শাহেদ

মানুষের হিসাব নিকাশের সময় নিকটবর্তী অথচ তারা………………..

Decrease Font Size Increase Font Size Text Size Print This Page

মানুষের হিসাব নিকাশের সময় নিকটবর্তী অথচ তারা বেখবর হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।” (সুরা আম্বিয়া, ২১ : ১)

সুতরাং যখন নির্ধারিত সময় আসবে এবং জগৎসমূহের স্রষ্টার সম্মুখে মানুষের দাঁড়ানোর সময় নিকটবর্তী হবে:

“শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে — একটিমাত্র ফুৎকার এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা উত্তোলিত হবে ও চূর্ণ বিচূর্ণ করে দেয়া হবে।” (সুরা হাক্কাহ, ৬৯ : ১৩-১৪)

তখন যা অবশ্যম্ভাবী তা ঘটবে এবং বিচার দিবস নিকটে আনা হবে এবং প্রকৃত সত্যকে প্রকাশ করা হবে এবং চূড়ান্ত ঘন্টার আগমন ধ্বনিত হবে:

“এটা তো হবে কেবল এক মহা মহানাদ। সে মুহূর্তেই তাদের সবাইকে আমার সামনে উপস্থিত করা হবে।”(সুরা ইয়াসীন, ৩৬ : ৫৩)

এবং তারা

“কবর হতে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে চলবে।” (সুরা ইয়াসীন, ৩৬ : ৫১)

দ্বিধাগ্রস্তভাবে এবং দ্রুততার সাথে, তারা বলবে:

“হায় আমাদের দুর্ভোগ! কে আমাদেরকে নিদ্রাস্থল থেকে উত্থিত করল? (তাদেরকে বলা হবে) : রহমান আল্লাহ তো এরই ওয়াদা দিয়েছিলেন এবং রাসূলগণ সত্য বলেছিলেন।” (সুরা ইয়াসীন, ৩৬ : ৫২)

“সুতরাং মৃদু গুঞ্জন ব্যতীত তুমি কিছুই শুনবে না।” (সুরা ত্বহা, ২০ : ১০৮)

তখন গলা শুকিয়ে যাবে সুতরাং

“এটা এমন দিন, যেদিন কেউ কথা বলবে না এবং কাউকে তওবা করার অনুমতি দেয়া হবে না।” (সুরা মুরসালাত, ৭৭ : ৩৫-৩৬)

এবং তাদের দৃষ্টি অবনমিত থাকবে এবং অবমাননা তাদেরকে গ্রাস করবে:

“সেই চিরজীবী চিরস্থায়ীর সামনে সব মুখমণ্ডল অবনমিত হবে এবং সে ব্যর্থ হবে যে জুলুমের বোঝা বহন করবে।” (সুরা ত্বহা, ২০ : ১১১)

এবং

“সেদিন কোন কোন মুখ উজ্জ্বল হবে আর কোন কোন মুখ হবে কালো।” (সুরা আলি ইমরান, ৩ : ১৬)

তখন মানুষ দুই দলে বিভক্ত হবে:

“একদল জান্নাতে এবং একদল জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” (সুরা আশ শূরা, ৪২ : ৭)

অতপর, দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য তাদের দুরবস্থার জন্য দুর্ভোগ এবং তাদের শেষ অবস্থার করুণ পরিণতির জন্য তাদের উপর পুনরায় দুর্ভোগ।

“আর যদি আপনি দেখেন যখন তাদেরকে প্রতিপালকের সামনে দাঁড় করানো হবে। তিনি বলবেন : এটা কি বাস্তব সত্য নয়।” (সুরা আনআম, ৬ : ৩০)

তখন তারা শুধু একথাই বলবে:

“হ্যাঁ আমাদের প্রতিপালকের কসম।” (সুরা আনআম, ৬ : ৩০)

বাস্তবিকই তারা রাসূলের ডাকে সাড়া দেয়নি, কিন্তু তারা শপথ করত (যে তারা পুনরুত্থিত হবে না) যতক্ষণ তাদেরকে না দেখানো হবে এবং তাদের বিভ্রান্তি দূর করা না হবে, সুতরাং সৃষ্টির সূচনাকারী তাদের বলবেন:

“অতএব, তোমরা আস্বাদন কর, আমি কেবল তোমাদের শাস্তিই বৃদ্ধি করব।” (সূরা নাবা, ৭৮ : ৩০)

“যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, কিয়ামতের দিন আপনি তাদের মুখ কালো দেখবেন। অহংকারীদের আবাসস্থল জাহান্নামে নয় কি?” (সুরা আ– ৩৯ : ৬০)

পুনরুত্থানে অবিশ্বাসী বস্তুবাদীরা, যারা বলত :

“আমাদের এ পার্থিব জীবনই জীবন, আমাদেরকে পুনরায় জীবিত হতে হবে না।” (সুরা আনআম, ৬ : ২৯)

অথবা যারা আল্লাহর রাসূলদের এবং তাদের আহ্বানকে বাধা দিয়েছিল, তারা শাস্তির এবং চূড়ান্ত ন্যায়বিচারের সেই দিনটিতে উপনীত, যেদিন

“কারও প্রতি জুলুম করা হবে না এবং তোমরা যা করবে, কেবল তারই প্রতিদান পাবে।” (সুরা ইয়াসীন, ৩৬ : ৫৪)

তারা তাদের চোখ, হৃদয়, কানকে সত্যের প্রতিটি আলো থেকে বিমুখ রেখেছিল। সেজন্য তাদের শাস্তি:

“আমি কেয়ামতের দিন তাদের সমবেত করব, তাদের মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায়, অন্ধ অবস্থায়, মূক অবস্থায় এবং বধির অবস্থায়। তাদের আবাসস্থল জাহান্নাম।” (সুরা বনী ইসরাইল, ১৭ : ৯৭)

তাই তাদের মধ্যে একজন বলবে :

“হে আমার পালনকর্তা, আমাকে কেন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করলেন? আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম। আল্লাহ বলবেন, এমনিভাবে তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, অতঃপর তুমি সেগুলো ভুলে গিয়েছিলে। তেমনিভাবে আজ আমি তোমাকে ভুলে যাব।” (সুরা তোয়াহা, ২০ : ১২৫-১২৬)

তাদের হৃদয় অনুতাপে ক্ষতবিক্ষত হবে যাবে এবং

“যালিম সেদিন আপন হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবে, হায় আপসোস আমি যদি রাসূলের পথ অবলম্বন করতাম! হায় আমার দুর্ভাগ্য আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম!” (সুরা ফুরকান, ২৫ : ২৭)

এবং দুনিয়ার দিনগুলো সম্পর্কে পাপীরা তখন বলবে :

“হায় আপসোস এর ব্যাপারে আমরা কতই না ত্র“টি করেছি! তারা স্বীয় স্বীয় বোঝা পৃষ্ঠে বহন করবে। শুনে রাখ, তারা যে বোঝা বহন করবে, তা নিকৃষ্টতর বোঝা। পার্থিব জীবন ক্রীড়া ও কৌতুক ব্যতীত কিছুই নয়। পরকালের আবাস মুত্তাকীদের জন্য শ্রেষ্ঠতর। তোমরা কি বোঝ না?” (সুরা আনআম, ৬ : ৩১ – ৩২)

হায় সেই দিনটি কী ভয়ংকরই না হবে এবং এর ত্রাস কতই না ভীতিপ্রদ হবে! সেই ব্যক্তিই প্রকৃতপক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত হবে, যে ঐ দিনে মুক্তি পাবে এবং সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে যার পাপ তাকে ঐদিন ধ্বংস করবে। এ ধরনের দৃষ্টান্তের ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। তাই আসুন আমরা প্রত্যাবর্তন করি এবং নিজেদের আত্মাকে প্রশ্ন করি, তাকে আল্লাহর আনুগত্যে বাধ্য করি, একে পবিত্র করে তুলি এবং উৎসাহ সহকারে একাজে আত্মনিয়োগ করি।

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।


6 Responses to মানুষের হিসাব নিকাশের সময় নিকটবর্তী অথচ তারা………………..

  1. roy.sokal@yahoo.com'
    অরুদ্ধ সকাল জুলাই 25, 2011 at 1:03 অপরাহ্ন

    বাহ্ আপনার প্রয়াস প্রানান্তে শান্তি বর্ষিত করিলো

  2. juliansiddiqi@gmail.com'
    জুলিয়ান সিদ্দিকী জুলাই 25, 2011 at 5:34 অপরাহ্ন

    হায় হায়, দুনিয়া লইয়া আমরা যে কী রূপ ব্যস্ত হইয়া পইর‍্যাইছি, হায়, সব চাইতে না-কামের লোক লেখক সম্প্রদায় যাহারা জীবদ্দশায় হাদাইয়েত প্রাপ্ত হইবে না। লানৎ তাহাদের প্রতি যাহারা ইহ যাগতিক আনন্দএ মত্ত হইয়া আছে এবং শুরু হইতে শেষ তক একটি গল্পে কেবলই মিথ্যাচার করিতে থাকে। আপনার আগমনে শয়তানের খাজাঞ্চি খানা শৈলী নিশ্চয় একদিন দেওবন্দ মাদ্রাসার চাইতে বৃহত কোনো মাদ্রাসার মুখপত্র হইবে।

    শৈলারগণ সকলে চলুন আমরা এই হুজুরের নিকট হইতে বায়াত গ্রহণ করিয়া পর জাহানের অশেষ নেকী আর ইহ জগতের শয়তানের লেজুর বৃত্তি হইতে মুক্তি লাভ করি!
    সকলে আমিন বলেন!

    • shahedups@gmail.com'
      shahedups জুলাই 26, 2011 at 12:11 অপরাহ্ন

      ভাই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আসলে আপনি অনেক জানেন। আর আমি কোন হুজুর নই। একজন সাধারন মুসলমান। আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত করতে পারে, আমি না।

  3. imrul.kaes@ovi.com'
    শৈবাল জুলাই 26, 2011 at 2:04 পূর্বাহ্ন

    আমিন !
    আমরা যা বিশ্বাস করি , ধারণ করি আর কম করে হলেও যা কল্পনা করি … আমাদের লিখা কবিতা গল্প বা উপন্যাসই হোক কখনো সবই ঐ ভাবনা থেকেই তো । তাই ধর্ম নিয়ে লিখা আসতে পারে , অধর্ম নিয়েও আসবে … শুধু শৈলীর নিয়মে , পোস্ট আর কমেন্টসগুলো উস্কানোমূলক না হলেই তো হলো ।

    অভিন্দন , আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন ।

You must be logged in to post a comment Login