বিজয়া কিংবা বিভার গল্প

Filed under: রিভিউ |

জেড এইচ সৈকতের
বিজয়া কিংবা বিভার গল্প


বইয়ের ধরণঃ উপন্যাস
প্রকাশনীঃ প্লার্টফর্ম
প্রথম প্রকাশঃ ২১ বইমেলা-২০১১
প্রকাশকঃ হেলাল উদ্দিন
প্রচ্ছদঃ রাজিব রায়
পরিবেশকঃ বাঙলায়ন
দামঃ আশি টাকা।


প্রথম আলো ও শব্দনীড় ব্লগের ব্লগার, জেড এইচ সৈকতের লেখা রোমান্টিক ধাচের উপন্যাস বিজয়া কিংবা বিভার গল্প। রোমান্টিক এই প্রেমের উপন্যাসে শুধু প্রেমের গল্পই না রয়েছে বিভা আর অনন্তের দুর্দান্ত একটা দাম্পত্য জীবনের গল্পও।
উপন্যাসের শুরু হয়েছে নিলয়ের ট্রেন যাত্রা থেকে।
সন্ধ্যের লগনে যে ট্রেন এক অনিশ্চয়তা নিয়ে থেমে গেছে কি করে গন্তব্যে পৌছাবে সে চিন্তাটাই মাথায় ঘুড়তে থাকে নিলয়ের। সেই আধার ঘেরা রেল ষ্টেশনেই দুজন মানব-মানবী ওর সঙ্গি হয়। দূরের যাত্রায় তারাও ওর মতই চিন্তার জালে আটকে পরে এদিক ওদিক তাকায়। এই রাত দুপুরে ওদের ভাবনারা চারপাশে হতাশা ছড়াতে থাকে। কি করবে এই রাতে? কোথায় যাবে? এই অনিশ্চয়তায় এগিয়ে আসে নিলয় এরপর শুরু হয় আধারকে সঙ্গি করে ওদের পথচলা…………….
আমরা যারা উপন্যাস পড়ি তারা অনেকেই কাহিনী বিস্তার করাটাকে ভালোবাসি আবার অনেকেই অত্যাধিক ফেনানোটা পছন্দ করিনা তাই লেখক মধ্যস্থতা দিয়েই শুরু করেছেন।
রেল ষ্টেশনের আগন্তুক দু’জন হলো বিভা আর অনন্ত পথে যেতে যেতে পরিচয় পর্বে উঠে আসে নানা রকমের কথা ভালোবেসে বিয়ে করে ওরা দুজনেই সুখি পরিবার।
পনের কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে তবেই মাঝরাতে নিলয়ের বাড়ি ফিরে ওরা।
নিলয় গ্রাম্য যুবক বনেদী ঘরের সন্তান বুকে অজানা কষ্ট চেপে সারাদিন ব্যাস্ততায় কাটায় দিন কারো সাথে কিছু বলতে গিয়ে থমকে যায়। নিলয়ের আতিথেয়তায় প্রসন্ন হয় বিভা আর অনন্ত। সবুজ পরিবেশ আর গ্রাম্য মানুষদের ব্যবহারে ওদের দিন কেটে যায় সন্ধ্যের জোস্নার আনন্দছটায় ভাসতে গিয়ে বিভার ঢাকা ফিরবার তাড়াটা মনের দেয়ালে বার বার আঘাত করে কিন্তু বাদ সাধে হরতাল। গ্রামের পথে সময় বিকিয়ে চারটে দিন থেকে যেতে হয়। শেষ বেলায় আস্তানার ঠিকানা ধরিয়ে নিলয়ের হাতে, ঢাকা পাড়ি জমায় অনন্ত আর বিভা।

গ্রামে নিলয়ের বাড়িতে কালক্ষেপণ করার সময় বিভা জানতো নিলয় বিবাহীত কিন্তু গল্পের এক মুহুর্তে এসে বিভা জানতে পারে নিলয় আসলে বিবাহীত নয় যে কথা বিভার বিশ্বাসই হয়না এমন সুন্দর মনের মানুষ কি না একা সেটা দেখতেই পুনরায় গ্রামে আসা হয় বিভার। উপন্যাসের এ অবদি এসে আমরা খুজে পাই নিলয়ের লুকিয়ে রাখা প্রেম ।
গ্রামের যুবক নিলয় বছর পাঁেচক আগে গ্রাজুয়েশন শেষ করতেই শহরে এসেছিল ও যেখানে থাকতো তার পাশের বাসাতেই থাকতো ক্লাস নাইনে পড়–য়া বিজয়া। বিজয়া প্রাইভেট পড়ার সুবাদে নিলয়ের কাছে আসে মনে প্রেমের বাতাস নিয়ে। প্রেমের ডালপালা সারা দুনিয়া জুড়ে ছড়িয়ে আছে যেখানে, সেখানে আবেগী মন তো প্রেমে পড়বেই সেই সুবাদেই যুবক নিলয় তার ছাত্রী বিজয়ার প্রেমে পড়ে যায়; এ-এক বাধভাঙ্গা প্রেম কিন্তু প্রেমের খাতায় যে বিরহের ছবি আকাঁ থাকে তা বোধ হয় নিলয় বুঝে উঠতে পারেনি আর বিজয়া নতুন পাখা গজানো পাখি হয়ে শুধু দোল খাওয়া গাছের ঢাল খুজে বেড়াতে গিয়ে শেষে প্রেমের পথে পিছলে গিয়ে জীবনের সুখকে দুঃখের খাচাঁয় পুড়ে ফেলে…….

আর উপন্যাসের ওদিকে দেখা যায় অনন্ত আর বিভার দাম্পত্য জীবনের কাহিনী ওদের জীবনটা সুখের রঙ্গীন ঘুড়ি হলেও সেখানে হাওয়া নেই তাই আকাশে ফুড়ফুড় করে উড়া হয়ে উঠেনা ওদের। নিলয়ের সাথে জড়িয়ে গিয়ে বিভা নতুন করে সর্বনাশা স্বপ্ন দেখে ফেলে নিলয়কে নিয়ে নারীর মনের ভালোবাসা আকাশ পাতা তারার মেলার মতো শুধু ছড়াতে চায়; দীর্ঘ হতে দীর্ঘ হতে চায় তাই বুঝে উঠা মুস্কিল নারীর মন কতটা ঘোলাটে রং।
এ-ক্ষেত্রে কিন্তু পুরুষও কমনা………….. তো যাই হোক গল্পটা এভাবেই চলছিলো কিন্তু তার ঢালপালা ছড়ানোটা হঠাৎ গুটিয়ে নিতে থাকে কেননা উপন্যাসের শেষ প্রান্তে এসে গেছি। উপন্যাসের সমাপ্তি কিংবা বিজয়ার গল্পটা শেষ হয় গল্পটার শুরু হয়েছিল যেভাবে ঠিক সেই ভাবেই।
লেখক তার সুনিপুন দক্ষতায় উপন্যাসের সমাপ্তিটা সুন্দরভাবে শেষ করতে পেরেছেন।
যদিও পুরো বই জুড়ে বিজয়ার উপস্থিতিটা খুব কম পর্যায়েই ছিল তব্ওু বলা যায় এই স্বল্প উপস্থিতিটাই পাঠকের মনকে নাড়া দিয়ে গেছে কেননা গাছে যদি ফুল ফোটে তাহলে সেই ফুল যে একদিন ঝড়বে কিংবা পথিক ছিড়ে নেবে তব্ওু কি তার ফুল জন্ম দেয়া বন্ধ রাখে?

উপন্যাসের মিলন মেলায় শেষ প্রান্তে দেখতে পাই সেই পুরোনো রেল ষ্টেশনের সেই প্লাটফর্ম……..
একই কামরায় দেখা হয়ে যায় ভালোবাসার বন্দরে ফেলে আসা পুরোনো সেই বিজয়াকে; ভালোবাসা বোধহয় এমনই হয় বহু দুরে থাকা চাঁদটা মাঝ রাতে একা হয়ে গেলেও মন খারাপ করেনা কেননা রাত আবার আসবেই সত্যিকারের ভালোবাসা হারিয়ে যায়না ফিরে আসে কোন না কোন অবস্থায়……লেখাটা পড়তে গিয়ে আবেগী হয়ে গিয়ে মিশে গিয়ে ছিলাম নিলয়ের সাথে প্রেমের জন্য মানুষ পাগলামী করে কেন?
ট্রেনে বসে নিলয় আর বিজয়া পুরোনো কথার আন্দোলনে আর ভারী কান্নায় পরিবেশ মাতায় কতো দিনের কথা উঠে আসে এই সময়ে তারপর একসময় ট্রেন এসে থামে ষ্টেশানে……………
নিলয় আর বিজয়া কি এক হয়ে থাকতে পারেনা সারাটি জীবনের জন্য ? এই প্রশ্নই রেখে যায় উপন্যাসের শেষান্তে। উপন্যাসের কাহিনীটা সরল প্রেমের হলেও মনে রাখার মতো। প্রেম যেন এমন না হয়। অনন্ত কষ্ট বুকে নিয়ে আর যাই হোক শান্তির পরশ মাখা দিন পাওয়া যায়না।
পুরোনো একটা কথা ঝুলে আছে মাথার উপর, আবেগে মন চলে কিন্তু জীবন চলেনা; তবুও বলবো জীবন চলে নিয়মের সিড়ি বেয়ে কিন্তু প্রেম না হলে সেই জীবনের আনন্দটা শীতল হয়েই থাকে।
পরিশেষে এটাই বলবো যারা এখনো উপন্যাসটা পড়ে দেখেননি একবার পড়ে দেখতে পারেন……………………….

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।

3 Responses to বিজয়া কিংবা বিভার গল্প

  1. রিভিউটি পড়ে বইটি পড়ার ইচ্ছে জাগল। অনলাইনে কোথায়ও পাওয়া গেলে জানাবেন দয়া করে।

    রিপন কুমার দে
    মার্চ 29, 2011 at 2:52 অপরাহ্ন

মন্তব্য করুন