Home » Archives by category » সাহিত্য » গল্প (Page 2)
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর গল্প: বিলাসী

পাকা দুই ক্রোশ পথ হাঁটিয়া স্কুলে বিদ্যা অর্জন করিতে যাই। আমি একা নই—দশ-বারোজন। যাহাদেরই বাটী পল্লীগ্রামে, তাহাদেরই ছেলেদের শতকরা আশি জনকে এমনি করিয়া বিদ্যালাভ করিতে হয়। ইহাতে লাভের অঙ্কে শেষ পর্যন্ত একেবারে শূন্য না পড়িলেও, যাহা পড়ে, তাহার হিসাব করিবার পক্ষে এই কয়টা কথা চিন্তা করিয়া দেখিলেই যথেষ্ট হইবে যে, যে ছেলেদের সকাল আটটার মধ্যে […]

Continue reading …
গল্প: অনল, নদী এবং সকালের গল্প – মাহাবুবুল হাসান নীরু

-নদী। এই নদী। -বলো। আবেশাচ্ছন্ন কন্ঠ নদীর। -আজকের সকালটা কী সুন্দর তাই না? জানো, আমার বড্ড ইচ্ছে করছে এই ঝলমলে সুন্দর সকালের কাঁচা রোদ গায়ে মেখে তুমি আর আমি অনেক দূর পথ হাত ধরাধরি করে হাঁটি। -উহুঃ, তুমি হাঁটো। আমার এখন বিছানা ছাড়তে ইচ্ছে করছে না। বেডরুমের জানালার ওপাশে সকালের সুন্দর সোনা-রোদ। পর্দা সরিয়ে রোদের […]

Continue reading …

দাশুর কীর্তি নবীনচাঁদ ইস্কুলে এসেই বলল, কাল তাকে ডাকাতে ধরেছিল । শুনে স্কুল সুদ্ধ সবাই হাঁ হাঁ করে ছুটে এল । ‘ডাকাতে ধরেছিল ? বলিস কিরে !’ ডাকাত না তো কি ? বিকাল বেলায় সে জ্যোতিলালের বাড়িতে পড়তে গিয়েছিল, সেখান থেকে ফিরবার সময় ডাকাতরা তাকে ধরে তার মাথায় চাঁটি মেরে, তার নতুন কেনা শখের পিরানটিতে […]

Continue reading …

প্রতিশোধ

No Comment

প্রতিশোধ তৌহিদ উল্লাহ শাকিল। আকাশে তখনো ঝলমলে রোদ।নীলাকাশ।সাদা আভা  বাতাসে ভেসে যাচ্ছে অচেনা কোন দেশে। আকাশের নীল যেন ছুঁতে চায় মহাকাশের অনন্ত সীমানা।জ্যৈষ্ঠের দুপুর।দক্ষিণা মৃদু বাতাস ক্লান্ত  পথিকের জন্য অনেক প্রশান্তির হয়ে আসে। ক্লান্ত পথিক শান্তির ছোঁয়া পেয়ে পথ চলতে থাকে।ফসল কাটা শুকনো মাঠ , কেটে নেওয়া ধানের গোড়াগুলো শুকিয়ে একাকার আগুনের ছোঁয়া পেলে জ্বলে […]

Continue reading …

সময় নিহত অবিরত – প্রথম পর্ব ৪ ভাল লাগছিলো না সৌরভের। দু’সপ্তাহ ছুটি শেষ হয়ে গেলে, অফিসে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে যে, আরো দু’সপ্তাহ আগে সে অফিসে আসতে পারবে না। একটা সুযোগ দিতে চায় বস সৌরভকে, তার পূর্বতন রেকর্ড এবং পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনা করে। নারীটি সৌরভের বাসায় যথেষ্ট স্বতঃস্ফূর্ত এবং সাবলীল হয়ে উঠেছে। নিজের মত করে […]

Continue reading …

১ চোখ দিয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখার আগেই অন্যদিক থেকে তার শরীরটা এত অবলীলায় চটপটে এগিয়ে আসতে পারে, ধারণা ছিল না একেবারেই সৌরভের। এখানকার এই ফ্ল্যাটগুলো বিক্রি করেছে সরকার, কিন্তু ভূমির অধিকার বা বাসস্থানের চাহিদা তো এই ঢাকা শহরে আকাশচুম্বী। সরকারের অনুগ্রহ লাভের জন্য পর্যাপ্ত অর্থের যোগান যাদের নেই, তাদেরকে বস্তি নামক মানবেতর বাসস্থানে ঠাঁই নিতে […]

Continue reading …

পিঙ্ক স্লিপ

2 Comments

এম বি এম কর্পোরেশান। নেটওয়ার্ক ডিপার্টমেন্টে “পটল্যাক স্প্রেড” হচ্ছে। ব্যাপারটা প্রতি কোয়ার্টারে এক বার করে হয়। সবাই নিজের নিজের দেশের একটা করে  খাবার আইটেম নিয়ে আসে। তার পরে সবাই মিলে খাওয়া। অন্য দেশের খাওয়া মুখে দিয়ে টেস্ট করা। ভাল লাগলে আর একটু নেওয়া। আর সাথে কিছু হৈ চৈ করা আর কি! অনেক দেশের  বিভিন্ন ধরণের […]

Continue reading …

১ তুলির পোঁচড় পড়তে থাকে মিতার ইজেলে। তীব্র যন্ত্রণা ধারণ না হলে শিল্পী হওয়া চলে না, না কি? মেধা, মগজ, মনন, আবেগ এক না হলে সৃজনী বা সৃষ্টিশীলতায় পরিণতি আসে না। সে সত্য এখন তার মধ্যে কাঁপন তুলে দিয়েছে। স্থির জীবন চিত্রে তো অনেক কিছুই আঁকা হয়েছিল। অল্প আলো-আঁধারিতে টেবিলের উপর রাখা মানুষের হৃদপিন্ড ধুক […]

Continue reading …

//তৌহিদ উল্লাহ শাকিল// অনেকটা অভ্যাস্ত হয়ে গেছি।কনক বেশ কয়েকদিন হল অফিসে আসছে না । আসবে কি করে? কনকের বাবা’র অসুখ , সেই কারনে কনক’কে বেশ খাটতে হচ্ছে।কনকের মিষ্টিমাখা মুখ বেশ কয়েকদিন হল দেখতে পারছি না । সকালে বাসায় নাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি। পাউরুটি আর জেলীতে কয়দিন চলে।মা বলে এবার বউ নিয়ে আয়। সকাল সকাল বউয়ের […]

Continue reading …

মা! মা!!

No Comment

বুকটা ফেটে চৌচির হয়ে,  ভিতরের হৃৎপিন্ডটা বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে। একটা আস্ত বটগাছ উপড়ে ফেলার অবস্থা। যে অদৃশ্য বন্ধন এতদিন একেবারে কাছে ধরে রেখেছিল, তা একটা প্রচণ্ড টানে যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে। সুমনের প্লেন ঢাকার আকাশ ছেদ করে যত উপরে উঠছে, ওর তত ভীষণ খারাপ লাগছে। কি যেন একটা থেকে সে আলাদা হয়ে যাচ্ছে। বুঝতে পারছে না। […]

Continue reading …

মেঘের কি রঙ?

3 Comments

হবু বর তার এক বন্ধুকে নিয়ে মেয়ে দেখতে এসেছে। বরের নাম তৌফিক। তিন সপ্তাহের জন্যে দেশে এসেছে। বিয়ে করে, নেপালে হানিমুন করে; পারলে মেয়ের ভিসার ব্যাবস্থা করে যাবে। পরে টিকেট পাঠালে মেয়ে যাবে এমেরিকায়। সব মিলিয়ে মেলা কাজ। এর মধ্যে আবার পাঁচ দিন পার হয়ে গেছে। তা ছাড়া বউ নিয়ে গ্রামের বাড়ি যেয়ে নানীর সাথে […]

Continue reading …

এক। সতের জুলাই, উনিশশো একাত্তর। গ্রামের নাম সোনাইপুর। ছোট্ট একটি দোচালা ঘর। সামনে একটি উঠোন। বাড়ির একপাশে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি আর অন্যপাশে মাটির রাস্তা। উঠোনে মাচা টাঙ্গিয়ে সবজি চাষ করা হয়েছে। কবির বাড়ির দরজার চৌকাঠে অনেকক্ষণ ধরে ঠায় বসে আছে। সকাল থেকে একটানা বৃষ্টি হচ্ছে। কবিরের পাশে তার ছোট বোন ফাতেমাও চুপচাপ বসে আছে। বৃষ্টিটা […]

Continue reading …