নীল নক্ষত্র

আমার প্রেম আমার শিকড়

আমার প্রেম আমার শিকড়
Decrease Font Size Increase Font Size Text Size Print This Page

সুদীর্ঘ দশ বছর পর দেশে ফিরে এসে বিগত সেপ্টেম্বর মাসে আমার নিজ গ্রামে আমার শিকড়ের কাছে গিয়েছিলাম নজেকে সমর্পণের জন্য।  এত দিনের জমা বিস্তীর্ণ এবং সুক্ষন অনুভুতি গুলি  আমার সুপ্রিয় পাঠকদের কাছে বর্ননা করার মত ভাষা খুজে পাবার জন্য এত দিন দেরি করেও কিছু খুজে পেলাম না তাই ও ব্যাপারে কিছু লিখলাম না। আমার এই অব্যক্ত কথা গুলি আপনারা নিজের মত করে  অনুভব করে
নিতে পারেন যদি সেই আশা নয়ে আমার ক্যেমেরা যা কিছু সাথে নিয়ে এসেছে তারই কিছু নীরব মুহুর্ত আপনাদের কাছে তুলে দিলাম।

(সাথে সংক্ষিপ্ত বিবরন দিয়ে দিলাম)

গ্রামে যাবার পথে বাস থেকে নেমে কলতা বাজারে

কলতা বাজার নৌকা ভারা করছি, টিউবওয়েলের বাম পাশে যে নৌকাটা দেখা যাচ্ছে এই নৌকায় করে গিয়েছিলাম।

পথে নদীর পারে আমি যে প্রাইমারি স্কুলে পড়েছিলাম তারই একটি, মাসাইল সরকারি প্রাইমারি স্কুল, তখন এই স্কুল এমন ছিল না শুধু ডান পাসে যে টিনের ঘরটি দেখছেন তাই ছিল।

গ্রামের কাছে চলে এসেছি, নীল আকাশ্র নিচে শরতের স্নিগ্ধ মায়া ভরা এই রুপালি দৃশ্য।

বাড়ির ঘাটের পাশে বাতাবি লেবুর গাছ


গ্রাম ঘুরে এত দিনের তৃষিত নয়নের তৃপ্তি খুজে পাবার চেষ্টা

চলছে রান্নার আয়জন, ভেসাল থেকে (এক ধরনের জাল যা দিয়ে ছোট নদী বা খালে মাছ ধরে জেলেরা)  আনা তাজা মাছ,

দুপুরে খাবার পর জল বাতাসের গন্ধ, মাটির স্পর্শ পাবার জন্য রতনের ডিঙ্গি নিয়ে আবার বেরিয়ে পরা

প্রথমে নিজেদের ধান ক্ষেত

ফিরে এসে এই কাঠাল গাছের নিচে বাশের চালা দেয়া পাট খড়ির বেড়ার এই রান্না ঘরে ঢুকে দিখি ……………

শ্যলক গিন্নী শাহনাজের নানা পদের পিঠা বানাবার মহা আয়জন

এবার নারকেল পাতার পাটিতে বসে মাটির চুলায় খরি লাকরি দিয়ে রান্না করা বাড়ির খোপে পালা মুরগীর মাংশ দিয়ে চিতি পিঠা আর চাউলের রুটি খেয়ে নিই কি বলেন?

পর দিন সকালে ভাপা পিঠা আর আমার প্রিয় ছিত রুটি (মানিক গঞ্জের ঝিটকা এলাকার ভাষায় এই নাম, ভিন্ন এলাকায় ভিন্ন নাম হতে পারে)


গ্রামের দুষ্ট বালকদের সাথে আলাপ, বাম থেকে দ্বিতিয় ছেলেটি মাত্র ক্লাশ ফোর এ পড়ে কিন্তু আমার সাথে ইংরেজিতে কথা বলার চেষ্টা করেছে দেখে অবাক হয়েছি

এবার নৌকায় করে চলে এলাম ঝিটকা বাজার

উপরের ছবি দুইটা ঝিটকা আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছবি

এবার ঝিটকা থেকে ফেরার পথে

এতো দিন পর গ্রামে গিয়ে মাত্র তিন দিন থাকার পর এই যান্ত্রিক সভ্যতার টানে বুকের কোন এক গভীর কোণে একটা কি যেন বলতে না পারার ব্যাথা লুকিয়ে রেখে আবার ইট পাথরের ঢাকা শহরে ফিরে এসেছি।

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।


11 Responses to আমার প্রেম আমার শিকড়

  1. বৃষ্টিবেলা ডিসেম্বর 15, 2010 at 3:26 অপরাহ্ন

    খু্ই সৌন্দর্য সবগুলো ছবি, বিশেষ করে ৪, ৫, ৮, ৯ নম্বর।

  2. imrul.kaes@ovi.com'
    শৈবাল ডিসেম্বর 15, 2010 at 5:57 অপরাহ্ন

    খুব ভিন্ন রকমের উপস্থাপনা , চমত্‍কার ।নদীর ছবিগুলো খুব সুন্দর …

  3. নীল নক্ষত্র ডিসেম্বর 16, 2010 at 3:21 পূর্বাহ্ন

    গ্রাম আমাদের জাতীয় জীবনের একটা অত্যান্ত জরুরী অবস্থান। গ্রামে যাদের যাতায়াত নেই আমার মনে হয় তাদের জীবনের অনেকটাই শূন্য, বিশেষ করে আমাদের বাঙ্গালিদের এই নদী মাতৃক শ্যমলা সুজলা সুফলা দেশের মাটির মানুষের।
    অনুরোধ করব শত কাজের মাঝেও অন্তত এক দিনের জন্য হলেও গ্রামে যাবেন এবং আশে পাশের সবাইকে উদবুদ্ধ করবেন গ্রামে যেতে।
    ধন্যবাদ আপনাকেও।

  4. neeluttara@hotmail.com'
    নীলসাধু ডিসেম্বর 16, 2010 at 6:17 পূর্বাহ্ন

    দারুন এই পোষ্টটির জন্য অনেক ধন্যবাদ।
    ভালো লাগা রেখে গেলাম।
    ভালো থাকুন।
    শুভেচ্ছা ~

    • নীল নক্ষত্র ডিসেম্বর 16, 2010 at 6:30 পূর্বাহ্ন

      সাধু ভাই, আপনের চেহারা দেইখা(অবশ্য এটা যদি আপনার নিজের হয়ে থাকে) তো শুধু সাধু বইলা মনে হয় না, মনে হয় আপনি বৈজ্ঞ্যানিক। যাই হোক আপনার ভালা লাগা মাথায় তুলে রাখলাম। সেই সাথে জানাই অনেক অনেক ধন্যবাদ। আপনিও ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন এবং সবার মনে রঙ জ্বেলে রাঙ্গিয়ে দিন এই শুভ কামনা।

  5. রাজন্য রুহানি ডিসেম্বর 17, 2010 at 10:12 পূর্বাহ্ন

    ভালো লাগলো।

  6. juliansiddiqi@gmail.com'
    জুলিয়ান সিদ্দিকী ডিসেম্বর 17, 2010 at 8:46 অপরাহ্ন

    আপ্নারে স্পেশাল থ্যাঙ্কস!
    এমন দৃশ্য আমার মনের খোরাক জোগায়। প্রিয়তে রাখলাম।

  7. নীল নক্ষত্র ডিসেম্বর 18, 2010 at 3:52 অপরাহ্ন

    আসেন, হাছা হাছা দেখার লিগা নিয়া যামুনে ঢাকার কাছেই বেশি দূরে না।

You must be logged in to post a comment Login