আমেরিকান চলচ্চিত্র উৎসবে পাঁচটি পুরস্কার পেল বাংলাদেশী ছবি ‘এ ড্রপ অব লাভ’

বিষয়: : চলচ্চিত্র,বিনোদন |

18_binodonউত্তর আমেরিকায় বাঙালি তথা দক্ষিণ এশীয়দের অনবদ্য প্রেম কাহিনী এবং সেখানে হাজার বছরের ঐতিহ্যমণ্ডিত বাঙালি সংস্কৃতির প্রভাব উজ্জ্বল হয়ে ওঠার একটি ছবি গত মার্চে ‘আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল’-এ পাঁচটি পুরস্কার জিতে নিয়েছে। কানাডা প্রবাসী তরুণ নির্মাতা গোলাম মোস্তফার লেখা এবং তারই পরিচালনায় নির্মিত এ ছবির নাম হচ্ছে ‘এ ড্রপ অব লাভ।’ সেরা কাহিনী, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনয়, বেস্ট এনিমেটর, বেস্ট এনিমেশন ফিচার- এই পাঁচটি পুরস্কার জিতে নিয়ে ওই উৎসবে অংশগ্রহণকারী অন্যদের কাঁপিয়ে দিয়েছে এ ছবিটি। উল্লেখ্য, গত ১৭ জানুয়ারি ঢাকায় জাঁকজমকের সাথে ‘এ ড্রপ অব লাভ’র ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়াম অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এতগুলো পুরস্কার অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় গোলাম মোস্তফা জানান, অনাড়ম্বর কাহিনী, গল্পের নিপুণ গাঁথুনি, মন মাতানো গান এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত এনিমেশন দিয়ে ছায়াছবিটিকে অলংকৃত করা হয়েছে। নির্মাতা গোলাম মুস্তফা আশা করছেন, তার এই ছবিটি পশ্চিমী সংস্কৃতিতে দক্ষিণ এশীয় চিত্রনির্মাতাদের জন্য নতুন দুয়ার খুলে দেবে। গত ২০ ও ২১ মার্চ শিকাগোতে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে শতাধিক দেশ থেকে তিন শতাধিক ছবি অংশ নেয় বলে জানান গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, তবে অতিশয় দুঃখের ব্যাপার যে, আমি নিজে উপস্থিত হতে পারিনি ওই উৎসবে। এ জন্য আয়োজকেরা সব অ্যাওয়ার্ড আমার কাছে পাঠিয়েছেন। ওই উৎসবে অংশ নেয়া অনেক পরিচালক ফোন ও ই-মেইলে আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
গল্পটির মূলে রয়েছেন, জো-এক শ্বেতাঙ্গ ইউনিভার্সিটি ছাত্র, যে ঘটনাক্রমে এক গ্রীষ্মের দিনে টরন্টোর স্কারবরোর এক অপূর্ব প্রাকৃতিক পরিবেশে আফরিন নামে দক্ষিণ এশীয় তথা বাংলাদেশী তরুণীর অনুরক্ত হয়ে পড়ে। জো’র সাথে কথোপকথনের সূত্র ধরে আফরিন প্রবেশ করেন এক স্বল্পস্থায়ী স্বপ্নময় জগতে। কিন্তু সেই সংলাপের সমাপ্তিতে জো’র জন্য অপেক্ষা করে থাকে এক বিশাল চমক।
১০টি মন মাতানো গান রয়েছে এতে। দুর্দান্ত যন্ত্রসঙ্গীত, সুরেলা কণ্ঠ, হৃদয় কাড়া লিরিক যে কারো ভালো লাগবে। বার্কলি, ম্যানহাটন এবং লন্ডন মিউজিক স্কুল, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান এবং কিউনি থেকে প্রশিণপ্রাপ্ত প্রতিভাবান সঙ্গীতশিল্পীদের দেড় বছরের পরিশ্রমের ফসল এই ছবির সাউন্ড ট্র্যাকের সিডি শিগগিরই নর্থ আমেরিকায় মুক্তি দেয়া হবে বলে জানান পরিচালক মোস্তফা। উল্লেখ্য, কয়েকটি গানের প্রেরণা এসেছে রবীন্দ্র এবং নজরুলসঙ্গীত থেকে। মুস্তফা আশা করছেন, তার এই প্রচেষ্টা পশ্চিম এবং পূর্বে সমানভাবে নজর কাড়বে।
সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্ক থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে এমএস করেন পরিচালক মোস্তফা। যেখানে তিনি ক্রিয়েটিভ রাইটিং, ভিজুয়াল কমিউনিকেশন মিডিয়া, কম্পিউটার এনিমেশন, কম্পিউটার মিউজিক, ফিল্ম মেকিং, ফিল্ম এডিটিং এবং ভিজুয়াল ইফেক্টেও পড়াশোনা করেন , যার ফসল ‘এ ড্রপ অব লাভ’। বর্তমানে মুস্তফা পেশায় ‘ব্যাঞ্জাই সলিউশন’ নামে নর্থ আমেরিকায় সুপ্রতিষ্ঠিত একটি আইটি কনসালটিং কোম্পানির পরিচালক হিসেবে আরো তিনটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ছায়াছবির কাজ করছেন তিনি। এগুলো হচ্ছে ‘৩৬০ ডিগ্রি’, ‘তার আমেরিকান স্বপ্ন’, এবং ‘যে ঘাস বেড়ে উঠে’।

khalid2008@gmail.com'
আমার জামায় আঁকা চাঁদ, আমার রক্তে যায় ডুবে, আমার নামেতে সেজে সূর্য, আমারই রক্ত থেকে উঠে আসে পূবে, সকল সফল মৃত শুয়ে আছে, পিঠে নিয়ে বরফের চাঁই, আমি মুখ ফিরিয়ে চলে যাই।
শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।

মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে। Login