মননে,প্রেমে ও প্রকৃতিতে রবীন্দ্রনাথের ছায়া


আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি। দেখি উড়ছে মেঘ। কাছে আসছেন একজন রবীন্দ্রনাথ।
আর বলছেন, আমি আছি তোমাদের ছায়ায়।
একসময় তাঁকে পড়েছি খুব। এখনও শুনে যাই, পড়ি। তাঁর গান। কবিতা। গদ্য। জীবনের প্রেমে , চারপাশের প্রকৃতিতে তিনি জেগে থাকেন। জাগিয়ে রাখেন। ছায়া হয়ে চলেন সাথে সাথে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম। যারা আলো চায় , তারাই গেয়ে উঠে — ‘‘ আলো আমার আলো ওগো ’’।
তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কবিগুরু। বাঙালির শ্রেষ্ট মনন। আলোকবর্তিকা। কি লিখেন নি তিনি ? তাঁর রচনা সম্ভার , মানুষের মন কে গর্বিতই করে না – শক্তি ও দেয় ।
ধরা যাক , ‘১৪০০ সাল ’ কবিতাটির কথা। তিনি যে চিত্র এঁকে গিয়েছিলেন , তা নবীন পাঠককে এখনো ভাবায়। মনে হয় ,কবিগুরুকে সামনে রেখেই কেউ পড়ছে সেই অমর কবিতাখানি ! তিনি, থেকে গেছেন এভাবেই আমাদের জীবনে।
রবীন্দ্রনাথের মননে ছিল একটি আধ্যাত্মিক শক্তি। তার ‘গীতাঞ্জলি’ গ্রন্থখানির গানগুলো
সেই চিরন্তন সত্যই পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বব্যাপী, মানুষে। তিনি ছিলেন একজন শ্রেষ্ঠ বাউলের প্রতিকৃতি।বাউল দর্শন রবীন্দ্রনাথের চেতনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিলো। রবীন্দ্রনাথের জবানিতেই আমরা কথাটি জেনে নিতে পারি। ‘হারামণি’র ভূমিকাতে রবীন্দ্রনাথ বাংলা ১৩৩৪ সালে বিষয়টি এভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন, -‘আমার লেখা যাঁরা পড়েছেন, তাঁরা জানেন, বাউল পদাবলীর প্রতি আমার অনুরাগ আমি অনেক লেখায় প্রকাশ করেছি। শিলাইদহে যখন ছিলাম, বাউল দলের সঙ্গে আমার সর্বদাই দেখা সাক্ষাৎ ও আলাপ আলোচনা হ’ত। আমার অনেক গানেই আমি বাউলের সুর গ্রহণ করেছি। এবং অনেক গানে অন্য রাগ বাগিনীর সঙ্গে আমার জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে বাউল সুরের মিল ঘটেছে। এর থেকে বোঝা যাবে, বাউলের সুর ও বাণী কোন সময়ে আমার মনের মধ্যে সহজ হ’য়ে মিশে গেছে।’ (মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন (সম্পাদিত; হারামণি, ৫ম খন্ড; আশীর্বাদ’ পৃষ্টা-ক)। আর এই বাউলবাদ হচ্ছে আপামর বাঙালি প্রাণের একান্ত নির্যাস।
দুই
সমাজ, জীবন ও প্রকৃতি কে নতুন করে সবসময় সাজাতে চেয়েছেন কবিগুরু। বৈশাখ ,বর্ষা, শরত,হেমন্ত, শীত ,বসন্ত সব ঋতু ছাড়িয়ে তাঁর কাছে বড় হয়ে উঠেছে মানবঋতু। জীর্ণতা মুছে দিয়ে নতুনকে আহ্বান করেছেন কবি তাঁর প্রতিটি লেখায়।
বলেছেন-
এসো হে বৈশাখ ! এসো এসো,
তাপস নিশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক
যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি,
অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক।
মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা
রসের আবেশ রাশি শুষ্ক করি দাও আসি,
আনো আনো আনো তব প্রলয়ের শাঁখ
মায়ার কুজ্ঝটিজাল যাক দূরে যাক।
রবীন্দ্রনাথ কোনো রাজনীতিবিদ ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সচেতন এবং সমাজ বৈষম্য নিধনকারী, পবিরর্বতনকামী নাগরিক। তিনি চেয়েছেন মানুষের মধ্যে ঐক্য ও উদার মানবিকতার প্রতিফলন ঘটুক। তিনি সমাজ বদলের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। সমাজের ভেতরে মানুষের কর্মোদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। সমাজবিরোধীশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে সমবেত আত্মশক্তির প্রয়োজন উপলব্ধি করেছেন সেই সময়েই। ব্যক্তি সমাজ সৃষ্টি করে, আর সমাজ সৃষ্টি করে রাষ্ট্রের। সমাজে সৎ অংশগ্রহণ সৎ রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্ম দেয়। এটা ছিল তাঁর কর্মের মূল প্রত্যয়।
রাষ্ট্রে অসৎ প্রতিনিধিত্ব জন্ম দেয় বিশৃঙ্খলা, কর্মহীনতা। রবীন্দ্রনাথ সমাজের, দেশের নানা সমস্যা থেকে পরিত্রাণের পথের কথা ভেবেছেন। শুধু ভেবেছেন বললে ভুল হবে তিনি তঁর সীমিত পরিসরে অনেক সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয়েছেন। তিনি মানুষের জন্য কৃষি, শিক্ষা, সমবায় নিয়ে ভেবেছেন। নিয়তিবাদী ধারণা আঁকড়ে না থেকে সংকীর্ণতা পরিহারপূর্বক উদার চিন্তা, আর্দশিক চিন্তা গ্রহণের সুপরামর্শ দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ বৃহৎ বিশ্বের পথে পা বাড়ালেও সবসময় তাঁর সঙ্গেই ছিল স্বদেশ-বাংলা। স্বদেশের মানুষের জন্য তিনি ছিলেন আজন্ম চিন্তক। তিনি তাঁর জীবনের অর্ধেক সময় কাটিয়েছেন ছায়া-সুশীতল শান্তিনিকেতনে। তাঁর চিন্তা ও চেতনায় ছিল মানুষের উন্নয়ন। গ্রামের মানুষের ভাগ্যন্নোয়নে চেয়েছিলেন কৃষিভিক্তক স্বাবলম্বী গ্রাম, তিনি সর্বদাই কাজ আর আনন্দকে এক সূত্রে গাঁথতে চেয়েছেন। মানুষের প্রতি ছিল তাঁর সত্যিকার শ্রদ্ধা, সহানুভূতি। গ্রামীণ জীবনের প্রতি ছিল তাঁর একাত্মবোধ, ভারত উপমহাদেশের রাজনৈতিক দাসত্বের মুক্তির প্রয়াসে তাঁর সমর্থন ছিল ভারতবাসীর প্রেরণা। সারা পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্যতা থেকে তিনি বহুকিছু গ্রহণ করেছেন, স্বজাতির জন্য।
সমাজের সকল দেয়াল ভেঙে তিনি মানবতার জয়গান গেয়েছেন তাঁর গল্পে, গদ্যে, নাটকে। একজন লেখকের সত্তা যে লেখার সবক্ষেত্রে বিচরণ করতে পারে, রবীন্দ্রনাথ সে প্রমাণ টি করে গেছেন নিপুণহাতে। গানে তিনি দেখিয়েছেন তাঁর অভিনব শ্রেষ্টত্ব। তাঁর গানগুলো শুনলে মনে হয় ,আত্মা যেন প্রার্থনায় রত হচ্ছে বার বার প্রেমে কিংবা অন্নেষায়। ‘ আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে’ , কিংবা ‘যে দিন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন ’ – পংক্তিগুলো আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় আত্মান্নেষণের কথা। আমরা ক্ষণিকের জন্য হলেও ভুলে যাই এই জগতের মোহ।

‘‘পত্র সাহিত্য’’ যে কত সমৃদ্ধ ও ঐতিহাসিক হতে পারে তা তিনি প্রমান করে গেছেন বাংলা সাহিত্যে। বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গকে লেখা তাঁর চিঠি সে সময়ের সাহিত্য , সমাজ, দর্শন, চিন্তা, এবং চেতনাকে ধারণ করে রেখেছে। যা যে কোনো গবেষকের ভাবনার খোরাক হবে যুগে যুগে।
কবিগুরুর লেখা পত্রসমূহ বাংলা সাহিত্যকে ভিন্ন মান, অন্যমাত্রা দিয়েছে। কবি তাঁর জীবনের গভীরতম ভাষ্য ছিন্নপত্রাবলীতে, সেটা উল্লেখও করেছেন।
রবীন্দ্রনাথ সমগ্র জীবনে যে পরিমাণ চিঠি লিখেছেন এ পর্যন্ত কোনো সাহিত্যিক এত চিঠি লেখেননি। তাঁর চিঠিকে প্রধানতঃ দু’টি শ্রেণীতেভাগ করা যায়। তা হচ্ছে : আত্মবিশ্লেষণমূলক পত্র এবং সামাজিক প্রয়োজননির্ভর পত্র।
অনেক কথার ভিড়ে , অন্তরঙ্গজনের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের পত্রালাপ যে সাহিত্য- তার প্রমাণ কবির ভাইঝি ইন্দিরা দেবীকে লেখা ছিন্নপত্রাবলী। ইন্দিরা দেবীকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৯৩ খৃষ্টাব্দের ১৬ মে একটি চিঠি লিখেছিলেন শিলাইদহ থেকে। এই চিঠির প্রতিটি শব্দ এবং বাক্যের সাথে মিশে গিয়ে কবির আত্মস্থ মগ্নতা কীভাবে জীবনকে স্পর্শ করেছে তার প্রমাণ আমরা পাই।
তিনি লিখেছেন–
“আমি প্রায়ই মনে করি, এই তারাময় আকাশের নীচে আবার কি কখনও জন্ম গ্রহণ করব? যদি করি, আর কি কখনও এমন প্রশান্ত সন্ধাবেলায় এই নিস্তব্ধ গোরাই নদীটির উপর বাংলাদেশের এই সুন্দর একটি কোণে এমন নিশ্চিন্ত মুগ্ধ মনে জলিবোটের উপর বিছানা পেতে থাকতে পারব? হয়তো আর কোন জন্মে এমন একটি সন্ধ্যাবেলা আর কখনো ফিরে পাব না। তখন কোথায় দৃশ্যপরিবর্তন হবে। আর কিরকম মন নিয়েই বা জন্মাব। এমন সন্ধ্যা হয়তো অনেক পেতেও পারি, কিন্তু সে সন্ধ্যা এমন নিস্তব্ধভাবে তার সমস্ত কেশপাশ ছড়িয়ে দিয়ে আমার বুকের উপর এত সুগভীর ভালোবাসার সঙ্গে পড়ে থাকবে না। আমি কি এমন মানুষটি তখন থাকব? আশ্চর্য এই আমার সবচেয়ে বড় ভয় হয় পাছে আমি য়ুরোপ গিয়ে জন্মগ্রহণ করি। কেন না সেখানে সমস্ত চিত্তটিকে এমন উপরের দিকে উদঘাটিত রেখে পড়ে থাকবার জো নেই এবং পড়ে থাকাও সকলে ভারী দোষের বিবেচনা করে। হয়তো একটা কারখানায় নয়তো ব্যাংকে নয়তো পার্লামেন্টে সমস্ত দেহমন প্রাণ দিয়ে খাটতে হবে শহরের রাস্তা যেমন ব্যবসা-বাণিজ্য গাড়িঘোড়া চলবার জন্য ইটে বাধানো, কঠিন, তেমনি তাতে একটি কোমল তৃণ একটি অন্যাবশ্যক লতা গজাবার ছিদ্রটুকু নেই। ভারী ছাঁটা-ছোঁটা গড়াপেটা আইনে-বাঁধা মজবুত রকমের ভাব। কী জানি, তার চেয়ে আমার এই কল্পনা প্রিয় অকর্মন্য আত্মনিমগ্ন বিস্তৃত-আকাশ-পূর্ণ মনের ভাবটি কিছু মাত্র অগৌরবের বিষয় বলে মনে হয় না।”

তিন
রবীন্দ্রনাথ ছিলেন প্রকৃত মৃত্তিকা প্রেমিক কবি। কোনো কবির লেখা সংগীত , দুটি রাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত হয়েছে – সে উদাহরণ তিনি। তাঁর সেই পংক্তি – ‘ গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙামাটির পথ আমার মন ভুলায় রে ’ গেয়ে যখন কোনো শিল্পী মঞ্চে দাঁড়ান , তখন মনে হয় সেই গ্রামটি ভেসে যাচ্ছে সহস্র শ্রোতার বুকের পাঁজর চিরে।
কবিগুরু নিজেকে সবসময়ই ভাবতেন- নিজগৃহে পরবাসী হিসেবে।
‘প্রবাসী’ কবিতার প্রথম স্তবকটিতে তিনি এভাবেই লিখেছেন—

সব ঠাঁই মোর ঘর আছে, আমি সেই ঘর মরি খুঁজিয়া।
দেশে দেশে মোর দেশ আছে, আমি সেই দেশ লব যুঝিয়া,
পরবাসী আমি যে দুয়ারে চাই-
তারি মাঝে মোর আছে যেন ঠাঁই,
কোথা দিয়া সেথা প্রবেশিতে পাই সন্ধান লব বুঝিয়া,
ঘরে ঘরে আছে পরমাত্মীয়, তারে আমি ফিরি খুঁজিয়া।

রবীন্দ্রনাথের ‘সত্যের আহ্বান’ প্রবন্ধ থেকে আমরা পাই নতুন পথের সন্ধান। যেমন,
তিনি লিখেছেন-“মানুষের সঙ্গে মানুষের যে সম্বন্ধ এক মহাদেশ থেকে আর এক মহাদেশে ব্যপ্ত, তার মধ্যে সত্যের সামঞ্জস্য যতক্ষণ না ঘটবে ততক্ষণ এই কারণ নিবৃত্তি হবে না। এখন থেকে যে-কোনো জাতি নিজের দেশকে একান্ত স্বতন্ত্র করে দেখবে, বর্তমান যুগের সঙ্গে তার বিরোধ ঘটবে, সে কিছুতেই শান্তি পাবে না৷ এখন থেকে প্রত্যেক দেশকে নিজের জন্যে যে চিন্তা করতে হবে সে চিন্তার ক্ষেত্র হবে জগত্‍জোড়া। চিত্তের এই বিশ্বমুখী বৃত্তির চর্চা করাই বর্তমান যুগের শিক্ষার সাধনা৷” তিনি ‘রাশিয়ার চিঠি’তে লিখেছেন, “যা দেখছি তাই আশ্চর্য ঠেক্ছে, অন্য কোনো দেশের মতই নয় । একেবারে মুখে প্রভেদ। আগাগোড়া সকল মানুষকেই এরা সমান করে জাগিয়ে তুলছে।”
সমাজতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থার পক্ষে কবির এটা ছিল সরল পক্ষপাত। যা মূলতঃ মানবতাবাদ, অসাম্প্রদায়িকতারই জয়গান গেয়েছে।
পৃথিবীর সব দেশের সমাজচিত্র তার ধ্যানে থাকায় তার অর্থনীতি বিষয়ক চিন্তাও ছিল খুবই পরিচ্ছন্ন। তাই তিনি অকপটে বলেছিলেন-, “যেখানে মূলধন ও মজুরির মধ্যে অত্যন্ত ভেদ আছে সেখানে ডিসক্রাসি পদে পদে প্রতিহত হতে বাধ্য। কেননা, সকল রকম প্রতাপের প্রধান বাহক হচ্ছে অর্থ। সেই অর্থ অর্জনে যেখানে ভেদ আছে সেখানে রাজপ্রতাপ সকল প্রজার মধ্যে সমানভাবে প্রবাহিত হতেই পারে না৷” বাহ! কত সাবলীল তার যুক্তি।
বাঙালি সংস্কৃতির আভা ও বহমানতাকে জীবনের বাস্তবতার সাথে মিশিয়ে দিয়ে গেছেন কবিগুরু। সকল সংকীর্ণতা ,সাম্প্রদায়িকতা, দীনতার বিরুদ্ধে তাঁর সোচ্চার লেখনী বিভিন্ন ভাবে শক্তি যুগিয়েছে মানুষকে। একটি জাতিসত্তার পরিধি ব্যাপৃত হয় , সে জাতির লেখক-কবিদের শব্দপ্রেরণার মধ্য দিয়ে।
‘সাহিত্যের মূল্য’ প্রবন্ধটিতে তিনি লিখেছেন-“জীবন মহাশিল্পী৷ সে যুগে যুগে দেশে দেশান্তরে মানুষকে নানা বৈচিত্রে মূর্তিমান করে তুলছে। জীবনের এই সৃষ্টিকার্য যদি সাহিত্যে যথোচিত নৈপুণ্যের সঙ্গে আশ্রয় লাভ করতে পারে তবেই তা অক্ষয় হয়ে থাকে। সাহিত্যে যেখানেই জীবনের প্রভাব সমস্ত বিশেষ কালের প্রচলিত কৃত্রিমতা অতিক্রম করে সজীব হয়ে ওঠে সেইখানেই সাহিত্যে অমরাবতী।”
তিনি বৃটিশ শাসনাধীন উপমহাদেশের বাংলা ভাষাভাষিদের জন্য সেই সুবৃহৎ কাজটি করে গিয়েছেন নির্দ্বিধায়।
রবীন্দ্রনাথ সবসময় ছিলেন নতুনের পূজারী। তাঁর ‘‘গীতাঞ্জলি’’ গ্রন্থটির প্রতিটি পংক্তি পড়েই আমার মনে হয়েছে তিনি এক অবিনাশী সত্তার সন্ধান করে গেছেন আজীবন। যে মানবতার আলো এই বিশ্বের মানুষকে প্রেমময় করে তুলবে দিনরাত। করে তুলবে সমুদ্রের মতো উদার।
গল্পে তিনি অত্যন্ত কঠিন মমতা দিয়ে চিত্রায়ন করে গেছেন মানব জীবনচরিত। তাঁর বহুল পঠিত ‘‘ কাবুলিওয়ালা’’ ,‘‘ বলাই’’ প্রভৃতি গল্পগুলো আগামী প্রজন্মের কাছে দীপশিখা হয়েই থেকে যাবে।
যারা বিবর্তনের আলোরেখা খুঁজে গল্প লিখবে, তাদের কাছেও এসব গল্প থেকে যাবে ধ্রুব প্রতীক হিসেবে।
তাঁর ভবিষ্যত দর্শন পাঠক- পাঠিকাকে মুগ্ধ করে যায় বার বার । এবং তা অব্যাহত থেকে যাবে অনন্তকাল। বুক উঁচু করে প্রজন্ম করে যাবে উচ্চারন —
চিত্ত যেথা ভয়শুন্য, উচ্চ যেথা শির
জ্ঞান যেথা মুক্ত , যেথা গৃহের প্রাচীর
আপন প্রাঙ্গন তলে দিবস শর্বরী
বসুধারে রাখে নাই খন্ড ক্ষুদ্র করি
রবীন্দ্রনাথ ছিলেন একজন বৃক্ষপ্রেমিক ও। সবুজের সমারোহে বেঁচে থাকবে উত্তর প্রজন্ম ,সে স্বপ্ন তিনি দেখে গেছেন নিরন্তর। তা প্রকাশ করেছেন লেখায় ও ।
বাংলা ভাষার মাঠ, বাংলা ভাষার সমকাল তাঁকে স্মরণ করবে , বরণ করবে প্রতিটি ঋতুতে।
দিনবদলের যে প্রত্যয় তিনি বাঙালি জাতিকে দেখিয়ে গেছেন ,তা শাণিত হয়েই থাকবে।
আমার একটি খুব প্রিয় কবিতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমি তাঁকে খুঁজি প্রতিদিন।
‘কর্তব্যগ্রহণ’ কবিতায় তিনি আমাদেরকে দিয়েছেন সেই প্রশ্নের উত্তর।
কে লইবে মোর কার্য, কহে সন্ধ্যারবি—
শুনিয়া জগত্‍‌ রহে নিরুত্তর ছবি।
মাটির প্রদীপ ছিল; সে কহিল, স্বামী,
আমার যেটুকু সাধ্য করিব তা আমি॥
রবীন্দ্রনাথ আমার কাছে রবির মতোই । তাইতো বার বার ভাবি,আহা ! আমি যদি সেই মাটির প্রদীপ হতে পারতাম !!!! #

  • Facebook
  • Twitter
  • Share/Bookmark

2 Responses to মননে,প্রেমে ও প্রকৃতিতে রবীন্দ্রনাথের ছায়া

  1. %%- :rose: %%-

    আহা ! আমি যদি সেই মাটির প্রদীপ হতে পারতাম !!!!

    :-bd

  2. কবি ফকির ইলিয়াস কে , নিয়মিত শৈলীতে দেখতে পেয়ে ভীষণ ভালো লাগে । সুন্দর পোস্টগুলোর জন্য অমিত কৃতজ্ঞতা জানাই ।

Leave a Reply