‌কবিতা

 অরুনাভ পাভেল

সমসাময়িক / টূকরো কবিতা

১ আজকে মনটা ছিল খুব তরল, বলতে পারো রোমান্টিক তাইতো কথার কোনো হিসেব ছিলনা ছিলনা কোনো ঠিক বেঠিক। ২ তার সাথে আজ দেখা হলো টুপটাপ বৃষ্টিতে, তার কাক ভেজা চেহারাটা দেখছিলাম রুদ্ধশ্বাসে। তার চোখে চোখ রেখেছিলাম প্রবল ঊচ্ছাসে, চোখে চোখে কথা হলো ঝিরিঝিরি, ফিসফিসে। ৩ তোমার গলার রিনরিনে আওয়াজ আজো কানে বাজে, বলেছিলে, আমায় পাবে […]

 আহমেদ মাহির

কত বদল এই আমাতে !

তুমি নেই – মনে হয় যেন কত শতাব্দী কেটে গেল , কত বদল এই আমাতে ; এমনিতেই তো এই বদল হতো – হয়ত এমন করে হতো না – হয়ত এভাবে হতো না । এখনও প্রায়শই স্টেশানে বসে থাকি ; আগেও যেমনি বিকেল-সন্ধ্যা-রাত্রি অবধি থাকতাম । এখনও যথা নিয়মে ট্রেন আসে , আবার স্টেশান ছেড়ে চলেও […]

 পথিক

নিজেকে নিজে

নিজেই নিজেকে জন্ম দেই,দেই নিঃশ্বাস। অবসর সময়ে দেই সন্ধেহ,বিশ্বাস। সময়ের ফাঁকে ঢুকিয়ে দেই অধিকার, করুনার কিংবা ভালোবাসার। চায়ের কাপ হাতে এঁকে দেই শিহরন, রাতের ঘুম,দিনের জাগরন। অবশেষে… নিজেকে নিজেই ধ্বংস করে হই দস্যি যুবক।

 আহমেদ মাহির

আজ বছর পঁচিশ পরে

পঁচিশ বছর ধরে বদলে ফেলেছি নিজেকে আপন স্বত্তা থেকে তোমার চাওয়াতে । বেলা অবধি অলস গড়াগড়ি বিছানাতে ; ছেড়েছি ! তাও ছেড়েছি । মহবুত বাহুর প্রচন্ড শ্রমিক আজ রোদ-সহনিয়া এ দেহ ! বলেছিলে , “ভালবাসতে অর্থ লাগে ; ভালবাসাকে আগলে রাখতে লাগে তার প্রাচুর্য !” আজ বছর পঁচিশ পরে , অর্থ আমার দ্বারে নিরর্থক লুটোপুটি […]

 রাজন্য রুহানি

দেশলাই

প্রচারসত্যে উম্মাদ ছিলাম। নিউরোনমাঠে খেলার দিন হুজুগে ক্রিকেটাররা বোল্ডআউট হতো। দিনেরা মা রাতেরা বাপ হলে উঠে দাঁড়াতেন মহান ঘূর্ণিঝড়। পাশের বাড়ির তৈয়েনকানার মন্ত্রপূত কফে কী ছিল, দূর-দূরান্ত থেকে জ্বীন-পরীর দল বাসনে বাসনে নিয়ে যেত কফ। একদিন আমিও গিয়েছিলাম হাফপ‌্যান্ট সময়ের যুগে। তার বাড়ির কুকুর আমার আজন্ম শত্রু। ফলে আমি কফবঞ্চিত ভাগাড়ের ভোলানাথ। সেদিন খেলায় বেবাক […]

 নীল নক্ষত্র

স্বাগতম, হে সুদূরের পথিক

আমার এ চিঠি লিখে রেখে যাই তোমাদের জন্য অনন্ত শতাব্দীর প্রান্তে দাঁড়িয়ে, পথিক- এ চিঠি পড়ে যদি পার আমায় করো ধন্য। এ যুগের গান লিখে রেখে যাই পাখীর কূজনে উত্তর ফাল্গুনে, জানি তুমি সেদিন জানবে না আমায়, রাখবে না মনে। হেমন্তে বসন্তে জানিনা সেদিন বইবে কি দখিনা বাতাস গাইবে কিনা কোকিল, পাপিয়া ফুটবে কিনা কুমুদ […]

 আহমেদ মাহির

মাঝরাত্তিরের অনুকাব্য :: ৬

১।। পতিত আত্মার হৃদয়ে কর্ণপাত করিনি বহুকাল – কত ধুকপুক আর্তনাদ আমায় ফাঁকি দিয়ে পালাল’ ; হিসেবের অগোচরেই প্রেমের নগ্ন দেহে কত আঘাতের পদচিহ্ন হায় ! এরও হিসেব বুঝি আমাকেই কষতে হল … ২।। তোমার কবরের গর্ভমূল চিড়ে এক টুকরো বাঁশ দেবে আমায় ? সে বাঁশকে বাঁশিতে রূপ দেব – বাঁশি হাতে হব বাঁশুরিয়া ! […]

 আজিজুল

লিখতে বসেছি

লিখতে বসেছি

তোমাকে নিয়ে লিখবো বলেই লিখতে বসেছি কারো কাছে ব্যস্ততায় ভরা, কারোবা কাছে আলসে হয়ে পড়ে থাকা। নিজের কাছে এলোমেলো, অথচ চিন্তায় পরিপাটি হয়েই আছি বসে গত বছরের এ সময়ে গরম ছিলো- খরা ছিলো, এক রাত্তিরে তোমার কাছ থেকে “কেমন আছো তুমি?”- শুনতে চাইবার ব্যাকুলতা ছিলো। আজ এই পড়ন্ত বিকালে পরের শহর দাপড়িয়ে বেড়িয়ে ভাবি এ […]

 রাজন্য রুহানি

ফুলভুল না ভুলফুল

যে ফুল ফোটাতে চেয়েছি মালি হয়ে জীবনের ফাগুনে, সে ভুল টুটাতে গিয়েছি খালি ভয়ে মরনের আগুনে। ভুল নামের ফুলগুলি দেখায় রঙ্গের বাহার যাপনের ফাটকে, ফুল নামের ভুলগুলি শেখায় অঙ্গের আহার আপনের নাটকে। ফুল ভুলে নাকি ভুল ফুলে গাঁথি মালা পরাতে যে-গলে; কুল তুলে হাঁকি, মূল ভুলে পাতি চালা ধরাতে সে-বলে।

 রাজন্য রুহানি

রাজনীতিবিদ

চায়ের সঙ্গে কাপের টান বুঝে ফেলার সাথেই বাঁকা পথে হাঁটা দ্যায় রোদ। পথের শেষে গোপনে তৈরি নিমগ্ন রাতের পরকীয়া। আহা রাত, পরকীয়া বুঝে ঢের। আমি সেমতে আনাড়ি নাবিক। তবু ডাব ও নারিকেলের মধ্যকার যথেষ্ট ফারাক বুঝি। বেচারা, রাতের গান ধরলে আর ছাড়তেই চায় না। সঙ্গে সম্মিলিতসাথীর দূর হতে বয়ে আনা জনমের পায়ের ভার। পদক্ষেপে পড়ে […]

 রাজন্য রুহানি

মহাপুরুষের হকারবাণী

তর্জনীর ওপর বশীভূত রোদের খেলা। মনমেলা থেকে কিনেছি জৈবিক এই রোদপুতুল। অতুল মোহনায় স্নান সেরে কেনা সার্বজনীন স্বস্ত্যয়ন মাত্র। গাত্রদহনের ডর হয় নি কস্মিনকালেও। হাল-আমলেও ছড়িয়ে পড়ে নি এই খ্যাতি স্ববিশেষ। অশেষ সম্ভাবনাময় আমার খেলার অব্যর্থ কসরত। মহরত শেষেই নাহয় মন্তব্য করুন। ধরুন, আপনি চোর। ভোর না হতেই কর্ম কাবার। সাবাড় করেছেন গৃহস্থের সোনাদানা মূল্যবান […]

 নীল নক্ষত্র

বিরহী

আকাশ কেন ছেয়ে গেল মেঘে চাঁদ কেন হারালো ওই দূর বনে কোন বিরহী কাঁদে এমন দিনে একা নির্জনে। সহসা প্রশ্ন জাগে তাকে দেখেছি কি আগে নিশীথে কেন গোপন মনে তারি ছবি জাগে খুঁজে ফিরি মিছে তাকে কুয়াশা ঢাকা মনো বনে। চৈতী দুপুরে তরুলতার বনে ঝোপের ধারে জলায় ফোটা কচুরী ফুল তুলিতে ছিল সে আচল ভরে […]