দুটি দেশের পতাকা

Filed under: আলোচনা,মাতৃভূমি |

আজ একটি দেশের গল্প বলি। না বাংলাদেশ না, ভিন্ন একটি দেশ। সেই দেশটির চমৎকার, সুন্দর একটি পতাকা আছে। সেই দেশের পতাকাটি আকাশ থেকে ধরে আনা ‘তারা’ দিয়ে বানানো। শুধু তাই না, সেখানে আকাশের সুন্দর ‘চাঁদ’ কে বসিয়ে সৌন্দর্যকে আরও হাজারগুন বাড়িয়ে ফেলা হয়েছে। পতাকাটি দেখতে তাই ভয়াবহ সুন্দর লাগে!

সেই দেশের কিছু মজার মজার ঘটনাও(!) আছে! যেমন:

১. সেই দেশের মানুষগুলা একবার একটি নিরপরাধ ভুখন্ডের উপর ঝাপিয়ে পড়ে দুই লাখ মেয়েদেরকে ধর্ষন করে ফেলে। সেই ধর্ষনগুলো তারা সেক্সের “অরগাজম” পাওয়ার জন্য করে নাই! করেছিল তাদের জারজ সন্তানগুলো দিয়ে ওই ভুখন্ডটাকে ভরিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে। তাদের জীনগুলোকে ওই জায়গায় স্টাবলিশ করার উদ্দেশ্যে!

২. নয় মাসের কাছাকাছি সময়ে তারা প্রায় হেরে যাচ্ছিল। ১৬ ই ডিসেম্বর হয়তো পরাজয় মেনেই নিতে হবে, এরকম অবস্থা। তাদের মাথায় একটি অভিনব আইডিয়া খেলে গেলে! ওই ভুখন্ডের ‘মাজা’ টা ভেঙ্গে ফেললে কেমন হয়? যাতে তারা কোনদিন আর দাড়াতে না পারে! যেই ভাবা সেই কাজ। তারা একরাতেই হাজার মেধাবী সন্তানদের ধরে ধরে এনে ব্রাশফায়ার করে ফেলে দিল।

৩. মার্চের ২৫ তারিখ কাউকে না জানিয়ে ঝাপিয়ে পড়ার পড়েছিল তারা। কিন্তু দিনের আলোয় নয় কেন? কারন এতে বেড়াচেড়া হতে পারে। রাতের বেলাই তো ভাল! ঘুমন্ত মানুষের উপর ঝাপিয়ে পড়ে নিরিবিলি মানুষ মেরে ফেলা যাবে ইজিলি!! তারা সেই ইজ ওয়েতে ত্রিশ লাখ মানুষ মেরে ফেলে নয় মাসে।

৪. প্রায় ৭ কোটি মানুষকে জোর করে উর্দু শিখিয়ে ফেলাতে চেয়েছিল তারা। রাজি হয়নি বলে মিছিলের মধ্যে ব্রাশফায়ার করে দিয়েছিল নির্বিচারে।

এরকম শত শত ঘটনা আছে এই দেশটিকে নিয়ে। সেই ‘বালের’ দেশটির নাম ফাকিস্থান। যাদের গর্ব করার মত এরকম অনেক অনেক বিভৎস (!) ইতিহাস আছে।

– এবার আরেকটি দেশের গল্প বলি। সেই দেশের পতাকাটি আকাশ থেকে ধরে আনা তারা দিয়ে বানানো নয়! সেখানে “ঈদের চাদকে” বসিয়েও সৌন্দর্য বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়নি। সেই দেশের পতাকাটি সবুজ ঘাসের মধ্যে একটি বড় বৃত্ত দিয়ে বানানো। সেই বৃত্তটি মানুষের রক্ত দিয়ে রাঙ্গানো, তাজা রক্ত। সেই রক্তের তাজা গন্ধ এখনো পতাকা শুকলে পাওয়া যায়। রক্ত মানে নৃশংসতা। নৃশংসতা কখনও সুন্দর হতে পারে না বলে, এই পতাকাটিও তাই তাদের কাছে তাড়াখচিত পতাকাটির মত সুন্দর না।

কিন্তু উপরের দেশটির মত এই দেশেরও কিছু কিছু ঘটনা আছে:

১. একাত্তর সালে এই ভুখন্ডটি গামছা মাথায় দেওয়া পোলাপাইনদের দিইয়ে যুদ্ধ করিয়ে ভুখন্ডটিকে একটি ‘সার্বভৌম দেশ’ বানিয়ে ফেলেছে। ছোটখাট একটি ভুখন্ড, গরীব গরীব মানুষ। কিন্তু সেই গরীব গরীব মানুষগুলোর বড় বড় ‘তেজ’। আমেরিকার রনতরী, ইউরোপের চোখরাঙ্গানী, কিছুকেই পাত্তা টাত্তা দেয়নি তারা। জোর করে ঠিকই একটি লাল-সবুজ পতাকা বানিয়ে ফেলা হয়েছে, না খেয়ে, না ঘুমিয়ে।

২. আজ ৪২ বছর পর। ২০১৩ সাল। আরেকটা যুদ্ধ লাগে! আলবদর বিচার যুদ্ধ। ছোট ছোট পোলাপাইনদের সাথে আবারও বড় বড় নরপিশাচদের যুদ্ধ। এখানেও আমেরিকা চোখ লাগায়, ইউরোপ চোখ রাঙ্গায়, জাতিসংঘ বাধ সাজে। তাতেও কিছু হয়না, এক রাতেই এই দেশের এক শেখের বেটি আইনের স্বচ্ছতা আবার ঘেটে-ঘুটে দেখে নিয়ে রায়টা কার্যকর করে ফেলে। বুকের পাঠা উপর করে তুলে ধরে আবারও সবাই।

৩. যেই রাজাকার শকুনগুলোর জন্য লক্ষ শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা মৃত্যুর পরে কবরও পায় নি তাকে (কাদের মোল্লা) এই দেশ তার মাটিতেই কবর দিয়ার মহানুভবতা দেখিয়েছে।

-সেই দেশটির নাম ‘বাংলাদেশ’। আমাদের প্রাণের দেশ। আজ সেই দেশটির বিজয় দিবস। সেই বিজয় দিবসে পতাকার এক লড়াইয়ে আজ আমরা আবারও সেই দেশকে হারিয়ে দিয়ে গড়ে তুলি এক বিশ্ব রেকর্ড!! স্যালুট সকল তেজী বাংলাদেশীকে। স্যালুট লাখো তরুণ কমরেডকে, স্যালুট সাত বীরশ্রেষ্ঠকে!

বিজয় দিবেসের শুভেচ্ছা! —

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।

One Response to দুটি দেশের পতাকা

  1. ধন্যবাদ

    riton1975@gmail.com'

    জাহিদুল কবির রিটন
    ডিসেম্বর 28, 2013 at 7:58 পূর্বাহ্ন

মন্তব্য করুন