ক্লাউড কম্পিউটিং

Filed under: অর্থনীতি,কম্পিউটার |

ক্লাউড কম্পিউটিং – শুনতেই কেমন যেন বেখাপ্পা লাগে। কম্পিউটারের সাথে মেঘের আবার সম্পর্ক কী?   আমাদের মাথার উপরে সর্বত্র যেভাবে মেঘ ছড়িয়ে আছে, ইন্টারনেটও ঠিক তেমনিভাবে সর্বত্র জালের মত ছড়িয়ে আছে। ইন্টারনেটের এই মেঘ থেকে  সর্বনিম্ন খরচে সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়ার উপায় বের করতে গিয়েই ক্লাউড কম্পিউটিং-এর জন্ম।শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় তথ্য নয়, প্রয়োজনীয় সেবাও ইন্টারনেট থেকে পাওয়া যাবে। যেমন, আপনার কাছে অনেক ফটো-এডিটিং সফটওয়ার আছে কিন্ত  হঠাৎ কোন এক মুহুর্তে এডোবি ফটোশপ সফটওয়ার এপ্লিকেশনটি প্রয়োজন পড়ে গেল কারন এই সফটওয়ারটিতে এমন কিছু টুলস আছে যা অন্য কোন এপ্লিকেশন প্রোগ্রাম দিয়ে করা সম্ভব নয়। আবার ঠিক একটি /দুটি কাজের জন্য পুরো সফটওয়ার প্রোগ্রামটি কেনাও ঠিক হবে না কারন এটির দাম অনেক। ক্লাউড কম্পিউটিং -এর মাধ্যমে আপনি সেবা প্রদানকারী কোম্পানীর কাছ থেকে অন ডিমান্ড (on demand) প্রোগ্রামটি ব্যবহার করতে পারেন এবং আপনাকে ব্যবহার অনুযায়ী ফি দিতে হবে। অনেকটা ভিডিও দোকান থেকে সিনেমা/নাটক ভাড়া নেবার মত। এতে আপনার খরচ কমে গেল অনেক। আরেকটু বুঝিয়ে বলতে গেলে, আমরা আসলে অনেক আগে থেকেই ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার করছি। যেমন আমরা যখন ইয়াহু বা জিমেইল বা হটমেইল ব্যবহার করি, আমাদের কিন্ত আলাদা কোন ইমেইল প্রোগ্রামের দরকার হয় না। দরকার শুধুমাত্র ইন্টারনেট। ইন্টারনেট আর ইমেইল একাউন্ট থাকলেই আমরা যেকোন জায়গা, ইন্টারনেট ব্যবহার-উপযোগী যেকোন ডিভাইস থেকে ইমেইল ব্যবহার করতে পারি। আমাদের ভাবতে হয় না কোথায় আমাদের ইমেলগুলি  সংরক্ষন করা হচ্ছে কিংবা কীভাবে সংরক্ষন করা হচ্ছে।
ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা প্রদানকারী কোম্পানী তিনভাবে সেবা প্রদান করতে পারে ।১. অবকাঠামোগত সেবা   ২. সফটওয়্যার ভিত্তিক সেবা   ৩. প্ল্যাটফরমভিত্তিক সেবা।
তথ্যযুগে তথ্যের পরিমান প্রতিনিয়তই বেড়ে যাচ্ছে। বিলিয়ন বিলিয়ন তথ্য। সংবাদপত্রের কথাই ধরা যাক। প্রতিদিন বিশাল পরিমান তথ্য নিয়ে প্রতিটি সংবাদপত্র বের হচ্ছে, প্রতিদিনের অসংখ্য তথ্য সংরক্ষনের জন্য দরকার হচ্ছে প্রচুর মেশিন, গড়ে তোলা হচ্ছে তথ্য কেন্দ্র। এসব তথ্যের  নিয়ন্ত্রন, নিরাপত্তার জন্য দরকার হচ্ছে এপ্লিকেশন প্রোগ্রাম, পেশাদারী লোকবল, দরকার হচ্ছে জায়গা। এতে করে কোম্পানীর খরচ প্রতিনিয়ত বেড়ে যাচ্ছে। তাছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অন্য কোন কারনে তথ্য হারানোর ভয়ে দ্বিতীয় / তৃতীয় জায়গায় ডুপ্লিকেট তথ্য রাখা হচ্ছে। ক্লাউড কম্পিউটিং-এ আপনার এসব কিছুই করার দরকার নাই। ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা প্রদানকারী কোম্পানীতে  দুই ধরনের ক্লাউড  থাকবে – পাবলিক ক্লাউড ও প্রাইভেট ক্লাউড। পাবলিক ক্লাউড থাকবে ইন্টারনেটে সবার জন্য উন্মুক্ত। যে কেহ ইচ্ছা করলে, এই পাবলিক ক্লাউডের ভিতরে নিজের কোম্পানীর জন্য নিজস্ব প্রাইভেট ক্লাউড গড়ে তুলতে পারবে। প্রাইভেট ক্লাউড হবে নিজস্ব প্রোপ্রাইটরী তথ্য কেন্দ্র। আর এজন্য আপনার কোন বিশাল ক্ষমতার সার্ভার, বা এপ্লিকেশন কিনতে হবে না। সেই মেশিন রাখার জন্য আপনার কোন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জায়গার দরকার নাই । আপনার দরকার নেই অনেক পেশাদারী লোকবলের। আপনার ভয় নেই তথ্য হারিয়ে যাওয়া কিংবা চুরি হওয়া নিয়ে। আপনাকে দু-তিন জায়গায় তথ্য সংরক্ষনও করতে হবে না। তথ্য সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আপনার হয়ে সমস্ত কাজ করে দিবে। আপনি ইচ্ছে করলে প্রাইভেট ক্লাউড তৈরী করে নিজের তথ্য নিজেও নিয়ন্ত্রন করতে পারেন। একটা নির্দিষ্ট ফি-এর বিনিময়ে আপনার এই সবকাজগুলি পেশাদারী কোম্পানী করে দিবে।
আবার ধরুন আপনার কোম্পানীতে  ১০০ জন ইউজার আছে যাদের জন্য আপনি ১০০ টা মাইক্রোসফট অফিস লাইসেন্স কিনেছেন। বাস্তবে হয়তবা ৭০ জন ইউজার প্রতিদিন এপ্লিকেশনটি ব্যবহার করেন। অন্য ইউজাররা হয়তবা প্রতিসপ্তাহে এপ্লিকেশনটি ব্যবহার করেন । আবার অনেকে হয়তবা মাসে একবার ব্যবহার করেন। তাহলে বাকী ৩০ টি লাইসেন্সের যথার্থ ব্যবহার হচ্ছে না। ক্লাউড কম্পিউটিং আপনাকে দিবে ব্যবহার ভিত্তিক সুবিধা। ব্যবহার না করলে আপনার ফি দেবার দরকার নেই। অনিয়মিত ব্যবহারকারীর জন্য লাইসেন্স না কিনে ব্যবহার-ভিত্তিক সুবিধা নিতে পারেন। ক্লাউড কম্পিউটিং বিনিয়োগ ও ব্যবহারভিত্তিক উভয় প্রকার খরচই কমাবে।
ক্লাউড কম্পিউটিং-ই হবে আগামী তথ্য যুগের প্রধান নিয়ন্ত্রক। আর এজন্যই সব বড় বড় কোম্পানী যেমন মাইক্রোসফট, গুগল, ইয়াহু, আমাজন, ভিএমওয়ার সবাই তাদের বিশাল বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসছে  ক্লাউড কম্পিউটিং-এ। গুগল সাম্প্রতিক তাদের ক্রোম অপারেটিং সিস্টেম মার্কেটে আসার ঘোষনা গিয়েছে। সারা বিশ্ব যখন নুতন নুতন প্রযুক্তি দিয়ে পৃথিবীতে নিজেদের জায়গা করে নিতে যাচ্ছে আমরা এখনো সেই পুরনো বস্তাপচা রাজনীতি নিয়ে আছি, আমাদের বুদ্ধিজীবিরা প্রগতিশীলতার পরিবর্তে দলীয় নেতা-নেত্রীর গুন-গান করছেন, সেইসব নেতা-নেত্রীর গুন-গান করছেন যারা তাদের নিজেদের চেয়ে অযোগ্য। সাম্প্রতিক আমার এক বন্ধু আমাকে বলল, এই দেশ নিয়ে ভেবে কী হবে? স্বাধীনতার আজ ৩৯ বছর! এই ৩৯ বছরে কিছুই হয়নি, হবেও না। এটা হবে একটা ফেইল্ড কান্ট্রি !! আমি আঁৎকে উঠলাম ! এমনটা যেন স্বপ্নেও না হয় ।
সঞ্চয় রহমান, ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র।
শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।

3 Responses to ক্লাউড কম্পিউটিং

  1. নতুন একটা জিনিস সম্বন্ধে জানলাম। ধন্যবাদ।

    khalid2008@gmail.com'

    শাহেন শাহ
    ফেব্রুয়ারী 20, 2011 at 11:41 অপরাহ্ন

  2. সঞ্চয় রহমান
    আপনাকে অকৃত্তিম অভিনন্দন ও ধন্যবাদ
    সত্যই আমাদের বুদ্ধিজীবিরা যদি প্রগতিশীলতার কথাই ভাবত………

  3. ধন্যবাদ নির্ভয় ! বুদ্ধিজীবিদের কথার কচকচানি বন্ধ করে আমাদের কাজ করা উচিত যাতে করে আমাদের দেশটি ফেইল্ড কান্ট্রির লিস্টে না চলে যায়।

    sonchoy@gmail.com'

    সঞ্চয় রহমান
    ফেব্রুয়ারী 21, 2011 at 3:40 পূর্বাহ্ন

You must be logged in to post a comment Login