সংসারসংবর্তি

Filed under: ‌কবিতা |

সঙ যেখানে সার হয়ে জাগিয়েছে অম্লমধুর অনুভব,
তারও বিপক্ষে দাঁড়াই আমি;

নীলপদ্ম আর বোষ্টমীর পালা তো কবেই সুদূরে বিলীন…
লক্ষ্মীন্দর অধুনা মরে যায় যে বিষাক্ত ছোবলে
তার প্রতিকার নেই আর— উঠোনে লাশকাটা রক্তের দাগ
চাটে নেড়িকুত্তা— বাতাসে বিবমিষা ভাসে কবেকার,
সর্পসাথীর চোখ এড়িয়ে বাল্মীকি হাতছানি কেটে দেয় সুতার সম্পর্ক;
নাটাইয়ের টান ভুলে কোথায় উড়ে উড়ে যায় ঘুড়ি…

শতকিয়া মুখস্থ হলে প্রস্থানের পথে
অঙ্কীয় দিনের
আত্মপত্রে পড়ি : সংহারই সত্যতা রেখেছে বোধনের ভিতর!
—কী তবে সৃজনের মানে?

লয়ক্ষয় মিলে কেন এই অসীমের চিঠি
আকাশের নীল খামে; পতিতাও তবে পুরুষ বদলানোর
ফাঁকে মরে একবার— পুরুষও মৃত, প্রাপ্তি পরবর্তী পাহারায়…

ও বেহুলা, বক্ষিলারের কামদৃশ্য ধারণাংশবিশেষে
তোর চেহারা কেন দেখা যায়!

সঙ যখন সার হয়ে জাগায় নির্ণীত নারদের কাল
স্বীকৃত সময়ের কাছে,
জাগরণের দূত এসে জানায় :
পতিতা, বেহুলা ও দেবীর মধ্যে কোনো ফারাক নেই বাহে…

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।

20 Responses to সংসারসংবর্তি

  1. (পতিতা, বেহুলা ও দেবীর মধ্যে কোনো ফারাক নেই বাহে…)অনন্য অসাধারন এবং জটিল

    touhidullah82@gmail.com'

    তৌহিদ উল্লাহ শাকিল
    নভেম্বর 4, 2011 at 4:01 অপরাহ্ন

  2. একটা বিশ্বাহ আমার আছে , যারা আপনার কবিতা নিয়মিত পড়ে তাঁরা অপূর্ব রং রূপ গন্ধে আপনার কবিতাকে ভালোবাসবেই । যারা এরপর অনুভূতি নিবে তারা একটা বিচিত্র স্বাদ পাবে । এই বোধটুকু আপনাকে একজন পুর্ণ কবি থেকে পৃর্থক কবিতে নিয়ে যাবে এটা আমি নিশ্চিত … এখন শুধু সময়ের দিকে চেয়ে থাকা

    imrul.kaes@ovi.com'

    শৈবাল
    নভেম্বর 5, 2011 at 5:04 পূর্বাহ্ন

    • ধ্যাত , রিকসার ঝাঁকুনিতে বিশ্বাস লিখতে বিশ্বাহ হয়ে গেলো । এখন উঠি পরে আসবো , বাসায় এলাম তো … ওহ ছবির ইল্যুসানটাও বেশ আপনার কবিতার মতো ! কোথায় পেলেন ?

      imrul.kaes@ovi.com'

      শৈবাল
      নভেম্বর 5, 2011 at 5:18 পূর্বাহ্ন

    • আমার কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই শৈবাল ভাই। জন্মের পর বংশগতির কম্পাসটা হারিয়ে ফেলেছি, এখন দিকচিহ্নহীন। ‘অলসতা’ আর ‘কী হবে’ ভাব এবং মৃত্যুতেই সব শেষ হয়ে যাবে—এমন নেতিচিন্তা আমাকে কুড়েকুড়ে খায়। নিয়মিত লিখতে পারি না, কখন যে কিভাবে লিখে ফেলি তাও জানি না, তবে আপনাদের লেখা পড়ে উদ্বুদ্ধ হই, প্রেরণা জুটে খানিকটা। আবার বেশিরভাগ সময়ই চুপচাপ। অথচ, দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকে সবখানেই। অনেক কথাই বলতে গিয়ে বলি না, কমেন্ট বক্সে লিখে আবার কেটে দিই, পাছে ভুল বুঝে লোক। কারো মনে দুঃখ দিতে চাইনা, নিজেই পুষে রাখি বুকের ভিতর। কেউ স্নেহ-ভালোবাসায় কথা বললে গলে যাই, অব্যক্ত দীর্ঘশ্বাস আর কষ্টকাহন লুকিয়ে রেখে তাকে আপন ভাবি, নিজের অসহায়ত্ব আর অক্ষমতা অন্যের কাছে বলেও লাভ নেই, পরে হাসির পাত্র হতে হয়। দেখে দেখে, ঠেকে ঠেকেই শিখেছি জীবনভর। কোনো গুরুর দীক্ষা নেই, আমি আমার মতো চলতে চেয়েছি সবসময়। এখনো চলি। মাঝেমধ্যে স্ট্যাচু হয়ে যাই মানুষ-সভ্যতা-সমাজ ব্যবস্থার নানামুখী কর্মকাণ্ড দেখে, নিস্তব্ধ হয়ে যাই, বিবশ হয়ে যাই। একঘেয়েমি জীবন খেকে মুক্তি এবং জীবনের মানে খুঁজতে গিয়ে মৃত্যুকেই হয় সত্য-সঠিক কোনো প্রিয়তমা। যার মধ্যে কোনো প্রবঞ্চনা নেই। পারিপার্শ্বিক ঘটনাবলীর (নেতিবাচক) প্রভাব আমার মানসিক বাস্তুভিটা লণ্ডভণ্ড করে দেয়, তখন মনে হয় এই বুঝি শেষ, আহা এখনই মৃত্যুর সময়। বেঁচে থাকবার সহজাত প্রক্রিয়া আমাকে কিছুটা সুস্থ্ করে তোলে। সময়-অসময়ে মনে হয়, শেষ পর্যন্ত পাগল হয়ে যাবো না তো! আপনি ডাক্তার মানুষ, তাই আগেভাগেই বলে রাখলাম আমার উপসর্গের কথা।
      …..
      চেষ্টা করি আমার পর্যবেক্ষণ ও প্রকাশে যেন ত্রুটি না থাকে, গভীর জলে ডুব দিয়ে দেখি, তলদেশ কতটা নম্র আর ধরে রাখে কতখানি ভার।
      …..
      অযাচিত কিছু বলে ফেললে নিজগুণে ক্ষমা করবেন। ভালো থাকবেন সবময়, সুখ ও শান্তিতে থাকুক জগতের প্রতিটি মানুষ।

      রাজন্য রুহানি
      নভেম্বর 6, 2011 at 7:07 পূর্বাহ্ন

  3. আপনার কবিতায় সবসময় গুঢ় তত্ত্ব থাকে যা এক ঝটকায় বুঝা যায় না । কিন্তু শব্দের কী মৌলিক প্রয়োগ আপনি করে থাকেন ! শব্দগুলো মাথায় ঢুকে যায় ।দিন যায় ধীরে ধীরে কবিতার মানেটাও । অসাধারণ ।

    rabeyarobbani@yahoo.com'

    রাবেয়া রব্বানি
    নভেম্বর 5, 2011 at 5:47 পূর্বাহ্ন

    • আপনাদের আশাজাগানিয়া মন্তব্য ও ইতিবাচক ভূমিকা আমার ভিতরে সৃষ্টিশীল এক সত্তার জন্ম দেয় প্রতিবার। ক্ষ্যাপাটে মাথায় যতটা ধরে ততটাই প্রকাশ করতে চাই; শব্দরা পর হয়ে যাচ্ছে হয়তো নিজের অজান্তে নিজেরই কোনো অবহেলায়। ফিরিয়ে আনারও তাগিদ বোধ করি না, অথচ এই শব্দকেই শব্দের আড়ালে ভালোবেসে যাই প্রতিনিয়ত। কিছু তার ধরা দেয়, কিছু তার দেয় না। তার কিছু অংশ অন্যান্য কবি-লেখকদের লেখায় খুঁজে পাই, তখন ভাবি— শব্দপ্রিয়া আমার দূর নগরীর কারো ঘরণী, উচ্ছ্বাসে আনন্দময় তার প্রকাশযাপন। দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাই তখন।
      …..
      ঠিকই ধরেছেন, গূঢ় তত্ত্ব ও তথ্য দিয়ে সাজাতে চেষ্টা করি আমি প্রতিটি কবিতার শরীর। কারো চোখে তা জবরজরং কিংবা দৃষ্টিননন্দন, কারো চোখে পৃথক পোষাকে সজ্জিত, কারো কাছে হয়তো পাগলের রূপসজ্জা বৈ অন্য কিছু নয়।
      ….
      আপনার পুনর্জাগরণ গতিময়তা পাক, সৃজনশিল্পে মাতিয়ে রাখুন পরিবেশ।

      রাজন্য রুহানি
      নভেম্বর 6, 2011 at 7:43 পূর্বাহ্ন

  4. কবিতু বুঝতে গিয়ে সময় লাগলো
    যাই হোক
    লেখাটা দুর্দান্ত হয়েছে

    sokal.roy@gmail.com'

    সকাল রয়
    নভেম্বর 5, 2011 at 7:08 পূর্বাহ্ন

  5. এই কবিতাটি আপনার আগের সকল কবিতাকে ছাড়িয়ে গেল…

    রিপন কুমার দে
    নভেম্বর 5, 2011 at 2:35 অপরাহ্ন

  6. রিপন দা, জানি না কতটুকু পেরেছি, সমালোচক আর বিজ্ঞ পাঠকই তা বলতে পারেন। তবে চেষ্টা থাকে সবসময় ভিন্ন কিছু করার। ব্যক্তিজীবনেও এর প্রভাব পড়ছে যথেষ্ট। সমাজ ও সংসার থেকে দূরে সরে যাচ্ছি ক্রমশ। শুধু হাতে একতারাটা নিতে বাকি। একটাই তো জীবন, জানা হলো না অনেক কিছুই। জানতে-চিনতেই বেশিরভাগ সময় পার হয়ে যায়। তাই তো মানুষ ভজি, দু-আঙুলের ফাঁক গলিয়ে সময়ের চলে যাওয়া দেখি, মনুষ্যসৃষ্ট স্তরের ভিত কতটা পাগলপ্রবণ হতে পারে তা পরখ করি মাত্র।
    ….
    একই তো জল; একেক রঙের পাত্রে একেক রূপ ধারণ করে মাত্র, যদিও জল স্বতন্ত্ররঙের ধারক, পরিবেশই এখানে মুখ্য (শেষ লাইনে যার প্রকাশ)।
    ….
    আপনার আগমনে সন্তুষ্ট আমি। প্রীতিসহ সাধুবাদ জানবেন।
    শান্তি।

    রাজন্য রুহানি
    নভেম্বর 6, 2011 at 8:39 পূর্বাহ্ন

  7. হা হা … ডাক্তার বৈ কি । কিন্তু রোগী না দেখে চিকিত্‍সা দেই না ।
    তবে এটুকু লিখি দিতে পারি আপনি পাগল না । আপনার insight নিঃখুঁত , নিজের কষ্টগুলো ধরতে পারেন এটাই তো আমার প্রমাণ , আপনার যা হচ্ছে তা হচ্ছে পেসিমিজম আর এটা কবিদের ধর্ম , আপনি নাস্তিক হলেও এই ধর্মটায় ঠিকিই আটকা পড়ে আছেন ! এতো সাজিয়ে কথা বলার পরেও পাগল হন তবে তো পাগলের সঙ্গাই পালটে যাবে । একটা টিপস শিখাই এটাকে বলা হয় সিরায়াল সেভেন টেস্ট আমি নিজেও করি মাঝেমাঝে যখন এটেনশান কসেনট্রেশান একটু জড়তা আসে তা সহজে চেক করা যায় , দুটা পদ্ধতি আছে ১টা হলো ১০০ থেকে ৭ কমিয়ে কমিয়ে গণা যেমন ১০০ , ৯৩ , ৮৬ , ৭৯ …
    আরেকটা শুক্রবার বৃহস্পতি বুধ মঙ্গল

    … বুঝুন তবে এটুকু গুণে কষ্ট হতে হলে আরো কতো পাগলামি শিখতে হবে ।

    আপনি ভালো মানুষ ভালো কবি ভালোটুকুই খুঁজুন না কেন ?

    imrul.kaes@ovi.com'

    শৈবাল
    নভেম্বর 6, 2011 at 8:59 পূর্বাহ্ন

    • প্রোফাইল পিক দেখে অবশেষে অন্তরে ধারণ করলাম আপনার চেহারা। কবিতার মতোই। আনচান করে উঠলো মন। থ্যাঙ্কু, কবি।
      …..
      আপনার পরামর্শ মনে থাকবে আমরণ। ভালোটুকুই তো খুঁজতে বেড়িয়ে পড়ি দিগ্বিদিক, ডুব দিই মনগহনে। তবু…।

      যাক, কবিতা শোনাই। নব্বই দশকের কবি আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ’র। কবিতার নাম “ফুলকে”।

      সব সুন্দর প্রকাশ করে আছে ফুল; যেনো শবগাড়ি
      আমাকে বহন করে নিয়ে যাবে আগুনের নিচে
      আগুন-গান্ধর্ব প্রথা, জীবন্ত মানবদেহ-চিতা আমার জন্মদিনে!
      অর্থাৎ এই ফুল দৃশ্যে আমি শব, নিরালোকের পথিক হয়ে যাই
      আর মরলোকের বাসিন্দা হয়ে যাই।

      সে জলের পুচ্ছে পুচ্ছে থাকে আর পাতালের আলোগুলো খায়
      যেদিন সে প্রকাশিত নাঙা চরাচরে, আমি তখন অবশ বালুকণিকায়
      ধীরে ধীরে সে আমাকে স্পর্শ করে চোখগুলো চায়
      আমি তখন বধির জলগন্ধে— জলপরীর ডানায়।

      জন্মে জন্মে যে গীত করেছি আমি— শবগাড়ি করে
      নিয়ে যাবে এই ফুল— অর্থাৎ পাললিক জৈবস্তর এই দেহভার,
      তবু আজ রাতে মৃতের প্রার্থনাগীতে ফোটে এই ফুল
      পাপড়ি প্রকাশ ক’রে বলে সকল জীবের কথা
      জীবে অ-জীবে এই ফুল জন্ম এবং পতনের গাথা।

      আরেকটি নব্বই দশকের কবি সাদি তাইফ এর ‘আত্মহনন’ কবিতা:

      সমৃদ্ধ ফুলবাগনের খুব বেশি দূরে থাকে না মৌচাক,
      এই তো নিয়ম; নিয়মানুযায়ী, কোন মানব শিশুর
      জন্মোৎসবে ভাবি— একদা কাফন এই দোলনার পূর্ণতা দেবে।
      জানি, কোন অলিখিত নিয়মে,
      জোয়ার-ভাটা হয় নদী ও নারীতে।
      দ্বীপের অংকুর নদীর শরীরে এলে, ঝর্না থেমে যায়, থামাই উচিত;
      এই রীতি নারীর ক্ষেত্রেও সম্পূর্ণ নির্ভুল। তাও জানি।
      এভাবেই অভিজ্ঞতার আঁতশী কাঁচে
      উঠতি মুলো পত্তনেই চিনে ফেলি ঠিক।
      বিদেহী আত্মায় বিশ্বাসহীন, এ আমি বুঝে যাই
      নিজস্ব নিয়তি নিজেরই হাতের পুতুল।

      তবু, ভরদুপুরে জোড় শালিক দেখে খুশি হতে ইচ্ছে করে খুব,
      মাঝে মাঝে অহেতুক বিশ্বাস জন্মায় :
      আত্মহনন আত্মার জন্য বেশ উপকারী।

      রাজন্য রুহানি
      নভেম্বর 6, 2011 at 9:42 পূর্বাহ্ন

      • ঠিক আছে ধারণ করেছেন কেমন দেখা যাবে ! কখনো যদি দেখা হয় তখন চিনলেই বুঝবো , মনে আছি ।

        ছবিটা কেন দিয়েছি আবার সরিয়েছি জানি না …

        imrul.kaes@ovi.com'

        শৈবাল
        নভেম্বর 6, 2011 at 10:37 পূর্বাহ্ন

      • ছবিটা ভালো লাগছিল না তাই পালটাতে চাইছি , পালটাচ্ছে না কেন !

        কবিতাদুটোর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ

        imrul.kaes@ovi.com'

        শৈবাল
        নভেম্বর 6, 2011 at 11:12 পূর্বাহ্ন

  8. বাহ!

  9. শুভেচ্ছা।

    bonhishikha2r@yahoo.com'

    বহ্নিশিখা
    নভেম্বর 16, 2011 at 8:46 পূর্বাহ্ন

  10. ধন্যবাদ।

    রাজন্য রুহানি
    নভেম্বর 19, 2011 at 4:57 পূর্বাহ্ন

মন্তব্য করুন