ফয়সল-অভি

এই চক্রবাস চাই না

Decrease Font Size Increase Font Size Text Size Print This Page

এই চক্রবাস চাই না
ফয়সল অভি

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কয়েকটা ঝুপড়িতে সাদাকালো টিভি ছিল- যারা সেই ঝুপড়িতে চা নাস্তা করতো তাদের বিনোদন কিংবা ঝুপড়ির ব্যবসা বাড়ানোর জন্য টিভিতে ক্রমাগত বাংলা ছবি প্রদর্শন চলতো আর সেই ছবিগুলোতে বেশীরভাগ সময় শাবানা ব্যাপকহারে কান্নাকাটি করতো । মাঝে মধ্যে সেই সব ঝুপড়িতে ভাই ব্রাদাররা চা খেতে বসলে শাবানা’র আহাজারি আমাদের চায়ের স্বাদও নোনা হয়ে যেত । তখন বন্ধুরা মিলে ব্যাপক চিল্লাপাল্লা ও রঙ্গ-তামাশা করতাম এই শাবানা’র কান্নাকাটি ও বাংলা সিনেমার কাহিনী নিয়ে আর বিখ্যাত ওমর সানীর কিঞ্চিৎ অভিনয় প্রতিভা দেখিয়ে দিতো ভাই ব্রাদারের বাহিনী । আমাদের যাবতীয় প্যারোডি এবং হেয়ালী কিংবা ফাজলামো ছিল বাংলা চলচ্চিত্র ও এর চরিত্র নিয়ে। তখন আমরা অনার্স প্রথম বর্ষের দুরন্ত ও রক্ত গরম তরুণ তাই দেশের শিল্প নিয়ে এমন তামাশা করা আমাদের অধিকার ছিল ।

এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন চলছিল আনন্দে সংগ্রামে কিংবা হেয়ালীতে । তৃতীয় বর্ষের শেষের দিকে এসে চট্টগ্রাম নগরীর সাদাকালো টিভিওয়ালা চায়ের দোকানগুলোতে হঠাৎ একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল এবং সেই পরিবর্তন হচ্ছে বেশ ব্যাপক । টিভিতে ডিশ কানেকশন মাধ্যমে চলছে ভারতের চলচ্চিত্র যেখানে আগে শাবানা’র কান্নাকাটি, ওমরসানির বামহাতে পিস্তল ধরে চিৎকার কিংবা ইলিয়াস কাঞ্চনের ঠেলা গাড়ি ঠেলতে ঠেলতে গাড়ি চালানো দৃশ্য এবং কোথাও কোথাও ভিসিডি প্লেয়ারে চলছে ভারতীয় চলচ্চিত্র যেখানে শাহরুখ, আমির খান থেকে ভারতের নামদামী নায়ক নায়িকাদের চলচ্চিত্র বাংলাদেশের আমজনতার মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে । বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনমানুষ ডিশ সংযোগের মাধ্যমে, ভারতীয় চলচ্চিত্রের সহজলভ্যতার কারণে ভারতীয় সংস্কৃতির সাথে খুব দ্রুত পরিচিত হতে পেরেছে যেখানে বিগত সময়ে বিদেশী সহজলভ্য বিনোদন অনেকটা অনুপস্থিত ছিল ।

ভারতীয় চ্যানেলগুলোর সরব এবং বহু সংখ্যক মাত্রায় বাংলাদেশে প্রদর্শনের কারণে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনসাধারণ ভারতীয় সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হয়েছে। অনেকের প্রথম ভাষা বাংলা হলেও দ্বিতীয় ভাষা ইংরেজি না হয়ে হিন্দী হয়ে গেছে । ভারতীয় চ্যানেলগুলো মানুষের কাছে খুব সহজে পৌছে যাওয়ার কারণে এবং বিভিন্ন মানসিকতা বা রুচির জন্য বিভিন্ন ভারতীয় চ্যানেল আছে বিধায় ছোট থেকে বড় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী মানুষ এই ভারতীয় চ্যানেলের দর্শক ও বান্ধা কাস্টমার । একটা বিষয় একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বাচ্চাদের কার্টুন নেটওয়ার্ক থেকে শুরু করে ইংরেজি মুভির চ্যানেল এইচবিও ইত্যাদি বেশীর ভাগ চ্যানেলই ভারতীয় মালিকানার এবং সবগুলো চ্যানেলেই ভারতীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা হচ্ছে ।

বাংলাদেশের সর্বসাধারণের কাছে ভারতীয় চ্যানেল পৌছে যাওয়ার কারণে ভারতীয় পণ্যগুলো খুব সহজে বাংলাদেশের বাজার দখল করে নিতে পারছে । কারণ প্রচারই প্রসার বলে একটা কথা আছে । এই কর্পোরেট যুগে জনপ্রিয়তা, পণ্যের মান নিধারণ এবং বিক্রি সবকিছুর জন্য যথেষ্ট শক্ত হাত হিসেবে কাজ করছে মিডিয়া । আর সেই মিডিয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশের বাজার, বাংলাদেশের মানুষের মানসিক নিয়ন্ত্রন সবকিছুই করছে ভারত । ভারতীয় মিডিয়াকে বাংলাদেশে আরো সহজলভ্য করার জন্য নানাবিদ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে । বাংলাদেশের সাথে মিলিতভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিচালনা ও প্রয়োজনা- এমনি ভারতের বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচারের সময়সূচিতে বাংলাদেশ সময়ও উল্লেখ করা হচ্ছে । তারা বাংলাদেশকে খুব গুরুত্ব দেখাছে । এই গুরুত্ব কোন মেহমানধারীর জন্য না, বাংলাদেশের পণ্য বাজার ভারতীয় পণ্য দ্বারা দখল এবং আর্থিক লাভের জন্য এতকিছু-এই সুবিশাল চক্র । কারণ, তাদের পণ্যের কোন কারখানা বাংলাদেশে নেই বা বাংলাদেশ থেকে তাদের কোন পণ্য উৎপাদন হয় না । বাংলাদেশে কারখানা করে সেখান থেকে উৎপাদনে গেলে বাংলাদেশ ও আমাদের মানুষ উপকৃত হতো আর ভারতীয় পণ্য মালিকেরা কম লাভ পেতো তাই তারা মিডিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে পণ্য বাজার সৃস্টি করে-রপ্তানীর মাধ্যমে তারা পণ্য বিক্রি করছে আমাদের মাঝে আর আমাদের অর্থ নিয়ে যাচ্ছে চমৎকার কৌশলে ।

বাংলাদেশের বিভিন্ন উৎসবে এবং বিয়েতে দেখা যাচ্ছে ভারতীয় বস্ত্র ও গয়না এখন ভোক্তাদের প্রথম পছন্দ কারণ ভারতীয় মিডিয়াগুলো তাদের পণ্য সম্পর্কে ধারণা তাদের চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পেরেছে । মানুষ খুব আত্মবিশ্বাস নিয়ে ভারতীয় পণ্য যথেষ্ট দাম দিয়ে কিনে নিয়ে যায় । আরো দেখার বিষয়, বাংলাদেশী চ্যানেলগুলো ভারতীয় বিজ্ঞাপণের বাংলা ভার্সন প্রচার লক্ষ্য করা যাচ্ছে । কারন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে ভারতীয় বিজ্ঞাপন, বিজ্ঞাপন ভাবনা ও চরিত্রগুলো গ্রহণযোগ্য এবং পরিচিত তাই খুব সহজেই তারা ভারতীয় মানুষের মনকে প্রাধান্য দিয়ে বানানো বিজ্ঞাপনগুলো বাংলাদেশে প্রদর্শন করছে ও বাংলাদেশের মানুষকে তাদের পণ্য উপযোগী করে গড়ে নিয়েছে বা নিচ্ছে । এটা একটা চমৎকার কৌশল বলা যায় । আরেকটা বিষয় লক্ষনীয়, ভারতী চ্যানেলগুলোর সহজলভ্যতা ও অবাধ প্রচারে ভারতী পণ্য যে বাংলাদেশের বাজার দখল নিচ্ছে তার একটা উদাহরণ খুব সহজে বর্তমান প্রজন্মের চোখে পড়বে সেটা হচ্ছে, ভারতীয় চ্যানেলগুলো যত নতুন নতুন ভারতীয় বাইকের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় তার সবগুলোই বাংলাদেশে ব্যাপকহারে বিক্রি হচ্ছে । তরুণ থেকে প্রবীন সেই সব ভারতীয় পণ্য খুব সহজেই কিনছি এবং ভারতে নতুন মডেলের বাইক লণ্জ্ঞ হলে কিছুদিন পর সেটা বাংলাদেশের রাস্তায় দুরন্ত উদ্যোমে চলছে কোন তরুণের হাত ধরে । কারণ তারা তাদের পণ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা ও বাংলাদেশী মানুষের মন জয় করতে পেরেছে । আর ভারতের যাবতীয় পণ্য অবাধে এবং সহজে বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় চ্যানেলে হাত ধরেই ।

এবার আসি সংস্কৃতিতে, বেশ কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে ভারতের শিল্পীরা অবাধে আসছে-ভারতী সংস্কৃতি নির্ভয়ে ও নিঃসংকোচে প্রচার করে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশের মানুষের মনে ভারতীয় সংস্কৃতিকে আরো পাকাপোক্ত করে যাচ্ছে । একটা বিষয় লক্ষ করতে হবে, ভারতীয় চ্যানেলের মাধ্যমে তাদের সংস্কৃতি বাংলাদেশের মানুষ অনেক আগেই ধারণ করে আসছে । হয়ত সত্য এটা, ভারত তাদের মিডিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশী সংস্কৃতিকে হঠিয়ে ভারতীয় সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে পেরেছে । যার এক ও একমাত্র মাধ্যম ভারতীয় টিভি চ্যানেল । এই ভারতীয় টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের মাঝে ভারতী সংস্কৃতির একটা ভালো বাজার তৈরী করা হয়েছে বিগত দিনগুলোতে ফলে বাংলাদেশের মানুষের মাঝে ভারতীয় সংস্কৃতির একটা ভালো বাজার তৈরী হয়েছে । তাই বাংলাদেশে এখন নিয়মিত ভারতীয় শিল্পীরা আসছে এবং ভারতীয় সংস্কৃতি প্রদর্শণ করে যাচ্ছে । কারণ, বাংলাদেশে ভারতীয় শিল্পের প্রচুর চাহিদা আছে এবং বাংলাদেশের মানুষ নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে তাদের সংস্কৃতি দেখতে, বুঝতে আগ্রহী । যতদিন বাংলাদেশে ভারতীয় শিল্প সংস্কৃতির বাজার থাকবে ততদিন শাহরুখ থেকে শুরু করে ভারতীয় শিল্পীরা বাংলাদেশে এসে তাদের সংস্কৃতির প্রসার করে যাবে এবং বাংলাদেশী মুদ্রা বগলদাবা করে নিয়ে যাবে । আমাদের কোন প্রতিবাদ কিংবা লেখাই কিছু হবে না । ভারত সরকার বা রাষ্ট্র বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে যে মেধা ও শ্রম দিয়েছে কিংবা যে কৌশল অবলম্বন করেছে তাতে ভারতীয় শিল্পীকে তাদের শিল্প ও সংস্কৃতি প্রচার থেকে বিরত রেখে থামানো যাবে না । কারণ, বাংলাদেশ ভারতের জন্য তাদের পণ্য বিক্রির চমৎকার বাজার । তারা সেই পণ্য বিক্রির জন্য খুব কৌশলে এবং শক্তভাবে এগিয়েছে । তাদের খুটি বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী মানুষের মনে বসত গড়েছে শক্তভাবে নানা মাধ্যমে ।

ভারত ও বাংলাদেশের কর্পোরেট হাউজগুলো আজকাল মিলিতভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্পী, সংস্কৃতির বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন কাজ করছে । তাদের কাজগুলো পেছনে যদিও উদ্দেশ্য মহৎ দেখানো হয় কিন্তু তাদের মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশের ইউনিক বিষয়গুলোকে তাদের নিজস্ব রং দেওয়া এবং সেই রঙ লাগিয়ে তাদের পণ্য মানুষের কাছে বিক্রি করা । যাবতীয় কর্পোরেট হাউসগুলো ব্যবসা বুঝে আর ব্যবসার বাইরে মাগনা দরদ কিংবা মাগনা কাজ কোন কিছুই বুঝে না । তাই কর্পোরেট হাউসগুলো যথেষ্ট কৌশলে মানুষের মনের ভেতর ঢুকছে এবং শক্ত আসন গড়ে তুলছে । আর কর্পোরেট হাউজগুলো বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ধর্ম, আবেগ অনুভূতি থেকে শুরু করে নারীকেও ব্যবহার করছে তাদের পণ্য বিক্রি বাজার দখল করার জন্য । তারা যা কিছু করছে তা শুধু পণ্য বিক্রির জন্য আর সেই বিক্রির অর্থ চলে যাচ্ছে অন্য কোন দেশে । এটা একটা অব্যর্থ কৌশল-এক চমৎকার চক্র । যার অংশ আমরা সবাই ।

এখন কথা হচ্ছে, এই যে কৌশল এগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে কিভাবে?? বাংলাদেশের জ্ঞানীগুণী মানুষরা কি এই কৌশল সম্পর্কে জানে না?? মজার বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের মাথারা ঠিকই এই কৌশল এবং পণ্য বিক্রির এই কাঠামো সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানে কিন্তু তারা সেই সব কর্পোরেট হাউজ ও পুঁজিপতিদের কাছে খুব উচ্চ দামে নিয়ত বিক্রি হচ্ছে এবং হবে । এখন প্রশ্ন এসে যাচ্ছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে যেমন দারিদ্রতা, দুনীতি, ক্ষমতার অপব্যহার ইত্যাদি ইত্যাদি(কারণ লিস্ট বহুত লম্বা) । এখন পাঠকের মনে প্রশ্ন আসছে এগুলো তো নতুন না । এই সমস্যাগুলো বাংলাদেশ জন্মের পর থেকেই চলে আসছে । তবে আমার কথা, এগুলো পুরনোও না কারণ বাংলাদেশের সমস্যাগুলো পুজি করে অনেকেই বেঁচে আছে বা বলা চলে সমস্যাগুলো জীবিত রাখতেই অনেকে সচল আছে এবং থাকবে । এখানেও সেই পণ্য বিক্রির চক্র কারণ বাংলাদেশে এই সমস্যাগুলো যতদিন থাকবে ততদিন তাদের পণ্য বিক্রি ও প্রসার, খনিজ সম্পদের উপর তাদের আগ্রাসন থেকে শুরু করে আরো যাবতীয় যত লাভজনক ব্যবসা আছে সব পরিচালনা করা যাবে । এটা আরো ভয়ংকর চক্র । এই চক্রের ভেতর আছে সাদা কালো লাল দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ । এই চক্রের আরো গভীরে জানার চেষ্টা করলে মৃত্যু সুনিশ্চিত ।

ভারতীয় চ্যানেলের আগ্রাসান বিষয় নিয়ে লেখা শুরু করলেও এখন একটা চক্রের ভেতর আরেকটা চক্র চলে আসছে । কিছুই করার নেই । আবার আগের সূত্রে ফিরে যাই;- ভারত তাদের পণ্য বিক্রির যে কৌশল হাতে এগিয়েছে সেটা এখন অনেকটা সফলতার পথে আর বাংলাদেশের বাজার ও সম্পদকে কুক্ষিগত করার জন্য কর্পোরেট হাউজগুলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো সুর্নিদিষ্ট গোষ্ঠী দ্বার জীবিত রাখার যে কৌশল গড়েছে সেটাও সফলতার মুখ দেখেছে বিগত সময়গুলোতে এবং সামনেও সফল হবে । বিষয়গুলোর গভীরে গেলে দেখা যাবে, নানাবিধ চক্র, সিণ্ডিকেট ও গোষ্ঠী দ্বারা নিয়তই আমরা প্রতারিত ও জিম্মি । তাই মানুষের কষ্ট আর না বাড়িয়ে লেখা শেষ করে দেওয়াই ভালো । কেননা মানুষ বহুত দুঃখে আছে-তাদের দুঃখ হালকা করাও কোন সুযোগ নেই । তাই মানুষের দুঃখগুলো নিয়েও চমৎকার ব্যবসা করে যাচ্ছে কর্পোরেট হাউজগুলো ।

যে উদ্দেশ্যে এই লেখা শুরু করেছিলাম সেটা হচ্ছে, কিছুদিন আগে বাংলাদেশ থেকে শাহরুখ নামে এক ভারতীয় পণ্য ব্যাপকহারে টাকা পয়সা নিয়ে চলে গেছে । কিছু লেজছাড়া মানুষের অনর্থ চিৎকারও সেই অর্থ নিয়ে যাওয়া ঠেকাতে পারিনি । আমি বিষয়টাকে শুধু অর্থ দিয়ে বললাম কারণ, ভারতীয় সংস্কৃতি ও শিল্পী সবকিছুর পেছনের কারণ এই পণ্য বিক্রি ও অর্থ-এর বাইরে কিছু না । এখন শুনছি, বাংলাদেশে ক্রিকেট বিশ্বকাপের যে উদ্ধোধনী হবে সেটাও নাকি ভারতীয় শিল্পী ও সংস্কৃতির প্রদর্শনী হবে-দেশ আমার, মাঠ আমার, মানুষ আমার আর প্রদর্শন হবে ভারতীয় সংস্কৃতি । এটা তো হবারই কথা কারণ ভারত বাংলাদেশে তাদের মিডিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশী বাজার দখলের যে কৌশলে এতদিন শ্রম দিয়েছিল সেটা মুলা তো তুলতেই হবে । আর যতদিন বাংলাদেশে ভারতের পণ্যের বাজার থাকবে ততদিন ভারতী শিল্পী থেকে পণ্য সবকিছুই বাংলাদেশ দখল করবে । এই স্রোত ঠেকানোর নয় ।

এতোক্ষণ বিরাট লেকচার দিলাম, দুই একটা গালি ও তালি পাবো আশা রাখি । :-) তবে সমাধানের পথ তো খুঁজতে হবে এই যে চক্রের হাত ধরে যা কিছু যাবে বা যাচ্ছে তা তো আমার, আমার পরিবার এবং আমার ছেলে মেয়ে’র ( শুধু আমার কথাটা বললাম কারণ আমি ভুক্তভোগী আর বাংলাদেশীরা নিজে যতক্ষণ ভুগে না ততক্ষণ কিছুই বুঝতে পারে না কিংবা বুঝলেও না বোঝার ভান করে তাই চাইলে আপনারাও এর দায় নিতে পারেন । আপনারাও ভাবতে পারেন এই চক্র দ্বারা আপনারও ক্ষতিগ্রস্ত-না ভাবলেও ক্ষতি নাই কারণ নিজের যখন বাঁশ খাবেন তখন এমনিতেই আমার আমার বলে সবার আগে চিৎকার করবেন) । সমাধানের পথ খুঁজতে গিয়ে বহুদিন দিন সুশীল, অগ্রজ ও নানাবিদ রঙ্গের স্রোতে মিশে ছিলাম এবং সেখানেও চক্রের থাবা বিদ্যামান সেটা উপলদ্ধি করতে পরেছি ও জেনেছি । তাই আমার নিজস্ব পদ্ধতি অবলম্বন হচ্ছে, সদ্যজাত নবীন প্রজন্মকে কাজে লাগাতে হবে । এখন যেসব কর্পোরেট হাউজগুলো সদ্যজাত নবীন প্রজন্মগুলো তাদের পণ্য বিক্রির প্রসারে গড়ে তুলছে ঠিক তেমনি বাংলাদেশের সদ্যজাত নবীন প্রজন্ম স্কুল পড়ুয়া বাংলাদেশীদের মনে এই চক্রগুলো সম্পর্কে সচেতন ধারণা দিতে হবে এবং তাদের সেই উপযোগী করে গড়ে তুলবে হবে । নয়ত আমি, আমরা ও আসছে প্রজন্মকে জানিয়ে দিতে হবে; “সুশীল সমাজ যারা মদ ও মাংস ভক্ষণ করে হাসি মুখে যে বাণী শোনায় সেগুলোকে হাদিস হিসেবে মানতে হবে এবং গিলতে হবে” । আজ আমি, আপনি ও আমরা মিলে রাষ্ট্রযন্ত্র । আর ভবিষতে নবীণ প্রজন্ম মিলেই রাষ্ট্রযন্ত্র হবে তাই সংগ্রাম, আন্দোলন ও পরিবর্তন গাছের গোড়া থেকেই হোক তাহলে সেই গাছ বড় হয়ে বাংলাদেশের জন্য ফল দিবে এবং বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে । এখন আমাদের যাবতীয় শ্রম হোক সদ্যজাত নবীন প্রজন্মকে মানসিকভাবে গড়ে তোলার লক্ষে যার যার নিজস্ব অবস্থান থেকে ।

[অনেকাংশে সংক্ষিপ্ত]

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।


9 Responses to এই চক্রবাস চাই না

  1. মনসুর আহমেদ জানুয়ারী 8, 2011 at 7:40 অপরাহ্ন

    খুব ভালো একটা আর্টিকেল পড়লাম। ধন্যবাদ জানাই লেখককে। ভারতীয় সংস্কৃতি যে কতটা জুড়ে বসেছে কদিন আগে শাহরুখ খান সাহেব সেটা আবার স্বরণ করিয়ে দিয়ে গেলেন!

    • faysal.ovi@gmail.com'
      ফয়সল-অভি জানুয়ারী 8, 2011 at 8:54 অপরাহ্ন

      ভারত রাষ্ট্র তাদের পণ্য বাজার বাংলাদেশে সৃষ্টির লক্ষ্যে যে পরিমাণ মেধা খরচ করেছে বিগত সময়ে-তেমনি বাংলাদেশ আমাদের শিল্প ও সংস্কৃতির প্রসারের সাথে বাংলাদেশী পণ্য প্রচার, উৎপাদন ও প্রসারে তেমন মনোযোগী বা চিন্তা করেনি এবং ভবিষতেও করবে না । কেন করবে না সেটা বলে একটা পোষ্টে সুশীলকে এতোবার গালিতে মন চাইছে না । আমার মূল বিষয়টা হচ্ছে, এই ভারতীয় সংস্কৃতি বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ কিংবা ভারতীয় শিল্পীর আগমন সবকিছুর পেছনেই তাদের পণ্য বিক্রিই মূল উদ্দেশ্য । অর্থাৎ সোজা কথায় অর্থ জড়িত । কারণ অর্থ থাকলে দেশ ভালো চলবে-দারিদ্রতা কবে-পোলাপাইনা মাগনা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারবে-দেশে বড় বড় শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে ফলে দেশের বাজেট প্রণয়নে কিংবা দেশ চালাতে আর কার ধার ধারতে হবে না । এবং আজকে বিএসএফ সীমান্তে বাংলাদেশীদের মারছে কারণ আমাদের গলার জোর কম । যখন বাংলাদেশ অর্থে স্বয়ং সম্পূর্ণ হবে সেদিন বিডিআরের হাতে ভারতীয় নাগরিক মরবে । এটাই প্রকৃতির থিউরি শক্তের মুল্লুক সবখানে ।

  2. imrul.kaes@ovi.com'
    শৈবাল জানুয়ারী 8, 2011 at 9:14 অপরাহ্ন

    কোরাস তুলছি , ঠিক নিজস্ব অবস্থান থেকে …

  3. বৈশাখী জানুয়ারী 9, 2011 at 9:21 পূর্বাহ্ন

    :rose:

  4. রিপন কুমার দে জানুয়ারী 9, 2011 at 2:41 অপরাহ্ন

    তবে গ্লোবাইজেশনের যুগে মিডিয়াও একটি পন্য, সেক্ষেত্রে এই পণ্যেরও সকল সম্ভাব্য জায়গায় প্রবেশিধাকার আছে। আমাদের মিডিয়াকে যদি বিশ্বমানের করা যেত তাহলে তার আবেদনও প্রতিযোগিতায় টিকার সুযোগ করে দিত।

  5. juliansiddiqi@gmail.com'
    জুলিয়ান সিদ্দিকী জানুয়ারী 9, 2011 at 9:02 অপরাহ্ন

    আমি যদি নিজে আয় না করি, ফুটো পকেটে বাজারে দাঁড়িয়ে চেঁচাই- আমি কিছু কিনতে পারছি না!
    -দোষটা অবশ্যই অন্যান্য ক্রেতাদের না। আমরা কেন ভারতে নিজেদের পণ্য বাজার সৃষ্টি করতে পারি না? আমরা ভারতকে বলবো টাকা দিতে, আর ভারত আমাদের দেশে কারখানা করতে চাইলে বলবো না। সীমান্তের ব্যাপারে মি্নমিন করব তাহলে তো দারুটানা BSF আমাদের মারবেই।

  6. mannan200125@hotmail.com'
    চারুমান্নান জানুয়ারী 12, 2011 at 10:07 পূর্বাহ্ন

    :-bd :rose:

You must be logged in to post a comment Login