আমি আজ অনেকটাই বদলে গেছি, প্রভু

Filed under: কথাশৈলী,স্যাটায়ার |

ডিসক্লেইমার: শুদ্ধ বানান খুঁজে পাওয়াটা দুরহ কাজ হতে পারে!!!
————————————————————————-

গভীর রাত। ঘুম আসছে না। হাতে কফির মগ নিয়ে জানালার ধারে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছি, ক্যাসেট প্লেয়ারে হালাকা ভলিউমে চয়নের গান বাজছে,

“মন তোমারে খুঁজে বেড়াই, বসে নিরালায়, যাইও না যাইও না অবেলায়”।

বাইরে প্রবল স্নো পড়ছে। তাকিয়ে আছি আকাশের দিকে। বেশ মোটা চাঁদ উঠেছে আজ। তবু আকাশ কেমন যেন গুমোট ছায়ায় ঢাকা। বড় থালার মত চাঁদ উঠলে স্নো ঢাকা আকাশ ছাড়িয়ে এমন মুহুর্তে চাঁদ যতটুকু মায়াবী সৌ্ন্দর্য, পাগলকাড়া রূপের ডালি আকাশের গায়ে ঢেলে দেওয়ার কথা, ততটুকু এই পোড়ার দেশের রুক্ষ চাঁদ কখনই দেয় না। তাই আমার নিজ দেশের মত ভরা পূর্ণিমায় এখন আর ছুটে চলে যাই না ছাদে, অবাক চোখ নিয়ে তাকিয়ে থাকি না এখন আর, ভাল লাগে না। মুহুর্তে মনে পড়ে যায় সেই সময়ের কথা, যে সময়ে রাতের পর রাত অপেক্ষায় থাকতাম, চান্দি পসরের সেই মায়াবী আলোয় স্নান করবার, যে আলো সারা শরীরে মাখিয়ে দিয়ে যায় এক নতুন উন্মাদনার প্রলেপ, এক গভীর ভাললাগার স্পন্দন।

কিন্তু আমার এই মনে পড়া, ক্ষনিকের জন্য, বেশিরভাগই বাইরের জগতকে আমার আলগা কবি-হৃদয় দেখানোর জন্য। আমি এখন পুরোদস্তুর যান্ত্রিক মানুষ হয়ে গেছি। হৃদয়ের চারপাশে এক লৌহ নির্মিত আবরণের ব্যাড়াক দিয়ে দিযেছি। সেই ব্যাড়াক পেরিয়ে স্থায়ীভাবে এখন আর কোন মূছর্নার রস বেশিক্ষন টিকে থাকতে পারে না, এই রিকন্ডিশান হৃদয়ে!

তাই প্রভুকে বলি,

হে প্রভু,
আমি আজ বদলে গেছি!!
আমি আর স্বপ্ন দেখি না, সবুজ ধানের তপ্ত মেঠো আল দিয়ে চপল পায়ে খামোখাই হেটে বেড়ানোর।আমি স্বপ্ন দেখি না, আকাঁবাকাঁ ছোট্ট খালের পাড়ে বসে পড়ন্ত বিকেলে বড়শী দিয়ে মাছ ধরার। এ গেঁয়ো দেশ ভাল লাগে না আর। আমি আজ স্বপ্ন দেখি, ফিটফাট বাবু হয়ে সাজানো ঝকঝকে রাস্তা ধরে যান্ত্রিক স্থলযানের পিঠে চড়ার! অথবা সুনসান নীরবতার কোন আকাশযানে গা এলিয়ে দেওয়ার।

আমি আর স্বপ্ন দেখি না, নরেন বাবুর কাঠাঁল বাগান থেকে সন্ধ্যায় সবার অগোচরে লুকিয়ে লুকিয়ে কাঠাঁল খাওয়ার, অথবা স্কুলের পাঠ শেষে শিমুলবাগান দিয়ে আসার সময় উত্তরপাড়ার অমিতের বাসার চালে ঢিল ছুড়ে মারার। আমি আজ স্বপ্ন দেখি, ভদ্রতার লেবাশ পড়ে স্যুটেড বাবুদের আড্ডায় দিয়ে আধুনিক বিলাশীতার রকমারী আহার গলাধকরন করার।

আজ তাই তো বাজানের ধানী জমির বদলে আমি কিনি বিদ্যার ডাল (শিক্ষা), জোৎস্নার আলো গায়ে পড়ার চেয়ে পড়ি নীল ব্লেজার গাউন; শুকনো পাতা পড়ার শব্দের বদলে শুনি মদের বোতল খোলার মাদকতার ধ্বনি!

আমি আর স্বপ্ন দেখি না, দুরের মানশ্রী বিলে গিয়ে শাপলা আর সজনে ডাটার ফুল তোলার, অথবা গভীর জঙ্গলের মাধবীলতা গাছের চূড়াঁয় বসে থাকা কাকতাড়ুঁয়া পাখিকে ফাদঁ পেতে ধরে ফেলার! আমি আজ স্বপ্ন দেখি, কেউ দরদ দেখালে আবেগবিবর্জিত “ধন্যবাদ” বলার; নিজের অজান্তে কারো অশ্রু ঝড়ালে, তাকে ভাবলেশহীন গলায় “sorry” বলার। যে sorry -তে না থাকুক, ভেতরের ছটফটানো আবেগ। কিন্তু সেখানে তো আছে, এক অন্যরকম শব্দশুশ্রী, আছে তো ভদ্রতার এক ভিন্নরকম শিষ্ঠতা। সেই তো বেশ!!

আমি এখন আর বাঙ্গালী নই! আমার আর ভাল লাগে না, ম্লান উচ্ছলতায় শীরশীরে উদাস চোখ দুটির তপ্ত ধূসর উঠোনপানে কিছুক্ষন নিরিবিলি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার, সন্ধ্যামালতী গাছের গায়ে দেলান দিয়ে বসে বর্নীল সূর্যাস্ত দেখার, ভালবাসার পঙ্খিরাজে উড়ে বেড়ানোর, অথবা মায়াবী কিশোরীর মায়াভরা মুখ কল্পনায় সুতায় বুনার। গ্রামের কিশোরী মেয়ের প্রেমাতুর চাহনী, আমাকে এখন আর আন্দোলিত করে তুলে না। আমার আজ ভাল লাগে, স্বল্পবসনা নারীর সাথে প্রথম দেখাতেই গরম বিছানায় নিয়ে যাওয়ার, ভাল লাগে যখন ইচ্ছা তার গর্ভে বেড়ে উঠা বাড়তি ঝামেলা সার্জন ডেকে সূচ দিয়ে খুচিয়ে মাটিতে মিশিয়ে ফেলার!

শান্ত পাকানো ছোট্ট নদীর পানির কলকলানি গান আর এখন ভাল পাই না। আমার আজ ভাল লাগে, শাকিরার ম্যাটাল মনমাতোনো ক্লাসিকে কান পাতার। আরও ভালো লাগে না, আকাশ কালো করে ঘনিয়ে আসা দামাল বাতাসের কালবৈশাখী ঝড় অথবা সেই ঝড়ো বাতাসে অনাবৃত শরীর এলিয়ে দেওয়ার, বরং ভাল লাগে স্ফটিক জানালার কাঁচের ধারে নিরাপদে বসে মৃদু শুভ্র স্নো পড়া দেখার।

কোন ভুতুরে রাত্রিতে ঠাকুরের কোলে বসে ঠাকুরমার ঝুলি শোনার আজ আর আমার স্বপ্নে জাগে না. অথবা জাগে না মায়ের কোলে বসে আনারস আর শীতলী পিঠা থাওয়ার। বরং স্বপ্নে জাগে, ম্যাকডোনাল্ডের ক্যাবিনে বসে কোকসমেত বার্গার চিবানোর। অথবা টিম হর্তনের দামী কফির পেয়ালায় আরামসে আলতো চুমুক দেওয়ার।

আমি এখন শহুরে আদলে গড়া অন্য এক পরিপূর্ণ মানুষ। আমি এখন শুধু স্বপ্ন দেখি ক্রিস্লার সিভিক গাড়ি কিনে বড় রাস্তায় চড়িয়ে নেওয়ার, স্বপ্ন দেখি দুতলা ফাউন্ডেশনের শুভ্রসাদা এক বাড়ি কেনার।পেছনে ভুলে গেছি কুঁড়ে ঘরে পচে মরা আমার বাবার জীবনভর লড়াইয়ের হাহাকার। অথবা মমতাময়ী মায়ের শাসনভরা চোখেরাঙ্গানী আর আমাকে নিত্য সুন্দরের মাঝে আড়াল করে রাখা দিনগুলির আকুতি।………. এই তো!

আমি আজ অনেকটাই বদলে গেছি প্রভু। অনেকটাই।

খুব কি অন্যায় করে ফেলছি প্রভু!

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।

27 Responses to আমি আজ অনেকটাই বদলে গেছি, প্রভু

  1. (*) (*) (*) (*) (*) (*) (*) (*) (*) (*)
    দারুন কথাশৈলীতে আত্মঅভিমান।শুনেছিলাম আপনি কবিতা লেখেন না কিন্তু কিছু লাইনে কবিতার আমেজ বা আবেশ বেশভালো ভাবেই চলে এসেছে।
    খুব ভালো লাগল।বদলে যাচ্ছি প্রতিটি মানুষই সভ্যতায় মেকি বিলাশিতায় লোভে শুধু ধরণটা আলাদা।এই লেখাটা সবাইকেই ছুয়ে যাবে।কি বলব ? :-bd

    rabeyarobbani@yahoo.com'

    রাবেয়া রব্বানি
    মার্চ 13, 2011 at 6:21 পূর্বাহ্ন

    • এত তারা রাহি কোন হানে…!!!!!!! :yes:

      রিপন কুমার দে
      মার্চ 13, 2011 at 7:21 পূর্বাহ্ন

      • অনেক ধন্যবাদ প্রিয কবি

        রিপন কুমার দে
        মার্চ 13, 2011 at 7:23 পূর্বাহ্ন

        • প্রিয় কবি শুনে লজ্জা পাইছি। :”>
          আপনার এই পোষ্টতো এক্সক্লুসিভ হওয়ার কথা।ফেসবুক লাইক আর ভিউ তো প্রচুর।
          আপনার এই পোষ্টের কল্যানে এই গানটা শুনলাম।
          মন তোমারে খুজে বেড়ায়।
          অসাধারণ।
          দারুন।

          rabeyarobbani@yahoo.com'

          রাবেয়া রব্বানি
          মার্চ 14, 2011 at 5:36 পূর্বাহ্ন

          • রাবেয়া ম্যাম, “একলা” গল্পটি পরিসরে বড় করবেন এই আবেদন থাকল।

            “মন তোমারে খুজে বেড়ায়”-এই গানটি আমার অসম্ভব প্রিয একটা গান। কদিন ধরে অবিরত শুনেই যাচ্ছি। আপনারও ভাল লেগেছে শুনে খুব ভাল লাগল।

            আর পোস্টে অনেক ফেইসবুক লাইক পড়েছে তা সত্য, আমার ফেইসবুক মেসেজেও অনেকে তাদের ভাল লাগা জানালেন। সবার এত ভাল লাগবে আগে বুঝিনি।

            রিপন কুমার দে
            মার্চ 16, 2011 at 2:33 পূর্বাহ্ন

  2. অসাধারণ আবেগভরা এক ইউনিক অভিব্যক্তি। আমি মুগ্ধ। সবচেয়ে ভাল লাগা লাইন:

    আমি এখন শুধু স্বপ্ন দেখি ক্রিস্লার সিভিক গাড়ি কিনে বড় রাস্তায় চড়িয়ে নেওয়ার, স্বপ্ন দেখি দুতলা ফাউন্ডেশনের বাড়ি কেনার।ভুলে গেছি কুঁড়ে ঘরে পচে মরা আমার বাবার জীবনভর লড়াইয়ের হাহাকার। অথবা মায়ের শাসনভরা চোখে আমাকে নিত্য আড়াল করে রাখা দিনগুলির কথা।………. এই তো!

    সবশেষে শত উত্তম ঝাজা।

    khalid2008@gmail.com'

    শাহেন শাহ
    মার্চ 13, 2011 at 6:25 পূর্বাহ্ন

  3. বারবার শ্রদ্ধায় ঝুঁকে যাই , প্রবাস কথনগুলোতে । বিভুঁই কুয়াশায় জমা এই কষ্টগুলো সহজেই কেমন বৈশাখ হয়ে ক্রোশ ক্রোশ উড়ে নীল অতল , রক্ষীত সীমানা , কাটাতার , ফৌজী চোখ এড়িয়ে খুব এলোমেলো করে আমাদের । স্যালুট জানাই এই দেশপ্রেম এই ভালোবাসা , এখনো যারা প্রবাসে থেকে বাংলায় লিখে বাংলার লিখা লিখে ।

    প্রিয় শহীদ কাদরী থেকে পড়ি


    জুঁই চামেলি চন্দ্রমল্লিকা কিংবা কাঠগোলাপ থেকে
    টিউলিপ ম্যাগনোলিয়া অথবা ক্রিসেনথিমামে
    নিজস্ব শহর থেকে অচেনা ফুটপাতে
    এশিয়ার আকাশে ময়ূর নীল থেকে
    কুয়াশাচ্ছন্ন পাশ্চাত্যে
    না কোন নির্বাসনই
    কাম্য নয়
    আর ।

    পোকামাকড়ের গুঞ্জনে ভরা
    তলোয়ারের মতন দীপ্তমান বৈশাখ থেকে
    শিকারী কুকুরের মতো শীত হাওয়ার চিত্‍কারে
    এই নির্বাসন কাম্য নয় আর ।
    [কোন নির্বাসনই কাম্য নয় আর / শহীদ কাদরী ]

    ভালো থেকো দাদা ।

    imrul.kaes@ovi.com'

    শৈবাল
    মার্চ 13, 2011 at 1:47 অপরাহ্ন

    • প্রিয় শৈবাল,

      অযুত কৃতজ্ঞতা তোমায়।

      এর নাম দেয়া যায়”প্রবাসের প্রায়শ্চিত্ত”। প্রতিদিন ঘরে িএসে দেশের ফিরে যাওয়ার এক আদিম আকুতিবোধ করি। আমি দৃপ্ত স্বরে বলব, দেশের প্রতি ভালবাসা, সে যে কি? সে যে দেশের বাইরে আসেনি, সে কখনই সেভাবে জানবে বলে মনে হয় হয়না! মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে সব ছেড়েছুড়ে আবার চলে যাই আমার সেই খোলা মাঠে, যেখানে আমার ভাললাগার নীল আকাশ, হিমেল মৃদু হাওয়া, আর রাতের বেলার বেলাভূমির ব্যঙ্গের ডাক, আকাশ কালো করে ঘোর মেঘের তান্ডব………… এত এত সুন্দর!! এত এত ভাললাগা……… কিন্তু কোথায় যেন একটি কালো দড়ি দ্বারা এই ভীনদেশে আমাদের হাত-পা বাঁধা, সেই দড়ি এতটাই শক্ত যে, নিজের সকল আজন্ম সাধ-আহলাদ বিক্রি করে দিতে পারে, দুরে সরিয়ে রাখতে পারে নিজের সবচেয়ে আপনজন, নিজের মমতাময়ী মাকেও!!!!!!

      শহীদ কাদরীর কবিতাটি মন নাড়া দিয়ে গেল।

      রিপন কুমার দে
      মার্চ 13, 2011 at 2:17 অপরাহ্ন

      • শহীদ কাদরীর ” আমার চুম্বনগুলো পৌছেঁ দাও “বইয়ের প্রায় সবগুলো কবিতায় একই আকুতি মার্সিয়ার মতো করে কেঁদেছে , পড়ে দেখবেন কবিতাগুলো চোখে জলে এসে যাবে নির্ঘাত ।

        আচ্ছা ভালো কথা !
        আপনিও কী আমার প্র প্রীতি নিয়ে খোঁটা দিলেন , প্রবাহ প্রবণ , প্রভাত প্রত্যয়ী , প্রায়শ্চিত্ত । এখন আপনি বললেন প্রবাস প্রায়শ্চিত্ত ।বেশ বেশ ।

        নিশ্চই আপনি দেশে ফিরে আসবেন , সম্মেলনটা কেমন হলো ?

        imrul.kaes@ovi.com'

        শৈবাল
        মার্চ 13, 2011 at 2:39 অপরাহ্ন

        • তাহলে তো শহীদ কাদরীর এই বইটি সংগ্রহ করতে হয়! এবার দেশে গেলে অনেক বই নিয়ে আসতে হবে। অনেক বই ইতিমধ্যে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে!

          আর তোমার কবিতাগুলো তো অসাধারণ। সবকটি। আমাদের শৈলী অনেক প্রতিভাবান কবি পেয়েছে, এটা আমাদের অনেক বড় পাওয়া।

          তোমার প্রায়শ্চিত্ত আর এই প্রায়শ্চিত্ত এর সাথে কতটুকু মিল আছে জানি না। তবে এ প্রায়শ্চিত্ত হৃদয়ের অনেক গভীর থেকে প্রকাশ করা। যে শব্দ দিয়ে মনের ক্ষোভটা অনেকটাই বোঝাতে পারি।

          সম্মেলনটা কি বুঝলাম না? বোস্টনের (আমেরিকা) সম্মলেনের কথা বলছ? এটা জুনে হবে!

          রিপন কুমার দে
          মার্চ 13, 2011 at 2:48 অপরাহ্ন

          • হ্যাঁ তো । ওটার কথাই তো জিগ্যেস করলাম ।

            আমার কবিতা আপনার ভালো লাগে জেনে খুশি হয়েছি ।সত্যি বলতে কী শৈলীতে এসে যে একটা কবিতার ঘর পেয়েছি , আগে একটা হুঁড়োহুঁড়ি ছিলো কিছু লিখলে লোকাল পত্রিকা অফিসে নিয়ে যেতাম , এখানে সেখানে কুরিয়ার করতাম , চিঠি লিখতাম সম্পাদকদের কাছে । এখন এই দখিনা বাতায়নেই বসে থাকি । পুরনো কেউ কেউ খোঁজ করে , আর ইচ্ছে করে না হসপিটাল পড়াশোনা এতকিছু করে সেই একটা কাগজ নিয়ে সারাদিন ঘোর ঘুরি করতে ,এখন যা লিখি তাই এখানে লিখি ।

            আমার জন্য দোয়া করবেন দাদা , সত্যি সত্যিই আমি একটা ভালো কবিতা যেন লিখতে পারি ।

            imrul.kaes@ovi.com'

            শৈবাল
            মার্চ 13, 2011 at 3:05 অপরাহ্ন

            • তোমার থেকে শুধু একটা কেন? অনেক অনেক ভাল কবিতা পাব এই আস্থা আর বিশ্বাস আমাদের আছে।

              রিপন কুমার দে
              মার্চ 13, 2011 at 3:18 অপরাহ্ন

  4. বিশ্বাস করুন আপনার এই লেখাটি যেন আমারই প্রতিচ্ছবি………

  5. সত্যি অসাধারণ হয়েছে লিখাটি। আরেকটি লাইন অসম্ভব ভালো লেগেছে ভাই:

    আমার আজ ভাল লাগে, স্বল্পবসনা নারীর সাথে প্রথম দেখাতেই গরম বিছানায় নিয়ে যাওয়ার, ভাল লাগে যখন ইচ্ছা তার গর্ভে বেড়ে উঠা বাড়তি ঝামেলা সার্জন ডেকে সূচ দিয়ে খুচিয়ে মাটিতে মিশিয়ে ফেলার!

    khalid2008@gmail.com'

    শাহেন শাহ
    মার্চ 14, 2011 at 4:45 পূর্বাহ্ন

  6. নিজ ভুঁইয়েই পরবাসী;
    নিত্যিদিন কান্নাহাসি
    বিতৃষ্ণায় ভরা—
    সবখানেতেই হাহাকার,
    কী ছেড়ে কোথা যাই আর…
    এমনই কি ধরা?
    ……..
    প্রবাসের প্রায়শ্চিত্ত শেষে
    মনমাটির কাছে এসে
    ছড়াও আলো;
    তাই তো ভালো।
    ………
    আবেগঘন কথাশৈলীর জন্য বুক পেতে দিলাম। >:D<

    রাজন্য রুহানি
    মার্চ 14, 2011 at 6:12 পূর্বাহ্ন

    • অন্তরাত্মা হতে শুভকামনা!! আবেগঘন হয়ে বিপদে পড়ে গিয়েছিলাম, এই পোস্টটি লিখে উদ্ধার পেয়েছি!!!!

      ধন্যযোগ, কবিতায় কবিতায় (ভিন্নভাব) ভালবাসা জানানোর জন্য। আমি সর্বদা ভিন্নতার পুজারী!

      রিপন কুমার দে
      মার্চ 14, 2011 at 2:54 অপরাহ্ন

  7. পড়িলেম ভ্রাতা

    roy.sokal@yahoo.com'

    অরুদ্ধ সকাল
    মার্চ 14, 2011 at 3:27 অপরাহ্ন

  8. প্রভূ কহিলেন কি কিছু?
    জানিবার জাগে সাধ;
    মোটা হলো কবে শীর্ণ চাঁদ?

    • পূণিমা তিথিতে হইল, চাঁদ মোটা,
      খাইলাম আমি বলে, প্রভুর খোটা।

      প্রভু কহিলেন মোরে, কর স্বপ্ন পূরণ,
      সময় আসিলে তবে, যাইবে নিজ ভূবন।।

      রিপন কুমার দে
      মার্চ 14, 2011 at 9:32 অপরাহ্ন

  9. তুষার ঝরা রাতে ঝাপসা চাদের জোসনার মাখা মাখি যে কোন স্বর্গে নিয়ে যায় তা এখনো বুঝে উঠতে পারছি না। এমনি একটা রাতে জানালার পাশে বসে কাচের ওপাশে সারাক্ষণ চেয়ে ছিলাম বিগত ১/১/২০১০ তারিখে নিউক্যাসেলের আকাশে। কোথা দিয়ে ভোর হয়েছিল কিছুই বুঝিনি।
    চারিদিকে ঝুরঝুর তুষার আর তার সাথে বিগত দশকের সর্ব বৃহত্ পূর্ণিমা। মনে হচ্ছিল সমস্ত পৃথিবী কোন এক মায়াবী সুরে গান গেয়ে কাছে ডাকছে আয় আয় আমার কাছে আয়, আরো কাছে। সে রাতের ছবি মনে হয়ে জীবনে কোন দিন ভুলব না।

    • কথা সত্য! এদেশে তুষারদর্শন এক অনিন্দসুন্দর ব্যাপার। যে দেখে নাই তাকে এই আবহ যে কত ভয়াবহ সুন্দর হতে পারে তা কখনই ব্যাখ্যা করা যাবে না। তবে এর থেকেও বেশি সুন্দর আমার দেশের কালো করে আসা ঝুম বৃষ্টি, অথবা চান্দিপসর রাতের হিমেল হাওয়া।

      রিপন কুমার দে
      মার্চ 16, 2011 at 10:40 অপরাহ্ন

মন্তব্য করুন