ছি। আমি গত সপ্তাহে এসেছিলাম আপনি বিউটির বাসায় গিয়েছিলেন তাই দেখা হয়নি।
হ্যাঁ, শেফালী বলেছিল, ভালোই হয়েছে। বেতনের ব্যাপারে আলাপ করেছ?
হ্যাঁ, করেছি এখানকার চেয়ে কিছু বেশি দিবে বলেছে।
আচ্ছা, মেয়েটা যে একা গেল ও কি পৌঁচেছে ভালো ভাবে? তোমার মেয়েরা কেমন আছে?
হ্যাঁ, ও ভালো ভাবেই পৌঁচেছে মেয়েরাও ভালো আছে।
ও হ্যাঁ, শেফালী তো মনির কথা বলেছিল ভুলে গেছি বাবা, আজকাল কিছু মনে থাকে না। আজকেই যাবে?
হ্যাঁ দেখি, ফিরোজের সাথে এখন ভিক্টোরিয়া যেয়ে টিকেট নিয়ে আসবো।
আচ্ছা খেয়ে যেও।
আপনিও খাবেন আসেন।
না তোমরা খাও আমার দেরি আছে, গোসল করবো নামাজ পরবো তারপর। ফিরোজ কোথায়?
আছে, ওই তো টেবিলে বসেছে।

ফিরোজ আগেই টেলিফোনে টিকেট বুক করে রেখেছিল এখন সেটা ডেলিভারি নিতে যাচ্ছে। টিউব স্টেশন থেকে বের হয়ে ফিরোজ বলল
দেখ, ভাল করে চিনে রাখ সবসময় যাতায়াত করতে হবে। এই দুই স্টেশন ভাল করে চিনে রাখ কাজে লাগবে। একটু এগিয়ে সামনে দেখিয়ে বলল দেখ ঐ যে সামনের সিডার গাছ গুলোর উপরে দেখা যাচ্ছে ভিক্টোরিয়া কোচ স্টেশন, আর এই যে বাম পাশে দেখ গ্রিন লাইন, রাস্তার উপর দেখ অক্সফোর্ড টিউবের কোচ দাঁড়িয়ে আছে, মনে রেখ।
হাটতে হাটতে স্টেশনে ঢুকে ডান দিকে গিয়ে আবার বাম দিকে ঘুরে সামনে দেখতে পেল টিকেট কাউন্টার। ফিরোজের টিকেট নেয়া হলে বলল
চল, এবারে তোমার টিকেট নিবে।
ডান পাশে লাইন ধরে কয়েকটা কাউন্টার, বেশির ভাগই বন্ধ, সাথেই পনের বিশ জন কিউতে দাঁড়ানো। রাশেদ সাহেব পিছনে দাঁড়ালেন, ফিরোজ পাশে দাড়িয়ে রইলো। কাউন্টারে পৌছতে বেশিক্ষণ লাগল না।
সিঙ্গেল ওপেন রিটার্ন ফর ওবান।
কবে কখন?
আজকে।
যিনি টিকেট দিচ্ছিলেন তিনি কম্পিউটারে দেখে বললেন সন্ধ্যা সাতটায় গাড়ি আছে, একটাই গাড়ি। আর আছে আগামী কাল সকালে।
আমাকে আজকের সন্ধারটাই দেন।
বায়ান্ন পাউন্ড।
হ্যাঁ দিচ্ছি।
পকেট থেকে ওয়ালেট বের করে গুনে বায়ান্ন পাউন্ড বের করে কাউন্টারে রাখলেন। লোকটা পাউন্ড গুনে রেখে কম্পিউটারে প্রিন্টিং কমান্ড দিলেন। সাথে সাথেই চারটা টিকেট প্রিন্ট হয়ে এলো। লোকটা সেগুলি একটা একটা করে দেখিয়ে বলল
এটা হোল পেমেন্টের রসীদ, এটা এখান থেকে গ্লাসগো, গ্লাসগোতে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। এটা গ্লাসগো থেকে ওবান আর এটা হল তোমার রিটার্ন ডকুমেন্ট, এটা সাবধানে রাখবে। ওখান থেকে ফেরার আগে আমাদের ন্যাশনাল এক্সপ্রেসের অফিসে কিংবা কোন এজেন্টের কাছে গিয়ে তারিখ কনফার্ম করে নিতে হবে, তখন দুই পাউন্ড নিবে।
বলে সবগুলি একটা খামে ভরে হাতে দিয়ে দিলেন। কাউন্টার ছেড়ে এসে ফিরোজের সামনে দাড়িয়ে খাম খুলে ওগুলি বের করে দেখে বুঝে নিয়ে পকেটে রেখে বললেন
চল যাই। নাকি আর কোথাও যাবে?
তোমার গাড়িত ছয়টায় এখন বাজে সাড়ে তিনটা।
যাবার সময় নেই চল বাসায় যাই।

বের হয়ে যাচ্ছিল হটাত ফিরোজের কি মনে হতে ঘুরে দাঁড়ালো।
চল তোমাকে দেখিয়ে দেই কি ভাবে কোথায় থেকে বোর্ডিং গেট দিয়ে গাড়িতে উঠবে, নয়তো খোজা খুঁজি করতে করতে যখন গেট পাবে দেখবে গাড়ি ছেড়ে গেছে, আস আমার সাথে।
ভিক্টোরিয়া কোচ স্টেশনের ডিপার্চার লাউঞ্জ সম্পূর্ণটা ঘুরে দেখল। ব্রিটেনের কত শত জায়গায় যে কোচ ছেড়ে যাচ্ছে এই ভিক্টোরিয়া থেকে। আবার ইউরো টানেল হয়ে ইউরোপের অনেক শহরেও যাচ্ছে। প্রত্যেক গেটের উপরে মনিটরে কোথাকার গাড়ি কখন কোন গেট থেকে ছাড়বে সব পরিষ্কার করে লেখা, এমনকি কোনটা যদি কিছুক্ষণ দেরি করে ছাড়ে সে লেখাও উঠছে। দিন রাত ব্যস্ত টার্মিনাল।
হ্যাঁ দেখলাম। তুমি দেখিয়ে দেয়াতে ভালো হল নয়তো তখন এসে খোঁজাখুঁজি করতে অবশ্যই কিছু সময় ব্যয় হত। হ্যাঁ, চল এবার।
টিউবে বসে কথা হচ্ছিল।
তুমি লিভারপুল যাচ্ছ কেন?
ওখানে একটা হোটেল বিক্রি হবে তাই দেখতে যাচ্ছি, পছন্দ হলে কিনে নিবো। ভাল ব্যবসা, তবে শুনলাম শীত কালে ব্যবসা তেমন হয়না যা হয় সামারে, ওতেই হয়ে যায়।
হোটেল কিনবে, একা নাকি সাথে তোমার সম্বন্ধীরা কেউ থাকবে?
না না একাই, ওদের কাওকে সাথে নিব না তবে ওরাই খবর দিয়েছে, দেখি কি হয়।
দেখ যদি হয় তাহলে আমার একটা গতি করে দিও, আমিতো তোমার উপর নির্ভর করেই এসেছিলাম। তোমার রেস্টুরেন্ট আছে তাই ভেবেছিলাম ওখানে কিছু কাজ টাজ করা যাবে তা তুমি আবার সেটা বিক্রি করে দিয়েছ।
কি করবো বল, ওতে আরও দুই জন পার্টনার ছিল তারা বেইমানি করলো। ওরা এক এলাকার মানুষ আর আমি একা। স্বাভাবিক ভাবেই তাদের শক্তি বেশি তাই আর কোন পথ না পেয়ে ছেড়ে দিতে হল। আমি একা মানুষ সামাল দিতে পারলাম না। তুমি যদি আর একটা বৎসর আগে আসতে তাহলে হয়তো অন্য ভাবে ভাবার সুযোগ পেতাম। এখানে আমাদের এলাকার মানুষ নেই বললেই চলে। যারা আছে তারা আবার এই ব্যবসায় আসতে চায়না। না ভুল বললাম এই ব্যবসাই না তারা আসলে কোন ব্যবসাই করতে চায়না। এই চাকরি বাকরি যা পায় তাতেই চলে। আচ্ছা শোন তোমার একান্ত প্রয়োজনীয় যা তাই নিয়ে যেও অযথা বেশি জিনিষ নিয়ে বোঝা বারিওনা, বাসায় রেখে যেও। পাসপোর্টটাও নেয়ার দরকার নেই, রেখে যেও। টাকা পয়সা যা পাবে কখনো বালিশের নিচে কিংবা অন্য কোথাও রেখ না। সবসময় সাথে রাখবে।
পাসপোর্ট রেখে যেতে বলছ কোন সমস্যা হলে?
কিচ্ছু হবে না, তেমন কিছু হলে সাথে সাথে আমাকে ফোন করবে। সাথে থাকলে কি হবে জান?
হ্যাঁ বুঝতে পেরেছি।

দেখ মানুষকে বিশ্বাস করা খুব সহজ। বিশ্বাস করতে ভালো লাগে। কে চায় অন্যকে অবিশ্বাস করে নিজের মনকে কলুষিত করতে? আর কেনইবা তা করবে? কোন মানুষ অপরাধী হয়ে পৃথিবীতে আসে না, এখানে এসে অপরাধী হয়। কেও হয় বাধ্য হয়ে আবার কেও হয় নিজের প্রবৃত্তির কারণে আর কেও হয় পরিবেশের কারণে। সহজাত ভাবে মানুষ কোমল মনের দয়া মায়ায় ভরা এবং অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল নিরীহ প্রাণী। মিথ্যা কি জানে না। আস্তে আস্তে মায়ের বুক থেকে মেঝেতে নামে তখন সামান্য কাঠিন্য অনুভব করে। তারপরে নামে ঘরের মেঝেতে তখন একটু আছাড় খায়, এটা ওটায় ধাক্কা লাগে খোঁচা লাগে, হাঁটু শক্ত হয়। বাড়ির ভাই বোনদের সাথে খাবার ভাগ হয়, শুরু হয় প্রতিযোগিতা আর হিংসার প্রথম পর্ব। তখন কেউ কেউ ধমক দেয়ার চেষ্টা করে কেড়ে নিতে চায়, তাতে মনে আঘাত লাগে। কাঠিন্যের দ্বিতীয় পর্যায়ে চলে আসে। এরপর বের হয় ঘরের বাহিরে। তখন থেকে শুরু হয় কাঠিন্যের তৃতীয় অধ্যায়, ক্রমে ক্রমে তা বারতেই থাকে। এই এখন শিখতে আরম্ভ করে যাবতীয় পশুত্ব, মানে কাঠিন্যের চতুর্থ অধ্যায়। সে স্বেচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক এর পরের অংশ দাঁড়ায় কে কোন পরিবেশে বড় হচ্ছে তার উপর। এ তো দেখতেই পাচ্ছ। তুমি যদি কাউকে সুযোগ না দাও তাহলে কে তোমার টাকা চুরি করবে? হ্যাঁ জোড় করে ছিনিয়ে নিতে পারে কিন্তু চুরি করতে পারবে না। এখন সমস্ত পরিস্থিতিটা এমন হয়েছে যে যেখানে মানুষ অপরাধ করার সুযোগ পায় সেখানে তো অপরাধ করবেই। যেমন দেখ এই দেশে তুমি ইচ্ছা করলেই কি যেখান সেখান দিয়ে রাস্তা পার হতে পারবে? পারবে না, কারণ সেরকম কোন উপায় নেই। প্রতিটা ট্রাফিক সিগন্যালের উপর সিসি ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিং করছে। তুমি কি ইচ্ছা করলে মটর ওয়েতে যে কোন গাড়ির সামনে দাড়াতে পারবে? পারবে না। যে রাস্তায় যত স্পীড লিমিট রয়েছে তার চেয়ে বেশি স্পীডে গাড়ি চালাও কোন মানুষ দেখবে না কিন্তু তোমার গাড়ির ছবি উঠে গেছে। কয়েক দিন পরেই দেখবে ছবি সহ পুলিশ স্টেশনে হাজির হবার নির্দেশের চিঠি তোমার বাসায় হাজির। এরকম তিনবার হলেই তোমার লাইসেন্স সাসপেন্ড হয়ে যাবে হয়তো এক বা দুই বা তিন বছরের জন্যে। এর ফলে কি হচ্ছে, আমাদের দেশের মত এখানে যখন তখন সড়ক দুর্ঘটনা হচ্ছে না। বাড়ি থেকে কেউ বের হবার পর আবার নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবে কিনা সেরকম উৎকণ্ঠায় থাকবে না। পুলিশের গাড়ি, এম্বুলেন্স যাতায়াতে কোন বাধার সৃষ্টি হচ্ছে না, গাড়ির গতি অলস হচ্ছে না, ট্র্যাফিক জ্যামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে না, অহেতুক তেল পুরছে না। তাই বলে যে দুর্ঘটনা এখানে হচ্ছেনা তা আমি বলছিনা। এখানেও দুর্ঘটনা হচ্ছে, লোক জন মরছে কিন্তু তার একটা উপযুক্ত কারণ রয়েছে। এখানে তুমি যদি তোমার স্বাভাবিক কাজ কর্ম কর তোমার স্বাভাবিক জীবন যাপন কর তাহলে তোমাকে দিনের মধ্যে অন্তত সতের বার সিসি ক্যামেরার সামনে আসতে হবে। এই যে দেখ রাস্তায় এখানে সেখানে ক্যাশ মেশিনে হাজার হাজার পাউন্ড রয়েছে, তোমার নির্দিষ্ট কার্ড রয়েছে তুমি সেখান থেকে টাকা উঠিয়ে নিচ্ছ কোন সমস্যা হচ্ছেনা। কিন্তু তুমি একবার চেষ্টা করে দেখত কার্ড ছাড়া টাকা বের করতে পার কিনা। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের গাড়ি এসে ঘিরে ফেলবে। চল এসে পরেছি, এর পরের স্টেশনে নামতে হবে। (চলবে)

  • Facebook
  • Twitter
  • Share/Bookmark

Leave a Reply