জ্যোৎস্না ভেজা রাত

Filed under: কথাশৈলী |

জ্যোৎস্না ভেজা রাত। দু’টি মন ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছে। অলক্ষ্য চারিদার, শুধু দু’জনার মন দু’জনায় হারাচ্ছে। নিচ্ছল দেহ, রুদ্ধপ্রাণ, মনের আলিঙ্গনে প্রাণের অশেষে বলে চলা হৃদয়ের যতকথা-

ওগো বসন্তরাগী, আজি এই উত্তাল বসন্তে এলে
এতদিন কোথায় ছিলে?

প্রাণের অশেষে আরোকটি প্রাণ রচে-

ছিলেম সীমাহীন প্রান্তরে, খুঁজে ধারে-ধারে
তোমার কামনায়।

নিরব-নিস্থুপ কিছুক্ষন, এ‘যেন বিস্তৃতির প্রসারণ, স্বপ্নলোকের পরতে। আবেশ রচে, মনের তৃয়াষে, নব বাচ্যতে-

আচ্ছা; মনের এত দহন, এত অস্পালণ
তবু; চিনতে কেন দেরী এত?

স্বরচিত উচ্ছ্বাসে-

ওগো নীলাকান্তমনা, সেকি জান না ?
আঁধারের ঘোর না কাটিলে সন্মুখে জাগেনা স্নাত।

আচ্ছা বলনা-

কাটিল কেমনে দিন আমারি আশায়
স্বপ্নজাগা রাতে সুখের হরষায়?

প্রতিউত্তর ভেসে যায় বাতাসের হিম আঁচলে, সুখের ধুম্রজালে, বেসাতি বিছালে-

স্বপ্ন! সে‘ত ছিলো তোমারি স্পন্দণে
কল্পলোকের কল্পরাজ্যে, মনের গোপণে।
তাই; হঠাৎ যখনই ঘুম ভেঙ্গে যেত নয়ণ থেকে
মনের বিরহীত বেদনায় কেটে যেত রাত দেখে-দেখে……

আচ্ছা আমি আজ তোমার একান্ত আপনার, সুখের চিরকৌঠায় জড়ানো মণিহার। তবুও ভাবি তুমি সুখীতো?
হাসির মুর্চ্ছনায়-

বাতাসে এলিয়ে দিলেম প্রাণ, ছুয়েছি তোমার প্রাণের গান
হরষায় নীদ যাবোনা রাতে, রাত আমার প্রিয় মনের সাথে
রাত আমার আপনারে বলিনু, প্রিয় আমার যামিণীতে আলো দিনু

নিঃশ্বাস ফেলে কোমল স্বরে সুরের আবেশ-

সুখ আমার উত্তাল ফাগুন যতদিন তুমি রবে
মিথ্যা নহি, সাক্ষী কহি, চঁন্দ্র-তাঁরা সবে।

এই কান পেতে শোননা, এই নিঝুম রাতে বিহঙ্গের উঠেছে কলতান, প্রেমের অশেষে শিহরিত যেন তাদেরও প্রাণ,
হু-

বসন্ত সে কখন দেয় দ্যৌলা, প্রাণের অশেষে প্রাণের বলে চলা
সুখের হরষায়।

আবার স্তব্ধ কিছুক্ষন। দু’জনার নয়ণে হারিয়ে যাওয়া, প্রেমের পরিসরে ডুবে যাওয়া মুর্হূমুহূ নিঃশ্বাসে।

এই, যদি কোন ধুম্রজালের ফাঁদে পড়ি আমি, যদি নিরাশার বর্ষণে জড়িয়ে যাও তুমি, বেসাতির ভাষা তুমি সুধাবে কার কানে?
নয়নের পানে চেয়ে-

প্রাণে যাহার দারূণ অভিলাষ, কোন হরষায় পাবো নিঃশ্বাস
সেতো জানিনা,
শুধু জানি আমার প্রবাহ তোমার অন্তরে, সব অভিলাষ নয়ণে দেখ ঝরে
উক্তি ছাড়া ব্যক্তির মৃত্যু জানা।

প্রদাহের বর্ণনে-

মরিতে রাজি আমি, ছাড়িয়া ভুবন আলোক
সুখের দিঠি নয়ণ তোমার, আমার বাস্তবলোক।

করূনসুরে উক্তি উঠে-

মরিতে চাহো কেন জড়ায়ে আমায় বাঁধনে
সুখের নিকুঞ্জ তোমায় ঘিরে, চেয়ে দেখ এই নয়ণে।
কাঁদিয়া কাটিনু দিন, যদিনা তোমারে পাই
তুমি আমার জীবনসাথী মরনে পাশে চাই।

এখন সুখের দারূন অভিলাষ, মনে-প্রাণে এত বিশ্বাস, তবে বলি-

কাঁদো-কাঁদো সুরে কেন, করিছ কিসের ভয়?
কোথাও কি দেখেছ তুমি প্রেমের মৃত্যু একা হয়?
তোমার-আমার এই বিচরণ, জেনো নদীর এক তরঙ্গে
কোন বাঁধ বাঁধ সাধিবে, ফেরাবে দু’জন দু’ডাঙ্গে
আমাদের এই বাঁধন প্রাণের, প্রাণে রহিবে জাগি
প্রেমের ভুবনে আজীবন জড়িয়ে থাকি।

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।

6 Responses to জ্যোৎস্না ভেজা রাত

  1. সুন্দর কাব্য

    roy.sokal@yahoo.com'

    অরুদ্ধ সকাল
    মে 7, 2011 at 8:44 পূর্বাহ্ন

  2. কবি বানানের দিকে যদি খানিকটা মনযোগ দিতেন -কবিতাটি আরো প্রাঞ্জল হয়ে উঠতো। :rose:

    • অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া আপনার কমেন্ট’এর জন্য,আমার মনে হয় আপনার কাছ থেকে পাওয়া এটাই আমার প্রথম কমেন্ট।আর বানানের বেলায় আমি যত্নবান হতে পারিনি,কারন জীবনযুদ্ধটাই আমার প্রথম ও প্রধান আর লেখাটা আমার নেশা। তাই,দু’টাকে একসাথে নিয়ে চলতে একটু হীমশিম খাচ্ছি। তবে আপনাদের দোয়া থাকলে শীঘ্রই সব ঠিক হয়ে যাবে।
      :rose: :rose:

  3. মনে হয় কবিগুরু রবীযুগের ভাবমধুর প্রণয়সুধা পান করছিলাম। :rose:
    আরো যত্নবান হওয়া চাই অবশ্যই।

    রাজন্য রুহানি
    মে 8, 2011 at 3:53 পূর্বাহ্ন

  4. মনে হয় কবিগুরু রবীযুগের ভাবমধুর প্রণয়সুধা পান করছিলাম।

    -আমরা কবিগুরুর উত্তরসুরি তাই তাঁর ভাবধারা মনের মাঝে হাতছানি দেয় অহরহ।

    আরো যত্নবান হওয়া চাই অবশ্যই।

    -চেষ্টা করছি কিন্তু পরিবেশ বাঁধার পাহাড় তুলছে।
    আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। :rose:

মন্তব্য করুন