নীলছায়া [পর্বঃ ০১]

Filed under: কল্প বিজ্ঞান |

এক. সবাই একসাথে মাঠে ক্রিকেট খেলছিলাম ।জমে উঠেছিল বেশ খেলাটা ।কিন্তু সেসময় ঘটল একটা ঘটনা ।হঠাত্ করেই একটা নীল ছায়া আমাদের সবাইকে ঘিরে ধরল ।আমি ভাল করে দেখার চেষ্টা করলাম কিন্তু কিছুই দেখতে পেলাম না ।দু তিনবার চোখ কচলালাম ।এক রাশ নীলের ভেতর দিয়ে ঝাপসা ভাবে প্রকৃতিটাকে দেখা গেল ।হঠাত্ করেই নীল ছায়াটা চলে যেতে থাকল ।হুট করেই ।ঠিক যেমন ভাবে এসেছিল ঠিক তেমন করেই চলে যেতে থাকল ।একসময় ওটা চলে গেল ।ঠিক সূর্যটা বরাবর । আমি তন্বয় হয়ে তাকিয়ে ছিলাম ।সম্বিত্ ফিরে পেলাম শিলুর চিত্কারে । ¤এই উলু কয় ? আমি দ্রুত তাকালাম চারদিক ।সত্যিই তো উলু গেল কয় ? ও তো আমার পাশে দাড়িয়ে থাকা শিলুর পাশেই ছিল । দুই উলুর বাড়ির কান্নাকাটি দু তিন সপ্তাহ পর্যন্ত চলল ।তারপর সবাই প্রায় ভুলে গেল উলুর নিখোজ হবারকাহিনী ।তবে আমাদের সাত আটজন বাদে উলুর নিখোজ হবার সঠিক খবর কেউ জানেনি।আমরা আমাদের ছোট খেলার মাঠটা রাখতে বলেছিলাম যে উলু বাড়ি ফিরে আসছিল এরপরআর কিছু আমরা জানি না । মিথ্যা কথাটা এমন ভাবে বললাম যে কেউ না বিশ্বাস করে পারল না । উলু নিখোজ হবার চার সপ্তাহ পর আমরা খেলতে এলাম মাঠে ।তুমুল খেলা হলসেদিন ।ছ সাতটা ছয় হাকালাম আমি ।নিজের প্রতিভায় নিজেই অভিভূত হয়ে গেলাম ।আবার বল শুরু করল মিতুল ।বলটা স্টেম্পের অনেকে বাইরে ।দিলাম বারি । বলটা সাত আট হাত দূরে গিয়ে পড়ল ।মিতুল ছুটল বলটা আনতে ।আর এদিকে আমরাদৌড় দিলাম রান নিতে ।তৃতীয় রান নিয়ে থামলাম ।আর থেমেই থ হয়ে গেলাম ।শুধু আমি না ।সবাই ।সবারসামনে নীলছায়াটা বলসহ মিতুল কে উড়িয়ে সূর্যের দিকে নিয়ে গেল ।এমন সময় এখান দিয়ে যাচ্ছিল মিতুলের আকবর চাচা ।আমরা গিয়ে তাকে সব খুলে বলল ।চাচা গালে হাত দিয়ে কি যেন চিন্তা করতে লাগলেন । তিন . বিরাট জেরার মুখে পড়ে গেলাম আমরা ।সেকি জেরা!সকালের দাদুর কাছে দুপুরে মামার কাছে বিকেলে কাকুর কাছে আবার রাতের বেলায় ইয়া বড় পেট অলা পুলিশের কাছে ।সারাটা দিন কাটাল আমার এই করে করেই ।এরপর আবার ধমক তো দশ বারোটা খেলাম ই। সেদিন কেন বলিস নি হে ? এ মস্ত বড় হয়ে গেছিস না?কি জাদরেল ছেলেরে পেটফুট কথা বেরোয় না । শেষমেষ ঘরকাপানো ধমকটা দিলেন পেট বড় পুলিশ টা , মিথ্যা কথার আর জায়গা পাসনা ?পোলাপান গুলা হুদ বেততমিজ ইত্যাদী ইত্যাদী…… । পুলিশ চলে যাবার পর হাফ ছেড়ে বাচলাম ওরে বাবারে মস্ত বড় একটা ফাড়া গেল । কিন্তু খাওয়ার টেবিলে খেতে গিয়ে বুঝলাম ফাড়া এখনো কাটেনি ।খেতে খেতে বাবার কড়া কড়া পুলিশের জেড়ার চেয়েও শক্ত কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হল ।বাবা হয়তো আমাকে আজ সারারাতই প্রশ্ন করতেন ।কিন্তু দেয়াল ঘড়িটা ঢঙ ঢঙ করে যখন জানান দিল রাতবারোটা তখন মা চেচিয়ে বললেন ,ওক এবার ছাড় !আজ সারটাদিন খুব কষ্টে গেছে ওর । এরপর বাবা খুব সহজ আর ছন্নছাড়া প্রশ্ন করলেন একটা ।বুঝলাম বাবা মাকে ভয় পান না এটা আমাকে বুঝাতে এই প্রশ্নটা করেছেন । চার . হঠাত্ রাতে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল ।আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম ।এখন তো ঘুম ভাঙ্গার কথা না ।এমনিতেই আমার ঘুম বেশ গাঢ় ।তাছাড়াসারাদিনের পরিশ্রম ।ঘুম তো ভাঙ্গার কথা না । লেপের নিচ থেকে হাত টেনে বের করলাম ।হাত ঘড়িটায় রেডিয়ামের আলোয় দেখে নিলাম তিনটা বাজে প্রায় ।আমি হাতটা লেপের ভিতর ঢুকিয়ে দিলাম ।ঠিক তখনই পট করে জানালার গরাদ টা খুলে গেল ।নীল রঙের একটা আলো মত ছায়া আমার রুম প্রবেশ করল ।আমি আবেশিত হয়ে তাকিয়ে রইলাম ।ছায়াটা আমার চারদিকে ঘিরে ফেলল ।তারপর আমাকে ভাসিয়ে তুলল উপরে ।একদম উপরে ক্রমশ শুন্যের দিকে । মহাশুন্যের দিকে ।আমি নিচে আমার বাড়িটার দিকে তাকালাম ।ওটা আসতে আসতে ছোট হয়ে যাচ্ছে ।কিছুখন পর হাজারো বাড়ির ভিতর ওটাহারিয়ে গেল । উপরে চাঁদটার দিকে তাকালাম ।ওটা ক্রমশ বড় হচ্ছে ।প্রচন্ড বড় দেখা যাচ্ছে চাঁদটা ।কিছুখন আমি চাঁদের দিকে তাকিয়ে রইলাম ।তারপর হঠাত্ চাঁদটাকে আর দেখতে পেলাম না ।কেমন একটা ঠান্ডা আবেশ আমাকে জড়িয়ে ধরল ।যাএই শীতের মাঝেও আরামদায়ক ।আমি ঘুম চোখে শেষ বারে মত দেখে নিলাম সামনের দিকে ।দেখলাম সূর্যটা খুব দ্রুত বড় হচ্ছে ।তারপর তলিয়ে গেলাম গভির ঘুমের ঘোরে । কতখন ঘুমালাম ঠিক আমার মনে নেই ।আমার ঘুম ভাঙল একটা মিষ্টি গানের সুরে ।অদ্ভুত মন পাগল করা সুর ।আমি তখনো মহাশূন্য দিয়ে উড়ে চলেছি ।পিছনের দিকে তাকিয়ে কে গান গাইছে দেখার চেষ্টা করলাম ।কিন্তু দূরে একটা ছোট তার আর একরাশ কালো কালো শূন্য ছাড়া আর কিছুই দেখলাম ।গানটা তখনো চলছে ।অপরিচিত কিন্তু খুব পরিচিত সুর ।এ সুর যেন আমার জন্ম জন্মান্তরের চেনা ।সুরটা ক্রমশ আমার শরিরে আরামের পরশ ভুলিয়ে যাচ্ছিল । এ গান আমাকে সব ভুলিয়ে দিচ্ছিল খনে খনে ।বার কি একটা সাদাকালো দৃশ্যপট ভেসে উঠছিল চোখের সামনে ।তারপর হারিয়ে গেল ।আমি বারবার হাতরাতে থাকি দৃশ্যগুলো পুনরায় দেখার জন্য ।এরজন্য আমি ভুলতে পারি সবকিছু ।এমন কি আমারবাসস্থান আমার পৃথীবিকেও।হঠাত্ করেই গানটা বন্ধ হয়ে গেল ।আরে ! আরে !গানটাবন্ধ করল কে ?কে করল বন্ধ?আমি প্রায় চেচিয়েই উঠলাম ।আমার মনে হচ্ছিল এই গান যদি এক মিনিটও না বাজে তবে আমি পাগল হয়ে যাব একদম বদ্ধ পাগল ।আমি ছটফট শুরু করতে লাগলাম গানটা শুনার জন্য ।এমন সময় অদৃশ্য থেকে কে যেন বলল ,ভাল লাগছে গানটা ? কে কথা বলে কে ?কাওকে তো দেখছি না ।আমি ভয়ে জমে গেলাম ।এত ভয় পেলাম যে গানের কথাও ভূলে গেল । ¤কে আপনি ? ভয়ের উপর কিছুটা সাহস ভর করে বললামআমি । ¤আমি তোমাদের বন্ধু!অদৃশ্য থেকে আবার স্বরটা । স্বরটা আমার খুব চেনাচেনা লাগল ।আবার খুব অচেনাও মনে হল ? আমি আর একটি প্রশ্ন করতে চাইলাম ঠিক সেসময় গানটা আবার বেজে উঠল ।আমার মুখের কথা মুখেই বিলিন হয়ে গেল ।ওটা আর বাইরে আসার ফুরসুত পেলনা ।গানের মাঝে আর নতুন কলি যোগ হল ।আশ্চর্য এই কলিটাগাওয়ার পর আমার প্রচন্ড ঘুম পেতে লাগল ।

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।

4 Responses to নীলছায়া [পর্বঃ ০১]

  1. বেশ ! চলতে থাকুক…সাথে আছি।

    mjafor@gmail.com'

    মোজাফফর
    জানুয়ারী 3, 2012 at 7:24 অপরাহ্ন

  2. হুম ! আমি ও সাথে আছি । দেখি এরপর কি হয় ?

    touhidullah82@gmail.com'

    তৌহিদ উল্লাহ শাকিল
    জানুয়ারী 4, 2012 at 6:43 পূর্বাহ্ন

  3. :rose: :rose: :rose:
    সাথে আছি আমিও। চলুক…।
    আপাতত ফুল দিয়া অভ্যর্থনা জানাই।
    :rose: :rose: :rose:

    রাজন্য রুহানি
    জানুয়ারী 5, 2012 at 7:54 পূর্বাহ্ন

  4. মনোযোগ দিয়ে পড়ছি। মাঝখানে প্যারা প্যারা করে দিলে আরো ভাল হত।

    রিপন কুমার দে
    জানুয়ারী 7, 2012 at 12:03 অপরাহ্ন

You must be logged in to post a comment Login