নির্বাক বসন্ত [মোট ২৫ পর্ব] পর্ব-২২

Filed under: উপন্যাস |

Nirbak Boshonto - Copy (2)এমনি করে সুখ দুঃখ, আনন্দ বেদনা, মান অভিমান, বিরহ বিরাগ নিয়ে দিন মাস বছর চলে গেল। এর মধ্যে নিশাত চিফ মেট পরীক্ষায় পাশ করেছে কিন্তু কোম্পানির কোন জাহাজে আপাতত চিফ মেটের পদ খালি নেই বলে ওই পদে পোস্টিং পাচ্ছে না তবে চিফ মেট এর বেতন পাচ্ছে। এক সময় সপ্তম ভয়েজের মাঝামাঝি একদিন নিশাতের সারা রাতে ঘুম হয়নি। মাত্র শেষ রাতের দিকে একটু চোখ লেগে আসছিল, এর মধ্যেই কোথা থেকে যেন নিরু এসেছিল। সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে আজ সকালে দুবাই থেকে পাওয়া চিঠির মত একই ভাষায় বারবার করে বলে গেল আপনি দুলাভাইকে বলবেন। আমার মনে হয় এখন অন্তত দুলাভাইকে বলার সময় হয়েছে। দুবাই পোর্টে হারবারে জাহাজ ভিড়ার পর এজেন্টের গাড়ি এসে যে মেইল ব্যাগ দিয়ে গিয়েছিল তাতে একটাই চিঠি ছিল আর সেটা  নিরুর লেখা নিশাতের চিঠি। এই চিঠিতেও অন্তত পাঁচ বার লিখেছে আপনি তাড়াতাড়ি দুলাভাইর সাথে যোগাযোগ করে কথাটা বলুন নতুবা আমি শেষ হয়ে যাব আর এজন্যে একমাত্র আপনিই দায়ী থাকবেন। কেন এবং কি বলতে হবে তা কিছু লেখেনি। না লিখলেও নিশাত জানে কি বলতে হবে। স্বপ্ন দেখার পর ঘুম ভেঙ্গে গেল। বিছানায় শুয়ে শুয়েই চলে গেল এবার দেশ থেকে আসার আগে যখন নিরুর সাথে নবাব বাড়ির বাগানের এক পাশে বেঞ্চে বসে চিনাবাদাম খাবার সময় কথা হচ্ছিল সেখানে। আগের মত নিরু একটা একটা করে চিনা বাদামের খোসা ছাড়িয়ে দিচ্ছিল।
আপনি কি কোন দিন নিজে ছিলে বাদাম খেতে পারবেন না?
হয়ত পারব যেদিন তুমি করে বলতে পারবে। আসলে হয়েছে কি জান, ওসব দেশে লবণ দিয়ে ভাজা বাদাম প্যাকেট করা থাকে কাজেই দোকান থেকে কিনে অমনিই খেয়ে ফেলা যায়, আবার এখানে আসলে তুমিইতো ছিলে দাও, কাজেই আমাকে আর কোথাও ছিলে খেতে হয় না
ছেলা বাদাম হাতে দেয়ার সময় একটা চিমটি দিয়ে বলেছিল
তাহলে আর আপনার এ দেশে আসার দরকার নেই ওখান থেকেই কোন মেমসাহেব নিয়ে এলেই পারেন আমরাও একজন মেমসাহেব দেখতাম!
উহ কি হলো চিমটি দিলে কেন, লাগেনা? বেশতো আমি না হয় মেমসাহেব আনলাম কিন্তু তুমি কাকে আনবে? তাছাড়া তোমার মেম সাহেব কি বাদাম ছিলে দিবে?
বাদাম ছিলায় মগ্ন হয়ে বলল
আমার কাউকে লাগবে না! যে মেম সাহেব বাদাম ছিলে দিবে তাকেই আনবেন!
আচ্ছা তাকেই আনব

সেদিন সারা দিন একসাথে ঘুরেছিল। দুপুরে ম্যান্ডারিনে লাঞ্চ করেছিল আবার বিকেলে নবাব বাড়ি থেকে বাদাম তলি এসে নৌকায় করে বুড়িগঙ্গায় ঘুরেছিল। কোথা দিয়ে যে সারাটা দিন চলে গেল টের পায়নি। বুড়িগঙ্গায় সূর্য ডুবতে দেখে নিরু চমকে উঠেছিল। নিশাতের হাতে ঝাঁকুনি দিয়ে বলেছিল,
তাড়াতাড়ি চলেন আমাকে সন্ধ্যার আগেই হলে ফিরতে হবে বলে এসেছি।
এমএসসি ক্লাসের ফাইনাল পরীক্ষা সামনে বলে পরীক্ষা পর্যন্ত হলে থেকে পরীক্ষা দিবে বলে হলে এসে উঠেছে। বিগত দিনগুলিতে দুইজনে ঢাকা শহর এবং এর আশেপাশে এমনি করে অনেক ঘুরেছে। সাভারের স্মৃতিসৌধে, বোটানিক্যাল গার্ডেনে, সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে, আরিচা ঘাটের কাছে পদ্মা নদীর পাড়ে। সোহরাওয়ার্দি উদ্যান থেকে ফেরার পথে একবার শাহবাগের নিচে সুপর্ণা থেকে একটা পারফিউম কিনে দিয়েছিল। আগের মত নিরু এটাও নিতে চায়নি কিন্তু নিশাতের চাপাচাপিতে নিতে হয়েছিল। এটা কি আর কেউ দেখবে! তোমার হলে রাখবে কেউ দেখবে না। যখন গায়ে মাখবে এর সুগন্ধ আমার কথা মনে করিয়ে দিবে। মনে করবে আমি সারাক্ষণ তোমাকে জড়িয়ে রেখেছি।
এই পারফিউম মেখে আপনাকে মনে করার দরকার হবে না। এমনিই সবসময় আপনি আমার সাথে থাকেন। বলছেন কেউ দেখবে না! জানেন হলের বান্ধবীরা কেমন হয়? ধারনা আছে কিছু? ওরা একেকটা বিচ্ছুর মত বিশেষ করে রোকেয়া আর নীলাতো জোকের মত লেগে থাকবে, বল না কোথায় পেলি! জানেন?
[চলবে। এতক্ষণ নিশাতের সাথে নিরুর চায়ের নিমন্ত্রণের অপেক্ষায় থাকুন। ধন্যবাদ]

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন