গল্প-একলা (পর্ব-২)

বিষয়: : গল্প,সাহিত্য |

বুবুনের দাদা ইয়াসিন খান আর বুবুনের মার্সিক সাক্ষাৎ পর্ব চলছে।বহুদিন ধরে একি রকম কথোপকথনে যা রিহার্সালকৃত নাটকের মতই দেখায়। ছোট থেকেই বুবুনকে এই সম্ভাব্য সংলাপের প্রতিউত্তর যথাসম্ভব শিখিয়ে রাখতে রাখতে  ইদানিং আর শিখাতে হয় না ।তাই রেহানা বেগম আর বুবুনের নানা হেমায়েতউল্লাহর উপস্থিতি এখানে অন্যমন্সক প্রহরীর মতই ঝিমানো।দুজনেই এই অনাকাঙ্খিত আতিথেয়তা এড়াতে চিন্তার পিছু নিয়ে ইতিমধ্যে এই ঘরে থেকেও অন্যকোথাও।

ইয়াসিন সাহেব বুবুনের পিঠে একটা হাত দিয়ে আছেন।বুবুন তার মাথাটা একটু ঝুকিয়ে হাত দুটো হাটুর উপর দিয়ে বসে আছে।তার মুখ হাসিহাসি।

কথাবার্তার এই পর্যায়ে প্রতিবারের মত ইয়াসিন সাহেব বললেন,

-দাদু, তুমি আমার লগে বেড়াইতে যাইবা?

বুবুন মুখ হাসিহাসি করে তার দাদার দিকে তাকাল কিন্তু বরাবর থেকে একটু বেশি সময় নিয়ে ভিন্ন সংলাপে বলে উঠল

-হুম যাব।

রেহানা বেগম আর হেমায়েত সাহেব যেন ভাবনার সমুদ্র সাতরে ছিটকে পড়লেন তীরে। ইয়াসিন সাহেব কিছুটা চমকে গেলেও একগাল জয়ী হাসিতে তাদের উদ্দেশ্যে বললেন,

-পোলাতো যাইতে চায়।

হেমায়াত সাহেব যেন শুনতে পেলেন না কিছু।তিনি চশমার ময়লা পর্যবেক্ষণ করে বাসি পত্রিকাটা আবার টেনে নিলেন কিন্তু রেহানা বেগম প্রায় হাহাকার করে উঠলেন,

-আরে না না ওর তো ঠান্ডা।

ইয়াসিন সাহবের একগাল হাসিটা এবার দুইগাল হল।তিনি পকেট হাতড়ে একটি কার্ড বের করে নাতির হাতে দিয়ে বললেন,

-ঠান্ডা ভাল হইলে ফোন কইরা কইও আমি আইয়া লইয়া যামু।

বুবুন সম্মতিসূচক ঘাড় কাৎ করে। মনে মনে দাদার আঞ্চলিক কথাগুলো নিজেও উচ্চারন করে একবার। লইয়া , কইও ,আইয়া এই শব্দগুলো নিয়ে মনটা যেন লোফালোফি করে তার।দাদার প্রতি তার কৌতুহল আর দরজাবন্ধি ভাললাগাটা আজ জানালা ভেঙ্গেই প্রকাশিত হল।

-বুবুনরে একটু ভিতরে পাঠান কিছু কথা কই।

ইয়াসিন সাহেবের এই কথাতে স্বামী স্ত্রীতে দ্বিতীয়বার চমকে গিয়ে চিন্তিত চোখাচোখি করলেন।হেমায়েত সাহেব বুবুনকে নিয়ে ভেতরে গেলেন।রেহানা বেগম তার শাড়ির আঁচল টেনে আঁচলের এক প্রান্ত দলা পাকিয়ে চেপে ধরলেন যেন তার চিন্তিত, সংকিত মনকেই মুঠোবন্ধি করছেন। কখন কি ফন্দি এটে কার রূপ নিয়ে দুর্ভাগ্য আসে তা যে আন্দাজ করা যায় না তা পোড় খাওয়া রেহানা বেগম ভালোই জানেন ।এছাড়া তার স্বামী দ্বিতীয় স্ট্রোক করে ফেলেছেন তাকে কোন উত্তেজনায় যেতে দেয়া মানে খারাপ কিছু।আর কিই বা বলার থাকতে পারে লোকটার? এইসব ভেবে উদ্বেগে সে স্বামী আসার আগেই আগ কাটেন,

-কি বলবেন বলেন?

বলতে না বলতেই হেমায়েত সাহেব ফিরে এসে গলা খাকড়ি দিয়ে নিজের চিন্তিত প্রস্তুতি জানালেন।

-শুনলাম মেয়ের বিয়া দিতাছেন?খুব বড় ভুল করতাছেন।ঘুম ভাঙ্গা মানুষের মতই হাল্কা বসে যাওয়া কন্ঠ  ইয়াসিন সাহেবর।তার মুখ নিচু।

বিয়ের খবর ঘটা করে কাউকে জানানো হুয়নি নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত এই খবর কিভাবে গেল ভেবে হেমায়েত সাহেবে আর রেহানা বেগম দুইজনই চেহারায় বিস্ময় লুকাতে পারলেন না। বিস্ময় ধামাচাপা দিতেই হয়ত প্রয়োজনের চেয়ে বেশি উচ্চ হেমায়েত সাহেব স্বর,

-জি বিয়ে দিতেছি।কম বয়সের ভুলের বোঝা তো আর ওকে সারাজীবন বইতে দিতে পারি না।কিন্তু আপনি এই ব্যাপারে কথা কেন বলচতেছেন বুঝতে পারছি না।

-আমি অন্য কোন পক্ষ না।আমার আপনের পক্ষ কিন্তু একটাই সেইটা হইল বুবুন।আমি বুবুনের পক্ষ লইয়াই কইতাছি।

-তো আপনি বলতে চাইতেছেন বিয়েটা না দেই!আপনাদের মত স্বার্থপর মানুষেই দুনিয়াটা গেল।ইয়াসিন সাহেবের স্পর্ধায় বিস্মিত হেমায়েত সাহেবের মুখ আলগা হয়ে গেল।তিনি যথারীতি উত্তেজিত।

ইয়াসিন সাহেবের নিচু মাথা আরো নিচু হল যেন সে মাটির সাথেই  কথাগুলো বলছেন,

-আমি জানি আপনেরা আমার পোলারে ঘৃন্না করেন।কিন্তু ভুল আমার পোলার লগে আপনার মাইয়াও করছিল।রুমাই নিজ থেইক্কা আপনেগো ছাইড়া আমার বাসায় গিয়ে উঠছিল।তাইলে আপনের মাইয়ারে ঘৃনা করেন না কেন?স্বার্থপর আমরা কম বেশি সবাই।

উত্তেজনা সামলাতে না পেরে হেমায়েত সাহেব দাঁড়িয়ে পড়লেন।

আপনি কি চাইতেছেন আপনাকে যেতে বলি?হেমায়েত সাহেবে ভারী নিঃশ্বাস চেপে চেপে কথাটা বললেন

রেহানা বেগম দৌড়ে এসে তার স্বামীকে ধরে বসালেন।তিনি ইয়াসিন সাহেবকে বেশ ঝাঁঝালো কন্ঠেই বললেন,

আপনি কেন শুধু শুধু অসুস্থ মানুষকে রাগাইতেছেন।আপনার যা বলার সোজাসোজি বলেন।বাকিটা আমাদের ব্যাপার।

বৃদ্ধ যেন কিছু শুনতে পায় নি। মাটি থেকে এবার তার চোখ জানালার পরদায় থেমে গেল।পরদাটার হালকা দোদুল্যগতি আর তার ভাবনার সাথে তাল রেখেই ধোঁয়াটে উচ্চারনে সে বলতে লাগল।

-আমার পোলাডা প্রায়ই কইত ‘বাবা আমি ভাল হইয়া যাব’।কয়েকবার তাকে চিকিৎসা কইরা ভাল করলাম কিন্তু কয়েকদিন যাইতে না যাইতে যেই সেই।আস্তে আস্তে আমি আর তার কথায় বিশ্বাস করতাম না।বিয়ের ছয়মাস পর যহন রুমা পাকাপাকি ভাবে আপনাগো কাছে আইয়া পড়ল আমি তহন খুশিই হইছিলাম যে এইবার পোলাডার বুঝি শিক্ষা হয়।আর এই মাইয়া এই কুলাঙ্গারের ঘর করবই বা কে?আপনারা রুমারে আর দিলেন না, বুবুন যে হইব এইটাও গোপন করলেন।আমার পোলা এই ভাল হয় এই খারাপ হয়।যেদিন বুবুন হইব সেইদিন কি মনে কইরা জানি আপনেগো মাইয়া লুকাইয়া আমার পোলারে ফোন দেয়।আমার পোলা আইয়া কাইন্দা কইল,’আব্বা আমি ভাল হইয়া যাব এইবার’।আমি তার চোক্ষের পানির দাম দিলাম না ভাবলাম নেশা করা মানুষের চোক্ষের সস্তা পানি।তারে সাথে কইরা বুবুনরে দেখতে নিয়া গেলাম না,সাহস দিলাম না।নিজের নেশাখোড় পোলার উপর অন্যের ঘৃন্না সহ্য হইত না আর হের লেইজ্ঞা আমি আর বেইজ্জত হইতে রাজিও আছিলাম না।পোলাডা সারাদিন এইঘর অইঘর করল, আমারে আইয়া বার বার কইতে সাহস পাইল না। নেশা তার সাহস আর শক্তি দুই কাইড়া নিছিল।পরদিন সকালে দেখি আমার একমাত্র পোলা লাশ হইয়া রইছে।

এইটুকু বলে তিনি থেমে বড় বড় কয়েকটা শ্বাস নিলেন। হেমায়েত সাহেব আর রেহানা বেগম সহানুভূতির ধারের কাছেও যেতে পারলেন না।অল্প বয়সে এলোমেলো হয়ে যাওয়া মেয়ের জীবনের সাথে জড়িত এই নেশাগ্রস্থ ছেলেটিকে তারা অনিচ্ছাকৃতভাবেই যার পর নাই ঘৃনা করেন।অস্থির হেমায়েত সাহেব নড়েচড়ে উঠলেন।কিছু বলে উঠতে যাচ্ছেন এমন সময় কাঁধের কাছে স্ত্রীর হাতের চাপ অনুভব করলেন যা তাকে  একি সাথে সাহস আর ধৈর্যর অনুরোধ করল।ইয়াসিন সাহেব আবার বলে চললেন,

-আমি আছিলাম আমার বাপের প্রথম ঘরের সন্তান। সৎ মার ঘরে আমার খুব কষ্ট হইছে। টাকার না মনের।মনে মনে কইতাম আল্লাহ আমার পোলাপান হইলে অগো এমুন দিন দেহাইও না।আমার স্ত্রীও কম বয়সে মইরা গেল কিন্তু আমি ওইকারনে আর বিয়াই করলাম না।ব্যবসার কামে বিভিন্ন জায়গায় ছুটাছুটি করতাম ছেলেটা নষ্ট হইয়া গেল।আবার মইরাও গেল।আল্লার কাছে কইলাম আমগো ভাগের যে সুখটা দেওয়ার আছিল তা দেও নাই আমার নাতিডারেই তা ফিরাইয়া দিও।কিন্তু এহন দেখতাছি হেও আমগো ধারাই পাইল।আল্লাহর কাছে চাওয়ার কি আছে আর তার কি দেওয়ার আছে এখন বুঝতে পারি না।পাঁচ  ওয়াক্ত নামাজ পড়ি কিন্তু অনেকদিন ধইরাই ঈমান লইয়া টানাটানি চলতাছে।হা! হা!

কথার মোড় আবার বিয়ের দিকে ঘুরতেই রেহানা বেগম হেমায়েত সাহেবকে উঠিয়ে প্রায় ঠেলে ঘরের ভেতরে পাঠিয়ে দিলেন।ইয়াসিন সাহেব আরো কিছু বলার আগেই রেহানা বেগম একটু বাড়তি আত্মবিশ্বাসের সাথে এবার আওয়াজ উঠালেন,

-নষ্ট আমাদের একমাত্র মেয়ের জীবনও হইছে।আমরাও চাই আমাদের নাতি ভাল থাকুক।সন্তানের চেয়ে কম আদরে তাকে বড় করি নাই।নাতি যে সন্তানের চেয়ে কম প্রিয় হয় না এটা আপনার বুঝারই তো কথা। বিয়েও এমন যায়গায়ই দেওয়া হইতেছে যে তার কোন অবহেলা হবে না।রুমা রোজ আসতে পারবে।আপনি এই বিষয়ে আর কথা না বলাই ভালো ।

ইয়াসিন সাহেব রেহানা বেগমের চোখের দিকে তাকিয়ে হাসলেন।তার চোখের কৌতুকে রেহানা বেগমের আত্মবিশ্বাসি মূর্তি বেঢপ দেখাল।

-পোলাডা আপনাগো লগেই তো থাকবো?রাহেন সেইটাই ভালো।সংসার বড় হারামজাদা।একবার হইয়া গেলে এরে পালতে গিয়া অনেক কিছুই ভুলতে  অয়।বিয়ার পর আস্তে আস্তে আরো সন্তান হইব।তহন সবচেয়ে ঠকব আমার নাতি।এইটা আপনারাও জানেন। আর আমারে ভয় পাওয়ার কিছু নাই আমার অর্থ থাকলেও বয়স একেবারেই নাই।আসি ভাল থাকবেন।বুবুনের বড় হওয়া পর্যন্ত আপনাগো ভাল থাকাটাই এহন বেশি জরুরী।

ইয়াসিন সাহেব বেড়িয়ে যেতে লাগলেন। রেহানা বেগমের মন প্রতিউত্তরে বলার জন্য কোন কথা খুজলো না আর।লোকটার শেষ কথাটার ইঙ্গিত তাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।তার বুকে বসা সেদিনের কাটাটা এখন আবার অনুভব করছে্ন তিনি।ইয়াসিন সাহেব চলে যেতেই হেমায়েত সাহেব ফিরে এসে জিজ্ঞাসু চোখে স্ত্রীর দিকে তাকালো।রেহানা বেগম কিছু বলল না।তিনি ড্রইং রুম থেকে বের হয়ে মেয়ের রুমের ভেজানো দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলেন।রুমা আর বুবুন দুজনে জড়াজড়ি করে খুব হাসছে।দুজনকে একসাথে দেখে তার চোখ জুড়িয়ে গেল।তাদের খিলখিল হাসির পরশ রেহানা বেগমের গুমোট মনটাতেও কিছু দোলা দিল।তিনি কাছে গিয়ে আদরের ছলে বুবুনের মাথায় হাত রাখলেন।

(চলবে….)

rabeyarobbani@yahoo.com'
চারিদিকে দেখ চাহি হৃদয় প্রসারি , ক্ষুদ্র দুঃখ সব তুচ্ছ মানি ।প্রেম ভরিয়া লহ শুণ্য জীবনে ।আনন্দ ধারা বহিছে ভুবনে ।
শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।

40 টি মন্তব্য : গল্প-একলা (পর্ব-২)

  1. পুরুষ মানুষের কাঁদতে হয় না , তাই কাঁদি নি ।হঠাত্‍ করে অনেক জলে ফেলে দিলেন , গত পর্বের থেকে এই পর্বের পাড়টা অনেক বেশি খাড়া ।

    বানান ভুল রাজন্য ভাই আর প্রিয় জুলিয়ান সিদ্দকী ঠিকই নাড়া দিবে । আমার কাছে ভুল নেই …করে বলছি ।
    আগামীর প্রতাশায় ।

    imrul.kaes@ovi.com'

    শৈবাল
    মার্চ 10, 2011 , 9:37 পূর্বাহ্ন

    • ভাল মানুষদের আবেগ বেশিই থাকে।কান্না এসে থাকলে লেখাটা স্বার্থক বলেই ভাবছি।পরের পর্ব যাতে আরো ভালো হয় চেষ্টা থাকবে।
      বানানঃ-
      পোষ্ট করার পরও সম্পাদনার মধ্যেই আছি।আমি উনাদের হতাশ করতে চাই না।
      আপনাকে ফুলের শুভেচ্ছা। :rose: :rose: :rose: :rose: :rose:

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      মার্চ 10, 2011 , 9:54 পূর্বাহ্ন

  2. গল্প, না উপন্যাস? এ নিয়ে পরে কথা হবে। বানানের বিষয়টাও নজরে আসে নি, হয়তো মৃতবন্ধুর স্মৃতিচারণেই ঝাপসা হয়েছিল চোখ। লেখাটাও গভীরে নিতে পারলাম না কিছুতেই। আবার পড়তে হবে।
    …………………………………….
    আপাতত :rose:

    রাজন্য রুহানি
    মার্চ 10, 2011 , 10:32 পূর্বাহ্ন

    • গল্পই তো লিখতে যাচ্ছিলাম।এখন কি হচ্ছে বুঝতে পারছি না।তবে পর্ব আর বেশি হবে না খুব সম্ভবত।নিলাম হাত পেতে।

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      মার্চ 10, 2011 , 10:59 পূর্বাহ্ন

  3. যদিও মনে হচ্ছে আপনি গল্পটা সামনের কিস্তিতেঈ শেষ করে দিতে মনস্ত করেছেন। এ পর্বে এসে মাত্র গল্পটা দাঁড়াতে শুরু করেছে। একজন লেখক/কবিকে সব বিষয়ে সামান্য হলেও ধারণা রাখতে হয়। একজন চিত্রশিল্পী এক মিটার বাই দেড় মিটার ক্যানভাসে মাত্র এক সেন্টিমিটার আৃতির প্রজাপতি এঁকে সন্তুষ্ট হতে পারবেন বলে মনে হয় না, যদি তিনি ক্যানভাসের বাকি অংশটা সাদা রাখতে চান। আপনার গল্পের ক্ষেত্রটাও মনে হচ্ছে বিশাল। যে কারণে আগামী কিস্তিতে শেষ করতে চাইলেও পারছেন না। গল্প কাঠামোই জানান দিচ্ছে যে সে আরো সামনের দিকে বর্ধনশীল। ছোটগল্প বানাতে গিয়ে গল্পের গলা টিপে ধরবেন না আশা করি। আকারে বড় হলেই তা উপন্যাস নয় আর আকারে ছোট হলেই তা ছোটগল্প নয় তা জানা না থাকলেও গল্পকে তার স্বাভাবিক গতিতে চলতে দেওয়া উচিত বলে মনে করি। গল্প চলতে চলতে এক সময় সে নিজেই থেমে যাবে।

    তো দেখা যাক পরের কিস্তিতে গল্পের গতি কোনদিকে যায়।

    বানান বাক্য পরেও ঠিক করা যায়। তা নিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না।

    তবে গল্প সম্পর্কে বলি- গুড!
    গল্পকার সম্পর্কে বলি- বেটার দ্যান বিগিনিং এপিসোড!

    • সহমত ! জুলিয়ান সিদ্দিকী উপদেশ দিয়েছেন আমি অনুরোধ করবো তিনি যা বলেছেন ভেবে দেখবেন । গল্প বা উপন্যাস যাই হোক এইভাবে লিখলে না পড়ে থাকতে পারবো না । তবে একসাথে একমাইল লম্বা উপন্যাস একপাতায় পুরে দিলে চোখের কিছুটা ক্ষতি হয় !

      imrul.kaes@ovi.com'

      শৈবাল
      মার্চ 10, 2011 , 2:35 অপরাহ্ন

    • জুলিয়ান ভাই ,আমার গল্পের যে সুন্দয় পর্যালোচনা আপনি করলেন তার জন্য প্রানঢালা কৃতজ্ঞতা ।গুড যাতে গুডেষ্ট হয় প্রচেষ্টা থাকবে ।
      গল্পে লেখায় বা কথা শৈলী বুঝতে আপনার লেখাকে মডেল হিসাবে পড়ি । আপনার কথাটা যথার্থ । আমি তাই করব । আপনাকে সালাম ।

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      মার্চ 10, 2011 , 4:30 অপরাহ্ন

  4. হ, ঠিক; জুলিসি’র ধইরে ফেলা লাগামের রশি দেইখ্যা দুই পর্ব পইড়্যা টের পাইলাম নড়ানড়ি। পপ্পের ড্যানা কেবলতি উড়বো উড়বো ভাব। আসমানের বাতাসে চাঁন্দের হলক পইর‌্যা যেমুন চিকচিক করে, তেমুন চিকচিক না করলে কি বালা দেহা যায়! হাজার অইক, গপ্প হুনার তো মজা আছে, নাকি?

    রাজন্য রুহানি
    মার্চ 10, 2011 , 3:43 অপরাহ্ন

    • চিকচিকের ব্যাখ্যাডা দিলে ভালা অইতো । দয়া কইরা এট্টু বুঝাইয়া কন দেখি ?

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      মার্চ 10, 2011 , 4:18 অপরাহ্ন

      • কমু, কমু। এত্তো উতালা অয়েন না, কমু। ইট্টু ছবুর দেন মনডায়। এই ফাঁকে চিকচিকের ব্যাখ্যাডাও খাড়া করাই। :D

        রাজন্য রুহানি
        মার্চ 10, 2011 , 5:25 অপরাহ্ন

  5. কাহিনী যে দিকে যেতে চায় তার গতি বা পথ সে নিজেই খুজে নেয়। এখানে লেখক কিছুটা হলেও অসহায়। তবে জুলিয়ান ভাই এর মতামতের পর আর কিছু বলার অবশিষ্ট থাকে না।
    আলসেমি বা সময় নেই এমন অজুহাত না থাকলেই হলো। এগিয়ে চলুন। না হয় একটু দেরি হবে এই তো?

  6. এগিয়ে তো চলব কিন্তু ভাইজান কিন্তু কিছু বললেন না গল্পের ভাল মন্দ ।গল্পের কোন মন্তব্য কিন্তু এটা না ।

    rabeyarobbani@yahoo.com'

    রাবেয়া রব্বানি
    মার্চ 10, 2011 , 4:15 অপরাহ্ন

    • আমাদের সমাজের এটা একটা অত্যান্ত সাধারন প্রচলিত চিত্র। এই নিয়ে আপনি যে এগিয়ে এসেছেন তা নিশ্চয়ই প্রশংসার যোগ্য। তবে আমি আশা করব এই ঘটনা যতটা পারেন এগিয়ে নিয়ে যান। রাতারাতি কেউ সমাজ পাল্টাতে পারেনি। সেখানে আমি বা আপনি কত দূরই বা যেতে পারি! তবুও যত দূর এগুনো যায়, চলুন।

  7. একলা নাম পরিপূর্ণতা পেতে শ্রমসাধ্য লেখার কসরত চালিয়ে যেতে হবে বৈকি! আপনি পারবেন, আপনার গ্রহণ লাগা মানুষ দিকে তাকান, অনেককিছুই খুঁজে পাবেন।
    :rose:

    bonhishikha2r@yahoo.com'

    বহ্নিশিখা
    মার্চ 11, 2011 , 5:54 পূর্বাহ্ন

    • বহ্নি , একলা নামটির পরিপূর্ণতা পেতে হবে বলে,খুব সচ্ছ ধারনা দিলেন । আর বললেন যে , আমি পারব তাতে অনুপ্রেরণার সাথে সাথে আপনার বন্ধুসুলভ সহানুভূতিতে সিক্ত হলাম ।
      আপনার চলার পথে কাঁটাবিহীন ফুলই থাক । :rose: :rose::rose::rose:

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      মার্চ 11, 2011 , 6:23 পূর্বাহ্ন

  8. সব বাদ দিয়ে
    সংশয় নিয়ে
    শুধু খেলা দেখলাম;
    জিতলাম, তাই জানালাম।
    :rose:

    রাজন্য রুহানি
    মার্চ 11, 2011 , 5:14 অপরাহ্ন

    • খেলা এমনিতে দেখিনা তবে শেষটা দেখেছি উত্তেজনা প্লাস মুগ্ধতা । কিন্তু বিরতিতে খবরে জাপানের দৃশ্য দেখে খুব খারাপ লাগল ।

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      মার্চ 12, 2011 , 6:16 পূর্বাহ্ন

  9. -বুবুনরে একটু ভিতরে পাঠান কিছু কথা কই।

    এই ডায়ালগ সেশনের পর কিছুটা ধন্ধে পড়ে পাঠক। বুবুনের সাথে তো কথপোকথন চলছেই, তবে কার সাথে কথা হবে? মনে হয় বুবুনের সাথেই কথা বলার খাতিরে এই ডায়ালগ। আসলে তো তা নয়; পাঠক অনেক পথ হেঁটে এসে বাক্যের মর্ম বুঝতে পারে যে, বুবুনকে আরেক রুমের ভিতরে পাঠানো হতে বলা হয়েছে যাতে করে ইয়াসিন খান তার বেয়াইন রেহানা বেগমের সাথে কথা বলার সুযোগ পায়।
    এই ডায়ালগ টার্গেট মিস করেছে; এতে ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটার সম্ভাবনা আছে পাঠকের। ডায়ালগটি পরিস্কার বা স্বচ্ছ হলে ভালো হতো। :D

    রাজন্য রুহানি
    মার্চ 13, 2011 , 3:30 পূর্বাহ্ন

    • ধন্যবাদ নয় গোলাপ নেন। :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: :rose:
      আসলেই তো ডায়লগটা পরিষ্কার নয়।দিচ্ছি ঠিক করে।

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      মার্চ 13, 2011 , 4:15 পূর্বাহ্ন

  10. বলতে না বলতেই হেমায়েত সাহেব ফিরে এসে গলা খাকড়ি দিয়ে নিজের চিন্তিত প্রস্তুতি জানালেন।

    বাক্যটি অর্থপূর্ণ একটি পরিণতি খুঁজছিল, পরিবেশটাকে সৃষ্টি করার আগেই লেখক চলে গেলেন সংলাপ পর্বে; মনে হচ্ছিল পাশ কাটিয়ে বা অতি তাড়াতাড়ি। বুবুনের নানা এখানে ঝাপসাভাবে আঁকা; উপেক্ষিত। বুবুনকে ভিতরে রেখে আসার পর তার স্বশরীরী আগমন, চিন্তিত মুখচ্ছবি, মনের ক্রিয়া, কথপোকথের ভিতর ঢুকে তার এতদিনের পুঞ্জীভূত আবেগ বা অনুভূতির বহির্প্রকাশ দেখতে পাই না আমরা। মুখ্য হয়ে ওঠে রেহানা আর ইয়াসিন। অথচ, ইচ্ছে করলেই গুচ্ছচরিত্রের এই ধারাকে প্রবহমান করা যেত; সামান্য দু-একটি শব্দের কারসাজিতে।

    রাজন্য রুহানি
    মার্চ 13, 2011 , 3:51 পূর্বাহ্ন

    • অবশ্যই ঠিক কথা।দারুন মন্ত্যব্য।
      সংশোধনী জরুর করা হবে।এইবার কিছু আকাশের তারা নেন।
      (*) (*) (*) (*) (*) (*) (*) (*) (*) (*)

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      মার্চ 13, 2011 , 4:18 পূর্বাহ্ন

  11. বাদ বাকি প্রায় ঠিকই আছে, ওই দু-চারটে ভুল বানান আর অসতর্ক দু-চারটে শব্দ প্রয়োগ ছাড়া। :rose:
    দাড়ির পর একটা স্পেস দিলে যে সুন্দর ও সঠিক হয় তা বোঝা উচিত। :D
    যতিচিহ্নের ব্যবহার আরেকটু পরিস্কার হওয়া দরকার।
    …………
    => মনে বিরূপ ধারনা না নিলে একটি কথা বলি : পারলে সৈয়দ শামসুল হকের মার্জিনে মন্তব্য গল্পের কলকব্জা বইটি পড়তে পারেন। বাংলা ভাষায় লেখাসংক্রান্ত দিকনির্দেশনামূলক খুব ভালো বই এটি; শুধু আপনার নয়, সব গল্পকার-ঔপন্যাসিক-গদ্যকারের জন্য দরকারি একটি বই। বইটি প্রকাশ করেছে বিদ্যাপ্রকাশ, ২৭ ডিসেম্বর ১৯৯৫ সালে, এরপর আর কোনো এডিশন হয়েছে কি-না জানা নেই। মাস্টারি ভাবলে, ক্ষমা চাই।
    …………
    :rose: %%- ~O)

    রাজন্য রুহানি
    মার্চ 13, 2011 , 4:17 পূর্বাহ্ন

    • মাষ্টারি মাথায় তুলে নিলাম।এমন মাস্টার পেলেতো শিক্ষার্থি উর্ত্তীর্ন না হয়ে যাবে না।শৈয়দ শামসুল হকের লেখাঝোকা নামক একটা বইও খুজছি কিন্তু তাও পাচ্ছি না।মার্জিনে মন্তব্য গল্পের কলকব্জা এই দুটো বই ভালো মত খুজে দেখব। :rose: :rose: :rose: :rose: :rose:

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      মার্চ 13, 2011 , 4:26 পূর্বাহ্ন

      • ঢাকাতেই তো থাকেন! একদিন মনস্থির করে বের হোন, ঠিকই পেয়ে যাবেন। আমি ১৮০ কি.মি. দূরত্ব খরচ করে ঢাকার বিদ্যাপ্রকাশ প্রকাশনী থেকে বইটি কিনেছিলাম। এর হাত ওর হাত ঘুরে উঁইপোকায় খাওয়া বইটির যখন আস্তাকুঁড়ে যাবার দশা, তখন থেকেই এর আরেকটি কপি খুঁজছি, পাই নি। মনে হচ্ছে, এবারও ঢাকা থেকেই কালেক্ট করতে হবে। :-??
        কিছু দরকারি বই, পারলে কালেক্ট করবেন : ১. কবিতার ক্লাস, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। ২. বাংলা লেখার নিয়ম-কানুন, হায়াৎ মামুদ। ৩. মার্জিনে মন্তব্য গল্পের কলকব্জা, সৈয়দ শামসুল হক। ৪. বাংলা কী লিখবেন কেন লিখবেন, লেখকের নাম এ মুহূর্তে মনে নেই, বইটি কেউ নিয়ে আর ফেরৎ দেয় নি। ৫. লেখাজোখা।
        অট : যদি কোথাও এগুলোর পিডিএফ পান দয়া করে জানাবেন।

        রাজন্য রুহানি
        মার্চ 13, 2011 , 4:54 পূর্বাহ্ন

        • রুহানি, এগুলোর পিডিএফ পেলে খুশিতে আমি খাট থেকে লাফিয়ে মেঝেতে পড়তাম। আর কী লিখবেন কেন লিখবেন এটা ১৯৮৮ দিকে মনে হয় আনন্দ বাজার পাব্লিকেশনস বের করেছিলো। ছোট্টবেলায় কিনেছিলাম। আমার কাছে মনে হয়েছে এটা না কিনলেও চলতো। পরে আমার স্কুল জীবনের শিক্ষক সিদ্দিক স্যারকে দিয়ে দিয়েছিলাম। তিনিও তেমন একটা পাত্তা দেন নাই।

          বিস্ময় ধামাচাপা দিতেই

          -কখন কী ধামাচাপা দেওয়া যায়? (ধামাচাপা দেওয়া বলিতে কী বুঝ?)
          বাক্যটি রাজন্যর দৃষ্টি এড়ায়ে (এড়িয়ে) গেল ক্যাম্বা?

          • কতকিছুই যে দৃষ্টি এড়িয়ে যায়, বোঝে না ক্যান দৃষ্টিরা; আমার নয়, এ দৃষ্টির দোষ! :D
            ধামাচাপা দেওয়া’র অর্থ হলো— ১. অন্যায়ভাবে লোকচক্ষু থেকে অপসারিত করা। ২. অল্প সময়ের জন্য স্থগিত রাখা। ৩. অন্য বিষয় বা বস্তু দ্বারা আবৃত করা।
            …………….
            সত্যিই তো, বিস্ময় ধামাচাপা দিতেই হয়তো এড়িয়ে গেছে দৃষ্টি!
            ……………
            বাদ বাকি বুঝে নেবার পালা লেখকের। :-t
            …………..
            => বানান ভুল তো শোধরানো যায়, বাক্য গঠনে যে ভুল হয় তা শোধরাতে তো ব্যাকরণ পড়তে হয়।

            রাজন্য রুহানি
            মার্চ 15, 2011 , 8:58 পূর্বাহ্ন

            • হুম গন্ডগোল ।বুঝতে পেরেছি । আপনি কি চলন্ত ডিকশনারি নাকি ?:-D

              rabeyarobbani@yahoo.com'

              রাবেয়া রব্বানি
              মার্চ 15, 2011 , 10:24 পূর্বাহ্ন

              • ঢোঁক গিলতে গন্ডে যে গোল সৃষ্টি হয়েছে তা-ই যদি গন্ডগোল হয় তবে তা কষ্ট করে গিলে হজমের অপেক্ষায় বসে থাকা ছাড়া উপায় নেই। :D
                পরের বার
                গন্ডটাই যেন গোল না হয় আর :))

                রাজন্য রুহানি
                মার্চ 15, 2011 , 2:42 অপরাহ্ন

  12. আমার কাছে ২ নম্বর বইটিই শুধু আছে।

    rabeyarobbani@yahoo.com'

    রাবেয়া রব্বানি
    মার্চ 13, 2011 , 5:31 পূর্বাহ্ন

    • ২ নম্বর বইটা পড়া হলে বানান ভুল হবার তো কথা নয়। :D
      কিছু ক্ষেত্রে এ বইয়ের সাথে বাংলা একাডেমীর সাংর্ঘষিক দ্বন্দ্ব আছে; যুক্তিযুক্ত মনে হবে যেটি, আপনার মনে তার রেখাপাত ঘটালে দ্বন্দ্ব ঘুচবে সহজেই। 8-}

      রাজন্য রুহানি
      মার্চ 13, 2011 , 6:51 পূর্বাহ্ন

      • আছে বইটি পুরো পড়া বা চর্চা হয় নি।বাংলা একাডেমীর বানান অভিধান আছে তার সাথে অনেক জায়গায়ই অমিল। যেমন-ভাল=ভালো,ভাললাগা=ভালোলাগা।ইত্যাদি।

        rabeyarobbani@yahoo.com'

        রাবেয়া রব্বানি
        মার্চ 13, 2011 , 7:15 পূর্বাহ্ন

  13. এক নি:শ্বাসে পড়রাম। সাথে আমার ভাল লাগা রেখে গেলাম।

    রিপন কুমার দে
    মার্চ 13, 2011 , 5:58 পূর্বাহ্ন

  14. ভালো লাগলো

  15. দুই দিনে শেষ করে আজ বলে গেলাম।
    :rose:

    sumayakter@gmail.com'

    বৈশাখী
    মার্চ 15, 2011 , 9:52 পূর্বাহ্ন

মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে। Login