বহ্নিশিখা

নারী : পুরুষালি বৃত্তের বন্দিনী

Decrease Font Size Increase Font Size Text Size Print This Page

‘জাগো নারী জাগো বহ্নিশিখা’। নজরুলের এই বাক্যের সাথে একাত্মতা পোষণ করে বলতে চাই- নারীরাই সভ্যতার মূলমন্ত্র। সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকেই পুরুষের সার্বিক সহযোগিতায় যেমন নারীরা জলাঞ্জলি দিয়েছে জীবনের মুহূর্তমদির সময়, তেমনি কট্টর পুরুষালি মানসিকতার বলয় ভেঙে হাতে তুলে নিয়েছে জীবনমানের হাতিয়ার। পুরুষের পাশাপাশিই বরাবর থাকতে চেয়েছে নারীরা, ভালোবাসা-মমতাসহ আর্থিক উন্নয়নে পারস্পরিক সহমর্মিতায়। কিন্তু এই সহমর্মিতা-ভালোবাসা উপেক্ষা করে নারীকে ঘরকুণো করা হয়েছে কেবলমাত্র পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার কারণে। প্রকৃতিপ্রদত্ত শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই শক্তি-জুলুম প্রয়োগ হয়েছে নারীর মানসিকতার উপর। বাধ্য করা হয়েছে পুরুষের অনুগত থাকবার। কেননা- নারীরা বাইরের পৃথিবীর সাথে পরিচিত হবার ফলে ভালোমন্দ বুঝার ক্ষমতা অর্জিত হলেই যত বিপত্তি। মিথ্যা ছলাকলা, ভেল্কিবাজি আর নাটকীয় সাংসারিক মনোবৃত্তি যেসব পুরুষের, তাদের তো যুক্তি ধোপে ঠিকবে না। জগতে চলতে হলে সমান অধিকারে চলা আবশ্যক, এই নীতিকে যদি প্রাধান্য দেওয়া হয় তবে কর্তৃত্ব ফলাতে ব্যর্থ হবে পুরুষ। ক্ষমতাও হবে খর্ব।
যা হোক, বাংলা ব্লগগুলিতে আমি ছিলাম নীরব পাঠিকা। কখনো মনে হয় নি আমার লেখার দরকার আছে যশমান লেখককুলদের মাঝে। তারাই নারীদের সমস্যা নিয়ে ইতিবাচক কিছু লিখবেন। অথচ অবস্থা তথৈবচ। যেসব লেখক নারীজাতির অগ্রগতির পথে সমুহবাধা নিয়ে আলোচনা করবেন তারা হয়তো কেউ পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার, কিছু লেখিকা পুরুষদের চাটুকার। আর যারা আছেন তাদের দমিয়ে রাখা হয়েছে নানা ঠুনকো অজুহাত দাঁড় করিয়ে। তাই ইচ্ছে হলো কিছু কথা বলার। কেননা- আমার অধিকার আমিই বুঝে না নিলে কেউই যেচে ঘরে এসে দিয়ে যাবে না। কেননা- আমরা পুরুষালি বলয়ে আবদ্ধ অসহায় পরিণতির লিঙ্গ। এই অসহায়ত্ব জোর করে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে নারীর মনন ও মগজে।
মোট কথা অতীত থেকেই নারীকে তার সঠিক ও ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে ধর্মীয়-সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে। ধর্ম তো নারীকে সঠিক নির্দেশনা দেয়ই নি, উপরন্তু সম-অধিকার এবং ন্যায্য পাওনা থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে হাস্যকর কায়দা-কানুনে। পারলৌকিক ভয় দেখিয়ে স্বামীসেবাই নারীর মহান ব্রত বলে বর্ণিত হয়েছে সব ধর্মেই। কিন্তু ঘুরিয়ে-প্যাচিয়ে উহ্য রাখা হয়েছে স্ত্রীসেবা কথাটি।
সমস্যাসঙ্কুল এই পৃথিবীতে পুরুষের পাশিপাশি নারীরাও আজ সরব অনেকটা তোতাপাখির মতো। সভ্যতার বিকাশে বর্তমান বিশ্বে নারীর অবদানও কম নয়। কিছু ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়েও এগিয়ে আছে এই নারী। তবুও কোনো নারীই বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না যে, পুরুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের মতো আমার প্রাপ্যটুকুও যথেষ্ট।
এরকম হাজারো সমস্যা আছে নারীর অগ্রগতির সামনে বড় বাধা সরূপ। পরে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার আশা আছে। অনেকের হয়তো ইতোমধ্যেই গাত্রদহন শুরু হয়েছে। হয়তো পেরে উঠতে না পারলে কেউ অক্ষম আক্রোশে বলবেন আরেক তসলিমার উদয় হয়েছে— বাংলা ছাড়। তবু করার কিছু নেই। যদি কারো জ্বালায় আমি জ্বলি সে আগুনে তাকেও পোড়াতে দোষ কোথায়?

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।


58 Responses to নারী : পুরুষালি বৃত্তের বন্দিনী

  1. রাজন্য রুহানি সেপ্টেম্বর 20, 2010 at 8:57 পূর্বাহ্ন

    কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমার দ্বিমত আছে।

    নারীরাও নারীর অগ্রগতির পিছনে বাধা। যুগ যুগ ধরে বয়ে আনা সংস্কার, দর্মীয় অনুজ্ঞা, সামাজিক দায়ভারে অসামর্থ্যতা এমনকি সাংসারিক বলয়ে নিজেকে ব্যাপৃত করার মানসিকতা তৈরি করেছে নারীরাই। হ্যাঁ, মানছি পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নারীর প্রাধান্য অনুপস্থিত। কিন্তু ম্যাডাম, অধিকার তো কউ কাউকে দেয় না আদায় করে নিতে হয়। অতীত থেকেই এ বিষয়ে নিরুৎসাহিত ছিল নারীর মানসিকতা।
    আরো আছে…

    লেখা আগুনের শিখার মতোই দাউাদউ করছে।
    :yes:

    • মামদো ভুত সেপ্টেম্বর 20, 2010 at 3:33 অপরাহ্ন

      :yes: :yes: :yes: :yes: :yes: :yes:

      • bonhishikha2r@yahoo.com'
        বহ্নিশিখা সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 12:52 পূর্বাহ্ন

        একবার নিভৃতে নিজের মনকে জিজ্ঞেস করুন, উত্তর পেয়ে যাবেন, যদি না কট্টর পুরুষালি মানসিকতার না হোন।

    • মামদো ভুত সেপ্টেম্বর 20, 2010 at 3:34 অপরাহ্ন

      যদি কারো জ্বালায় আমি জ্বলি সে আগুনে তাকেও পোড়াতে দোষ কোথায়?

      :yes: :yes:

    • bonhishikha2r@yahoo.com'
      বহ্নিশিখা সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 12:50 পূর্বাহ্ন

      রাজন্য, আপনার দ্বিমতগুলি আমিও মানছি। কিন্তু যে নারী জীবনের সবকিছুই জলাঞ্জলি দিল স্বামী-সংসারের ভালোবাসায়, তার প্রতি পুরুষের কি কোনোই কর্তব্য নেই? তার চিন্তা-চেতনাকে ডাইভার্ট করে একটি বলয়ে আবদ্ধ রেখেছে কারা— এই পুরুষরাই।
      হ্যাঁ, একজন শুধু দিয়ে গেল; আনন্দ-ভোগ-বিলাস— অপরজন শুধুই নিয়ে যাবে? প্রতিদানে কি দিয়েছেন নারীদের? সান্ত্বনা?

      • রাজন্য রুহানি সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 4:37 পূর্বাহ্ন

        হ্যাঁ, একজন শুধু দিয়ে গেল; আনন্দ-ভোগ-বিলাস— অপরজন শুধুই নিয়ে যাবে? প্রতিদানে কি দিয়েছেন নারীদের? সান্ত্বনা?

        বোনডি, এত তীর্যক কথার বিকিরণে আসল কথাটাই হারিয়ে ফেলেছি। নজরুলের আরেকটি কথা এখানে বিবেচ্য— এ বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি, চির কল্যাণকর
        অর্ধেক তার গড়িয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।

        এখানে নারী-পুরুষ সমান; কোনো বৈষম্য নেই। জগতের উন্নতি ও অগ্রগতির পিছনে দুজনেরই সমান অবদান।

        নারীদের ঘরকুনো করা হয়েছে প্রচলিত সংস্কার ও ধর্মীয় সমাজ ব্যবস্থার কারণেই। কেননা- বাইরের জগত এবং নিজস্ব জগতের মধ্যে তখন পার্থক্য ছিল, যখন জ্ঞান ছিল সীমাবদ্ধ। এ রীতিনীতির বাইরে আসা তাদের জন্য ছিল চরম অবজ্ঞা এবং তাদের অনীহাও এখানে যথেষ্ট দায়ী।

        বেগম রোকেয়াদের মতো নারীরা এসব সংস্কারের চোখে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নারীজাতির কল্যাণে কাজ করেছেন, তখনও নারীদের মধ্যে বিবেধ ছিল, বোঝার মানসিকতার অভাব ছিল।

        নারী ও পুরুষ পরস্পরের পরিপূরক। ভালোবাসা-সান্ত্বনা-আনন্দ পারস্পরিক আবেগেই মূর্ত হয়। একার পক্ষে তা সম্ভব নয়।

        আমি পুরুষ হিসেবে স্বীকার করছি, এখনো নারীদের মানসিকভাবে সাবলম্বী ও সংস্কারমুক্ত করতে পারি নি ঠিক; তবে কালের দাবি অনুযায়ী নারীরাই এখন জোর কদমে এগিয়ে যাচ্ছে অনেকটা হিংসার চোখে এবং অধিকাংশেই ঘোরের মধ্যে। পুরুষদের চটিয়ে নারীরা একক সাফল্য ভোগ করতে পারবে না কিছুতেই যেহেতু সমাজ-সভ্যতা-ধর্ম-রাষ্ট্র পুরুষদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে। যোগ্যতা ও অধিকার এখানে ম্লান।

        গোটা নারীজাতি যদি পুরুষদের মতো জ্ঞানে-গুণে-শিক্ষা-দীক্ষায় সমকক্ষ হতে পারে, নারী জাগরণ যদি বিপ্লবে রূপ নেয় তবে নারী অবহেলার পাত্রী থাকবে না, সম-অধিকার ছিনতাই করতে হবে না এমনকি তাদের হা-পিত্যেষও থাকবে না আর।

        ভালো থাকবেন। আরো সুন্দর লেখার প্রতীক্ষায় রইলাম।

        • bonhishikha2r@yahoo.com'
          বহ্নিশিখা সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 2:11 অপরাহ্ন

          গোটা নারীজাতি যদি পুরুষদের মতো জ্ঞানে-গুণে-শিক্ষা-দীক্ষায় সমকক্ষ হতে পারে, নারী জাগরণ যদি বিপ্লবে রূপ নেয় তবে নারী অবহেলার পাত্রী থাকবে না, সম-অধিকার ছিনতাই করতে হবে না এমনকি তাদের হা-পিত্যেষও থাকবে না আর।

          নিজের মতো করে বললেন নাকি সর্বজনীন নিরীক্ষার আলোকে, বুঝলাম না। এই বিপ্লবের পিছনেই তো যত ক্যারিশমা পুরুষের। আপনারা মা’র জন্যও কাঁদবেন আবার শুঁটকির বোঁঝাও বাধবেন, দুদিকেই থাকবেন?!

          • রাজন্য রুহানি সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 3:27 অপরাহ্ন

            যদি মা’র জন্য কেঁদেও শুঁটকির বোঁঝা বাঁধা যায় তবে লোকসান কিসে? এমতাবস্থায় পুরুষরাই তো চালাক। জগতের প্রত্যেক প্রাণীই তো নিজ-স্বার্থ সমুন্নত রাখে।

    • shahed36th@gmail.com'
      শাহেদুজ্জামান লিংকন মে 20, 2011 at 5:53 অপরাহ্ন

      হাছা কথা কইছেন ।

  2. juliansiddiqi@gmail.com'
    জুলিয়ান সিদ্দিকী সেপ্টেম্বর 20, 2010 at 5:21 অপরাহ্ন

    :yes: :yes: :yes:
    আমার গ্রাত্রদাহ বেশিই হচ্ছে এ কারণে যে, নারীই নিজের জন্য বড় সমস্যা।
    আমি মনে করি নারী কী চায়, কী তার অধিকার তা স্পষ্ট করে বলতে শিখুক। উপেক্ষা করতে শিখুক রাঙাচোখ। আবেগের চেয়ে যুক্তিই যেন নারীর প্রধান হাতিয়ার হয়।

    ভষ্যিতের আলোচনা ফের কবে?

    • মামদো ভুত সেপ্টেম্বর 20, 2010 at 11:39 অপরাহ্ন

      সহমত পোষন করলাম।

      • bonhishikha2r@yahoo.com'
        বহ্নিশিখা সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 1:09 পূর্বাহ্ন

        নিজের মত কোথায় ভাই? এই তো সমস্যা— নিজের মতো করে ভাবতে শিখলে স্বতন্ত্রতা থাকে।

        কষ্ট করে পড়েছেন, সেজন্য কৃতজ্ঞতা।

    • bonhishikha2r@yahoo.com'
      বহ্নিশিখা সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 1:06 পূর্বাহ্ন

      জুলিয়ান, যদি আপনার সন্তান থাকে তবে স্পষ্ট লক্ষ্য রাখবেন যে, সে কাদের কাছ থেকে শিখছে, কোন পরিবেশে বড় হচ্ছে, কি তাকে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এটা তো মানবেন, যাকে যেভাবে গড়ে তোলা হবে অধিকাংশ হারেই সে সেভাবে গড়ে উঠবে।
      পুরুষরা যেহেতু প্রকৃতিগতভাবেই শক্তিশালী, সেহেতু অতীত থেকেই তার উপর জোর-জুলুম করে জেনেটিকভাবে তার বিকাশ অবরুদ্ধ করেছে পুরুষেরাই।

      আর, মানুষের আবেগ কখন জন্মায়, একটু ভেবে দেখবেন।

      আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

    • রাজন্য রুহানি সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 1:26 অপরাহ্ন

      নারী কী চায়, কী তার অধিকার তা স্পষ্ট করে বলতে শিখুক। উপেক্ষা করতে শিখুক রাঙাচোখ। আবেগের চেয়ে যুক্তিই যেন নারীর প্রধান হাতিয়ার হয়।

      =D>

    • bonhishikha2r@yahoo.com'
      বহ্নিশিখা সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 2:13 অপরাহ্ন

      জুলিয়ান, “ধর্মের যাঁতাকলে নারী” শিরোনামে লিখবো শিগগিরই।

  3. bonhishikha2r@yahoo.com'
    বহ্নিশিখা সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 12:58 পূর্বাহ্ন

    হ্যাঁ, ঈশ্বর শুধু শক্তি-সামর্থ্যবানদেরই। দুর্বল লোকের ঈশ্বর তো সবলেরা— এই রকমই তো দেখছি প্রকৃতিতে। শ্রেণি-সংগ্রামও একই ঘরানার জাগতিক শোষণ।

    বাকি ক্ষেত্রগুলোকে অবরুদ্ধ রেখেছে তো পুরুষেরাই। রুদ্ধদ্বারগুলো অবমুক্ত করে দেখুন, নারীরা তার যোগ্যতার প্রমাণ দেবে ঠিকই।

    লেখা গতানুগতিক হলেও কি চরম সত্য নয়? জানি, স্বীকার করতে লজ্জা হবে।

  4. me2chow@hotmail.com'
    প্রহরী সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 2:47 পূর্বাহ্ন

    নারী’রা আসলে কি চায়? সেটা কি নারীও ভালো করে জানে? নারী পুরুষের চাওয়া পাওয়ার এই দন্ধ সত্যি হাস্যকর। আবাহমান কাল থেকেই আমাদের মন ও মননে গেথে আছে এর শিকড়। অথচ আমরা কেউ বুঝতে চাই না, দু’জনেই স্ব স্ব অবস্থানে আপন মহিমায় উদ্ভাসিত। পুরুষ যদি সুর্য হয় নারী হলো চাঁদ। সুর্যের আলোতে যেমন থাকে প্রখরতা চাঁদের আলোতে তেমনি আছে স্নিগ্ধতা। সুর্যের আলোতে পৃথিবী যখন ছাড়খার, চাঁদের কমল আলোয় তখন পৃথিবী পায় নতূন প্রাণের ছোয়া। সুর্যের প্রখরতা মানুষকে জ্বলতে শিখায়, অপরদিকে চাঁদের স্নিগ্ধতা মানুষকে ভালোবাসতে শিখায়। এখন চাঁদ যদি দাবী করে তার আলোও সুর্য’এর মত প্রখর হতে হবে তাহলে কি চাঁদের তথা নারীর জন্ম স্বার্থক হবে? নারীর স্বার্থকতা সম্মান ও ভালোবাসায়। ভালোবাসার চেয়ে অধিক মর্যাদা পৃথিবীতে আর কি হতে পারে? ফুলের জন্ম হয় ভালোবাসা পাবার জন্যে, পায়ের নীচে পিস্ট হবার জন্যে নয়। মূলতঃ নারী ও পুরুষ প্রকৃতির এ পিঠ ওপিঠ।

    • bonhishikha2r@yahoo.com'
      বহ্নিশিখা সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 11:21 পূর্বাহ্ন

      নারীরাও যে মানুষ এটা আগে ভাবা উচিৎ। তারা আর ৮/১০টা মানুষের মতোই অধিকার নিয়ে বাঁচতে চায়।

      নারীরা যদি মানুষ হয় তাহলে জগতের দাবি অনুসারে তাদেরও ন্যায়সঙ্গত প্রাপ্যতা আছে, নাকি নেই?

      আপনি সুন্দর উপমা দিয়েছেন। চাঁদ এবং সূর্য। প্রকৃতির সৃষ্টিবৈষম্য-রূপরেখা। কিন্তু জানেন কি, সূর্যের আলোর বিকিরণই চাঁদের উজ্জ্বলতার সৌন্দর্য? অথচ, বাস্তবতার নিরিখে নারীরা তা কিন্তু নয়। ধর্ম বলেছে, পুরুষের বাম অস্থির হাড় দিয়ে নারী তৈরি। এই ধর্মান্ধতা প্রায় সবার মাঝেই বিরাজমান।

      আপনি আরো অনেক উপমা দিয়েছেন যা বাস্তবিক সত্য নয়। একবার চাঁদ, একবার ফুল ইত্যাদি। তাহলে এই চাঁদ-ফুল কার জন্যে, পুরুষের। আমি যদি একই কথাকে উল্টিয়ে বলি?

      মানবিক সত্ত্বাকে জাগিয়ে নারীকে মানুষ ভাবতে শেখাটাই এখন জরুরি। জাগতিকভাবে তারাও সমান অংশীদার প্রাণিবাচক সংজ্ঞায়।

      মূলতঃ নারী ও পুরুষ প্রকৃতির এ পিঠ ওপিঠ।

      এটাই যদি সত্য হয় তাহলে পৃথিবীতে কেন এই বৈষম্য, কেন নারীরা আজও অবহেলিত, কেনো এই নৈরাজ্য?

      • me2chow@hotmail.com'
        প্রহরী সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 10:03 অপরাহ্ন

        চাঁদ এবং সূর্য। প্রকৃতির সৃষ্টিবৈষম্য-রূপরেখা। কিন্তু জানেন কি, সূর্যের আলোর বিকিরণই চাঁদের উজ্জ্বলতার সৌন্দর্য?

        এই ধ্রুব সত্যটিকে আপনার মেনে নিতে এত সংকোচ কেন?

        • bonhishikha2r@yahoo.com'
          বহ্নিশিখা সেপ্টেম্বর 22, 2010 at 11:21 পূর্বাহ্ন

          এই সত্যটি আমি মানি। আপনি মানেন। কিন্তু সূর্য-চাঁদের উপমা নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে খাটে না। কেননা- ওই উপমায় চাঁদ, সূর্যের ধার করা আলোতে উজ্জ্বলতা পায়, নতুবা চাঁদের কোনো মূল্যই থাকেনা। সূর্য ছাড়া চাঁদ অচল, চাঁদ ছাড়া সূর্যর কর্মকান্ডে কোনোই সমস্যা নেই। নারী-পুরুষের বেলায় তা খাটে না ভাই।

          আপনি কি বোঝাতে চাচ্ছেন, পুরুষ ছাড়া নারী অচল?

          না ভাই, একজন আরেকজনের পরিপূরক— এই সত্যটি মানেন না কেন? যদি পরিপূরকই হয় তাহলে ছোট-বড়র কোনো প্রশ্নই থাকা চলে না।

          অপরদিকে,
          নারী-পুরুষের বেলায় নারীই সয়ম্ভু। যেমন পৃথিবীর মাটি না থাকলে প্রকৃতির জন্ম-বিকাশ-অস্তিত্বের কোনোই দাম থাকত না।

          আশা করি, বুঝতে কোনো অসুবিধা হবার কথা নয়।

  5. রাজন্য রুহানি সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 4:43 পূর্বাহ্ন

    কথা অতীব সত্য।

  6. snmhoque@yahoo.com'
    আজিজুল সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 4:44 পূর্বাহ্ন

    জালা পোড়ার অংশটিতে সহমত প্রকাশ করতে পারলাম না বলে দূঃখিত। আমি কম্পিটিশনে বিশাসী নই- বরং কোঅপারেশন এ বিশাসী।নারীরা আমাদের শত্রু আগে থেকেই ভেবে বসলে জীবনটা জটিল হয়ে যাবে বৈ কি

    • bonhishikha2r@yahoo.com'
      বহ্নিশিখা সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 11:37 পূর্বাহ্ন

      সুন্দর কথা বলেছেন। বাস্তবে অনেক দেখেছি— স্বামী মুক্তমনা, কেউ নারী আন্দোলনের সঙ্গেও জড়িত, স্বাধীনা নারীর প্রসংসায় পঞ্চমুখ অথচ নিজের স্ত্রীর বেলায় তা উল্টো।

      • রাজন্য রুহানি সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 1:28 অপরাহ্ন

        ~x(

        • bonhishikha2r@yahoo.com'
          বহ্নিশিখা সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 2:05 অপরাহ্ন

          হুমমমমমমম। সত্যটা বললেই মাথার চুল ছেড়ার অবস্থা! হায়রে পুরুষ!! কতটাই সে বেহুঁশ!!!
          8->

      • snmhoque@yahoo.com'
        আজিজুল সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 6:13 অপরাহ্ন

        সহমত পোষন করছি। সাথে এও বলছি- আমাদের মায়েরা নিজের মেয়েকে লিমিটেশন নামক একখানা বস্তু শিখায়। আপনার মধ্যেও ব্যাপারটি আছে বলে কষ্ট পেলাম। শারীরিক অক্ষমতার জন্যে যতটা না জীনোটাইপ দায়ী- তার চেয়ে বেশী দায়ী-আগে থেকে মেয়েদের এ ধারনা মনের মাঝে রাখা ও খেলাধুলা এবং এক্সেসাইজ না করা। উল্লেখ্য, শাবিপ্রবি তে মেয়েদের কুংফু শেখানো হচ্ছে-নিয়মিত সকালে-বিকালে ছোট মেয়েদের মুক্ত বাতাসে হাটাচলা ও খেলাধূলা-সাইকেল চালানোতে অভ্যস্ত করাতে হবে। মুক্ত বাতাস ও শারীরিক সাম্যতাকে আম্লে নিলে পরে কাজটা বেশ সহজ হয়ে যাবে(অন্তত এ ক্ষেত্রে আমার কাছে আমার আশেপাশের আধ ডজন উদাহরন আছে বলেই কথাগুলো আওয়াজ মেরে বললাম :) )।

        • bonhishikha2r@yahoo.com'
          বহ্নিশিখা সেপ্টেম্বর 22, 2010 at 11:35 পূর্বাহ্ন

          ভাই, কেন মায়েরা নিজের মেয়েকে লিমিটেশন শেখায়; পুরুষশাসিত সমাজে নইলে মেয়েদের যে আরো অধঃগতি হবে।

          পুরুষদের মন ও মানসিকতা যত বিকশিত হবে, সহমর্মিতা যত প্রবল হবে, মানবিক সত্তার যত উন্নয়ন হবে ততই মেয়েদের লিমিটেশন দূর হবে।

          আপনি যত রাতেই বাড়ি ফিরুন, যেখানে খুশিইচ্ছে যান, তেমন কোনো জবাবদিহিতা বা সমাজের ভ্রুকুটি থাকে না। অথচ, আপনার স্ত্রী-মেয়ের ক্ষেত্রে এই ধারা বইতে দেবেন, না সমাজ ভালো চোখে দেখবে? কেননা- কর্তা-শাসক আপনারা। আপনাদের মত ও সিদ্ধান্তের বাইরে গেলেই যত বিপত্তি।

          আরেকটি বিষয়ই ধরুন, পতিতা কাদের জন্যে— কারা বানায়? পতিতার কেন লিঙ্গান্তর নেই? একজন পুরুষ অন্য আরেকটি মেয়েকে ভোগ করলে সে-মেয়েটি হয় পতিতা। আর সে-পুরুষটি? হয় সাধু, সমাজপতি ইত্যাদি। আপনাদের কত রকমের খেয়াল!!!

          • snmhoque@yahoo.com'
            আজিজুল সেপ্টেম্বর 23, 2010 at 3:39 পূর্বাহ্ন

            আপনি আমার কথার বাকা মানে ধরেছেন বলেই প্রতীয়মান। আপনার কথাগুলো ঠিক ও প্রতিষ্ঠিত সত্য। কিন্তু আমি ঠিক বুঝলাম না আমার কোন কথায় আপনি এই রিপ্লাইখানি দিলেন :-S ! সেযাহোক- অযুত ধন্যবাদ নতুন পয়েণ্টটি তুলে আনবার জন্যে।

            • bonhishikha2r@yahoo.com'
              বহ্নিশিখা সেপ্টেম্বর 23, 2010 at 3:50 পূর্বাহ্ন

              না ভাই, আপনার কথার বাঁকা মানে ধরি নি। আপনার যুক্তিই প্রাধান্য রেখে উত্তর দিয়েছি। যেটা আপনি আপনাকে বলেছি বলে ভেবেছেন, সেটাও তা নয়। কথাগুলো সবার উদ্দেশ্যেই বলা।

              আপনার মঙ্গল হোক।

  7. me2chow@hotmail.com'
    প্রহরী সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 6:47 পূর্বাহ্ন

    তাহলে সমতা আসছে কি করে?

    ভাই কোন কোন ক্ষেত্রে সমতা চাচ্ছেন? আমারতো মনে হয় নারীরা অনেক ক্ষেত্রেই পুরুষদের চেয়েও এগিয়ে আছে। আমাদের দেশের কথাই ধরেন, সেখানে তো দুইজন নারীর পিছনে ১৬ কোটি মানুষ দৌঁড়াচ্ছে? :-)
    যাই হোক আমি একটা কথাই বুঝি যারা পারে না তারা অন্যের উপর দোষ দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ডাকতে চায়। আর যারা পারে তারা শত প্রতিকুলতার মাঝেও নিজের জায়গা করে নেয়। যারা বলেন “নারী : পুরুষালি বৃত্তের বন্দিনী” তাদেরকে আমি বেগম রোকেয়ার কথা স্মরন করিয়ে দিতে চাই । শুধু বেগম রোকেয়াই নন, এরকম আরো ভুরি ভুরি উদাহরণ দুনিয়াতে বর্তমান………

  8. bonhishikha2r@yahoo.com'
    বহ্নিশিখা সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 11:32 পূর্বাহ্ন

    না। অতীতে পেশীশক্তির যখন দাপট ছিল তখন নাহয় নিগৃহীত ছিল নারীরা। এখন তো বুদ্ধিমত্তার যুগ। এই যুগেও কেনো অতীতের মতো বর্বরতা।

    দু-একজন নারীর সফলতা কিন্তু গোটা নারীজাতির সফলতা নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক বিবেচনায় আনলে দেখবেন, নারীরা আজও কত অসহায়। মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠির মধ্যে এটা আরো প্রকট।

    সঙ্গী যদি সমানে সমান তাল মেলাতে ব্যর্থ হয় তখন ছন্দপতন ঘটেনা কি? আর এই ছন্দপতনের কারণ খুঁজে শোধরানোর কোনো দায় কি নেই পুরুষের? যদি নাই থাকে তাহলে পুরুষকে সুবিধাভোগী ও স্বার্থপরের তালিকায় ফেললে আমার মনে হয় অত্যুক্তি হবে না।

  9. bonhishikha2r@yahoo.com'
    বহ্নিশিখা সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 11:34 পূর্বাহ্ন

    তাহলে বুঝুন অবস্থাটা।

  10. bonhishikha2r@yahoo.com'
    বহ্নিশিখা সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 11:43 পূর্বাহ্ন

    নারীকে আপনারা রান্নাঘরে পাঠিয়েছেন, সন্তান দেখভালের দায়িত্বে রেখেছেন, আরাম-আয়েশের পণ্য বানিয়েছেন, আর আপনারা দাবড়ে বেড়াচ্ছেন পৃথিবীময়। অগ্রগতি তো আপনাদেরই হবে, আমাদের মেধা-মনন বন্দিবৃত্তের বেড়াজালে আবদ্ধ হবে, এটা আর এমন কি না-বুঝার বাহানা।

  11. নীল নক্ষত্র সেপ্টেম্বর 22, 2010 at 1:46 অপরাহ্ন

    সেই দিনের অপেক্ষায় আছি-

    “নারী পুরুষে পাশাপাশি সেদিন
    বাধবে সুখের বাসর
    ধরণীতে এসেছে যারা
    সাজাতে সোনালী আসর।
    একই ধরনে বরণে গড়া
    একই হাসি কান্না
    আনন্দ বেদনা মোহ মায়া
    উভয়েই যেন উভয়েরই ছায়া
    কেহ নয় নারী কেহ পুরুষ
    সকলেই হবে মানুষ
    বিধাতার বাসনা সে দিন হবে পূর্ণ”

    দিদি, উপরের এই উক্তিটা এই অধমের একটা কবিতার অংশ। কবিতাটা এখনো এখানে পোস্ট করিনি তবে ভবিষ্যতে ইচ্ছা রইল।

    • bonhishikha2r@yahoo.com'
      বহ্নিশিখা সেপ্টেম্বর 22, 2010 at 3:18 অপরাহ্ন

      কৃতজ্ঞতার সহিত গৃহীত হইল।

      আপনার মন্তব্য মনপ্রাণে এক আশার বাণী উদ্ভাসিত করিয়া গেল।

      :rose:

  12. রাজন্য রুহানি সেপ্টেম্বর 28, 2010 at 6:32 পূর্বাহ্ন

    ওরে বাবা, এতগুলি মন্তব্য!!!
    তাও আবার বেশি মাতামতি পোস্টে শীর্ষে!!!
    এবং হটকেকেও আছে!!!

    শৈলী টুইটে বলেছিলেন,

    একটা বিষয় লক্ষ করছি, এখানে প্রত্যেকটি লেখায় কমেন্টের বড়ো অভাব। সবাই কৃপণ হয়ে গেল নাকি!

    এখন বুঝতে পারছেন যে সবাই কৃপণ নন।
    :-bd

    • bonhishikha2r@yahoo.com'
      বহ্নিশিখা সেপ্টেম্বর 29, 2010 at 10:36 পূর্বাহ্ন

      এখন বুঝতে পারছেন যে সবাই কৃপণ নন।

      হুমমমমমমমমমমম, তাই তো দেখছি।

      সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

      :bz

  13. Virgo@gmail.com'
    Shannon জানুয়ারী 27, 2011 at 3:49 পূর্বাহ্ন

    hi, what is the theme you are using?

  14. জিল্লুর রহমান জুন 15, 2011 at 6:42 পূর্বাহ্ন

    আপনার লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়েছি। আপনার নামের লোগোটাতে যেমন দাউ দাউ করে জ্বলছে তেমনি নারী হওয়ার বঞ্চনার আগুন আপনার হৃদয়ে জ্বলছে। লিখুন ভালো হচ্ছে। এগিয়ে যান। নারীদের প্রতি সামাজিক বঞ্চনার প্রতিবাদ করুন। অনেক অনেক ধন্যবাদ। এবার আমার কারো ব্লগে না যাওয়ার কলংক ঘুচেছে তো। আপনাকে ধন্যবাদ।

  15. bonhishikha2r@yahoo.com'
    বহ্নিশিখা সেপ্টেম্বর 26, 2011 at 8:21 পূর্বাহ্ন

    ধন্যবাদ আপনাকেও।

  16. nilufer_nazrul@yahoo.com'
    নিঝুম সেপ্টেম্বর 26, 2011 at 11:04 পূর্বাহ্ন

    :)>- :)>-

  17. Khn.Rubell@gmail.com'
    খন্দকার নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর 26, 2011 at 11:59 পূর্বাহ্ন

    আমি আসলে একদম সরলীকরণের পক্ষে না আর সেটা বাস্তবসম্মতও না। আশা রাখি সামনে সামনে লেখিকা ব্যাপারটা ভেবে দেখবে। আর লেখা বেশ।

  18. bonhishikha2r@yahoo.com'
    বহ্নিশিখা সেপ্টেম্বর 26, 2011 at 5:10 অপরাহ্ন

    ধন্যবাদ।

You must be logged in to post a comment Login