অনিমেষ এর চিঠি (সর্বশেষ খন্ড)

দেবী,
তোর চিঠি পেলাম-দূর থেকে দেখলামও আজ। মনকে অনেক সান্তনা দেবার ইচ্ছা করছিলো-সম্ভব হলো না। তুইতো আর সামনে এলি না-সম্ভবত আমিও এড়িয়ে গেলাম। পরাজয়ের পর কে চায় সামনে এসে হাত মেলাতে?

আমি অবশ্য তোকে দেখছিলাম- ক্যাম্পাসের A বিল্ডিংটার পাশে চায়ের দোকানে বসে। লাইব্রেরীর সামনে দিয়ে সোজা হেটে যাচ্ছিলি-তোর প্রিয় বেগুনী রঙ এর কামিজ আর এককালে আমাকে খুশি করবার জন্যে চোষ পাজামা। কে জানে, রাজীবদা কি আমার মতন তোকেও এই রুপে দেখতে পছন্দ করে! নাকি, তোর সমাজের সবার মন রক্ষা করেই এখন চলছিস?

২০০৮ এর জানুয়ারী মাস। অনেক অস্থির সময় পার হলো গত কিছুমাস। দেশে এখনো আস্থিরতার গুমোট পরিবেশ। মনের গহিনে ভয়-এখন থেকে এই আর্মি শাষিত সরকারটাই না আবার ক্ষমতায় জেকে বসে!

অস্থিরতা কি আরো বাড়বে? তাহলে কি এতদিনকার রাজনৈতিক, সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটকে অস্থিরতা বলা চলে না? আরও কতটুকু অস্থিরতা এদেশের মানুষ সহ্য করতে পারবে?

মনে হয় পারবে। আমিও যেমন পারি।

ইদানিং আমিও পারি।

আজ আড্ডা চলছিলো আমাদের মাঝে। মোস্তফা ভাই এর মতে এখন নাকি কলিকাল চলছে। আমি বলে উঠলাম,”কলিকাল এর জমানা শেষ। এখন আমরা বোনাস কলিকাল অতিক্রম করছি। ঈশ্বর সম্ভবত ঈশ্রাফিল কে শিঙ্গায় ফুক দেবার নিদে’শনা দিতে ভুলে গেছেন।”

মনের গহিনেই ব্যার্থ প্রেমিক বলে উঠলে, “দেবীরানীর দুটো প্রেম একইসাথে করা দেখলে post কলিকাল শব্দটাই যোগ্য মনে হয়।” পরিভাষায় বলা চলে- parallel love-সমান্তরাল ভালোবাসা। যদিও এক্ষেত্রে ভালোবাসা না বলে প্রহসন শব্দটা জুতসই হতো বোধ করি। থাকুকন! বেশ কিছু ভুলের মাঝে এটাও থাকুক বেচে।

তোর চিঠিটা আবারো পড়ে ছিড়ে ফেললাম মাত্র। তুই লিখেছিস, “স্মৃতিচিহ্ন রেখে কি লাভ?”

লাভ ক্ষতির হিসেব ঢেড় আছে বাকী পড়ে। এরচেয়ে বরং স্মৃতি খুড়ে কিছু ঘটনাবলী বের করার মিথ্যে চেষ্টা আর না করি।

বহুদিন পরে মেসে আজ সবাই মিলে টিভি দেখতে বসলুম। নিজেকে ভুলিয়ে রাখার কি প্রানান্ত চেষ্টা! ৮০’র দশকে যখন মার্কিন মুল্লুকে খোদ সরকার নিজ দেশের বিপ্লবী ছাত্রসমাজকে কিছুতেই দমন করতে পারছিলোনা-তখন প্রতিটি হলের রুমে কালার টিভি বসিয়ে দিলো। উদ্দেশ্য-মানুষকে ভুলিয়ে রাখো স্ফুর্তির চুড়ান্ত রুপ আর মায়াজাল দিয়ে। এলভিস প্রিসলি আর one man show জাতীয় কমিক চরিত্র থেকে daily serial বানাও। মানুষের মাথায় ঢুকিয়ে দাও-একত্রিত আন্দোলন এর কি আদও লাভ আছে?

আমার সৌভাগ্য-সে জমানায় আমি মার্কিন মুল্লুকে জন্মাইনি। আর আমার দুর্ভাগ্য- এ জমানায় আমি ভুল লোককে কাছে টেনে বিপ্লব শুরু করতে গিয়েছি।

মেজো ভাই প্রায় বলেন,’নিজ অধিকার আদায়ের আওয়াজ যদি তোলাবার হিম্মত থাকে-তবে তা প্রথমে তুলো ঘরে থেকেই। কাছের মানুষের বিশ্বাসঘাতকতা ভয়ঙ্কর! ‘ উনি একথা প্রায়শই বলেন বলেই হয়তো এতে গা করিনি। আজ করলুম। নতুন করে উপলব্ধি বলতে পারো।

আমার ব্যালকনি

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।

2 Responses to অনিমেষ এর চিঠি (সর্বশেষ খন্ড)

  1. বানানের ক্ষেত্রে তেমন সতর্ক নন দেখছি।

    juliansiddiqi@gmail.com'

    জুলিয়ান সিদ্দিকী
    আগস্ট 26, 2010 at 7:04 অপরাহ্ন

মন্তব্য করুন