আহমেদ মাহির

বিবর্ন পাতা থেকে :: ১

Decrease Font Size Increase Font Size Text Size Print This Page

অমি ,
কতদিন তোর সাথে দেখা হয় না । খুব দেখতে ইচ্ছে করছে তোকে । মাঝে মাঝেই আমার এমন হয় । পরিচিত মুখগুলো দেখতে ইচ্ছে করে খুব করে।

বাইরে বৃষ্টি নেই ; বৃষ্টির ঘ্রান পাচ্ছি । মন বলছে , তোকে লেখা শেষ করতেই বৃষ্টি নামবে । তখন তোকে দিব্যি ভুলে গিয়ে ভিজতে ছুটে যাব । কিংবা তুই মনের অগোচরে মনেরই এক আমার সাথে ভিজবি । ইশ ! কতদিন বৃষ্টিতে ভিজি না । জানিস , মন বলছে , এবারে বৃষ্টি এলে হৃদয়ের সব বাধ ভেঙ্গে যাবে । প্রবল স্রোতে হারিয়ে যাব কোনো অজানায় । কতদিন ধরে আমি হারিয়ে যাবার অপেক্ষায় ।

তুই কি হারাতে চেয়েছিলি কখনো ? আমি চেয়েছি বহুবার । চেষ্টাও চালিয়েছিলাম একবার । তখন পাঠশালার অষ্টম ধাপে মাত্র । এক বিকেলবেলা, অর্নবের সাইকেলটা ধার নিয়েছিলাম কিছু সময়ের জন্য ; আমার তো কোনোদিনই সাইকেল ছিল না , তাই ধার নেওয়া । এরপর শহুরে পথ ছেড়ে গ্রামের পথ ধরা । ব্রাহ্মনকাঠি … আলামকাঠি … কদমতলা … উচাপোল … বড়বাড়ি … পোরগোলা … জুজখোলা …
চলছিলাম । শুধুই চলছিলাম । যেন অন্তহীন এক পথে চলছিলাম ! সাড়ে ৯ টার দিকে , যখন চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার , একটি মটরবাইক এসে আমার পথ আগলে দাঁড়াল । বাইকে অর্নবের মামা আর যেন কে ছিলেন । মামা আমায় বাইকে তার পেছনে বসিয়ে নিয়ে , সাথের মানুষটিকে সাইকেলের দায়িত্ব দিলেন । বাসায় পৌঁছুলাম তখন ১০ টা মত বাজে । মোটরবাইক থেকে নেমে হাঁটতে গিয়ে অনুভব করলাম , আমার পা প্রায় অসাঢ় হতে চলেছে । পেশীগুলো জমে গেছে । যতটা সম্ভব সাভাবিকভাবে হাঁটতে চেষ্টা করলাম । দরজার সামনে ছোটো চাচা দাঁড়িয়ে । তার দিকে চেয়ে হাসার চেষ্টা করলাম । কাজ হল না । তিনি দরাজ হাতে একটা চড় বসালেন আমার গালে । এরপর বেশ শান্ত স্বরে আমায় ঘরের ভেতরে যেতে বললেন । অর্নব এসে কানে কানে বলল , ” … আমি ভাবলাম , আমার সাইকেলটা গেল বুঝি … ” ওর কথা শুনে ওই গম্ভীর পরিস্থিতিতেও হেসে ফেলেছিলাম ।

এরপর আবার সেই পরিচিত কক্ষ … একরাশ ক্লান্তি নিয়ে সেই পরিচিত গন্ধের বিছানা … আমায় ফিরে আসতে হয়েছিল । তবু জানিস , সেদিন ওই কিছু সময়ের জন্য হলেও মুক্ত অনুভব করেছিলাম নিজেকে ।

বৃষ্টি নেমেছে । এবার বুঝি বাধ ভেঙ্গে যাবে । দেখিস , এবার বাধ ভেঙ্গে গেলে হারিয়ে যাব অজানায় … না ফেরার পথে … যাচ্ছি । শেষবেলায় কেমন আছিস জানতে চাই না ; প্রার্থনা করি , ভাল থাকিস ।

তোর ভাঙ্গাচোড়া
মাহির

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।


8 Responses to বিবর্ন পাতা থেকে :: ১

  1. nabil_ahmed@gmail.com'
    অজ্ঞাতনামা কেউ একজন আগস্ট 22, 2010 at 9:56 অপরাহ্ন

    আপনার চিঠিটি পড়ে ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। ছোটবেলা প্রচুর বৃষ্টিতে ভিজতাম। অন্যরকম এক শিহরন হত। মাঝে মাঝে মনে হয়, এমন যদি হত সব ছেড়েছুড়ে যদি আবার সেই ছোট্টবেলায় ফিরে যেতে পারতাম! কি আনন্দই না হত। ভালো লাগল চিঠিটা পড়ে। দিন আনন্দময় হউক।

  2. nader_ch@gmail.com'
    অজ্ঞাতনামা কেউ একজন আগস্ট 22, 2010 at 9:58 অপরাহ্ন

    আমার ভাল লাগার দুটি লাইন:

    বৃষ্টি নেমেছে । এবার বুঝি বাধ ভেঙ্গে যাবে । দেখিস , এবার বাধ ভেঙ্গে গেলে হারিয়ে যাব অজানায় … না ফেরার পথে … যাচ্ছি । শেষবেলায় কেমন আছিস জানতে চাই না ; প্রার্থনা করি , ভাল থাকিস ।

  3. mahirmahir3@gmail.com'
    আহমেদ মাহির আগস্ট 22, 2010 at 10:44 অপরাহ্ন

    ইদানিং , ভাদ্রের শুরুতে ঢাকা শহরে ভালোই বৃষ্টি হচ্ছে । ইচ্ছে পূরনের অপেক্ষা শুভ হোক ।

  4. mahirmahir3@gmail.com'
    আহমেদ মাহির আগস্ট 22, 2010 at 10:45 অপরাহ্ন

    বিবর্ণ পাতা থেকে :: ২ – কাল অথবা পড়শু পেয়ে যাবেন আশা করছি ।

    শুভকামনা রইল ।

  5. snmhoque@yahoo.com'
    আজিজুল আগস্ট 23, 2010 at 6:57 পূর্বাহ্ন

    সব কিছু কি বিবন'ই থেকে যাবে?

    • mahirmahir3@gmail.com'
      আহমেদ মাহির আগস্ট 23, 2010 at 6:29 অপরাহ্ন

      মামা , আমার এ চিঠিগুলো আমার বৃত্তির টাকা দিয়ে কেনা পুরোনো বিবর্ণ পাতার একটা খাতায় লেখা । তাই এমন নাম । আমাদের চারিধারে এত আলোকিত মানুষ রয়েছেন , এত রঙ্গিন মানুষ রয়েছেন ; তাদের ছাপিয়ে বিবর্ণতা কি টিকতে পারে , বলুন ? নিশ্চয়ই রঙ্গিন হবে আমাদের চারিধার !

You must be logged in to post a comment Login