মুহাম্মদ সাঈদ আরমান

সীমানার বৃক্ষ

এক জলিল মিঞার মৃত্যুর পর তিন ছেলের যৌথ পরিবারটি বিভক্ত হয়েছে। সহায়-সম্পত্তি বন্টনের সময় বিপত্তি বেঁধেছিল একটা বৃক্ষ আর সোনা বানুকে নিয়ে। বৃক্ষটি সবাই পেতে চাইলেও মা সোনা বানুকে কেউ নিজের ভাগে নিতে চায় নি। চল্লিশ বছর বয়সী আম বৃক্ষ। বাড়ির ত্রিসীমানায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। অনেক দূর থেকে দেখা যায়। গ্রামে এত বড় […]

 মুহাম্মদ সাঈদ আরমান

মিথ্যাবাদী কুটুম্বী

কুটুম্ব পাখি ডাকছে গাছে, মায়ে মরিচ-মশলা বাটে, বুবু আসবে নাইয়র খেতে, আমি যাবো নদীর ঘাটে। বুবু আসবে নৌকায় চড়ে, লাল শাড়ি আর গয়না পরে, বুবুর জামাই আসবে রাতে, আম-কাঁঠাল দেবো পাতে। কত মানুষ আসলো গেলো, বুবু-জামাই আসলো না, কুটুম্বী তুই মিথ্যাবাদী, তোকে আমি ছাড়বো না।।

 মুহাম্মদ সাঈদ আরমান

দুপুরের আয়োজন

লিচু গাছের ডালে বসে, ঘুঘু ডাকে ‘খুকুরে’ “খেলা-ধুলা ফেলে রেখে, ঘুমিও না দুপুরে’’। লাঙ্গল-জোয়াল নিয়ে এসো, খেলতে চাষের খেলা। ফসল বোনার সময় হলো, যাচ্ছে বয়ে বেলা। লুবা-জবা আসছে দেখো, পাতিল-পুতুল নিয়ে। পাখির দলে রব উঠেছে, হবে ‘পুতুল বিয়ে’। টিয়ে গাইবে রাঙ্গা ঠোঁটে নাচবে টুনি আজ, বউ সাজাবে শালিক-পায়রা দোয়েল হবে রাজ।। নাম করণঃ আফরোজা হক

 মুহাম্মদ সাঈদ আরমান

কবিকে আমন্ত্রণ

মোদের গাঁয়ে এসো কবি, খেতে দেবো দই, পিঠা-পুলি, মোয়া-মুড়ি, আরো দেবো খই । গাঁয়ের জন্য কাব্য লিখো, মায়ের জন্য গান, ক্ষেত-ফসলের পদ্য গড়লে, দেবো খেতে পান। খুকির জন্য ‘ঘুমপাড়ানি’ খোকার জন্য ছড়া, দাদুর জন্য মুর্শিদী গান, দেবো নারকেল বড়া। চাষীর জন্য পল্লিগীতি, মাঝির জন্য সারি, ফসল বুনার বচন লিখো, মুটের জন্য জারি। ফুল-পাখিদের কাব্য দিয়ে, […]

 মুহাম্মদ সাঈদ আরমান

বুলবুলিকে দাদুর চিঠি

দাদীর গলার ‘গুলগুলি’রে! ও আমার ‘বুলবুলি’! ছন্দে গড়া চিঠি পড়ে মন কাঁদে ঝড় তুলি। মিঞা বাড়ির ময়না-জবার শেষ হয়েছে আড়ি, তুমি আসার খবর শুনে সাজছে সারা বাড়ি। ভোর সকালে নামাজ শেষে শিউলী কুড়াই আমি, রাঙ্গা সুতায় মালা গাঁথি, গলায় দিও তুমি। পুতুল গুলো আছে ভালো, গোসল দিলাম আজি। ডুবলো যেটা পুকুর জলে, সেটা ভীষণ পাজি! […]

 মুহাম্মদ সাঈদ আরমান

বুলবুলির চিঠি

দাদু আমার সালাম নিও। কেমন আছো তুমি? ইট-পাথরের বন্দীঘরে , আমি এবং ‘টুমি’। সকাল-দুপুর পাঠশালাতে, ঘুমে বিকেল কাটে। মশার সাথে যুদ্ধ করে, মন বসে না পাঠে । তোমার ভাষায় কইলে কথা, বন্ধুরা সব হাসে! তখন আমার দুচোখ কেবল, অশ্রু জলে ভাসে। মসজিদের ঐ নীল পুকুরে, শাপলা কি আর ফোটে? মিঞা বাড়ির ময়না-জবা, তেমনি এসে জোটে? […]

 মুহাম্মদ সাঈদ আরমান

ঘুমপাড়ানি ছড়া

খোকন শুইয়ে সোনার খাটে বাজাও ঘুমের বাজনা। পাখ-পাখালি কোথায় গেলি! দাও ঘুমের খাজনা । পায়রা এসে নাচন ধরে, গাইছে বাকবাকুম… ঘুমপরীরা ছুটে এসো, নিয়ে রাজার ঘুম । দোয়েল নাচে লেজ উঁচিয়ে ঠোঁটে বাজায় বাঁশী। টুন্ টুন্ করে টুনটুনি গায়, ‘আয়রে ঘুমের মাসি’। পেয়ারা গাছে ঘুঘু বসে, ঘুঘু.. ঘু সুরে গায়, পরী আনে ঘুমের ঘোড়া, ঐ […]

 মুহাম্মদ সাঈদ আরমান

খুকি ও চড়ুই

ওরে চড়ুই, এই চেয়ে দেখ! বাবু কেমনে দোলে! বাবু যাবে পরীর দেশে, চড়বে পরীর কোলে। করিস না আর চেঁচামেচি চুপটি করে শুন, ফুলপরীরা গাইছে গান, গুনগুনা গুন গুন । ঘুম ভাঙ্গালে কাঁদবে বাবু , মা দেবেন বকা, সুড়ুৎ-ফুড়ুৎ বন্ধ কর, চড়ুই সখি-সখা। ঝড়-বৃষ্টির মন্দ দিনে মনটা ভীষণ ভারী, ঝগড়া-ঝাঁটি করিস যদি, তোদের সাথে আড়ি। ০৫/০৪/২০১১

 মুহাম্মদ সাঈদ আরমান

পাখির ছড়া: ঝুঁটি শালিক

উৎসর্গ: ব্লগার ছায়েদা আলীর একমাত্র মেয়ে সুহা কে। ঠোঁটে হলুদ রং করে নাকে পরে ঝুঁটি! কিসের এত রসের আলাপ? বন্ধ নাই ঠোঁটি। সারা গায়ে তেল মেখে, চোখে হলুদ রিং বাচালতায় নেই জুড়ি তার, সাজে কুইন-কিং। সকাল-সাঁঝে গপ্প করে, সঙ্গী যদি মেলে, জিকির করতে ভুল করেনা, স্রষ্টার দয়া পেলে। সকল ভাষা শিখতে পারে ঝুঁটি পরা শালিক। […]

 মুহাম্মদ সাঈদ আরমান

কাকীর খবর

কাকা গেছেন রিলিফ দিতে কাকীর খবর বলি, কাতান শাড়ীর খুঁজে কাকী ঘুরছেন অলি-গলি। রুই মাছের মাথা খাবেন, কই মাছের ঝোল, দাওয়াত দিলেন লাঞ্চ করতে, কাছের যত কুল। হাদিয়া আর নজরানা সব কাকীর হাতে আজ, গুনতে কাকী মহাব্যস্ত হাজার টাকার ভাঁজ। কাকী ভাবেন কাকা যেন, ব্যস্ত থাকেন সারাক্ষণ, চেলা, চামচা যত আছে, জয় করিবে কাকীর মন।

 মুহাম্মদ সাঈদ আরমান

সাগর পাড়ের ছেলে

আমি সাগর পাড়ের ছেলে। ঢেউ এর গর্জন বুকে ঠেকাই সাঁতারাই সাগর লোনা জলে। আমি সাগর পাড়ের ছেলে। মাতাল ঢেউ এর তালে তালে, হাওয়া ধরে মনের পালে, ঝাউ শাখার শন শনানী, স্বরের চর্চায় গুনগুনানী। ঝিনুক কুড়াই মনের শখে, রূপার বালি অঙ্গে মেখে, বোনকে পরাই ঝিনুক মালা, মন ভরে তার হাসি দেখে। সাদা জামা, আলতা পরা, ঝাঁকে […]

 মুহাম্মদ সাঈদ আরমান

স্রষ্টা,কবিতা আর আমি।

শিল্প আর শিল্পীর বন্ধন বিচ্ছিন্ন করা যায় না। শিল্পী ছাড়া শিল্প অস্তিত্ব পায়না। শিল্প দেখে আমরা বিমোহিত হই। শিল্পীকে কল্পনায় দেখার চেষ্টা করি। প্রয়োজনে যে শিল্পের সৃষ্টি তাতে শিল্পীর মনযোগ বেশী থাকে না। মনের তাগিদে যে শিল্প, তাতে শিল্পী তার মনের মাধুরী মিশিয়ে দেন, ফলে তা হয়ে উঠে স্বকীয়তায় অনবদ্য। ‘তাজমহল’ শাহজাহানের অনবদ্য সৃষ্টি। তাজমহল […]