‌কবিতা

 মানস আহমেদ

বৃষ্টির কি হেয়ালি আজ

বৃষ্টির কি হেয়ালি আজ ! কালবোশেখি বধুর মত আমার ঘরে একলা সাজ- যখন তখন বাঁশি বাজে মনের ঘরে সুখের চরে…। জানালা ধরে আমার ঘরে যখন তখন আছড়ে পরে। পূবের নদী হারায় জোয়ার দখিন পবন ছুটে পালায়, শফেদ আকাশ দীপ্ত হয়ে প্রিয়ার খোজে …দু চোখ ভেজায়… স্বপ্ন আঁকে বুকের পাতায় ছোট্ট শিশুর রঙ্গিন খাতায়- চুপটি করে […]

 আহমেদ মাহির

রাত্তিরের অনুকাব্য :: ৩

১।। পড়ে আছে প্রজ্জ্বলিত স্মৃতির অঙ্গার – তোমার অন্ধ আদালতে ধিক্কার ! ২।। এই চারপাশের অসীম ব্যস্ততা যার মানে নিঃসীম স্তব্ধতা ; পাড়ায় পাড়ায় স্বপ্ন বিক্রেতা হকারের চিৎকার ! তোমাদের এই বিষ্ময়ের নগরে বসতি আমার । ৩।। কেমন আছেন? এক গাল হেসে বলি , ” ভালো আছি … “; ঢাকি আমার ‘মন্দ থাকা’ হাসির কৌশলে […]

 মানস আহমেদ

অস্তপ্রহরে

একদিন এক দূর সন্ধ্যার ছবি দেখি দিগন্তের চপলা পাহাড়ী তনয়া এসেছিল বুকভরা বিষন্নতা নিয়ে , ঢেলে দিয়েছিল মনের সমস্থ অলিতে-গলিতে,চিলকোঠায়, পুজামন্ন্ডপে; সব শুন্যতায় এরপর আর খুজে পাইনি তাকে একছুটে ডুব দিল সাগরে- নীলপোকাদের আস্তানায়,কাকড়ার গুহায় জেলিফিসের ডেরায়; এমন ই সব সাগরপ্রেয়সীর কাছে গিয়েছি । কেউ জানে না তার ঠিকানা, কেউ জানে না সেই তনয়ার জন্য […]

 শৈবাল

শব্দরা এখন যান্ত্রিক গোল্লায়

শুভ্র গাঙচিল তোর স্বপ্ন বুনে যায় কাকগুলো অযথাই আমায় শাসায় প্রেম নিয়ে লিখলেও বারবার যেন নোংরা শহর চলে আসে । তুইতো বেশ কল্পনা থেকে কাল্পনিক আমি এখন শহুরে ,খুব বাস্তবিক স্বপ্নইবা দেখব কি ? চোখ বুজতে না বুজতেই ব্যস্ততার সাইরেন বাজে চৌকস মস্তিষ্কের চূড়ায় । স্বপ্নবাজ শব্দগুলো কিসের গোল্লায় , শব্দ খুঁজতে গেলেই অপারগ শুনি […]

 আহমেদ মাহির

তবু ওরা আমায় জেনেছে !

ওরা আমায় জেনেছিল’ মৃত্যুর সংলাপে কিংবা তারও পরে আমার নিস্তব্ধতায় ; অভাবের অনুভবে । রোজকার হুল্লোরময় উদ্যানে সাথে চলার শপথ নেয়া কিশোরটি আমায় ছেড়ে গিয়েছিলো , কোনো নতুন শপথের সন্ধানে । জানেনি সে কিশোর সেদিন, তাকে সাথে করে ছুটেছি আজীবন! আমায় কৃষ্ণে রূপ দিতে দিতে , স্বপ্নিতা , আমায় হঠাৎই কোনো পুরোনো পুতুলের মত ছুড়ে […]

 আহমেদ মাহির

কাতরতা !

আজও মাঝে মাঝে কান্না পায় ! অকারনে , অবেলায় , অসময় সব পদাবলি থমকে দাঁড়ায় ; কাগজে কলমে একরাশ নিরবতা বয়ে যায় ! দেখি আপন হৃদয়ের ভিতগুলোর একে একে ধ্বসে পড়া জীর্ন কাঠামো আর তার কাতর হাতছানি ; সে কাতরতা যে আমায় আরও চুর্ন করে দেয় , আরও নড়বড়ে করে দেয় – আজও টলমলে পায়ে […]

 রিপন কুমার দে

ছেলেবেলার ভাললাগায়

ছেলেবেলার ভাললাগায়

পিচ্ছিল শ্যাঁওলা ধরা, বাঁধানো পুকুরের ঘাটে বসে আমি, স্বপ্নের জাল বুনতাম, আমার শৈশবে। লক্ষ্য বহুদূর, অধরা পড়ে থাকা দিগন্ত সীমানায়। গোঁধুলীবেলায়, ছেলেবেলার ভাললাগায়। বর্ণিল স্বপ্নডানার অলস দুপুরে, ছড়ানো বিছানায় শুয়ে আমি, অপলক প্রাণহীন চোখে তাকিয়ে থাকা, তপ্ত ধূসর, সূর্যালো মেশানো উদাস উঠোনপানে, তাকিয়ে থাকা অপলক। মায়াবী কিশোরীর মায়াভরা মুখ, কল্পনায় বুনে যাই এই আমি। ভালবাসার […]

 শৈবাল

মেনিক শহর ছেড়ে …

আলোচনা -সমালোচনায় বাড়ামিতে ভাঁড়ামিতে কথায় কথায় অযথায় ন্যাকামিতে ব্যাকামিতে বাচাল শহরের মাথাটা বেশ তপ্ত হয়ে গেছে , সেই উষ্ণতায় আমারও দেহ শৈলটা গলছে , যেই রঙিন প্রজাপতিরা অভিমানে নির্বাসনে আমিও পালাবো হুট করে তাদেরই নিমন্ত্রণে , ঘাস ফড়িং এরা কোথায় সব লাফিয়ে হারায় – পাখিরা লুকালো যে জঙ্গলে আমি যাবো সেই দলে । এক জোছনায় […]

 অরুনাভ পাভেল

থমকে যাওয়া দিনগুলি

আজ আমার নিশ্চল দশা, বিছানায় শুয়ে বসে দিন কাটাই ঘুম নামক অদ্ভুত জিনিসটা বিজলি বাতির মত আসে আর যায়। তবুও আমার দিন কাটছে, কেটে যাচ্ছে বৈকি। আলো আধার স্বপ্ন আর পরাবাস্তব ঘুরে ঘুরে আমার দিন কাটছে। মাঝে মাঝে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হয়, আমি আর পারছি না কিন্তু বলতে গিয়েও বলতে পারি না, না বলতে […]

 সরদার খালেদ

স্বর্ণ নদী

একটা নদী, একটু বেঁকে চলে গেছে কিছু দূর, অতঃপর মিশে গেছে নদীর সাথে, কিংবা নদীই মিশে গেছে ভূমির সাথে । এ নদী বড় অদ্ভুত – উঁচু দু-পাড়ে কাঁশবন, মাঝে টিঁলা , চারিদিকে বাতাস শনশন, তবু কাঁশবনে লাগেনা দোলা । নদীতে বয়ে চলে বহুরুপি স্রোত, উন্মত্ততা গ্রাস করে নেয় মৌনতাকে, যদি কেহ দেয় ডুব, রচিত হলে […]

 আজিজুল

এসেছি

এসেছি

এতকাল শেষে এতটুকু স্নিগ্ধ পরশ পেতে আমি এসেছি। আমি এসেছি, দেখতে কি পাও- “এই আমি”! হাজার যন্ত্রনার মাঝে, নাগরিক ব্যাষ্ততার ভিড়েও তোমরা একসাথে বসে প্রাথ’না করেছিলে; আর করেছিলে বলেই আমি এসেছি! কই? হাত বাড়াও! মিলাতে-মিলিতেই যে আমি এসেছি। কালো ধোয়া আর অসহ্য শব্দ যন্ত্রণার ভিড়ে ঘিঞ্জি বাড়িটার ওই ক্যাট ক্যাট করা রাগী-দজ্জাল বাড়িওয়ালাটা কি জানে […]

 শৈবাল

কথোপকথন :এপিঠ ওপিঠ

এপিঠ : এক প্রস্রবণের পত্তন হয়েছিল সেই কবে জঠর কন্দরে কিন্তু একটাদেহ দৈঘ্যও অতিক্রম হলো না পুরো জীবন ধরে । ওপিঠ : বুঝেছি হৃদপিণ্ডের কথা বলছো তো সে তো সেচ করছে শেষ কোষ পর্যন্ত । এপিঠ: যে গোলাপী পাখি জন্ম থেকে পাখসাটলো কালছে হলো তবুও খাঁচায় পড়ে রইল । ওপিঠ: ফুসফুস ! সে তো লোহিত […]