আবহমান ছবির একটি দৃশ্যে রিয়া সেন

 আজিজুল

বাংলা ছবি “আবহমান”- সমালোচনা

বাংলা ছবি “আবহমান”- সমালোচনা
Decrease Font Size Increase Font Size Text Size Print This Page

মাত্রই বাংলা ছবি “আবহমান” দেখা শেষ করলাম। আমি চলচ্চিত্র বোদ্ধা নই।তাই বলে নিজের মতামত অন্যের সাথে বিনিময় করার সুযোগ হাতছাড়া করবই বা কেন!

‘আবহমান’ ছবিতে লেখক আসলে যা বোঝাতে চেয়েছেন- সেভাবে ছবিখানি দেখলে মনে হবে, ছবির অন্তনিহিত তাৎপয’ আছে বৈ কি-যাকে আমি চপোটাঘাতের সাথে তুলনা করেছি আমার লেখার মধ্যে। তার আগে জেনে নেয়া যাক গল্পের সংক্ষিপ্ত অংশটিঃ

” অনিকেত একজন উচুদরের ও নামকরা ফিল্মমেকার। এককালের এক অভিনেত্রী দীপ্তিকে নিজের ছবিতে নিতে গিয়ে প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন-যার পরিনাম বিয়ে। সেসময় সে ছবি আর তিনি শেষ করতে পারেননি। কালের প্রাবাহে তার সংসারে ‘অপ্রতিম’ এর জন্ম হয়। তাদের সংসার বেশ সুখেই কাটছিলো।
ছবির প্লট মোড় নেয় যখন অনিকেতের এক ছবিতে অডিশন করতে আসে ‘শিখা’ নামের এক অভিনেত্রীর মাঝে যৌবনের দীপ্তিকে খুজে ফিরেন। দীপ্তির মনে সন্দেহ জাগে। এক সময় মনে হতে থাকে অনিকেত বুঝি শিখার সাথে অবৈধ প্রেমে পড়েছে।
দীপ্তির এই সন্দেহ অনিকেতের বেচে থাকার শেষ দিন পর্যন্ত থেকে যায়।”

গল্পের ‘সমালোচনা’ এখানেই…

আসলে অনিকেত নিজের জীবনের ছবিকে করূন পরিনতিতে নিয়ে যাবার দায় অস্বীকার করতে পারেননি। উপরন্তু তিনি তার স্ত্রী ও পুত্রের মাঝে তার সম্পকে’র ভুল ভাঙ্গাননি কখনোই। একে দুঃখবিলাস বললে ভুল বলা হবেনা।

আবহমান ছবির একটি দৃশ্যে রিয়া সেন

ছবির ক্রমানুসারে অসংগতিসমূহঃ

১। অনিকেতের মতন একজন ছবি নির্মাতার ব্যক্তিজীবনে ঝড়ঝঞ্ঝা ও টানাপোড়ানে আর্ট খুজে পাওয়াটা এবং তাকেই প্রতিবাদবিহীন করুন পরিনাম ভোগ করার ক্ষেত্রটি বেশ অপরিনত।

২। অনিকেত ফিল্ম বানাতে গিয়ে এক মুহূর্তের একখানা ছবিতে শিখাকে এমন আঙ্গিকে দেখেন- যা তিনি দীপ্তির মাঝেও খুজে পাননি। একে দীপ্তি তার নিজের অক্ষমতা ভেবে ভুল করেছিলেন বৈকি।

৩। অনিকেত এর পুত্র অপ্রতিম তার বাবা-মা এর মধ্যেকার টানাপোড়ান এক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনে গল্প আকারে প্রকাশ করে। বিপত্তি বাধে এখানেও। যে অনিকেত শিখার প্রতি দুর্বলতা (প্রেম নয়) রেখেছিলেন, সেই শিখা যখন প্রকাশিত স্ক্যান্ডাল সইতে না পেরে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছিল, অনিকেত এতে বিন্দুমাত্র বাধা দেয়নি। দশা এমন যেন- “রোম যখন পুড়ছিলো, নিরো তখন বাশি বাজাচ্ছিল”। কিছুটা অবাস্তব মনে হয়েছে এই অংশে।

সর্বশেষঃ এ সপ্তাহের ছুটির রাতে ছবিটা দেখে নিতে পারেন।

ট্রেইলর

আবহমান ছবির লিঙ্কপেইজ
http://www.youtube.com/watch?v=c83wiVLGBt8&feature=related

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।


6 Responses to বাংলা ছবি “আবহমান”- সমালোচনা

  1. snmhoque@yahoo.com'
    আজিজুল সেপ্টেম্বর 19, 2010 at 5:38 পূর্বাহ্ন

    আমার কেন যেন মনে হচ্ছে- আমার কথাগুলো হয়তো পরিচালকের দৃষ্টিকোন থেকে মিলছেনা। এ আমার অজ্ঞতা :(

  2. snmhoque@yahoo.com'
    আজিজুল সেপ্টেম্বর 19, 2010 at 6:50 পূর্বাহ্ন

    আমিও এখবটি জানবার পর পরি ছবিটা দেখতে বসেছিলাম :)

  3. সুবীর কর সেপ্টেম্বর 19, 2010 at 9:18 পূর্বাহ্ন

    ছবিটি দেখার আগ্রহ জাগল।
    শুভকামনা।

  4. রাজন্য রুহানি সেপ্টেম্বর 19, 2010 at 10:52 পূর্বাহ্ন

    আগে ছবিটি দেখি ভাই, পরে শেযার করবো।

  5. রাজন্য রুহানি সেপ্টেম্বর 19, 2010 at 11:08 পূর্বাহ্ন

    আগে ছবিটি দেখে নিই। পরে শেয়ার করবো।

  6. মামদো ভুত সেপ্টেম্বর 20, 2010 at 3:31 অপরাহ্ন

    আজিজ ছবিটি গত মাসে দেখেছিলঅম। হৃতুপর্ণ ভিন্ন ধারার ডিরেক্টর। ভালো লাগে উনার সৃষ্টি। তবে এটা বেস্ট হডেছে জানতাম না।

You must be logged in to post a comment Login