শৈলী অনলাইন আড্ডা – ১

Filed under: সাহিত্য সংবাদ |

শৈলী “অনলাইন আড্ডা” নামে নতুন একটি বিভাগ শুরু করছে। শৈলী অনলাইন আড্ডায় সমকালীন কোন বিষয় নিয়ে সকল সম্মানিত শৈলার এবং সুপ্রিয় পাঠকদের সাথে মত বিনিময় করা হবে। অনলাইন বৈঠকে যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারবেন। শর্তস্বরূপ বাংলা ভাষায় লেখা প্রতিক্রিয়াই শুধু গ্রহণ করা হবে। সকল শৈলার মন্তব্যের ফাঁকা ঘর-এ বিজয়/অভ্র পদ্ধতিতে লিখে পোস্ট করতে পারেন। এবং অ-শৈলার-রা shoilyblog@gmail.com -এ ই-মেইলের মারফতে লেখা পাঠাতে পারবেন।

এখানে মন্তব্যগুলি নিচ থেকে উপরের দিকে সাজানো হয়েছে। অর্থাৎ নতুন প্রতিক্রিয়াগুলো উপরে থাকবে। প্রতিটি আড্ডায় অংশগ্রহনকারীদের নাম সংশ্লিষ্ট পোস্টে পরবর্তীতে অর্ন্তভুক্ত করা হবে।

এবারের বিষয়:

রবীন্দ্র এবং নজরুল-পরবর্তী বাংলা সাহিত্য বিশ্বদরবারে উল্রেখযোগ্য স্থান করতে না পারার কারন হিসেবে আপনি কি মনে করেন?

শৈলী বাহকের শেষ দেখা পর্যন্ত এই আড্ডায় অংশগ্রহন করেছেন:

১. জুলিয়ান সিদ্দিকী
২. শৈবাল

৩. মুরাদুল ইসলাম

৪. নীল নক্ষত্র

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।

8 Responses to শৈলী অনলাইন আড্ডা – ১

  1. বিশ্ব-দরবারে বাংলা সাহিত্য উল্লেখযোগ্যস্থান তৈরী করতে না পারা কারণ হচ্ছে আমাদের বাঙালী মানসিকতা এবং সাম্প্রদায়ীকতা। বিস্তারিত বলতে গেলে অনেক কথাই বলতে হবে। এস প্রসঙ্গে নানা তথ্যসূত্রেরও আগমন ঘটবে। যা হয়তো আলোচনাকে খানকটা বাধাগ্রস্থ করে তুলতে পারে।

    এ ব্যাপারে আমার মনে হয়েছে একজন হিন্দু লেখক তার লেখায় নিজ ধর্ম আর সম্প্রদায়কে যেমন প্রাধান্য দিতে পছন্দই কেবল করেন না অন্তর্গত এক ধরনের একগুঁয়েমীকেও পাশ কাটিয়ে যেতে পারেন না তেমনি মুসলিম লেখকও একই দোষে দুষ্ট।

    রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলী যেমন করে উঠে এসেছে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তেমনটা আর কোনো লেখকের হাত দিয়ে সৃষ্টি হয়নি। আরকটা দিক হলো বাঙালীর ইংরেজির প্রতি অনীহা। বাংলা সাহিত্যকে অনুবাদের মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে তুলে আনার প্রতি আলস্যও কাজ করে থাকতে পারে।

    বিশ্বের অনেক লেখাই যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি নয়- তাদের লেখা অনিবাদের মাধ্যমে ছিড়য়ে পড়ছে। আমরা পিছিয়ে পড়ছি লেখক সমাজের ব্যক্তি বৈষম্য, একজন আরেকজনের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ ইত্যাদি। যে কারণে একজন লেখক আরেক লেখকের লেখার সমালোচনা করতে ভয় পান, পাছে সেই লেখক সমালোচক লেখকের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়ে যান। এমন ভয়তো আছেই। আবার ইদানীংকালে সমিতির মত লেখক দল তৈরী হচ্ছে। যারা তাদের গোত্র-সমাজের বাইরের কারো লেখা নিয়ে আলোচনা পছন্দ করেন না। আর এ গুঁতোগুঁতির ফলে বাংলা সাহিত্যিকদের মানসিকতারও ইবকাশ তেমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সবাই চাচ্ছে নিজের এবং স্বগোত্রর উৎকর্ষ তুলে ধরতে। কিন্তু সে চেষ্টা নেই যে পাশের জন ভালো লিখছে, তাঁর লেখা নিয়ে খানইকটা আলোচনা করি। তা ছাড়া যারা এরই মধ্যে বড় লেখকের মৌরসীপাট্টা গলায় ঝুলিয়ে ফেলেছেন, তারা চান না আর কেউ লিখুক। আরো কেউ লিখলে তাদের বাজারদর কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে।

    আরেকটা দিক হচ্ছে আমাদের বড় লেখকরা যাই লিখছেন তা হয়তো সাহিত্য মানের দিক দিয়ে উচ্চমানে পৌঁছুতে পারছে না। যে কারণে বাংলা থেকে ভিন্ন ভাষায় অনুবাদ হলেও কারো দৃষ্টি আকর্ষন করতে বা ভিন্ন ভাষার পাঠকের মন ছুঁয়ে যেতে ব্যর্থ হচ্ছে।

    juliansiddiqi@gmail.com'

    জুলিয়ান সিদ্দিকী
    নভেম্বর 29, 2010 at 9:20 পূর্বাহ্ন

    • হয় বাংলা লেখাগুলো বিশ্বমানের হচ্ছে না বা অনুবাদগুলো বিশ্বমানে উন্নীত হচ্ছে না। এমনটি হলে কোনটা আগে প্রয়োজন?

      juliansiddiqi@gmail.com'

      জুলিয়ান সিদ্দিকী
      নভেম্বর 29, 2010 at 7:25 অপরাহ্ন

  2. চেষ্টা তো ভালই হইছে কিন্তু আলাপ করুম না কি বিলাপ করুম তাই আগে বুইঝা নেই তার পরে কমুনে।
    অত্যান্ত গুরুত্ব পূর্ণ ফিচার আরম্ভ করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

  3. ঠিক , আমার মনে হয় তাই । সাম্প্রদায়িকতার চেয়েও বড় কিছুতে সম্পর্ক সাযুজ্যের অভাব আছে ! হতে পারে তা সৌহার্দ্যের সম্মানের সংঘর্ষের কারণে ।

    প্রথমে প্রথম থেকে বলি ;একটা উদাহরণ দিয়ে । রবীন্দ্র ছায়া থেকে স্বতন্ত্র কবি যেমন বুদ্ধদেব বসু অগ্রজ কবি ঠাকুরের যেমন সমালোচনা করেছেন তেমনি অপ্রধান কবিদেরও নেড়েছেন দীপ্ত দৃপ্ত সাহসী উচ্চারণে । তাতে কিন্তু সমালোচনা হয়েছে তীক্ষ্ন বিশ্লেষণে আর সম্মান দেখিয়ে ।তেমনি কবি ঠাকুর তাকেঁ স্বাগত জানিয়েছেন উদার ভাবে , বুদ্ধদেব নিয়ে তিনি লিখেছেন
    ” যে লেখা কয়টি দেখলুম তার সমস্তগুলি নিয়ে মনে হোলো এ যেন একটি দ্বীপ । এই দ্বীপের বিশেষ একটি আবহাওয়া ফলফুল ধ্বনি ও বর্ণ । এই সরস উর্বরতার বিশেষ একটি সীমার মধ্য এক জাতীয় বেদনার উপনিবেশ । দ্বীপটি সুন্দর কিন্তু নিভৃত । হয়তো ক্রমেই দেখা যাবে দ্বীপপুঞ্ছ হয়তো প্রকাশ পাবে উদার বিচিত্র মহাদ্বীপে তমালতালী বনরাজিনীলা তটরেখা ” ।

    সত্যিই কী চমত্‍কার , কবি ঠাকুর নতুন বলে বুদ্ধদেব কে নাকসাটেনি বরং এই উদ্ধাত্ত অহিংস স্বচ্ছলতা কোথায়বা পাওয়া যাবে ! রবীন্দ্র বুদ্ধদেব এর মতোই রবীন্দ্র নজরুল , বিষ্ণু দে , জীবনানন্দ সম্পর্কে একই ছায়া দেখা যায়।

    এই কথাগুলো পড়া কিন্তু আমাদের দেখাটা কি ? এখনকার কবি আমার প্রিয় কবিরা যখন সম্মেলনে গিয়ে বলেন তারা নিজের কবিতা ছাড়া অন্যকারো কবিতা পড়েন না , কেউ সৌজন্য সংখ্যা পাঠালে উপাহার লেখা পাতাটা ছিঁড়ে বাজারে বেচে দেন । তখন আমাদের শোনার আর কী বাঁকি থাকে । সেই তোপচীদের তিরস্কারের নবীনদের গ্রহণ হবে না গ্রহান্তর হতে হবে ?

    আমি সাহিত্যের ছাত্র না কথাগুলো নিজের সরলবোধ থেকে বললাম ।ভুলগুলো ক্ষমা করবেন ।

    imrul.kaes@ovi.com'

    শৈবাল
    নভেম্বর 29, 2010 at 6:37 অপরাহ্ন

  4. @আহমেদ মনসুর,

    একটু অমত করি। আর তা হলো, তাঁরা সরাসরি ইংরেজি ভাষায় লিখছেন, এতে করে বাংলা সাহিত্যের কোনো উপকার হচ্ছে না। বাঙালী হিসেবে হয়তো লেখালেখির ক্ষেত্রে উচ্চাসনে আসীন হতে পারছেন, তাই বলে আড্ডার মূল বিষয়ে কোনো অবদান রাখছেন না বলেই মনে করি।

    বাংলায় কোনো লেখা ভিন্ন ভাষায় অনুবাদ হয়ে সেই ভাষার লোকজনের কাছে যদি তুলে ধরতে পারতো যে, হ্যাঁ, এটি বাংলা ভাষায় রচিত অমুক কাব্য কিংবা অমুক গল্প। যার কবি বা গল্পকার অমুক, তাহলে উদ্দেশ্য সিদ্ধি হয়। নচেৎ সেটা সরাসরি ইংরেজি সাহিত্যের সম্পদ হিসেবেই পরিগণিত হওয়ার কথা।

    juliansiddiqi@gmail.com'

    জুলিয়ান সিদ্দিকী
    নভেম্বর 29, 2010 at 6:56 অপরাহ্ন

  5. বাঙ্গালির মুখ যত চলে কলম তত চলতে চায় না কেন?
    চায়ের টেবিলে ঝর উইঠা যায়, হাতাহাতি, মারামারি, রক্তারক্তি সব কিছু খুব জোড়ের সাথে চলে কিন্তু কাগজ সাদা পইরা থাকে কলমের কালি জইমা যায় নাইলে শুকাইয়া যায় তাও কাগজে একটা দাগ পরে না কেন?
    জবাব চাই।

    নীল নক্ষত্র
    ডিসেম্বর 23, 2010 at 5:48 পূর্বাহ্ন

  6. রবীন্দ্র এবং নজরুল-পরবর্তী বাংলা সাহিত্য বিশ্বদরবারে উল্রেখযোগ্য স্থান করতে না পারার কারন হিসেবে আপনি কি মনে করেন?//

    বাংলাদেশ স্বাধীন হইবার আগে পাকিস্তানের অংশ হিসাবে ছিল।তখন ওই পাকি শাসকরা খালি যে অর্থনৈতিক শোষন করছে এইটা না।তারা সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও শোষন কম করে নাই।বাংলা ভাষাকে বলা হইত হিন্দুদের ভাষা,বাঙালী সংস্কৃতিকে বাবুদের কালচার।এমনকি বাঙালী মুসলমানদের বলা হইত হিন্দুদের জারজ সন্তান।লাহোরের এক বিখ্যাত প্রকাশক ফিরোজ এন্ড সন্স একটা অভিধানে বাঙালী শব্দের অর্থ করেছিলেন “আগর বাঙালী ইনসান হো তো ভূত কহৌ কিসকো।”তখন এইরকম মানসিকতা ছিল পাকিস্তানিদের।বাংলা সাময়িকপত্রে গল্প কবিতা প্রবন্ধ ইত্যাদির সঙ্গে দৃষ্টিভঙ্গীর বা মতের মিল না হইলে পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হইত।এইরকম পরিস্থিতিতে সাহিত্যের বিকাশ হইতে পারে না।তাই হয় নাই তখন।

    আর এখন নতুন দের সুযোগ কম।কিছু লেখক লেখতেছেন ব্যবসা করার জন্য।এইখানে লাভ ক্ষতির প্রশ্ন।প্রমথ চৌধরী বলছিলেন” যে খেলায় উপরি পাওনার আসা থাকে সেটা খেলা না জুয়া খেলা” ঠিক তেমনি “যে সাহিত্যে টাকা পাওয়ার লোভ থাকে সেইটা সাহিত্য না কুসাহিত্য”।কুসাহিত্যে টান নিয়া মাথা ঘামানোর টাইম নাই।পুরাতন বা প্রতিষ্টিত রা নতুনদের সুযোগ দিতে ভয় পায়।আর একটা নতুন লেখক চাইবে বই প্রকাশ করতে।কারন লেখা প্রকাশ না হইলে সে লেখার তো কোন দাম নাই।প্রকাশিত হইলে বোঝা যাইব তার মান।কিন্তু সেইক্ষেত্রে মহাসমস্যা।নিজের পয়সা দিয়া বই প্রকাশ করতে হয়।নতুন লেখক যদি না আসে নতুন চিন্তা আসবো না।নতুন চিন্তা না আসলে ক্যামনে বিশ্বসাহিত্য স্থান হইতে পারে?।ফলে মি ৪২০ টাইপ ৪২০ লেখাই মার্কেটে চলবে।

    শেষ কথা হইল ,যে দেশে জ্ঞানীর সম্মান নাই সেই দেশে জ্ঞানী হয় না।এরকম একটি কথা বলছিলেন ডঃ মোহাম্মদ শহীদোল্লাহ।এইটাও এখানে প্রযোজ্য।

    muradt20@gmail.com'

    মুরাদুল ইসলাম
    ডিসেম্বর 31, 2010 at 8:49 পূর্বাহ্ন

  7. এই বসন্তে আড্ডা জুমে উঠুক!!!! :rose: :rose: %%-

    mannan200125@hotmail.com'

    চারুমান্নান
    ফেব্রুয়ারী 17, 2011 at 7:16 পূর্বাহ্ন

You must be logged in to post a comment Login