গল্প-(অনুভব-পৃথিবীর সমান্তরাল একটি ভিন্ন জগৎ)

অনুভব-পৃথিবীর সমান্তরাল একটি ভিন্ন জগৎ

(১)
ঈশ্বর নিয়ন্ত্রিত এই জগৎ এ তপুর ইচ্ছানুযায়ি কিছুই ঘটে না তাই কংক্রিটের কঙ্কাল ঘেরা এই বৃষ্টির শহর তার কাছে শুধু আজ না সবসময়ই অনর্থক। আর শুধু এ কারণেই সে মৌরিকে অনুভব পর্যন্তই রাখতে চেয়েছিল”।

জীবনটা যদি বিজ্ঞাপনের মত হত!একটি বিশেষ টুথপেষ্ট আর নিরোগ শরীর,সবার মুখে চকচকে দাঁত শুদ্ধ হাসি, উচ্ছলতায় ভরপুর সকাল। একটি বিশেষ ইন্সট্যান্ট গুঁড়োদুধ শিশুরা সব দীর্ঘদেহী,ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ….। একটি বিশেষ সীম কার্ড আর কৃষকের ফসল বিক্রির ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি, তাদের গায়ের নতুন জামা,গ্রামগুলোতে শুধু মেলা আর আনন্দ,ভর-ভরান্ত গৃহস্থিতে পরবাসী স্বামীর বিরহী বধু। এক ফোটা কনডেন্সড মিল্ক হলেই সাদাকালো পৃথিবীর রঙ পালটে রঙ্গীন কিংবা একটি চায়ের ব্রান্ড মানে সতেজ দেহ,ধূমায়িত কাপ নিয়ে বৃষ্টি দেখা সুখী মনের মুখ।

কিন্তু জীবনতো আর এমন নয়!তাই তপুর হাতে ধূমায়িত এক কাপ চা থাকা স্বত্ত্বেও তার মুখ নিস্তেজ।সেও একটি বিশেষ ব্রান্ডের টূথপেষ্ট ও সীম কার্ড ব্যবহার করে কিন্তু তার চারপাশে আনন্দের কোন ঢেউ নেই। তপুর পরনে ফিকে হয়ে আসা সবুজ গেঞ্জি,একটি চেক ট্রাউজার,চোখে চশমা,মুখে দুইদিনের জমানো দাড়ি। তার চায়ের কাপেও বৃষ্টির ফোটা পড়ল আর সেও ও ঠিক বিজ্ঞাপনের মতই আকাশের দিকে তাকালো কিন্তু চোখে কোন মুগ্ধতা বা বিস্ময় নেই।

বৃষ্টির আগমনী হিসাবে আকাশ গুড় গুড় করে ডেকে ঘোষণা দিচ্ছে। এমন ডাকে মনে ভয় মিশ্রিত আনন্দ হয়,ময়ূর পাখা মেলে নাচে কিন্তু তপু তেমনি নির্বিকার। এবার বৃষ্টির একটি ফোঁটা তার চশমার কাঁচেও পড়ল আর তাতে দুনিয়ার তাবৎ চশমাওয়ালাদের মত সেও বিরক্ত হল। ঘোলা কাঁচ চোখে নিয়ে আর এখানে বসে থাকার সে কোন মানে খুঁজে না পেয়ে ছাদবারান্দা ছেড়ে ঘরে চলে এল।

শ্যামলির ছয়তলার এই মেসবাড়িতে তপু ছাদ লাগোয়া ইউনিটটির এই ঘরে আরো দুই জন রুমমেটের সাথে থাকে। ছাদের নিচে হওয়ায় প্রচন্ড গরম তাই অর্ধেকটা খোলা বারান্দা হলেও বাড়তি কোন আমেজ পাওয়া যায় না। আশেপাশে তেমন কোন গাছপালা নেই।কিছু নতুন দালান তপুর ছাদ ডিঙ্গিয়ে আরো উঁচুতে যাওয়ার ইচ্ছায় প্রতিদিন একটু একটু বাড়ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ধরে যাওয়া বৃষ্টিতে এই সিমেন্ট রঙের কঙ্কালগুলো ভিজে চুপশে আরো ধুসর হয়ে আকাশের সাথে জোট বেধে গেল। তপু যেখানে বসে আছে সেখান থেকে ধুসর আকাশের পটভূমিতে দৃশ্যটা ওর মনের মতই ধুসরকালো দেখাচ্ছে।

নির্মাণ কাজ চলতে থাকা বামদিকের বহুতল বাড়িটার মিস্ত্রিগুলো ছাদ ছেড়ে নিচতলা গুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। বৃষ্টি আসায় তারা মনে হয় খুশি হয়েছে। সবার মুখই হাসিহাসি। তপু বসে বসে কিছুক্ষুণ এদের খুশি মুখে চা খাওয়া দেখল তারপর তিন মাত্রার এই জগতের মাত্রা বাড়াতেই হয়ত তার পুরোনো পিসিটা চালু করল। ঘড়ঘড় শব্দ তুলে বার্ধক্য জানান দিতে দিতে সেটা চালু হলো। জন ডেনভারের “এনিস সং” গানটির অসাধারণ সুরের মূর্ছনায়, বৃদ্ধ পিসিটার সারা শরীরেও জ্বলজ্বল করছে এখন ধ্রুপদী রূপ।
পুরোনো সুরের এই ক্লাসিক গানটি তার ইদানিং খুব প্রিয় হলেও খুব কমই শুনে। কিছুদিন আগে তার করূন মুখ দেখে চারতলার মেসবাসিন্দা হিরন তাকে গানটা ধরিয়ে দিয়ে বলেছিল,

“এইটা টান ভালো লাগব”।
তপু কিছুটা বিরক্ত আর অবাক হয়ে বলেছিল,
“টানবো মানে এটা কি গাজা”!
“হা হা!তার চেয়েও মারাত্মক। কলিজায় বেশি লাগলে বন্ধ রাখবি। আবার কিছু কইরা বইস না”।
“সেড নাকি বেশি”।
“ইয়েস ম্যান”।
“নাহ! আমি নষ্টালজিক গান শুনি না”।
-“আরে ব্যাটা মাইনাসে মাইনাসে প্লাস হয়। ডায়মন্ডস কাটস ডায়মন্ডস।বুচ্ছস।ওহ।আর একটা কথা,এক্সপেরিয়েন্স থেকে কইলাম,উৎকৃষ্ট সংগীত এইসব ব্যাপারে বিরাট ঔষধ তবে ভালো লাগলেই রিপলাই দিয়া রাখবি তাইলে শেষ। কয়দিন পর দেখবি টেষ্ট পাইতাছস না। গান কিন্তু আগের মতই আছে কিন্তু তর ব্রেইন এটার প্রতিটি ইন্সট্রুমেন্টের টুং টাং, প্রতিটা লাইনে তর ফিলিংস কপি করে ফেলছে বা ওভার রিভাইসড করে ফেলছে।ফিলিংস এর ক্ষেত্রে, যেটা ব্রেনে অলরেডি আছে সেটা আর ধরে না।বুচ্ছস।
“না”।
মানে হইলো সুন্দর বউ দেইক্ষা ঘরে আনলেই জীবন মধুময় হয় না আসলে রুপ বা গুন মুখস্থ হয়ে গেলে সেটাও আর ধরে না। ফ্লটিং এর মধ্যে থাকতে হবে আমাদের। অলয়েজ ভাসমান। হা হা।
হিরন গাজা খায়,এলাকার লিডারদের হয়ে চাঁদা তুলে।একসাথে ঢাকা কলেজ থেকে মাস্টার্স করলেও হিরনকে সবার মত সেও এড়িয়ে চলে। সবার মত সেও অস্বস্তিতে হিরনকে সেদিন তাড়াতাড়ি পাশ কাটাতে মিথ্যাসায় দিয়েছিল,যে সে বুঝতে পেরেছে। আর হিরনের প্রতি অবিশ্বাস থেকেই অনেকটা তাচ্ছিল্য নিয়েই গানটা শুনেছিল। কিন্তু প্রথমবার শুনতেই এমন ধাক্কা খেয়েছিল যে আর শোনার সাহস হয়নি কিছুদিন। শুধু মাঝে মাঝে গভীর রাতে, বৃষ্টি হলে, ছুটির দিনে, অলস দুপুরে কষ্টটা যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যায়,যখন কষ্ট থেকেই তার মন তাকে আরো কষ্ট নেয়ার মত সাহসী করে তুলে তখনি শুনে।

আজ ও গানটা শুনতে শুনতে মৌরিকে মনে পড়ার মাত্রা একশোগুণ বেড়ে গেল তার। ঘন কালো মেঘের এমন দিনে মৌরি খুব কাছে আসতো। এই কাছে আসা অবশ্য পুরোটাই কাল্পনিক। অনলাইনে অনেকের মত তাদেরও একটা ছোট্রজগত ছিল। যেখানে কথা বলতে বলতে চাঁদের বুকে হাটা যেত, প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ছোট্র নৌকা দাড় না টেনে দিগবিদিক ভাসিয়ে দেয়া যেত,বৃষ্টি হলে নগরের সব গাড়ি-ঘোড়া উধাও করে চকচকে মসৃন পিচঢালা রাস্তার বুকে দুজনে একছাতার নিচে দাঁড়ানো যেত। পাখি এই জগতটার একটা নামও দিয়েছিল,-“অনুভব”।

ইদানিং তপুর সেই জগতের দরজাটা বন্ধ থাকায় ঈশ্বর নিয়ন্ত্রিত এই তিন মাত্রার জগতেই তাকে থাকতে হচ্ছে সার্বক্ষকণিভাবে। ঈশ্বর নিয়ন্ত্রিত এই জগতে তপুর ইচ্ছানুযায়ী কিছুই ঘটে না তাই কংক্রিটের কঙ্কাল ঘেরা এই বৃষ্টির শহর তার কাছে শুধু আজ না সবসময়ই অনর্থক। আর শুধু এ কারনেই সে মৌরীকে অনুভব পর্যন্তই রাখতে চেয়েছিল। পৃথিবী নামক জগতের জোগাড়যন্ত্রের গুণিতক এত বেশি আর অসম্ভব হয়ে ঊঠেছিলো যে সেখানে মৌরিকে বাস্তবে আশা করা করা তার কাছে পাপ বলেই মনে হত।

পৃথীবিতে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনাই সে মৌরিকে বলতে চাইত না। বলতে চাইত না তার মেসবাড়ির কথা,টানা টিওশনির কথা,গড় গড় করা বুড়ো পিসিটার কথা যেটা প্রায় মরি মরি করছে। কত কৌশল করে, কত কষ্ট করে সময় বাচিয়ে ব্যস্ততার দিনগুলোতে সে মৌরির সাথে চ্যাট করত সেই সব কথা। নিজেকে বড় বা ছোট করার জন্য নয় শুধু এই আড়াল ছিল অনুভবের আবেশ যাতে নষ্ট না হয়। যাতে অনুভব নামক এই জগতেও সমস্যার কথাগুলো কি বোর্ডে আঙ্গুল চেপে চেপে লেখা না হতে থাকে। কিন্তু এটাই মৌরি মানতে পারত না। সে তপুকে দুই জগতেই চাইত,রোদশুদ্ধ বৃষ্টির মত। আর এই অপূর্ণতার অভিমানে একদিন দরজাটা বন্ধ করে দিলো মৌরি, তা আজ তিন মাস হয়। এতদিন কষ্ট হলেও বেশ শক্ত ছিল সে। টাকা নামক বস্তুটা পকেটে,আর খাদ্য নামক দ্রব্যটা মুখে পুড়ার নির্লজ্জ ইচ্ছাটায় সে ভালোবাসাকে পেছনের বেঞ্চের বেয়ারা ছাত্র হিসাবেই দেখত।

এক মাস হয় তাকে অবাক করে দিয়ে তার ফুফাতো ভাই একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি তে জুনিয়ার কেমিষ্ট হিসাবে তার চাকুরী ঠিক করে দেয়। বেতনটাও প্রথম প্রথম হিসাবে মোটা। এখন তাকে টিওশনি করতে হয় না,ক্লান্তির সাথে সময় নিয়ে দেন-দরবার করতে হয় না,লোকাল বাসের ছিট পাওয়া নিয়ে হাপিত্তেশ করতে হয় না। কিন্তু এই আর্থিক ও সময় স্বচ্ছলতার সুখ পাশাপাশি তাকে মানসিক স্বচ্ছলতার জন্য কাঙ্গাল করে তুলছে প্রতিদিন। জীবন নামক সর্বভূকের খেতে পেলে আরো ক্ষিদে বাড়ে। মানে টাকা আর সময়তো হল এবার তার ভালোবাসাটাও চাই। তবে দীর্ঘদিনের ছা পোষা জীবনে ভয়ের বীজটাইতো ডালাপালা মেলে এখন বৃক্ষ।ঘাড়ে চেপে থাকা এই ভয় নামক ভূতের পরামর্শে সে ইচ্ছেগুলো দমিয়ে রাখতে চায় প্রতিদিন। কিন্তু নিজের সাথে একলা হলে বিশেষ করে ছুটির দিনে তার ভীষণ কষ্ট হয়,কষ্ট থেকে তারও ইচ্ছে হয় সাহসী হতে, ইচ্ছে হয় ভয়এর বৃক্ষটা একেবারে উপড়ে ফেলতে।
আজও তেমনি একটি ছুটির দিন,রুম ফাকা। রুমমেট নাই তাই এয়ারফোন ছাড়াই গান চলছে। ডাইনিং এর ছেলেটি চা দিয়ে চলে গেছে একটু আগে। তপু তার ছোট্ট জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে গানটি শুনছে। তার কাছে মনে হচ্ছে গায়কের গলায় গাওয়া এটা কথামালা না,এক বুক কষ্ট। কি করুন সুরেই না সে প্রেমিকাকে ফিরে আসতে বলছে…
“You fill up my senses,
Like a night in a forest.
Like the mountains in springtime,
Like a walk in the rain.
Like a storm in the desert,
Like a sleepy blue ocean.
You fill up my senses,
Come fill me again”.

এতক্ষণ লক্ষ-লক্ষ, কোটি কোটি বা তার চেয়েও বেশি পানির ফোটায় শহরটা ঝাপসা হলেও দেখা যাচ্ছিল শুধু তার চোখে এক ফোঁটা পানি আসতেই ঝাপসা শহর পুরোটাই অদৃশ্য হয়ে গেল।

(২)
“এই ছাদের পানিতে পা ডুবিয়ে সে কত কথা বলেছে তপুর সাথে,মেঘের সাথে ভেজা শরীরে আকাশের ঐ কোণায় কত উড়ে বেরিয়েছে সে! সেটা অবশ্য এই জগতের সমান্তরাল আরেকটি জগতে। যেখানে আকাশটাকে চাইলেই দু-তিনটা চাঁদ দিয়ে সাজানো যেত। যখন তখন সূর্যকে নিভিয়ে দেয়া যেত। সাদা সিফনের শাড়ী পড়ে বকুল জড়ানো যেত। শুনশান হাইওয়ের পাশে পাচিল ঘেড়া বাগান বাড়ি বানানো যেত,অন্ধকার সেই কাঠের বাড়িতে রাতভর গল্প করা যেত। ।এমন সুন্দর ভুবন অলীক হলেও তার অনুভুতিতে পুরোটাই সত্য ছিল।তা ইতো মৌরি জগতটার নাম দিয়েছিল -অনুভব”।


কয়দিন হয় বৃষ্টি হুটহাট আসা যাওয়া করছে। এমন রোদ-বিকেলে হঠাৎ আবার আকাশ ঘন কালো হয়ে গেল। এতক্ষণ মাঝখানে যা একটু নীল আকাশ দেখা যাচ্ছিল তাও দ্রুতগামী কিছু মেঘের পাহাড় চট করে ঢেকে দিল।আঁধারের পিছু পিছু ঝড়ো হাওয়া আর বৃষ্টি যেন হাত ধরাধরি করেই এলো শহরে। বাইরে ঝড়ো হাওয়ার শো শো শব্দ ঘরের ভেতরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রন যন্ত্রটির মৃদু গোঙানী ছাপিয়ে কানে আসছে। বন্ধ জানালাটির পর্দা পুরোটা খুলে দিল মৌরি।চার বাই পাঁচ ফিট জানালার কাঁচে, বৃষ্টির ফোঁটাগুলো বিন্দু বিন্দু জমা,তাদের আস্তে আস্তে ভারী হওয়া, একে অপরকে আকর্ষণ করে টপ টপ করে বেয়ে পড়ে যাওয়ার দৃশ্যটা দেখতে দেখতে কখন তার মুগ্ধতা ভোতা হয়ে গেলো,কখন তাতে তপুর ভাবনা ভর করে পাখা মেলল সে টেরই পেলো না।
পাশের বাড়ির ছাদটিতে গরমের দিনে বৃষ্টি হলেই পানি নিষ্কাশনের নলটি কিছুদিন বন্ধ করে রাখে,। দু-তিন দিন ধরে বৃষ্টি আসায় এখন সেখানে প্রায় সাত-আট ইঞ্চি পানি জমে গেছে। সেখানে তাকিয়ে তপুর জন্য বুকের মধ্যে কেমন ছ্যাৎ করে উঠল মৌরির। এই ছাদের পানিতে পা ডুবিয়ে সে কত কথা বলেছে তপুর সাথে,মেঘের সাথে ভেজা শরীরে আকাশের ঐ কোণায় কত উড়ে বেরিয়েছে সে!
সেটা অবশ্য এই জগতের সমান্তরাল আরেকটি জগতে। যেখানে আকাশটাকে চাইলেই দু-তিনটা চাঁদ দিয়ে সাজানো যেত। যখন তখন সূর্যকে নিভিয়ে দেয়া যেত। সাদা সিফনের শাড়ী পড়ে বকুল জড়ানো যেত। শুনশান হাইওয়ের পাশে পাচিল ঘেড়া বাগান বাড়ী বানানো যেত, অন্ধকার সেই কাঠের বাড়িতে রাতভর গল্প করা যেত। এমন সুন্দর ভুবন অলীক হলেও অনুভুবে পুরোটাই সত্য। তাইতো মৌরী এর নাম দিয়েছিল “অনুভব”।

মৌরীর ভাবনায় এই দুই ভুবনের একটা যোগ ছিল। তার ইচ্ছা ছিল কখনো না কখনো দুই জগতের একটা সমন্ময় ঘটবে,সমম্বয় ঘটবে এই অনুভব আর সত্যের। কিন্তু কেন জানি তপু কথাটা শুনতেই পিছিয়ে যেত। তপু কোন অপারগতার কথা,কোন অযোগ্যতার কথা বলত না শুধু বলত “কি দরকার!এভাবেই ভালো আছি”। মৌরী শুধু শুনতে পেত তপুর অনিচ্ছা। আয়নায় দেখতে পেত তার গাল গড়ানো পানি। আস্তে আস্তে একদিন দরজাটা বন্ধ করে রেখেছে সে কিংবা বন্ধ হয়ে গেছে নিজেই। এখন তপুর হাজার ডাকেও সেটা আর খুলে না সে।
বৃষ্টির থেমে গিয়ে রোদ ঊঁকি দেয়াতে সে ভাবনা থেকে কিছুটা ছিটকে এল। বড় বড় ফোটার ঝমেঝমে তাড়াহুড়ো বৃষ্টি ঝড়িয়ে, মেঘেরা আকাশ হতে পলাতক। নীল আকাশে কিছু দলছুট মেঘ শুধু ছেড়া তুলোর মত ভেসে আছে।

বৃষ্টিস্নাত বিকেল দেখতে মৌরি পেছন বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। ঝকঝক করছে প্রকৃতি এখন। আকাশটা যেন আরো নীল। সবকিছুতে সূর্য্যের আলো প্রতিফলিত হচ্ছে। পাশের ছাদের জমে থাকা পানিতে রোদের বিকেলি প্রতিবিম্ব। বারান্দার কালো কালো গ্রীলগুলো চুইয়ে ফোটা ফোটা পানি পড়ছে,ঝুলন্ত পানির কনাগুলোও রোদের কিরণ লেগে হীরের মত জ্বলজ্বলে। মৌরি আঙ্গুল দিয়ে একটি হীরের টুকরো ছুয়ে দিল,সাথেসাথেই ভারী পানির বিন্দুটা মৌরির আঙ্গুল থেকে হাত বেয়ে গড়িয়ে পড়ে গেল।

পাখিরা কিচির-মিচির করতে করতে নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে বাইরে বেড়িয়ে আসছে। বারান্দার এক কোনে একটি চড়ুই বসে গা ঝাড়া দিচ্ছে,মৌরিকে দেখেও তার তেমন ভাবান্তর নেই। এখনো আশেপাশে সব বাসার কার্নিশ,ছাদ আর বারান্দার নলগুলো হতে পানি পড়ছে। বৃষ্টি চলে গেলেও শব্দের আবেশ এখনো বেশ জোড়ালো। টুপটাপ শব্দ আর সাদাটে হলুদ আলোর ছটায় চারপাশ ভীষণ মায়াবী লাগছে মৌরীর কাছে।কি সুন্দর!মৌরি নিজ মনে বলল।

হঠাৎ পেছন গলিতে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণচূড়া গাছটা দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেলো তার। অনেক ঝকঝকে সবুজ পাতা বেরিয়েছে তবে ফুলগুলো এখন আর জমকালো না। তাদের মধ্যে সন্নিবেশিত ভাবটাও আর নেই কেমন জানি ছাড়া ছাড়া আর রঙ্গটাও ম্লান। বৃষ্টির তোড়ে ফুলগুলো আরো ঝড়ে গেছে। রাস্তায় ঝরে পড়া ফুলগুলো দেখা যাচ্ছে। বর্ষা ঝেকে আসলেই কৃষ্ণচূড়ারা শহর থেকে বিদায় নেয়।চাঁদের আলোয় এক বছর আবার কৃষ্ণচূড়া দেখা হবে না ভেবে আফসোস হল মৌরির।
হঠাৎ পেছনে মৌরির মা এসে দাঁড়িয়ে মেয়ের গায়ে হাত রাখেন। মৌরি চমকে ঊঠে,
-মা!
-হুম।ঘুমালি না।
-নাহ!তুমি কই যাও?
-মিতুলের কোচিং এ।আজ গারডিয়ানদের যেতে বলছে। ওকে নিয়ে একবারে বাজার করে আসব। আসতে সন্ধ্যা হবে। তুই কিছু খেয়ে নিস। আর সালমার মার দিকে খেয়াল রাখিস। নতুন বুচ্ছিস না?
-ঠীক আছে।
মৌরি ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানায়।

মৌরির বাবা দেশের বাইরে থাকেন। মাঝে মাঝে নামে মাত্র দেশে আসেন। আর মা ব্যাংকে চাকুরী করেন। তিনি সপ্তাহ ভর চাকুরীতে ডুবে থাকেন আর টুকটাক ঝামেলায় ছুটির দিনেও ঘর-বাহির করেন। মৌরি তার মাকে চাকুরী ছেড়ে দিতে অনেক অনুরোধ করে কিন্তু তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলেন,রাজি হন না। তার মতে,মানুষের সম্মান তার অর্থনৈ্তিক স্বাধীনতার সাথে জড়িত আর মৌরিও মাস্টার্স শেষ হতেই চাকুরীতে ঢুকে যাক এমনটাই তিনি চান।কিন্তু মার মত ঘোর প্যাচে জীবনটাকে ভাবতে চায় না সে। তার মতে অর্থের সাথে জীবনের যোগ থাকতেই পারে তার চেয়ে বড় যোগ ভালোবাসার।মৌরির কাছে জীবনের সংজ্ঞায় বিরাট অংশ ভালোবাসা আর ভালোবেসে মানিয়ে চলা।মায়ের শেখানো কাঠিন্য সে তাই কখনো রপ্ত করতে পারেন।
অতি সচেতন ইস্পাত ব্যক্তিত্ববোধ আর বদমেজাজের কারনে আজ শুধু মৌরির বাবা না,তার মায়ের আশেপাশে পুত্র-কন্যা ছাড়া আর কেউই নেই। মায়ের দমবন্ধ আনন্দহীন জীবনই তাকে স্বপ্ন আঁকতে শিখিয়েছে। তার ধারনা স্বপ্নগুলো যদি সে আঁকতে পারত তবে সে নিশ্চয়ই পৃথিবীর সেরা চিত্রশিল্পীদের একজন হত।
মৌরি মার চলে যাওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকে নিজের ঘরে চলে আসে। দুপুরে অন করা পিসিটা স্ট্যান্ড বাই হয়ে আছে। সে পিসিটাকে স্ট্যান্ড বাই অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়ে অনলাইন নামক আকাশ রাজ্য ডুকে গেল। বেখায়ালি বিচরণ করে বেড়াতে থাকল এখানে-সেখানে। হঠাত অচেনা কারো মেইলের নটিফিকেশনে সে সচেতন হয়ে মেইলটা খুলে দেখে,আইডিটা অন্য কারো কিন্তু সাবজেক্টের জায়গায় লেখা,
Topu from the world onuvob
মেইলটার প্রেরকের নাম আবার যাচাই করে মৌরি। অচেনা নাম কিন্তু তপুর মেইল! তপুকে ব্লক করে রেখেছে তাই হয়তো অন্য আই ডি থেকে পাঠিয়েছে বুঝতে পেরে খুলবে না খুলেব না করেও খুলে ফেলে সে।

“come fill up my sense
Come fill m again.”
আমরা এই জগতেও আকাশে কি করে উড়ব? আমাদের পাখা নেই। তবে কি মৌরি আমাদের চার-পায়ে এক পা দু-পা করেই হাটব।
আমি তোমাকে ভয়াবহ রকম মিস করছি। তুমি ফিরে এসো,ভালোবাস আবার।–তপু”।

কয়েক মূহুর্তের জন্য স্তব্দ বনে যায় মৌরি। নিশচল হয়ে যায় তার দেহ,সে দুহাতে তার মুখ ঢেকে ফেলে। আবেগরঙ্গা বৃষ্টির জন্য তার শরীর ও এবার কেঁপে কেঁপে উঠছে।

অনেকক্ষণ হয়ে গেছে মৌরি বালিশে মুখ গুজে শুয়ে আছে। পিসিটা আবার স্ট্যান্ড বাইতে চলে গেছে,সে ঊঠে বন্ধ করে না,সন্ধ্যে নেমেছে তবু বাতি জ্বালায় না,কান্না ভেজা চোখে মুখে পানি দেয় না,মোবাইল বাজে তবু ধরে না,সালমার মা চা দিতে এসে ডেকে ডেকে ফিরে যায় মৌরি হু টাও করে না। আবেগে তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। সে যেন তপুর সোহাগী অভিমানি বধু। বহুদিন পর তার মান ভাঙ্গার আগল অল্প অল্প করে খুলছে তাই প্রেমিকের ভালোবাসায় কিছুটা লজ্জিত,কিছুটা গর্বিত মুখ সে কাউকে দেখাতে চাচ্ছে না। মৌরি মনে মনে খুব জোরে জোরে ডাকে “তপু তপু তপু”। অনুভব নামক জগতে শব্দটা আলোর গতিতে লক্ষ লক্ষ মাইল ছুটে যায়।

(৩)

“ঈশ্বরের মত কুন বললে সেখানে সব হয়ে যায়।সেখানে জগতটা লেট দেয়ার বী লাইটের মতই সহজ। তপু আর মৌরীই সেখানে ঈশ্বর-ঈশ্বরী। ইশ!এমন একটা জগত যদি পৃথিবীটা হত”

“এক সাঈজ ছোট লাগবে মনে হয়”।
“আরে ভাই না। আপনার এক সাইজ বড়-ছোট হইলেই ফিট হবে না। ফিগার লাগে বুচ্ছেন। আপনার মত ফিগারে ভাই পাঞ্জাবি বানাইয়া পইড়েন। এইগুলা তো ফ্রি সাইজের”।
অনেকগুলো পাঞ্জাবি খুলে গায়ে দিয়ে মাপ দেয়ার পর দোকানের কম বয়সী ছেলেটি তাচ্ছিল্যের সুরে কথাগুলো বলল তপুকে। মালিক লোকটি হা হা করে ছুটে এলেন।
“আরে ব্যাটা ছাগল তুই কি বুঝস? ভাই আপনার পড়নের সার্টের সাইজ কত”?

কর্মচারি ছেলেটা ছাগল ডাকে খুশি হয়ে মালিককে দাঁত দেখায়। তপু বিষন্ন মুখে দেখায় সার্টের পেছনের ট্যাগ।
-“নাহ!সার্টের মাপ আর পাঞ্জাবীর মাপে তফাৎ আছে। তবে আপনিতো শুকনা মানুষ এর উপর লম্বা,ফিট ঠিকঠাক হবে না। হাতা ছোট হবে নাহয় শরীরে ফিট হবে। আবার হাতা ঠিক হলে লম্বা আর ঢিলা একটু বেশি হবে। এখন তো সব সর্ট পাঞ্জাবীর চল। অসুবিধা নাই একটু বড় ছোট পড়বেন এখন সবই স্টাইল। হা হা!”

লোকটি তার বিক্রি বাড়ানোর ধান্দায় বিভিন্ন দোকানি কথার সম্মোহন ছড়াতে থাকে আর তপু সম্মোহিত হবে না এমন ভাবতে ভাবতে দোকান থেকে বেরিয়ে বেশকিছুদুর চলে আসার পর কেবল আবিষ্কার করে, তার হাতে বড় সাইজের,মেরুন রঙের পাঞ্জাবীর একটি প্যাকেট। কিভাবে সে এটা কিনে ফেলেছে এখন কিছুই বুঝতে পারছে না। অথচ মৌরির প্রিয় রঙ কালো।
তার ইচ্ছে ছিল কালো রঙের পাঞ্জাবীই কিনবে। কিন্তু এতক্ষণ দোকনে দোকানে ঘুরে মনে হলো তার মাপের কালো পাঞ্জাবীর আকাল পড়েছে দেশে। একটা কিছু নতুন তাকে কিনতেই হত আর অর্ডার দিয়ে বানিয়ে নেয়ার সময় ও এখন নেই। ধুক পুক করা খুশি মনটা একটু দমে গেলো। এখন আর বদলাতে গিয়েও লাভ নেই। টাকা আর ফেরর দিবে না নিলে পন্য নিতে হবে।
তপুর কাছে মনে হচ্ছে এখন পর-পর বাকি ঘটনাগুলোই হতাশ করার মত ঘটবে। জুতোর দোকানে জুতো পাওয়া যাবে না,দেখা করার দিন হরতাল পড়ে যাবে,বা পাখি আসবে না বা আসলেও তাকে সামনা সামনি পছন্দ করবে না। বিদুৎ গতিতে সে বিয়োগাত্মক কিছু চিন্তা করে মনে মনে হয়রান হয়ে পড়ল। অফিস ছুটির ক্লান্ত শরীরেও যে জোড়টা ছিল এখন তা নিভু নিভু করছে।

মৌরির সাথে দেখা করার কথা একরকম হঠাৎ ই ঠিক হয়ে গেল। তাড়াহুড়াটা মৌরির দিক থেকেই ছিল তবে পাছে সে আবার ভুল বুঝে তাই আর দ্বিমত করে নি তপু। এখনো মাসের বেতন পায় নি সে। তবে ভাগ্যভালো যে, হিরন তাকে পুরো টাকাটা ধার দিয়েছিল।
হিরন ছাড়া টিওশনি করা,ছা পোষা চাকরী করা ছেলেগুলোর কারো কাছেই মাস শেষ না হলে টাকা থাকে না। তেমন কাছের বন্ধু না হওয়ায় ধারটা একটু কুন্ঠিত হয়েই চেয়েছিল সে। কিন্তু হিরন খুব স্বাভাবিক ভাব করেছিল,যেন সে জানতো। সে অভিজ্ঞের মত মাথা নেড়ে নেড়ে বলেছিল,
“এই গানেই কাজ হবে জানতাম। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি হইব ভাবি নাই। তোর সাহস বাড়ছে ঠিক ধরছি না?
-হুম।
হিরন তার মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করতে করতে বলছিল,
-যখন টাকা হয় দিস। আরে ব্যাটা সাহসটাই সব,পকেটে টাকাটাই সব না। সাহস আছে তো তুই রাজা নাই তো ফকির। মানুষ কয় আমি গাঞ্জা খাই। আরে শালারপোরা তোগো সাহস আছে নি যে খাবি। শালা ননসেন্সের দল।

হিরন সমানে আরো কিছু বলে যাচ্ছিল। তপুর কানে আর কিছুই যাচ্ছিল না। টাকাগুলো গুনেই সে হিরনকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিল আনন্দে। এক কান দু কান করে মেসের সবাই জেনে গিয়েছে তপুর কথা। যারা তপুকে তেমন পছন্দ করত না তাদের চোখেও স্নেহ, ঈর্ষা আর কৌতূহল দেখতে পেয়েছে এই কয়দিন। বেশির ভাগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা, মধ্যবিত্ত, জীবিকার সন্ধানে ছুটন্ত এই তরুনগুলোর কাছে চাকুরীর মত ভালোবসাও অধরা। ভালোবাসা কদর এই মেসবাড়িতে ছেলেগুলোর চোখে কতটুকু তা এই দুদিনেই তপু দেখতে পেয়েছে বেশ। এদের ভীরে লজ্জা আর খুশিতে একটু চনমনেই ছিল এই কয়দিন।

পাঞ্জাবীর প্যাকেটটি হাতে নিয়ে আজ হঠাৎ আবার বিষন্নতা তাকে পেয়ে বসলো। সে চিন্তিত মন নিয়ে জুতোর দোকানের দিকে ঢুকে পাঞ্জাবীর সাথে যায় এমন স্যান্ডেল খুজতে থাকল। পছন্দ অনুযায়ী গুলোর দাম অনেক বেশি।সে চলনসই একটা নিয়ে মনকে প্রবোধ দিল পাখি তো তাকে দেখবে, তার জুতো নয়। আর যাই হোক মেয়েটি কোন মতেই পন্যমুখী নয়। তবুও অনেক আকাঙ্গাখিত অপেক্ষার পর দেখা হবে,সবকিছু একটু সাজানোই ছিল কল্পনায়। তা একটু একটু যেন ভেস্তে যাচ্ছে দেখে তপুর আত্মবিশ্বাস আবার মাথা নোয়ালো।
বাড়ি ফিরতে ফিরতে দশটা বেজে গেল। তাকে কিছু প্যাক্যাট শুদ্ধ দেখে নিচ-তলা থেকেই একজন দুজন করে পিছু নিল। ঘরে ঢুকে তপু দেখে তাকে ঘিরে রুমমেট সহ প্রায় দশ-বারো জনের একটি জটলা। এদের কেউ কেউ তার ক্লাসমেট, কেউ বন্ধুশ্রেনী। সবার সাথে তুই তোকারি সম্পর্ক। প্যাকেটদুটো পাশে রেখে তপু ক্লান্ত ভঙ্গীতে চোখবন্ধ করে লম্বা হয়ে শুলো।
চোখ বন্ধ করেই তিনতলার সোহানের জোর কন্ঠ শুনতে পেল সে,
-আরে দোস্ত তোর তো চান্নি কপাল। আয় তোর কপালে ঘসা দেই। চিকনা শইল্লেই নাইকা জুটায় ফেলছস? আমি ফিগার বানাইয়াও পারতাসি না। সবাই ফ্লেক্সি করতে কয় ভালোবাসে না!
সবাই হোহো করে হেসে উঠল। বন্ধ চোখে তপুও হাসার চেষ্টা করে, হাসিটা আসতে আসতেও কপালের চিন্তার রেখায় মিলিয়ে গেল। তার মনে পড়ল এগারোটায় মৌরীর নেটে থাকার কথা অথচ আজ কেউ সহজে ঘর ছাড়বে বলে তপুর মনে হচ্ছে না।
প্যাকেটগুলোর খোলার শব্দ হলো, কিছুক্ষন এটা সেটা মন্তব্য করে হাসাহাসি করে তারা একে একে আরো আরো যোগারের লিষ্ট শোনাতে লাগল। সে এবার চোখ মেলে ফ্যালফ্যালে তাকায় বন্দধুদের মুখে। পাশাপাশি অবসন্ন চিন্তায় কে কি বলছে তার মাথায় ঢুকছে না। শুধু শব্দগুলো কানে নিয়মমাফিক গিয়ে তার মনোযোগে নাড়া দিচ্ছে।
“হাতে টাকা রেখছিস?এই সময় টাকা রাখতে হয়”।
“সাথে কি নিয়ে যাবি মানে গিফট? ভালো কিছু নিয়ে যাস”।
“আরে না আজকাল চার-পাচ হাজার টাকা ছাড়া ভালো কিছু পাওয়া যায়? এত টাকা এখন ব্যবস্থা কিভাবে করবে তুই বরং ফুল নিয়ে যাইছ”।
“চুলটা ঠিকমত কেটে যাইস”।
“আরে না চুল আজ কাটিস নি কেন? চুল কাটলে প্রথমদিন খুব ই খারাপ দেখা যায়। মেয়েরা পছন্দ করে না”।
“তুই জানলি কেমনে তুই তো এই পর্যন্ত একটা মেয়েই যোগাড় করতে পারলি না হে হে”।
“অই শালা ফালতু কথা কবি না। আমি তো ছাগল না যে খুটি তে থাইক্কা ভে ভে করমু। আমার আইডিয়া আছে। ভালোবাসা পাই আর না পাই ডেটতো মারছি।
আবারো সম্মিলিত হাসি।

হঠাৎ হিরনকে ঘরে ঢুকতে দেখে সবাই একে একে তপুর কাছ ছাড়ে। তপুও উঠে দাঁড়ায়। হিরন তার জন্য এক প্যকেট কাচ্চি বিরিয়ানী নিয়ে এসেছে।এটা দেখে তপুর বেশ অসস্তি হয়। আডিক্টেড মানুষের স্নেহ যেমন বাড়তি থাকে,সময়ে তাদের ভুল বোঝার মাত্রাও বিরাট আকার ধারন করে আর এতে যে চরম ভোগান্তিই আনে এটা সে ভালো করেই জানে।প্যাকেটটা নিতে নিতে তার বলতে ইচ্ছে করে “কি দরকার ছিল। আমার খাবারতো দিয়েই গেছে ডাইনিং থেকে। সেটা শুধু শুধু নষ্ট হবে। এমন করে আর কিছু আনিস না”। কিন্তু সে এগুলোর কিছুই বলতে পারে না।
হিরন যেন বুঝতে পারে,মুখে কিছু বলে না। সে সিগারেটটা ঠোটে পিষে পিষে টান দিয়ে হাত উচু করে বিদায় জানায় আর ইশারায় বলে খেয়ে নিতে।
এই গরমে ফুলস্লিভ গেঞ্জি পড়ে আছে হিরন।পেছনে লেখা “মি মেড হিরো”।হিরনের চলে যাওয়া দেখতে কেন জানি খুব খারাপ লাগছে তপুর। আজ পেছন থেকে আসক্ত মানুষটিকে দেখতে পাচ্ছে না তপু,দেখছে ভালোবাসার কাঙ্গাল এতিম একটা ছেলে। কিছুবছর আগে যে কারো প্রেমে ব্যর্থ হয়ে নিজের হাতের রগ কেটে ফেলেছিল। সে কোনরকম দৌড়ে গিয়ে হিরনের কাধে হাত রাখে,বলতে চায় “এত ভালোবাসা পেতে ভয় পাই রে।এমনকি মৌরির ভালোবাসাকেও”। কিন্তু এটাও বলতে পারে না সে।
হিরন এবারো কিছু না বলে একমুখ দাড়ি নিয়ে কবিদের মত হাসি দেয়। চোখ পিট পিট করে নাক-মুখ ভর্তি করে ধোয়া ছেড়ে আরো কষে টান দেয় সিগারেট।

কাপড় ছেড়ে খেতে খেতে চিন্তা নামক দৈত্যের কাছে বস হয়ে গেলো তপু। যোগাড়যন্ত্রের তালিকা বাড়ছেই। উপহারের কথাতো ভুলেই গিয়েছিল সে। আর এত টাকাওতো আর তার কাছে নেই। অথচ অনুভব জগতটা কত সহজ!মৌরির সাথে দেখা করতে হলে সেভ করতে হয় না,জুতো পর্যন্ত পড়তে হয় না,খালি পায়ে মৌরিকে নিয়ে পৃথিবী দাবড়ে বেড়ানো যায়। এক তোড়া ফুল কেন? কৃষ্ণচূড়ার পুরো একটা শহরই দেয়া যায়। জামা কাপড়ের রঙ সাইজ নিয়ে ভাবতে হয় না। ঈশ্বরের মত কুন বললে সেখানে সব হয়ে যায়।সেখানে জগতটা লেট দেয়ার বী লাইটের মতই সহজ। তপু আর মৌরীই সেখানে ঈশ্বর-ঈশ্বরী। ইশ!এমন একটা জগত যদি পৃথিবীটা হত!খাবারের নলা মুখে নিতে নিতে এমন অসম্ভব জগতের আকাঙ্খায় তপুর চোখদুটো জ্বলে উঠে।

(চলবে)
গল্পটি একটু বড় বিধায় দুই পর্বে ভাগ করেছি।শুক্রবার শেষ পর্বটা পোষ্ট করব।
আর এনিস সং যারা শুনেন নি তাদের জন্য লিঙ্ক। শুনে দেখুন অসাধারণ কিছু

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।

44 Responses to গল্প-(অনুভব-পৃথিবীর সমান্তরাল একটি ভিন্ন জগৎ)

  1. শৈলীতে নিয়মিত অন্যদের কমেন্টস বক্সে বিচক্ষণ পাঠক রাবেয়া রব্বানিকে দেখতে পেলেও অনেকদিন পর তাঁকে নিজের ঘরে জ্বলতে দেখা গেলো , ঐ আলোতেই দৌঁড়ে এলাম … তাই হাঁফাচ্ছি আর গল্প পড়ে পুরো ঘোরে আছি , ভীষণ আপ্লুত । এর পরে কি হলো পরে কি হলো … মাথায় ঘুরছে ।আর প্রথম কেমেন্টস করার লোভটা আবার সামলাতে পারলাম না , অভিনন্দন প্রিয় রাবেয়া রব্বানী আরো একটি সুন্দর সৃষ্টির জন্য …

    imrul.kaes@ovi.com'

    শৈবাল
    জুন 13, 2011 at 5:20 অপরাহ্ন

    • আপনার প্রতি জানাই আকাশ ছোঁয়া কৃতজ্ঞতা।সবসময় আপনাকে একনিষ্ঠ পাঠক হিসাবে এটা বিশাল ব্যাপার।
      অনেক ভালো লাগল জেনে যে আপনার ভালো লাগছে।ভালো থাকুন আরো বেশি।
      শুভ কামনা কবি।
      :rose: :rose: :rose:
      :rose:

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      জুন 14, 2011 at 4:05 পূর্বাহ্ন

  2. পড়া শুরু করলাম

    • শেষ হলে জানাবেন। :-)
      বিকেলি ~O)

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      জুন 14, 2011 at 10:23 পূর্বাহ্ন

    • আপনার গল্প লেখার ধারা খুব ভালো লাগলো আসলে গতবাঁধা ষ্টাইল থেকে বেড়িয়ে এসে নতুন কিছু করা ভালো সেক্ষেত্রে দক্ষতা লাগে আপনার লেখা পড়ে মনে হলো আপনি পারবেন সে-রকম কিছু করতে। আপনার গল্পে যে বিষয়টা পেলাম অনুভুতির প্রকাশ।

      গল্পটা সময় নিয়ে পড়তে গিয়ে প্রথমেই যে জিনিসটা অনুভব করলাম সেটা হলো পুরো পর্ব একসাথ থাকলেই হয়তো শেষ পর্যন্ত কি হয় এই রহস্যটা থেমে থাকতো না। যাই হোক এই পর্ব যা পেলাম
      অনুভব বিষয়টাকে আপনি খুব ভালো করেই ফুটিয়ে তুলেছেন যেমন:

      অনলাইনে অনেকের মত তাদেরও একটা ছোট্রজগত ছিল। যেখানে কথা বলতে বলতে চাঁদের বুকে হাটা যেত, প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ছোট্ট নৌকা দাড় না টেনে দিগবিদিক ভাসিয়ে দেয়া যেত,বৃষ্টি হলে নগরের সব গাড়ি-ঘোড়া উধাও করে চকচকে মসৃন পিচঢালা রাস্তার বুকে দুজনে একছাতার নিচে দাঁড়ানো যেত

      একটা কথা গল্পের শুরুতে একটু আকর্ষণ থাকলে পাঠক পড়তে আকৃষ্ট হয় আপনার গল্পের আকর্ষণটা রয়েছে মাঝখানে তাই নেক্সট গল্পে আশা করছি ।

      বাক্যবিন্যাস বেশকিছু জায়গায় চমতকার হয়েছে যেটা না বললেই নয়………………………..
      কিন্তু জীবনতো আর এমন নয়!তাই তপুর হাতে ধূমায়িত এক কাপ চা থাকা স্বত্ত্বেও তার মুখ নিস্তেজ।সেও একটি বিশেষ ব্রান্ডের টূথপেষ্ট ও সীম কার্ড ব্যবহার করে কিন্তু তার চারপাশে আনন্দের কোন ঢেউ নেই। তপুর পরনে ফিকে হয়ে আসা সবুজ গেঞ্জি,একটি চেক ট্রাউজার,চোখে চশমা,মুখে দুইদিনের জমানো দাড়ি। তার চায়ের কাপেও বৃষ্টির ফোটা পড়ল আর সেও ও ঠিক বিজ্ঞাপনের মতই আকাশের দিকে তাকালো কিন্তু চোখে কোন মুগ্ধতা বা বিস্ময় নেই।
      বৃষ্টির আগমনী হিসাবে আকাশ গুড় গুড় করে ডেকে ঘোষণা দিচ্ছে। এমন ডাকে মনে ভয় মিশ্রিত আনন্দ হয়,ময়ূর পাখা মেলে নাচে কিন্তু তপু তেমনি নির্বিকার। এবার বৃষ্টির একটি ফোঁটা তার চশমার কাঁচেও পড়ল আর তাতে দুনিয়ার তাবৎ চশমাওয়ালাদের মত সেও বিরক্ত হল। ঘোলা কাঁচ চোখে নিয়ে আর এখানে বসে থাকার সে কোন মানে খুঁজে না পেয়ে ছাদবারান্দা ছেড়ে ঘরে চলে এল।

      গল্পের ভেতরে এই কথাগুলো কিংবা বাক্যগুলো একটা মাত্রা যোগ করেছে যদিও ছোট গল্পে যা থাকে তাতে স্বল্প বিন্যাসটাকেই অনেকে সার্পোট করে তবে বলা যায় যদি গল্পে বিন্যাস এর বিষয়বস্তু গল্পের থীমের সাথে মিলে যায় তাহলে সেটা বড় হলেও পড়তে ভালো লাগে………………..
      আপনার দক্ষতা যদি বলি কিছু কথার মেলবন্ধন খুব ভালো লাগলো

      কয়দিন হয় বৃষ্টি হুটহাট আসা যাওয়া করছে। এমন রোদ-বিকেলে হঠাৎ আবার আকাশ ঘন কালো হয়ে গেল। এতক্ষণ মাঝখানে যা একটু নীল আকাশ দেখা যাচ্ছিল তাও দ্রুতগামী কিছু মেঘের পাহাড় চট করে ঢেকে দিল।আঁধারের পিছু পিছু ঝড়ো হাওয়া আর বৃষ্টি যেন হাত ধরাধরি করেই এলো শহরে। বাইরে ঝড়ো হাওয়ার শো শো শব্দ ঘরের ভেতরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রন যন্ত্রটির মৃদু গোঙানি ছাপিয়ে কানে আসছে। বন্ধ জানালাটির পর্দা পুরোটা খুলে দিল মৌরি।চার বাই পাঁচ ফিট জানালার কাঁচে, বৃষ্টির ফোঁটাগুলো বিন্দু বিন্দু জমা,তাদের আস্তে আস্তে ভারী হওয়া, একে অপরকে আকর্ষণ করে টপ টপ করে বেয়ে পড়ে যাওয়ার দৃশ্যটা দেখতে দেখতে কখন তার মুগ্ধতা ভোতা হয়ে গেলো,কখন তাতে তপুর ভাবনা ভর করে পাখা মেলল সে টেরই পেলো না।
      পাশের বাড়ির ছাদ টিতে গরমের দিনে বৃষ্টি হলেই পানি নিষ্কাশনের নলটি কিছুদিন বন্ধ করে রাখে,। দু-তিন দিন ধরে বৃষ্টি আসায় এখন সেখানে প্রায় সাত-আট ইঞ্চি পানি জমে গেছে। সেখানে তাকিয়ে তপুর জন্য বুকের মধ্যে কেমন ছ্যাৎ করে উঠল মৌরির। এই ছাদের পানিতে পা ডুবিয়ে সে কত কথা বলেছে তপুর সাথে,মেঘের সাথে ভেজা শরীরে আকাশের ঐ কোণায় কত উড়ে বেরিয়েছে সে!
      সেটা অবশ্য এই জগতের সমান্তরাল আরেকটি জগতে। যেখানে আকাশটাকে চাইলেই দু-তিনটা চাঁদ দিয়ে সাজানো যেত। যখন তখন সূর্যকে নিভিয়ে দেয়া যেত। সাদা শিফনের শাড়ী পড়ে বকুল জড়ানো যেত। শুনশান হাইওয়ের পাশে পাচিল ঘেরা বাগান বাড়ী বানানো যেত, অন্ধকার সেই কাঠের বাড়িতে রাতভর গল্প করা যেত। এমন সুন্দর ভুবন অলীক হলেও অনুভবে পুরোটাই সত্য। তাইতো মৌরী এর নাম দিয়েছিল “অনুভব”।

      অনুভব আছে চারপাশে মায়াজালের মতো আর আমরা নিজেদের অনুভব খুব করে বুঝতে পারলেও আমাদের কাছের মানুষদের অনুভব পুরোপুরি বুঝতে পারিনা। আপনার লেখায়
      তপুর আর মৌরীর অনুভবের কথা জানলাম/ তবে একটা কথা এই সব গল্পগুলো আমাদের চারপাশে ঘটে যায় তাই আপনি ২য় পর্বে অবশ্যই কিছু চমক দেবেন এই রকমটাই আশা করছি।
      ____________________________________________

      লেখায় প্রচ্ছদ ব্যবহার যদি আর একটু কম হতো। কিছু কিছু জায় বানান ভুল আছে যেমন (ছোট্রজগত)= ছোট্ট জগৎ
      তাই বানানের ব্যপারে আপনাকে অনুরোধ করছি দয়া করে বানান একটু দেখবেন। লেখা কোথায় কোথায় বিছিন্ন হয়ে গেছে তাই লেখাটা শেষ করার পর একটু পড়ে দেখবেন তাহলে বিচ্ছিন্নতা ধরা পড়বে।

      • সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে সকালের বিষদ বর্ণনা দেখে হতবাক আর মুগ্ধ।প্রথমে আপনাকে সালাম জানালাম, এতো মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন।টাটকা ফুলসহ
        :rose: :rose: :rose: :rose: :rose:

        ছোট গল্পে যা থাকে তাতে স্বল্প বিন্যাসটাকেই অনেকে সার্পোট করে তবে বলা যায় যদি গল্পে বিন্যাস এর বিষয়বস্তু গল্পের থীমের সাথে মিলে যায় তাহলে সেটা বড় হলেও পড়তে ভালো লাগে………………..

        একমত।
        তবে আমি এটাকে ছোটগল্প নয় গল্প হিসাবে মানছি।আর গল্প কিন্তু ছোট এখানে জড়ানো ভাবনাটা বড়।আমি এখানে ভাবনাটা নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছি, বা শিখতে চাচ্ছি।আমিও ব্যাপারটা নিয়ে ভেবেছি তবে কলম যেভাবে চলছিল সেভাবে চলতে দিয়েছি।
        হ্যা একশোভাগ সত্য কথা আমরা কাছের মানুষের অনুভুতি বুঝতে পারি না।তবে আমার ধারনা লেখকদের বোঝার ক্ষমতা সাধারণ মানুষের উপরে।তারা সবাই কম বেশি বুদ্ধিমান,ঠিক ই বুঝেত পারে।না বোঝাটা তাদের ইচ্ছা।
        বানান ভুলের ব্যাপারটা দেখব।
        আর বিচ্ছিন্নতার ব্যাপারটায় ও সহমত।আসলে নিজের আঁকা ছবিতে মাঝে মাঝে রঙের ছটা চোখা ধাঁধিয়ে দেয়,বোঝা যায় না।যারা এর থেকে উতরে উঠতে পারে তাদের লেখাই তাই জনপ্রীতি পায়।হ্যা ব্যাপরটা কিছু আঁচ করছি কিন্তু ধরতে পারছি না।চেষ্টা থাকবে।
        তবে আপনার বিশ্লেষনে আপনাকে বাড়াবাড়ি রকম সম্মান জানালাম।
        বেচে থাকুন সুখে-ভালোবাসায়।

        rabeyarobbani@yahoo.com'

        রাবেয়া রব্বানি
        জুন 15, 2011 at 2:56 পূর্বাহ্ন

  3. সারা রাত গানটি শুনেছি। অসম্ভব ভালো লাগায় ভরে গেছে মনটা।
    শেয়ার করলাম।
    পড়া শেষ হলে মন্তব্য করুম।
    আপাতত শুভ কামনা।
    %%- :rose: %%-

    রাজন্য রুহানি
    জুন 14, 2011 at 5:59 পূর্বাহ্ন

    • তাই লিঙ্কটা দিয়েছিলাম।যে যারা শুনে নাই তারা যাতে শুনে অসাধারণ এই গানটি।
      আপনার জন্য বিকেলি ~O)
      আলোকিত হোক জীবন-যাপন।
      :rose: :rose: :rose: :rose: :rose:

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      জুন 14, 2011 at 10:26 পূর্বাহ্ন

  4. গানটা বড্ড প্রিয়…এটার একটা বাংলা অনুবাদ করেছিলাম। কোন ব্লগে যে পোষ্ট করেছি খেয়াল নেই। ………………..রাবেয়া দি আপনার গল্পে উপমার অজস্র সম্ভারেরর যে নিপুণ বুনট তা দৃষ্টিকে গভীরতায় পর্যবসিত করে যেখানে আলোর ব্ড্ড অভাব। ………….তবুও সেই আলোহীন নান্দনিক পরিবেশে ভাবাবেগের রাজ্য। বেশ লাগে সেখানে থাকতে।

    • এনিস সং , কানট্রি রোড সহ জন ডেনভারের বেশ কয়েকটি গানের অনুবাদ নিয়ে অর্থহীন ব্যান্ডের সুমনের একটি আলব্যাম আছে ” মেঘের দেশে ” খুব ভালো হয়েছিল । আপনার অনুবাদটাও শুনতে ইচ্ছে , দিয়ে দিন না এখানে …

      imrul.kaes@ovi.com'

      শৈবাল
      জুন 14, 2011 at 10:08 পূর্বাহ্ন

    • কৃতজ্ঞতা
      সময় নিয়ে পড়ার জন্য মামুন ভাই।
      আসলে উপমার ব্যাপারটা শিখছি।কাহিনী বর্ণনা করাটা সহজ লাগে।কিন্তু ব্যক্তির মন-কথা বা ভাবনার পরিবেশ সৃষ্টি করা আর কথাশৈলীটাই রপ্ত করতে চাচ্ছি।জানি তাতে কিছু কিছু যায়গায় প্রাণ আর কিছু জায়গায় জড় হয়ে যাচ্ছে।তবে চেষ্টাটা শেখার।
      আপনি সবসময় গল্পগুলো পর্যালোচনা করেন এটা আমার জন্য সৌভাগ্য।মঙ্গল হোক।

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      জুন 14, 2011 at 10:34 পূর্বাহ্ন

  5. তপু ভ্রাতার মতো আমিও এক দিবসে দেখা করিতে গিয়াছিলাম
    তাহার সহিত কিন্তু তিনি মোকে দেখে কিছুতেই চিনিতে পারিলেন তাহার ধারনা আমি তাহার সহিত
    ছলনা করিয়াছি তিনি বলিলেন আমি ভাবিতাম আপনার বয়স ২৬ কিন্তু এখন দেখি আপনি ৪৩ ইহা কি ঠিক হইলো
    আমি তাহাকে বুঝাইতে ব্যর্থ হইলাম যে আসলে ভালোলাগা বয়স মানে না।

    লেখনিতে তপু আর মৌরীর অনুভুতি দেখিয়া ভালো অনুভুত হইলো।
    আপনার লেখনি দীর্ঘতা লাভ করুক
    আকাশের গায়ে ঝুলে থাকুক নক্ষত্রের মতো।

    roy.sokal@yahoo.com'

    অরুদ্ধ সকাল
    জুন 14, 2011 at 2:18 অপরাহ্ন

    • আসলে ভালোলাগা বয়স মানে না।

      যদিও ব্যাপারটা আপেক্ষিক।তবে যাকে বলে ব্যাপারটা বোঝাতে হয় সে আসলে ভালোবাসার যোগ্য ই না।তারা হিসেব নিকেশ করে ভালোবাসে তাদের সংখ্যাও কম নয়।তবে মৌরি করে না।
      আপনার শুভকামনা হৃদয়ে ধারন করিলাম।
      :rose:
      সতত শুভকামনা।লেখাটায় বৃষ্টির বর্ণনা আপনার একটা লেখায় অনুপ্রানিত হয়ে লিখেছি।
      ভালো থাকবেন।

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      জুন 15, 2011 at 2:41 পূর্বাহ্ন

  6. http://mamunmaziz.amarblog.com/posts/11111

    তুমি রয়েছ চেতনা জুড়ে
    যেন এক নিশুতি রাত কোন বনে
    যেন জেগেছে পাহাড় বসন্তে
    যেন বৃষ্টির মাঝে পায়ে চলা
    যেন ঝড় ছেয়েছে মরুর বুকে
    যেন নীল মহাসমুদ্র একান্ত ঘুমে
    তুমি রয়েছ চেতনা জুড়ে
    আবার এসে ভরাও পূর্ণতায়

    এস ভালবাসতে দাও আমায়
    জীবনখানি বিলাতে দাও তোমায়
    সুযোগ দাও ডুবে যেতে হাসিতে
    মরে যেতে দিও বাহুডোরে তোমার
    স্থান করে দাও একান্তে পাশেতে তোমার
    থাকতে দাও সততই সাথে গো তোমার
    এস ভালবাসতে দাও আমায়
    এস ভালবাস না আরেকবার

    জীবনখানি বিলাতে দাও তোমায়
    এস ভালবাসতে দাও আমায়
    এস ভালবাস না আরেকবার
    ========================
    অনুবাদ//( মামুন ম. আজিজ)

    জন ডেনভার , যার জন্ম ৩১ শে ডিসেম্বর ১৯৪৩ এবং মৃত্যু ১২ই অক্টোবর , ১৯৯৭, একজন বিশ্বনন্দিত গায়ক। যার গানে আজও মুগ্ধ হই আমরা। তিনি মূলত ছিলেন আমেরিকার কান্ট্রি সিংগার।
    জন ডেনবার সম্পর্কে বেশী কিছূ বলার আসলে দরকার নেই।
    উপরের অনুবাদ টি তার একটি বিখ্যাত অ্যালবাম ‘কাম হোম এগেইন’ ( যা প্রকাশ পায় ১৯৭৪ সালে) এর অর্ন্তভূক্ত ‘ অ্যনি’স সংগ’ এর বাংলা অনুবাদ।
    কবিতা , গান অনুবাদ করা যায় বলে আমি মূলত মনে করিনা।
    তারপরও কোন কোন গান কবিতা এত ভাল লেগে যায় , সেটাকে নিজ ভাষায় প্রকাশ করতে প্রবল ইচ্ছা হয়।

  7. বাহ! ভালো হয়েছে তো আপনার অনুবাদ।সঠিক অনুবাদে বাক্যের হেড়ফেড় হয় কিন্তু ভাব একি থাকে।এখানে ভাবটা একি আছে।শেয়ার করার জন্য শুভ কামনা।
    অভিনন্দন।

    rabeyarobbani@yahoo.com'

    রাবেয়া রব্বানি
    জুন 15, 2011 at 2:34 পূর্বাহ্ন

  8. অসাধারাণ ঘটনাবহুল গল্প। ইংরজি কবিতাটা আরো সুন্পর লেগেছে। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। ধন্যবাদ।

    জিল্লুর রহমান
    জুন 15, 2011 at 6:29 পূর্বাহ্ন

    • ওটা কবিতা না গান:-) আপনাকে আরো বেশি ধন্যবাদ সময় করে পড়েছেন । আরো ভালো লিখুন , ভালো থাকুন ।সতত শুভকামনা ।

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      জুন 15, 2011 at 10:05 পূর্বাহ্ন

  9. অনুভবে বুঁদ হয়ে আছি, দ্বৈরথে মাতে মন;
    ইতি-নেতি-চিন্তার আবেশী ভাব সারাক্ষণ—
    কল্পনার রঙে
    বর্ণনার ঢঙে
    যাই চলে ছলে বলে যেখানে মৌরী-তপু-কিরণ।
    …………
    বাক্য প্রয়োগ, উপমার ব্যবহার, কথার সাযুজ্য, চিন্তার বিস্তরণ, কথকের দৃষ্টিসীমানা, নষ্টালজিয়া বোধের চলাচল, বানান সমীক্ষা, গল্পের কৌশলী ভঙিমা, অনুভূতির তীর্যক প্রতিফলন, সাদৃশ্যের ব্যবহার, চরিত্র চিত্রন, ইটকাঠের খাঁচায় মানসিক বন্দীদশার ক্রমানবতি, হীনাবস্থা যাপনের গ্লানি… ইত্যাদি ব্যবহার আশা জাগানিয়া। তবু টুকটাক অগোছালো। সময় পেলে এ বিষয়ে পরে কথা বলবো।
    …………
    সবার উপরে সত্য এই, গল্পটি পড়ে এবং গানটি শুনে কেমন যেন হয়ে গেছি ভাই। আবার অনুভূতি সমীক্ষা, মনগহনে ডুব, নির্বাসিত স্বপ্নমন্থন নিয়ে যাপনের জীবিত যাতনা রেখে ভেসে গেছি দিকচিহ্নহীন কোনো কষ্টমধুর ভাবনায়।
    …………
    গল্পের জন্য (*) (*) (*) (*) (*) (*) (*)

    রাজন্য রুহানি
    জুন 15, 2011 at 7:24 পূর্বাহ্ন

    • রাজন্য ভাই ,কোথাও একটু এলোমেলো এটা এক্কেবারে মানছি । তবে আপনার মত কবির অনুভুতিতে যদি গল্পটা নাড়া দিয়ে থাকে সেটা আমার মত অভাজনে বিরাট ব্যাপার ।আর বুদ হওয়াতো কল্পনার অতীত ।
      আপনার কমেন্টসই একটা কবিতা ।তবে কষ্টমুখর নষ্টালজিয়ায় সুখের মত ব্যাথা হলেই ভালো ।কেননা কামনা করি কবি হৃদয়ের শান্তি ।
      মোবাইল থেকে তাই আপাতত ভারচুয়াল গোলাপ নাই ।অনুভব জগতের একশো টাটকা গোলাপ কবি পদতলে দিলাম।

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      জুন 15, 2011 at 10:23 পূর্বাহ্ন

  10. খুব সুন্দর, এই বুঝি উত্তর আধুনিক লেখা!
    :rose: %%- %%- %%- %%- %%-

    mannan200125@hotmail.com'

    চারুমান্নান
    জুন 15, 2011 at 10:03 পূর্বাহ্ন

    • চারু ভাই ।আপনার তোমাকে বুঝি আর পাওয়া হলো না কবিতার শেষ প্যারাটা বেশ ভাবালো ।একটা গল্পের আইডিয়া এলো ।ধন্যবাদ ।
      পড়লেন তাই কৃতজ্ঞতা ।ভালো থাকুন , পাশে থাকুন সুন্দর ব্লগিং এ

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      জুন 15, 2011 at 10:11 পূর্বাহ্ন

  11. রূ্পকথা ছাড়া যে কোনো গল্পই বাস্তব জগতের প্রতিচ্ছবি। তা হোক পুরোটা কাল্পনিক বা নিরেট সত্য। সে ক্ষেত্রে যাদু-বাস্তবতা ভিন্ন সর্ব ক্ষেত্রেই যুক্তিপূর্ণ উপস্থাপনা জরুরি। আশা করছি দিনদিন রাবেয়া রাব্বানির লেখনী আরো প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে এবং আমাদের স্বল্প ক’জনার মুগ্ধতাকে ছাড়িয়ে মুগ্ধজনের সংখ্যা একদা অগণিত হবে।

    তবে তার আগে ওই যে, যুক্তিপূর্ণ উপস্থাপনার কথা বললাম, সেই আলোকে ঈশ্বরের ভাষা হওয়া উচিত বাংলা। আল্লা বলবেন আরবিতে কথা। কুন কথাটা তার মুখেই মানায়। গডের ভাষা হবে ইঞ্জিরি। ভগবানের ভাষা কি সংষ্কৃত না? আর বনের দেবতা বোঙ্গার ভাষা হবে বুনো।

    বানান নিয়া বলতে বলতে আমরা অনেকেই কালান্ত!

    • বাব্বাহ ! ঈশ্বরের এতো প্রকার আর সাথে বান্দারাও ,
      কথাটা ভাবালো ।

      imrul.kaes@ovi.com'

      শৈবাল
      জুন 16, 2011 at 6:39 অপরাহ্ন

    • গুরুভাই জুলিয়ান
      পোলাপান নিজে নিজে চিন্তা করে আঁকতে গেলে হাত কাঁপে কোথাও কোথাও আউটলাইন আঁকা বাকা হয়ে যায় । এখানে তেমনটাই হয়েছে । বৈচিত্রের মাত্রা যোগ করতে গিয়ে যতটা পাকা হাত লাগে আমার হাত তেমন হয় নি ।অনুশীলনে একসময় হবে দোয়া করবাইন ।
      তয় গল্পে কাব্য মাত্রা দিতে চেয়েছি , কবিতায় আমি অনেকটাই খাপছাড়া ,যুক্তি নিয়ম মানতে মন চায় না ।
      তারউপর আমি মনে করি ঈশ্বরের ভাষা সব:-D ।তিনি আরবী বা ইংরেজী যেকোন ভাষায় কথা বলতে পারেন আর বলেন । এখানে কুন আর লেট দেয়ার বী লাইট প্রতীক মাত্রা ।আর আল্লাহ আর ঈশ্বর বা গড তো একই অনুসারী আর ভাষা আলাদা ।উপমায় ভেদাভেদ বর্জন করেছি ।
      তয় বানান একটু কম ভুল হইছে না ?:-D
      আপনি সবসময় পোষ্ট পড়েন আর মতামত দেন সেটা বিরাট ব্যাপার ।
      পদধুলিতে একশো গোলাপ ।

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      জুন 17, 2011 at 2:41 পূর্বাহ্ন

  12. আপু, আমি অলস মানুষ, তাই এতবড় লেখা দেখে সাহস সঞ্চার করতে পারিনি। তবে সকলের উপস্থিতি দেখে পড়তে দারূন ইচ্ছে করছে। তাই সাহস সঞ্চার করতে যাচ্ছি।

    • আমরা সবাই কষ্ট করে লিখি আর আগ্রহ নিয়ে ব্লগে দেই যাতে সবাই পড়ে ।যাতে একে অপরের লেখা শুদ্ধ করতে সাহায্য করতে পারি ।কবিতা পড়া সহজ ,গল্প পড়া আসলেই মনোযোগের ব্যাপার ।
      ভাই , আপনার সরল স্বীকারোক্তি আর পড়ার ইচ্ছার জন্যই আপনাকে আশীর্বাদ । থাকুন সুখে , সহজে ।

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      জুন 17, 2011 at 2:21 পূর্বাহ্ন

  13. বাব্বাহ, খুব ভালো, মজে গেলাম। মানসিক চিন্তার সাথে বাস্তবের বিপরীতমুখি দ্বন্দ্বমুখর প্রেমপোখ্যান। :-bd
    পরের পর্ব পড়ার প্রতীক্ষায়…।

    bonhishikha2r@yahoo.com'

    বহ্নিশিখা
    জুন 21, 2011 at 6:58 পূর্বাহ্ন

    • অসংখ্য ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা বোন বহ্নি।এই বড় গল্পটা পড়ার জন্য।কিছু দিন ব্যস্ত থাকায় পোষ্ট করতে পারিনি।আজ করব।পাশে থাকুন।ভালো থাকুন।
      :rose: :rose: :rose: :rose: :rose:

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      জুন 22, 2011 at 5:04 পূর্বাহ্ন

  14. শৈলী বিচারক প্যানেল গল্পটিকে “এক্সক্লুসিভ” মর্যাদা প্রদান করল। অভিনন্দন।

    শৈলী
    অক্টোবর 5, 2011 at 11:32 অপরাহ্ন

    • অসংখ্য ধন্যবাদ শৈলী বিচারকমন্ডলী গল্পটিকে এক্সক্লুসিভ মর্যাদা প্রদান করার জন্য ।

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      অক্টোবর 20, 2011 at 5:10 পূর্বাহ্ন

  15. গল্পটি এক্সক্লুসিভ মর্যাদা পাওয়ায় কবি-গল্পকার রাবেয়া রব্বানিকে মনভূবনের কলতানমুখর অভিনন্দন। ভালো থাকবেন, নিজের মতো।

    একটি নক্ষত্র উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হচ্ছিল ক্রমশ। আঁধার-চাদরে তাকে ঢেকে দেওয়া ঠিক নয়। আমি জানি, মেঘের ওপারেই হাসছে সূর্য। আবার ঝলমলিয়ে উঠবে আপনার নিজস্ব ভূবন।

    শান্তিময় হোক জীবন।
    [-O<

    রাজন্য রুহানি
    অক্টোবর 6, 2011 at 6:42 পূর্বাহ্ন

  16. অনেক ভাল পড়ে। ধন্যবাদ আপনাকে। :rose:

  17. :rose: :rose: :rose:

    সাহাদাত উদরাজী
    অক্টোবর 7, 2011 at 7:34 পূর্বাহ্ন

  18. উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়া চাঁদ কে আঁধারের চাদরে ডেকে দেয়া ঠিক নয় … প্রিয় কবি রাজন্যের মতো আমি আহত হয়েছি যখন ফেসবুকে দেখেছিলাম লেখা লেখি থেকে দূরে যাচ্ছেন প্রিয় লেখিকা রাবেয়া রব্বানি ।

    কেন লিখবো কেন লিখি লিখে কি হবে ?
    প্রশ্নগুলো সহজ কিছু না আর উত্তর জানা নেই বলে আমার মতো অনেকেই এমন প্রশ্নের সামনে আসি না যেমন ঈশ্বরের উত্‍পত্তি কোথায় যেমন ভীতিকর প্রশ্ন তেমনি , লিখে কি হবে এই উত্‍স কে নিয়ে প্রশ্ন করার স্পর্ধা নেই !

    ১৯৩১ সালে উইল ডুরান্ট পৃথিবীখ্যাত ৩২জন মনীষীকে একটি চিঠি লিখি পাঠিয়েছিলেন , একটা প্রশ্ন আজো এই পৃথিবীতে তাঁরা তাঁদের সৃষ্টির বা কাজের প্রেরণা বা বিশ্বাস খুঁজে পান কোথা থেকে যে পৃথীবিতে গণতন্ত্রের পচন ঘটছে সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন অলরেডি হিউমাস , প্রেম সে কেবল শারীরিক সমীপতা বিবাহ সাময়িক কায়িক সুবিধে শিল্পবিপ্লব ধ্বংস করছে আমাদের ঘর জন্মনিরোধের আবিষ্কার ধ্বংস করছে আমাদের পরিবার , সেই পৃথিবীতে শিল্পী কবি এসব কি বাতুলতা ! সেই ৩২জনের উষ্ণ তালিকায় রবীন্দ্রনাথ থাকলেও জীবনানন্দ ছিলেন না , তাই প্রশ্নের জবাব খামে পুরে নি তাঁর নিজস্ব ডায়েরিতে লিখা ছিলো

    ” আমাদের এই পৃথিবীতে exile , anguish , ignomity & misery র মধ্য থেকে যাওয়া ছাড়া মানুষের আর কোন উপায় নেই … তা হলে প্রতিরোধ ? তা হল স্বপ্ন গ্রাম শস্যভূমি হলদে হয়ে আসা ফসল হেমন্তদুপুর আর বহুদিনের জানা একটি মেয়ে একাকার হয়ে যায় সেই স্বপ্নে ।

    এইকথাগুলো পড়ছিলাম বিখ্যাত শঙ্খঘোষের একটা আরটিকেল থেকে ।

    , প্রিয় রাবেয়া রব্বানি আপনার লিখা আমার অনেক ভালো লাগে শুধু একজন ভালো ভক্ত হয়ে বলছি শব্দরা বড়ই অভিমানী ওদের অবহেলা করবেন না , লিখি লিখি বন্ধ করবেন না , যদি লিখা আসে চোখ ভুজে অন্ধ হবেন না বরং ভাবনার চোখ খুলবেন আবার … নতুন কোন গল্পে কবিতায় একটা ম্যাজিক একটা সৃষ্টি , আপনি যেমন বলেন লিখতে ভালো লাগছে । নতুন গ্রহে ঘুরতে আসার মতো মানুষ চিনা নিজেকে জানা , বন্ধ করবেন না এই ভ্রমন , এটা একজন ভক্তের আবদার ।

    ভালো থাকবেন অনেকদিন পর এসছিতো সদ্য জ্বরছাড়া বালকের মতো তাই বকেছি অনেক ।
    বেশি বললে ক্ষমা সুন্দর হোক ।

    এই গল্পটা আমার সবচেয় প্রিয় না হলেও খুব প্রিয় । আর প্রিয় শৈলী আবার দেরী করেছে একবার লিখেছিলাম শৈলী মরুভূমিতে ছেড়ে দেয়ে মানচিত্র বিহীন ম্যাগনেট শুন্য খেলনা গাড়ি দম দিয়ে ছেড়ে দেয়ে যাচ্ছে ইচ্ছে মতো অনেকটা আমার মতো , এইগল্পটাই অনেকদিন এখানে ছিলো অনেক কমেন্টস এলো … বেশ কিছু পরে অন্য ব্লগে ছাপা হলো সেই ক্ষেত্রে প্রথমে এক্সক্লুসিভ না করে এত্তোদিন পর , এক্সক্লুসিভের শর্ততো ভেঙে গেলো । সেদিন কুলদা রায়েরও এ ব্রিফ হিস্ট্রি গল্পটাও একই হেঁয়ালি হলো …

    imrul.kaes@ovi.com'

    শৈবাল
    অক্টোবর 7, 2011 at 5:45 অপরাহ্ন

    • সুপ্রিয় শৈলার শৈবাল. শৈলী বিচারক প্যানেল এই গল্পটিকে “এক্সক্লুসিভ” মর্যাদা দিয়েছে। কারন গল্পটি শৈলী নীতিমালা মেনেছে। শৈলী নীতিমালা-১ এ দ্রষ্টব্য:

      ১. শৈলী-তে প্রকাশিত কোন নতুন লেখা ৪৮ ঘন্টার মধ্যে অন্য কোনো কমিউনিটি ব্লগে প্রকাশ করা যাবে না। ব্যক্তিগত ব্লগ এবং পত্রিকা এই নিয়মের আওতার বাইরে। তবে ব্লগিং ব্যতিত শৈলী.কম এর অন্য যে কোনো উদ্যোগে (শৈলী ই-বুক, শৈলী ম্যাগাজিন এবং বাৎসরিক প্রকাশনায়) অন্য ব্লগে (ব্যক্তিগত ব্লগ ব্যতীত) প্রকাশিত পোস্ট গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হবে না ।

      অর্থাৎ গল্পটি প্রকাশনার ৪৮ ঘন্টা পরে অন্য কোথাও প্রকাশ করা হয়েছে। সেই নীতি “শৈলী এক্সক্লুসিভ” মর্যাদাতেও অক্ষুন্ন। ধন্যবাদ আপনাকে।

      শৈলী
      অক্টোবর 7, 2011 at 6:31 অপরাহ্ন

      • কৃতজ্ঞতা শৈলী । শৈলীর ৪৮ঘন্টার হিসেবটা আমার জানা আছে । কিন্তু এক্সক্লুসিভের ক্ষেত্রে জানতাম শুধুমাত্র শৈলীতে প্রকাশিত , সকাল রয়ের একটি লেখা প্রথমে এক্সক্লুসিভ হয়ার পর আবার তুলে নেয়া হয় , ওটা অন্য ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল বলে তখন ৪৮ঘন্টার কথা বলা হয়নি ।তাই আমার নিয়মটা বুঝতে ভুল হয়েছে , ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি । এটা ভালো হয়েছে লেখেকদের স্বাধীনতা থাক দরকার ভিন্ন লিখার … এই ধারাটা অনেক সহজ হলো , কৃতজ্ঞতা জানাই ভুলটা ধরিয়ে দেয়ার জন্য ।

        imrul.kaes@ovi.com'

        শৈবাল
        অক্টোবর 7, 2011 at 7:03 অপরাহ্ন

    • এক্সক্লুসিভ আনন্দ কতটুকু ইচ্ছে জাগাবে জানি না । তবে এই লেখার ইচ্ছে বেঁচে থাকুক আপনার এবং সব কলম শিল্পীর । কলম হোক ভালো বন্ধু সবসময়ের …
      এলিয়ট থেকে টুকে রেখেছিলাম
      words move music moves
      only in time ; but that which is only living
      can only die .
      words after speech reach
      into the silence only by the form the pattern …
      শব্দরা বেশ অভিমানী একবার আড়ি দিলে …

      যদি আগ্রহ হয় সময় পেলে শুনবেন প্রতুলের একটি আবদার
      http://www.youtube.com/watch?v=P2qNCiJnFVQ

      imrul.kaes@ovi.com'

      শৈবাল
      অক্টোবর 8, 2011 at 11:36 পূর্বাহ্ন

  19. রাবেয়া আপাকে অভিনন্দন।

    রিপন কুমার দে
    অক্টোবর 7, 2011 at 8:22 অপরাহ্ন

মন্তব্য করুন