শামান সাত্ত্বিক

প্রকোষ্ঠ গভীর আন্ধার

Decrease Font Size Increase Font Size Text Size Print This Page

[ নিমতলীর দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে]

লেলিহান শিখায় প্রোজ্জ্বল নিটোল ফুসফুস
লোহিত কণায় মেশে আলকাতরা তরল

মধুমাস মধু কই
বিকারহীন রৌদ্রঝিম আকাশ।
দিলে না ঋণ
ছায়াশীতল স্নিগ্ধ কাঁঠালকোণ ঘুরঘুর ঘুঘু দোয়েল কইতর।
কাঠের কয়লা খন্ড অখন্ড
সোনালী স্ফটিক আগুণকুণ্ড
জ্বলে জ্বলজ্বলে জ্বালা
গরম চিমনি নির্গম ধোঁয়া
লিচু রঙ চোখ টসটসে আম রসে ভরপুর গাল
জাম রঙ রঙিন ঠোঁট কোষ কাঁঠাল।

ভূতুড়নৃত্যে কালের কন্ঠ চেপে হাসে বিজয়বেশ পিচাশ
ঝুলন্ত কুকুর জিভ কম্পমান কালচে লোহিতে উষ্ণ উদগিরণ
ধমকে ধমকে ধমক তোলে বাদুড় ছোটে গাঢ় আঁধার
এখনও হয়নি জন্ম আমার

টপ টপ বৃষ্টি ঝরে ঝির ঝির
গজে উঠে ছাতা এখান ওধার
পরাজয় জানে না আর –
সারি সারি কাতার কাতার
দাঁড়ায় নীরবে দুয়ার –
প্রকোষ্ঠ গভীর আন্ধার।

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।


12 Responses to প্রকোষ্ঠ গভীর আন্ধার

  1. রিপন কুমার দে মে 13, 2011 at 2:45 পূর্বাহ্ন

    :rose:

  2. রাজন্য রুহানি মে 13, 2011 at 10:59 পূর্বাহ্ন

    চিন্তাশৈলীর জন্য :rose:
    .
    রোদ্রঝিম => রৌদ্রঝিম
    সোনালী => সোনালি
    উদগিরণ => উদ্‌গীরণ
    ছায়া শীতল স্নিগ্ধ কাঁঠাল কোণ => ছায়াশীতল স্নিগ্ধ কাঁঠালকোণ
    আগুণকুন্ড => অগ্নিকুণ্ড
    বিজয়বেশ পিচাশ => বিজয়বেশী পিশাচ
    রঙ => রং
    হয়নি => হয় নি ( সাধু ভাষায় হয় নাই যেহেতু পরস্পর আলাদা শব্দ, চলিত ভাষায়ও সেটি আলাদা হওয়াই বাঞ্ছনীয়। )
    ভূতুড় নৃত্যে => ভুতুরনৃত্যে অথবা ভুতুড়ে নৃত্যে
    কুকুর জিভ => কুকুরজিব অথবা কুকুর-জিব

    ….আমার মনে হয় এভাবে হলেই শুদ্ধ হতো।

    আর
    ধমকে ধমকে ধমক তোলে বাদুড় ছোটে গাঢ় আঁধার
    নাকি, থমকে থমকে দমক তোলে অথবা দমকে দমকে থমক তোলে! @-) বুঝলাম না ভাই।

    • shamanshattik@yahoo.com'
      শামান সাত্ত্বিক মে 13, 2011 at 9:06 অপরাহ্ন

      রোদ্রঝিম => রৌদ্রঝিম [ধন্যবাদ শুদ্ধ বানানের জন্য]
      সোনালী => সোনালি [দু’টো বানানই ঠিক]
      উদগিরণ => উদ্‌গীরণ [সঠিক বানান, ‘উদ্‌গিরণ’]
      ছায়া শীতল স্নিগ্ধ কাঁঠাল কোণ => ছায়াশীতল স্নিগ্ধ কাঁঠালকোণ [চমৎকার! লুফে নিলাম।]
      আগুণকুন্ড => অগ্নিকুণ্ড [‘আগুণকুন্ড’ ভাল মানাচ্ছে, ‘অগ্নিকুন্ড’, ছন্দপতন।]
      বিজয়বেশ পিচাশ => বিজয়বেশী পিশাচ [একই উত্তর। ‘বিজয়বেশ’ ভাল মানাচ্ছে, ‘বিজয়বেশী’, ছন্দপতন।]
      রঙ => রং [দু’টোই শুদ্ধ বানান]
      হয়নি => হয় নি ( সাধু ভাষায় হয় নাই যেহেতু পরস্পর আলাদা শব্দ, চলিত ভাষায়ও সেটি আলাদা হওয়াই বাঞ্ছনীয়। ) [কেন না যদি কেননা হয়ে যায়, হয়নি হতে তেমন দোষ আছে বলে মনে হয় না। এটা বড় কোন বিষয় না।]
      ভূতুড় নৃত্যে => ভুতুরনৃত্যে অথবা ভুতুড়ে নৃত্যে [‘ভূতুরনৃত্যে’ ‘র’ হবে কেন? তা জানিনা বলে আমারটাই রাখলাম। ‘ভূতুড়ে নৃত্যে ছন্দে বাধে।]
      কুকুর জিভ => কুকুরজিব অথবা কুকুর-জিব [‘কুকুরজিব’, ‘ব’ হবে কেন? জানিনা বলে আমারটাই থাকলো।]

      যাক্‌ – আমি কিছু জানলাম, আপনিও কিছু জানলেন।

      ধমকে ধমকে ধমক তোলে বাদুড় ছোটে গাঢ় আঁধার
      – এটা এমনিই রাখতে চাই। পাঠক কমিউনিকেট না করতে পারলে ব্যর্থতা আমারই বলে মনে করি।

      ধন্যবাদ, চুলচেরা দৃষ্টিভঙ্গির জন্য। উৎসাহিত হলাম।

      ভাল থাকুন।

      • রাজন্য রুহানি মে 14, 2011 at 2:29 পূর্বাহ্ন

        সোনালী => সোনালি [দু’টো বানানই ঠিক] … সোনালি প্রমিত রীতি।
        উদগিরণ => উদ্‌গীরণ [সঠিক বানান, ‘উদ্‌গিরণ’] …উদ্‌গিরণ প্রমিত রীতি, ধন্যবাদ।
        আগুণকুন্ড => অগ্নিকুণ্ড [‘আগুণকুন্ড’ ভাল মানাচ্ছে, ‘অগ্নিকুন্ড’, ছন্দপতন।] … ছন্দের খাতিরে ঠিক আছে, ব্যাকরণের নিয়মে…। আর কুন্ড ‘ণ’ দিয়ে হবে (কুণ্ড, পৃ.২৭০, ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমী)।
        বিজয়বেশ পিচাশ => বিজয়বেশী পিশাচ [একই উত্তর। ‘বিজয়বেশ’ ভাল মানাচ্ছে, ‘বিজয়বেশী’, ছন্দপতন।] … পিচাশ না হয়ে পিশাচ হবে। (পৃ. ৭৫৬, ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমী)
        রঙ => রং [দু’টোই শুদ্ধ বানান] …রং প্রমিত।
        হয়নি => হয় নি ( সাধু ভাষায় হয় নাই যেহেতু পরস্পর আলাদা শব্দ, চলিত ভাষায়ও সেটি আলাদা হওয়াই বাঞ্ছনীয়। ) [কেন না যদি কেননা হয়ে যায়, হয়নি হতে তেমন দোষ আছে বলে মনে হয় না। এটা বড় কোন বিষয় না।] … নাই, নেই, না, নি এই নঞর্থক অব্যয় পদগুলি শব্দের শেষে যুক্ত না হয়ে পৃথক থাকবে। যেমন : বলে নাই, যাই নি, পাব না, তার মা নাই, আমার ভয় নেই। তবে শব্দের পূর্বে নঞর্থক উপসর্গরূপে না উত্তরপদের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। যেমন : নারাজ, নাবালক, নাহক। অর্থ পরিস্ফুট করার জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুভূত হলে না-এর পর হাইফেন ব্যবহার করা যায়। যেমন : না-বলা বাণী, না-শোনা কথা, না-গোনা পাখি। (দ্র. পৃ. ১২২৩, ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমী)।
        ভূতুড় নৃত্যে => ভুতুরনৃত্যে অথবা ভুতুড়ে নৃত্যে [‘ভূতুরনৃত্যে’ ‘র’ হবে কেন? তা জানিনা বলে আমারটাই রাখলাম। ‘ভূতুড়ে নৃত্যে ছন্দে বাধে।] … আসলে র-টা ড়-ই হবে। টাইপে ভুল হয়েছে। ভূত দীর্ঘ ঊ-কার দিয়ে কিন্তু ভুতুড়ে হ্রস্ব উ-কার দিয়ে হবে (পৃ. ৯৩৩, ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমী)। ভুতুড়নৃত্যে একশব্দে হলে ব্যাকরণ ঠিক হয় নতুবা আলাদাভাবে ব্যবহার হলে হয় ভুতুড়ে নৃত্যে।
        কুকুর জিভ => কুকুরজিব অথবা কুকুর-জিব [‘কুকুরজিব’, ‘ব’ হবে কেন? জানিনা বলে আমারটাই থাকলো।] … অভিধানের খাতিরেই ব হবে। জিব প্রমিত রীতি। (পৃ. ৪৭২, ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমী।)

        => বানান যে কোনো এক রীতিতে লেখা বাঞ্ছনীয়।

        ভাল থাকুন।
        শুভ কামনা।
        শান্তি।

        • rabeyarobbani@yahoo.com'
          রাবেয়া রব্বানি মে 14, 2011 at 2:37 পূর্বাহ্ন

          :rose:

        • shamanshattik@yahoo.com'
          শামান সাত্ত্বিক মে 15, 2011 at 1:41 পূর্বাহ্ন

          এবার আমি আমার মনোভাবটা আপনাকে জানিয়ে যাই। আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, ব্যাকরণের কঠিন বেড়াজালে থেকে, শিল্প সৃষ্টিকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব না। আমাদের কাছে এমন কিছু উদাহরণ আছে, যেখানে কবিতায়, প্রমিত রূপের পাশাপাশি আঞ্চলিক রুপও এসেছে। আবার ভাষার চলিত রুপের মাঝে সাধু শব্দের প্রয়োগ হয়েছে। কোন কিছুই ধ্রুব নয়। সংমিশ্রণে যদি সুন্দর এবং মহৎ কিছু তৈরি হতে পারে, তবে ব্যাকরণের সীমাবদ্ধতায় নিজেকে বাধবো কেন?

          অতএব আমার কাছে ‘হয়নি’,’ পিচাশ’, ‘সোনালী’, ‘রঙ’ এসব দোষের কিছু মনে হচ্ছে না। পাশাপাশি একটা প্রশ্ন থাকলো আপনার কাছে, এসবে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে কি?

          বানান ভুলটাকে আমার কাছে গুরুতর বিরক্তিকর মনে হয়, যেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অবকাশ রয়েছে।

          তবুও ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই আপনাকে, আমার ভাবনার এবং শেখার জগৎটাকে বিস্তৃত করার জন্য।

          ভাল থাকুন।

  3. rabeyarobbani@yahoo.com'
    রাবেয়া রব্বানি মে 13, 2011 at 3:36 অপরাহ্ন

    তাল আছে কেমন যেন, রাজন্য ভাইয়ের বানান দেখে বুঝলাম যে বানান ভুল না হলে আমি নিজেই ইয়ে মানে, :-SS
    তবে কবিতাটি আলাদা লাগল।
    শুভ কামনা।

    • shamanshattik@yahoo.com'
      শামান সাত্ত্বিক মে 13, 2011 at 9:13 অপরাহ্ন

      বানান ভুল না হলে আমি নিজেই ইয়ে মানে,
      – একটু ভয় পেলাম। কিছু বলতে চেয়েছেন কি? রাজন্য রুহানি-কে দেয়া উপরের জবাবটা দেখে নিতে পারেন।

      তবে কবিতা আলাদা লাগলো বলে, আলাদা করে ধন্যবাদ।

      শুভ কামনা, আপনাকেও।

      • rabeyarobbani@yahoo.com'
        রাবেয়া রব্বানি মে 14, 2011 at 2:35 পূর্বাহ্ন

        আমি নিজেই ইয়ে মানে হলো,
        আমি নিজেই বানান ভুলের রানী।
        তাই বানানের ব্যাপারটা আমি কিছুই বুঝিনি।সেটাই বললাম।
        শুভ কামনা।

  4. sokal.roy@gmail.com'
    সকাল রয় মে 14, 2011 at 5:13 পূর্বাহ্ন

    মধুমাস মধু কই?
    বিকারহীন রৌদ্রঝিম আকাশ
    দিলে না ঋণ…………

    এই লাইনদ্বয় বুঝতে পারছিনা…………….

    রাজন্য ভাই কে শুভেচ্ছা
    আমি নিজে হলাম বানান ভুলের রাজা
    এবার বানান গুলো ঠিক করে নিতে পারবো

    ধনবাদ শামান দা

    • shamanshattik@yahoo.com'
      শামান সাত্ত্বিক মে 15, 2011 at 1:45 পূর্বাহ্ন

      আমার কবিতা আমি কাউকে বুঝাই না যে সকাল! আর যদি বুঝতে না পারেন, তবে ব্যর্থতা আমার।

      যাক্‌ – আমরা তাহলে ব্লগে বানান ভুলের রাজা এবং রাণীকে পেয়ে গেলাম, একসাথে।

      ভাল থাকুন খুব সকাল।

      শুভ কামনা।

You must be logged in to post a comment Login