অ্যানালগ রূপবান ও ডিজিটাল রোমিও – ৩

বিষয়: : গল্প |

তিন

নীরব রাতের খাবার শেষ করে নিজের বিছানায়। একটা পেপারব্যাক হাতে বালিশে পিঠ দিয়ে আধশোয়া হয়ে আছে। গান পাগল সে । আর বই এর পাগল । প্রতিদিন অন্তত একটা বই । একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশি গল্প-উপন্যাস- পড়ার একটা নেশা আছে তার । বুদ্ধি হবার পর থেকে তার সবচেয়ে প্রিয় , সব চেয়ে কাছের বন্ধু বই । তবে এখন বই মেলা অবস্থায় হাতে ধরা কিন্তু চোখ বইয়ে থাকলেও মন অন্য কোথায়ও। কম্পিউটারে রবীন্দ্রনাথের গান চলছে, ‘ চোখের আলোয় দেখেছিলেম, চোখের বাহিরে’। আর নীরবের চোখে ? কতটা দেখে মানুষ ? চোখের বাহিরে বিশাল জগতের কতটা দেখা যায় ? উপন্যাসের নায়ক নায়িকার মনের ভিতরটা কতবার মুখস্ত করেছে সে । এই সব দেখা কি তার জগতে যত মানুষ চোখের বাহিরে আছে তাদেরকে চেনাবে ? তারা কি এমন ? সে কি জানে কার মনে কে কেমন ? সে কি চেনে কাউকে ? কাউকে মনে পড়ে যাচ্ছে । ছোট দুটো হাত । সবুজ ফ্রক। সাদা ফিতায় বাঁধা দুটো ঝুটি । রেশমী চুলে কি যেন একটা ফুলের ঘ্রান । এক জোড়া গোলাপি জুতো । কতদিন জুতোগুলি খুলে লুকিয়ে রেখেছে হাতে করে নিজের পিছনে । মৌ কেঁদে অস্থির হয়েছে নাগাল না পেয়ে । ওর ধুলোমাখা খালি পা গুলি কি বিচিত্র সুখ দিত নীরবকে । চুলের ফিতাগুলি একটা টানেই খুলে দেয়া যেতো । চুলগুলি খুলে গেলে কি এলোমেলো দেখাতো ওকে । মৃদু হাসিমুখে হাতদুটো নিজের ঘাড়ের নিচে জড়ো করলো । দুই হাত দশ আঙ্গুলে জোড়া দিয়ে তাতে পরম শান্তিতে মাথা রাখলো । তাকিয়ে রইলো ছাদের দিকে । সে এখন দেখতে কেমন হয়েছে ? এখনো কি ওখানে আছে ? ‘ ও কি চিনবে আমাকে ? ওর কি মনে আছে আমার কথা ? ও কি আমাকে ঘৃণা করে ? ও কি আমার কথা ভাবে ? দেখতে চায় ? কথা বলতে চায় ? ওর কি আমার উপর এখনো অনেক রাগ ? ও কি বোঝে ওকে আমি পছন্দ করতাম …’

দীর্ঘশ্বাস ফেললো নীরব । ছোট্ট বেলার সাথী । পড়ার টেবিলে রাখা খাতাটার দিকে চোখ পড়লো নীরবের ।মুকুলের কাছ থেকে আনা । কিছু ক্লাস নোট আছে ।তুলে নেয়া দরকার ।উঠে টেবিলের সামনের চেয়ারটাতে বসলো । নিজের খাতায় মুকুলের খাতা থেকে দরকারী লেখাগুলি কপি করতে লাগলো সংক্ষেপে । কিছুটা শর্ট হ্যান্ড ধরণে । লেখা শেষে কলমটা কলমদানীতে রাখতে গিয়ে আরেকটা মুখ তার চোখে ভেসে উঠলো । পাবলিক লাইব্রেরির আধো আলোতে প্রায় না দেখার মতো … আলতো স্পর্শের স্মৃতি নীরবের সবটুকু অনুভুতিকে আচ্ছন্ন করে রাখলো এক সেকেন্ড ; বিদ্যুতের মতো ঝাঁকি দিয়ে শরীরের ভিতর দিয়ে কোথাও চলে গেলো … জিলাপি পাহাড়ের উজ্জ্বল আলোয় স্পর্শের নাগালের বাইরে থেকে দেখা ঝিলিক দিয়ে ওঠা হাসিমুখ … নাম জানে না। দুটো দৃশ্য পর পর স্পষ্ট হতে হতে অস্পষ্ট হয়ে মিলিয়ে গেলো । চেনা কিছু ছিলো । চোখ ? মুখ ? রঙ ? ভঙ্গি ? ভঙ্গি ! কার মতো !! মৌ !!! বজ্রাহতের মতো টেবিলে এক হাত , চেয়ারের পিঠে এক হাত স্থির হয়ে রইলো নীরবের।

‘ মৌ… …… ‘ নীরবের ভাবনায় ভেঙ্গে ভেঙ্গে অস্ফুট শব্দতরঙ্গ বইতে লাগলো …… উজ্জ্বল আলোয় দেখা ঝিলিক দেয়া হাসির সাথে একটা মুখ … অস্পষ্ট স্মৃতিতে আরেকটা মুখ একাকার হতে থাকলো … নিঃশব্দে বিছানায় ফিরে বালিশে হেলান দিয়ে চুপচাপ বসে রইলো । মন থেকে বের হয়ে এসে কেমন অচেনা একটা অনুভুতি দখল নিলো তার সারা শরীরের উপর।সামান্য অস্থির বোধ করলো । আবার একই সাথে স্থির হয়ে গেঁথে গেলো তীব্র সুখের কোমল মাটিতে অনেক অনেক গভীরে । লাইব্রেরিতে অযাচিতে অচেনা কণার স্পর্শ তাকে কি হঠাৎ বড় করে ফেললো ?! অতর্কিতে শৈশব হারানোর দুঃখ নীরবের সারা মনে ঝাঁপিয়ে পড়লো । ঘুরে ঘুরে কাঁদতে লাগলো অবোধ নীরব । কেন এই সব সে বুঝতে গেলো !? অনেক ক্ষণ পর মুকুলের কথা মনে পড়লো । মনটা হাল্কা করা দরকার। সকালে মুকুলের বাসায় যাবে ঠিক করে বালিশের পাশ থেকে কাজী আনোয়ার হোসেনের মাসুদ রানা’র ‘বিস্মরণ’ তুলে নিলো । কাল ফেরত দিতে হবে । মুকুলের বই । রাতেই শেষ করতে হবে ।

পরদিন সকালে কণার ঘুম ভাঙ্গল অকারণ ভালো লাগা নিয়ে । তিনি শুক্রবার সাধারণত কোথাও যান না । ছুটির দিনে ছেলে মেয়েরা , তাদের বাবা কোন না কোন ভাবে ঘরের বাইরেই সময় কাটায়। একা বারান্দায় বসে থাকতে তাঁর ভালো লাগে । টি ভি দেখার অভ্যাস নাই । কখনো বই পড়েন । কখনো লেখালেখি করেন । আজ একটু ভিন্ন হচ্ছে সব । ছেলেমেয়েরা বাসায় থাকবে । কণা আর রেজা নেভাল বীচ যাচ্ছেন । রেজার কয়েকজন স্কুল ফ্রেন্ড জোড়ায় জোড়ায় আসবেন । মেয়ে বন্ধুদের মধ্যে দুজন একা আসবেন । একজন বিয়ে করেন নি । অন্যজনের বিয়েটা টিকে নি। ছেলেদের মধ্যেও একজন একা আছেন । কেন একা তা’ কণা জানেন না । রেজার সাথে কণা বেশ কিছুদিন হলো কোথাও যাওয়া ছেড়েই দিয়েছেন । নির্দিষ্ট কোন ঘটনা ছিল কিনা তাঁর মনে নেই । আগের রাতে অনেক রাত পর্যন্ত কেঁদেছেন তিনি । বিয়ের প্রথম বছরের কিছু ঘটনা মনে এসেছিল । বিয়ের তিন মাসের মাথায় একদিন – রেজা অফিসে যাচ্ছিলেন । কণা তাঁর পাশ ঘেঁষে দাঁড়ানো । কিছু নিয়ে হাসছিলেন । ঠিক কোন কারণে বোঝা গেলো না , হঠাৎ রেজা কণার দিকে তাকিয়ে বললেন ,’ সব মেয়েই মেয়ে , স্পেশাল বলে কিছু নাই ‘ । শুনে যত অবাক হলেন কণা রেজার মুখের দিকে তাকিয়ে, তার চেয়ে বেশি অবাক হয়ে রেজার মুখের দিকে তাকিয়ে কষ্ট পেলেন । রেজার মুখে কঠিন ভাব । আগের দিন রেজা তার মায়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন। মা মেনে নেননি কণার সাথে রেজার বিয়েটা । ভালো কিছু হবার কথা না । পরিবারের আদর আর সম্মান হারাতে হয়েছে রেজাকে কণার জন্য । কণাকে দেখার আগে সারা জীবন রেজার অহঙ্কার ছিল শরীরের পবিত্রতার । প্রেম তার সেই অহঙ্কার মূল সহ উপড়ে ফেলেছে । রেজার দেশের বাইরে একটা ভালো জব অফার ছিল । কণাকে বিয়ে করে সেই সুযোগ হারাতে হয়েছে । এমন কি বন্ধুদের আড্ডাও ছাড়তে হয়েছে । টাকার মেশিন হতে হয়েছে তাকে । কণা সব ভেবে আহত মনে চুপচাপ সরে দাঁড়ালেন … কিছু হয়েছিলো রেজার । কণা ঠিক করে জানতে পারেন নি । কিছু হয়েছিলো কণার । রেজা জানার চেষ্টা করেন নি । সেই এক পা সরে আসাটা ছিল রেজার জীবন থেকে কণার আরেক পৃথিবীর দিকে সরে আসা । বিচ্ছেদের শুরু কি এই মুহূর্তটাতে হয়েছিলো ? নিশ্চয় তারও আগে । কণা জানে না। মনে পড়েছিলো ঘৃণায় বিকৃত একটা মুখ । রেজার বন্ধু । কণার আত্মীয় । বিয়ের বহু আগে এক রাতে এই লোকটা তাঁর দরজা খোলা পেয়ে বিছানায় উঠে এসেছিলো সাপের মতো নিঃশব্দে । একটা শব্দ করতে পারেনি কণা সেদিন । তাঁর একটা শব্দে ওই লোভী লোকটা তার আশ্রয় হারাতো । শহরের পথে পথে রাত কাটাতে হতো তাকে । খেতে পেতো না । লোকটার অসহায় মা বোনের চেহারাগুলি মনে করে দাঁত চেপে সয়েছিলো । ভুল করেছিলো । ভুলের মাশুল দিয়েছে দিনের পর দিন । লোকটা ছায়ার মতো অনুসরণ করেছে তাকে । আর রাতে দিনে যখন তখন সুযোগ খুঁজে বের করেছে । শেষ পর্যন্ত একদিন কণা সেই সম্পর্কটা অস্বীকার করতে পেরেছিলো । সেদিন থেকে যতবার সামনে পেয়েছে কণাকে লোকটা ‘ পঞ্চাশ টাকার মেয়ে’ কথাটা না বলে সামনে থেকে সরেনি । এমন কি রেজার সামনেও । আর রেজা নির্বিকার তার সাথে গল্প করেছে , বন্ধুত্ব রেখেছে । একটা বারের জন্য নিঃশব্দেও একটু রাগ তার চেহারায় প্রকাশ পায়নি । শ্বশুর বাড়িতে , সমাজে সংসারে , শরীরে মনে যত দুঃসময় এসেছে কণা একা লড়েছেন । জেনে নিয়েছে কণার অপমান রেজার অপমান নয়। কণার কষ্ট রেজার কষ্ট নয় । জেনেছেন , না বুঝে মানুষ অনেক প্রতিশ্রুতি দেয় , যা না রাখার পক্ষে অনেক কারণ দাঁড়িয়ে যায়। হাজার অঘটন , হাজার বঞ্চনার স্মৃতি খড় কুটোর মতো ভাসিয়ে নিয়ে যায় সুখের মুহূর্তগুলিকে । সুখ গুলিকে আর বিশ্বাস হয় না। বিশ্বাস মরে যাবার পর ভালোবাসা থাকে ? শুধু শরীরটা থাকে। শুধু নিয়ম গুলি থাকে । চারপাশে সব দেখে শুনে পৃথিবীতে সব মানুষের একই নিয়ম , একই জীবন – এই বিশ্বাস হবার পর কণা আর রেজার সংসার ছাড়ার চিন্তা করে না। ভিতরের মানুষটা একা হয়ে গেছে । বাইরের জীবনে কী আছে নেই তাতে খুব বেশি কিছু আসে যায় না। দীর্ঘশ্বাসের জীবন ।

তবু কোন কোন সকাল মন ভালো করে দেয় । বাঁচতে ভালো লাগে ।

কোন কোন বিকাল আশ্চর্য সুখ এনে দেয় মনে।

আকাশ সাগর পাহাড় নদী আর সবুজ পাতার পৃথিবীটা মানুষকে মরে যেতে দেয় না।

উদাস কণাকে পাশে দাঁড়ানো দেখে নীরব শরীরের ভিতর দিয়ে এক ঝলক বিদ্যুৎ তরঙ্গের চলে যাওয়া অনুভব করলো । দেয়ালে পা ঝুলিয়ে বসে ছিল সে । কখন কণা তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে জানে না। কণা নীরবকে দেখলেন আরও অনেক পরে। হাসলেন । জিজ্ঞেস করলেন ,’ বন্ধুদের সাথে এসেছ ? বাসার কেউ এসেছে ? ‘ নীরব সহজ হেসে জবাব দিল, ‘ বন্ধুরা আছে , একটু দূরে ‘ … সবাইকে দেখা যাচ্ছিলো । বেশ মজা করছে , দেখেই বোঝা যাচ্ছে । কণা জানতে চাইলেন, ‘ তুমি ওদের সাথে গেলে না?’ নীরব চুপ করে রইলো । কণা তাঁর বাসার ঠিকানা বললেন নীরবকে । ছেলেটাকে তাঁর ভালো লেগেছে ।

কিছুদিন পর , যখন কণার বাসায় নীরবের আসা যাওয়া শেষ পর্যন্ত রেজা মেনেই নিয়েছে , ছেলেমেয়েরাও খুব মাথা ঘামাচ্ছে না ; তেমন এক দুপুরে কণার একলা বাসায় নীরব এসে উপস্থিত হল । কণা প্রথমে ওকে বারান্দায় নিয়ে গেলো। কিছুক্ষণ পর কণার মনে হল কিছু খাওয়ানো দরকার ছেলেটাকে । রান্নাঘরে কেবিনেটে কিছু ঝাল বিস্কিট আর চিকেন ফ্রাই ছিলো । সস আর পানি ট্রে’তে নিয়ে টেবিলে রেখে দুটো প্লেটে খাবারটা সাজালেন । নীরব বারান্দা থেকে ডাইনিং রুমে ঢোকার দরজায় হেলান দিয়ে নিঃশব্দে দেখছিলো কণাকে । তাঁর চলা ফেরা , মুখের ভঙ্গি … কণা হঠাৎ নীরবের চোখের দিকে তাকিয়ে বয়স হারিয়ে ফেললেন । নীরব রেজা হয়ে কণার মুখোমুখি দাঁড়ালো । খাবারগুলি টেবিলে রইলো । একটা ঘণ্টা নিঃশব্দে চলে গেলো । বাঁধন না মুক্তি কী যে দুজনের হলো , ব্যাখ্যা সম্ভব না। তাদের জীবনে একটা দুপুর আলমিরাতে তুলে রাখা দামী একটা গিফট হয়ে রইলো । পরবর্তী জীবনে এক এক সময় এই দুপুরটাকে তারা প্রায়ই হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখেছে ; একেকবার একেক চেহারায় – ভালবাসায় , ঘৃণায়, অসহায় দুঃখে , গভীর সুখে – আরও নানা আধচেনা অচেনা অনুভুতি নিয়ে । নীরবের ঘরে , কণার ঘরে জানাজানি হয়েছিলো সব । রেজার শীতল বাঁধন আরও শক্ত হয়ে কণাকে বেঁধেছিল ; নীরব ঘরের চাপে দেশের বাইরে চলে গিয়েছিলো । জীবন নদীর স্রোত কখনো থামেনি । আসলে মাঝে মাঝে কোন হিসাব নিকাশ ছাড়াই দুজন মানুষ দুজনের জন্য তীব্র টান অনুভব করে। ঠিক কী কারণে , বোঝা সম্ভব হয় না। এই অবস্থায় শরীরের যে চাহিদা টুকু তৈরি হয় তা বোঝা সহজ বলে বোধ হয় মানুষ চট করে শরীরেই জড়িয়ে যায়। আর যত তারা শরীর খুঁড়ে সত্য গুলি খুঁজতে থাকে তত দিশাহারা হতে থাকে মনটার অসহায়ত্ব দেখে । সে যে কী পেলো না, তা জানার জন্য মাথা আছড়াতে থাকে ঢেউয়ের মতো হাহাকারে ; নির্দয় বোধ কিছু বলে না ; ঢেউ গুলি আছড়ে পড়ে ফেনা হয়ে যায় – আবার ঢেউ হয়ে ফিরে আসে – আবার …মানুষ বেঁচে থাকে …
শেষ কথা …

এই ধরণের ঘটনায় পাত্রভেদে নানান পরিণতি আসে । কোন কোন সময় ঘটনার সাথে জড়িয়ে গিয়ে পরিবার সমাজ সংসার ভেঙ্গে যায় , ধ্বংস ডেকে আনে। কোন সময় গোপন ক্ষতি নিয়ে নিঃশব্দে দুজন মানুষ তাদের জীবন পার করে ফেলে । এর চেয়ে বেশি কিছু কি হয় ? পাঠক কি বলতে চান কিছু ? কেন হয় ? কী হয় ? কী হলো না ? কী হওয়া দরকার ? কেউ কি কিছু বলবেন ? এপার ভেঙ্গে নদী ওপার গড়ে । চরম শূন্য জীবনে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য কিছু সুখ দুঃখের প্রয়োজন হয় । প্রয়োজন বোধের তীব্রতম মুহূর্তে মানুষ নিজের সাধারণত নিজের অজান্তেই এই সম্পর্কগুলিতে জড়িয়ে যায় । হয়তো সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্পর্কগুলি হয় না বলে নিজেরাও সম্পর্কগুলিকে ঠিক মেনে নিতে পারেন না। অপমান বোধ করে । দুঃখ পায় । মুক্তির জন্য ফিরে যায় আগের কোন সম্পর্কের কাছে , অথবা তৈরি করে নতুন কোন সম্পর্ক । সুখী হয় ? অপরাধ বোধে ভোগে ? বিষণ্ণ হয় ? কষ্ট পায় ? ফিরে পেতে চায় ? জীবনটা শুন্যতার কষ্ট থেকে তো মুক্তি পায় ।

যারা অযাচিত এই সম্পর্কগুলি থেকে নিজেকে , কাছের মানুষকে বাঁচাতে চান , তারা তাদের স্বীকৃত সম্পর্কগুলির যত্ন করুন । নিজেকে , নিজের মানুষ গুলিকে শূন্য করবেন না , একা করবেন না , বিচ্ছিন্ন করবেন না । আর যারা নিতান্ত অপারগ তারা এমন কিছু খুঁজে নিন যা নিয়ে সুখী হন । নিজেকে ধ্বংস করতে ইচ্ছে না হয় । যা আপনাকে পূর্ণতার সুখ দেয় । সুখী হোন । পৃথিবী সুখী হোক আপনাকে পেয়ে ।।

নিজের ছায়া খুঁজে বেড়াই, আমি এক ক্লান্ত পথিক// পথ হাটিতেছি, নিঝুম নিমগ্ন সুখে!
শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।

মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে। Login