মৃত্যু

Filed under: ‌কবিতা |

কখনো আমাকে আর খুঁজে পাবে না গো জীবনানন্দের এই দেশে

কায়ক্লেশে ক্লান্ত মাথার উপর চিল-কাক উড়বে সারাদিন
ধারাঋণ নিয়ে আনমনা শিস দেবে ভোরের দোয়েল কিংবা কোকিল
নিখিল রং উড়িয়ে মরুবৃক্ষেও উদ্দাম বসন্ত আসবে কভু
তবু পৃথিবীতে আমাকে তুমি পাবে না যে হায়
নাই হয়েই মুছে দেবো সন্তাপক্লিষ্ট কপালের জনমদুখী রেখা

দেখা আর চর্মচক্ষে নাইবা হলো
বলো, জৈববিষাদ কী জড়ত্বে আছে!

কাছে থেকেও দূরে চলে যাব চিরসাধ নাশ করে
থুত্থুরে স্মৃতিপেঁচা শুধু অমারাতে কাঁদবে অঝরে

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।

16 Responses to মৃত্যু

  1. জীবনানন্দের ধারায় চমৎকার একটি কবিতা… :-bd :rose:

    nilufer_nazrul@yahoo.com'

    এন এন নিঝুম
    অক্টোবর 17, 2011 at 9:45 পূর্বাহ্ন

  2. “দেখা আর চর্মচক্ষে নাইবা হলো
    বলো, জৈববিষাদ কী জড়ত্বে আছে!”

    মৃত্যু (ইংরেজি ভাষায়: Death) বলতে জীবনের সমাপ্তি বুঝায়। জীববিজ্ঞানের ভাষায় প্রাণ আছে এমন কোন জৈব পদার্থের (বা জীবের) জীবনের সমাপ্তিকে মৃত্যু বলে। অন্য কথায়, মৃত্যু হচ্ছে এমন একটি অবস্থা (state, condition) যখন সকল শারিরীক কর্মকাণ্ড যেমন শ্বসন, খাদ্য গ্রহণ, পরিচলন, ইত্যাদি থেমে যায়। কোন জীবের মৃত্যু হলে তাকে মৃত বলা হয়।

    মৃত্যু বিভিন্ন স্তরে ঘটে থাকে। সোমাটিক মৃত্যু হল সামগ্রিকভাবে কোন জীবের মৃত্যু। নির্দিষ্ট অঙ্গ, কোষ বা কোষাংশের মৃত্যুর আগেই এটি ঘটে। এতে হৃৎস্পন্দন, শ্বসন, চলন, নড়াচড়া, প্রতিবর্ত ক্রিয়া ও মস্তিষ্কের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। সোমাটিক মৃত্যু ঠিক কখন ঘটে তা নির্ণয় করা দুরূহ, কেননা কোমা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, এবং ঘোর বা ট্রান্সের মধ্যে থাকা ব্যক্তিও একই ধরনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে থাকেন।

    সোমাটিক মৃত্যুর পর অনেকগুলি পরিবর্তন ঘটে যা থেকে মৃত্যুর সময় ও কারণ নির্ণয় করা যায়। মারা যাবার পরপরই পার্শ্ববর্তী পরিবেশের প্রভাবে দেহ ঠান্ডা হয়ে যায়, যাকে বলে Algor mortis। মারা যাবার পাঁচ থেকে দশ ঘণ্টা পরে কংকালের পেশীগুলি শক্ত হয়ে যায়, যাকে বলে Rigor mortis, এবং এটি তিন-চার দিন পরে শেষ হয়ে যায়। রেখে দেয়া দেহের নীচের অংশে যে লাল-নীল রঙ দেখা যায়, তাকে বলে Livor mortis; রক্ত জমা হবার কারণে এমন হয়। মৃত্যুর খানিক বাদেই রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করে। আর তারপরে দেহের যে পচন শুরু হয়, তার জন্য দায়ী এনজাইম ও ব্যাক্টেরিয়া।

    দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিভিন্ন হারে মারা যায়। সোমাটিক মৃত্যুর ৫ মিনিটের মধ্যেই মস্তিষ্কের কোষগুলির মৃত্যু ঘটে। অন্যদিকে হৃৎপিণ্ডের কোষগুলি ১৫ মিনিট এবং বৃক্কেরগুলি প্রায় ৩০ মিনিট বেঁচে থাকতে পারে। এই কারণে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সদ্যমৃত দেহ থেকে সরিয়ে নিয়ে জীবিত ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব।

  3. থুত্থুরে স্মৃতিপেঁচা শুধু অমারাতে কাঁদবে অঝরে—-ইহা প্রচন্ড আপ্লুত করিল শেষে

  4. দেখা আর চর্মচক্ষে নাইবা হলো
    বলো, জৈববিষাদ কী জড়ত্বে আছে!
    ——জীবনবোধের স্বরূপ প্রকাশ কবিতায় বেশ লাগল। :rose:

  5. অনন্য এবং অনন্যা

    touhidullah82@gmail.com'

    তৌহিদ উল্লাহ শাকিল
    অক্টোবর 18, 2011 at 1:07 অপরাহ্ন

  6. বলো জৈববিষাদ কী জড়ত্বে আছে ?
    … এই লাইনটা রাজন্য কবির স্মারকটিকিট , সবটাই ওখানটাতেই গুঁজে দেয়া ,বাঁকিটা অনেক সরল টলটলে লুকিয়ে ফেলা চোখের পানির মতো …
    ভালো আর কতো বলবো , এইকবিতা যেই পড়বে সেই ভালো বলবে কারণ কবি রাজন্যে এতোটা সরলবোধ সরল পাঠক থেকে ভালো লাগা শুরু হবে এইবার , এটাই বিশেষ কিছু এইকবিতার ।
    পাঠক ঠিক ধরছেন জীবনানন্দের আঁচ আমিও পেয়েছি কাক ( কাঁক চন্দ্রবিন্দু ? কেন ) চিল , পেঁচা … পাখি থেকে শুরু করে জীবনবোধ মৃত্যুলোক , কবিতার নিনাদটুকো এইখানেই

    জীবনানন্দের মৃত্যু চেতনা আঁচ করতে হলে ঐ সময়টায় ঘুরতে যেতে হবে ,সেই সময়ের সামাজ রাষ্ট্র অর্থনীতি , বিশ্ব যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ আর অন্যদিকে কোলকাতার প্রকট শহুরে জীবন বেকারত্ব টানা পোড়েন দাম্পত্য সংকট সব মিশে ভীষণ বিপর্যস্ত ভীষণ একা । তাঁর প্রেমের সৃষ্ট বনলতা সেন , অরুনিমা সান্যাল , সুরঞ্জনা বা শঙ্খমালা যেমন নিখাদ আনন্দ আছে তবে একচেটিয়া ভালো থাকা , না তার সাথে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব আর ক্লান্তি , জীবনানন্দের প্রেমের কবিতা মানেই যে নারীর স্তুতি না তেমনি তাঁর কবিতার মানসীরাও কিন্তু শুধু রক্ত মাংশ আর উষ্ণ হৃদয় না কখনো কখনো তিলেত্তোমা কখনো প্যাঁচা কখনো মৃত্যু । মৃত্যুর চেয়েও বেশি যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠা জীবনের ভার … আশাকে মারিয়ে আত্মহত্যা
    ” চাঁদ ডুবে গেলে পর প্রধাণ আঁধারে
    তুমি অশ্বত্থের কাছে
    একগাছা দড়ি হাতে গিয়েছিলে তবু একা একা
    যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের
    মানুষের তার সাথে হয় নাকো দেখা ”

    আবার
    ” বধূ শুয়ে ছিলো পাশে শিশুটিও ছিলো
    প্রেম ছিলো আশা ছিলো জ্যোত্‍স্নায়
    তবু সে দেখিল
    কোন ভূত ? ঘুম ভেঙে গেলো তার ?
    অথবা হয়নি ঘুম বহুকাল লাশকাটা ঘরে শুয়ে ঘুমায় এবার ”
    কতোটা অতৃপ্তি কবি কে মৃত্যুর প্রতি প্রয়ণ সৃষ্টি করে এই অবিশ্বাসের ভালোবাসায় তাঁকে মরণের প্রেমিক করে তোলে
    ” বাঁচিয়া থাকিতে যারা হিঁচড়ায় করে প্রাণপণ / এই নক্ষত্রের তলে একবার যদি আসে … মৃত্যুরেও তবে হয়তো ফেলিবে বেসে ভালো ”
    অসুস্থ সমাজ থেকে বাঁচতে বলেছেন কি হেঁয়ালিতে ” যক্ষ্মা রোগীর মতো ধুকে মরে মানুষের মন / জীবনের চেয়ে সুস্থ মানুষের নিভৃত মরণ ”

    কবিদের এই বীভত্‍সার সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে যে যাত্রা তা অন্তহীনের শার্ল বোদলেয়ারের অনুবাদ পড়েছি বাংলায় কিন্তু Anthony Hertby র ইংরেজি একটা অনুবাদ খুব মনে ধরছে বোধহয় এটাই মৃত্যুনিয়ে আমার পড়া শ্রেষ্ট লাইন
    ” O death old captain ti is time ! Raise anchor ! This country lesres us , our hearts , which you know are filled with sunbeams ! Pour us your poison to comfort us ! This fire burns our brains so that we want to plunge to the bottom of the gulf . Hell or heaven what does it matter ? To find something new in the depth of the unknown !! ( The Voyate )

    তারপর কবিগুরু ওপার বলতে নাকি মৃত্যু বুঝাতে তবে তা অনেক স্নিগ্ধ যেমন ” দাঁড়িয়ে আছো তুমি আমার গানের ওপারে … আমার সুরগুলি পায় চরণ আমি পাইনে তোমারে [গানের ওপারে / রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর ] ”
    কী অদ্ভুত না পাওয়া তফাত্‍টা এখানেই যে রবীন্দ্র নাথ কারো উপর ক্ষোভ দেখাননি নিজেনিজেই যেন তরী বেয়ে চলে যাচ্ছেন কুয়াশার ওপারে কার ডাক শুনে …

    মাজার একটা কথা আছে । গুজব আছে নাকি ১৪অক্টোবর সন্ধ্যায় দেশপ্রিয় পার্কের কাছে ট্রামে কাটা পড়েছেন যখন , তখন নাকি দুর্ঘটনা না ইচ্ছে করেই …
    আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন । এটেমট্যু সুইসাইড এটা একটা গুজব মাত্র । এর পর গুরুতর আহত হয়ে শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে ভর্তি হন আর ২২ অক্টোবর , চিল হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো । দুর্ঘটনার আগের দিন ১৩তারিখ বেতারে কবি শেষ বারের মতো এসেছিলেন তাঁর মহা জিঞ্জাসা নিয়ে

    … এঁকে বেঁকে প্রজাপতি রৌদ্রে উড়ে যায়

    আলোর সাগর ডানে আনন্দসমুদ্র তার বাঁয়ে

    মহাশূন্যে মাছরাঙা আগুনের মতো এসে জ্বলে


    জাগিয়ে বুদ্ধির ধাঁধা দু মুহূর্তে দীপ্ত করে পাখি

    মানুষকে ফেলে গেল তবু তার চেতনার ভিতর একাকী ।

    শূন্যকে শূন্যের হাতে ছেড়ে দিয়ে শেষে

    কোথায় সে চলে গেল তবে ।

    বিছিয়ে অসীম করে রেখে দিয়ে যায়

    অপ্রেমের থেকে প্রেমে গ্লানি থেকে আলোকের মহাজিজ্ঞাসায় ।
    [ মহাজিজ্ঞাসা / জীবনানন্দ দাশ ]

    এই জিগ্যাসটুকুতেই শেষ হয়ে যায় সব সাময়িক বন্ধুত্ব চরিত্রের অভিনয় অযাচিত ভুল বুঝা , অবিশ্বাসী অপবাদ , গ্লানিময় সম্পর্ক থেকে । চির শান্তিতে … শান্তি শান্তি শান্তি

    imrul.kaes@ovi.com'

    শৈবাল
    অক্টোবর 18, 2011 at 2:12 অপরাহ্ন

    • কৃতজ্ঞতা কবি। আপনার ঘনিষ্ঠ বর্ণন আমাকে প্রাণিত করে খুব। ভালো থাকুন সর্বদা। শান্তি।

      রাজন্য রুহানি
      অক্টোবর 23, 2011 at 8:25 পূর্বাহ্ন

  7. এত কষ্ট কেন কবি? যাক, ধান ভানতে শিবের গীত না গাওয়াই ভাল। কবিতার স্টাইলটা অন্যরকম। বাক্যের শেষ ও আদি শব্দের মধ্যে ছন্দমিল আবার শেষ দুই লাইন খুব ছন্দময়। ভাল থাকবেন।

    bonhishikha2r@yahoo.com'

    বহ্নিশিখা
    অক্টোবর 20, 2011 at 5:00 পূর্বাহ্ন

  8. জীবননান্দের চমত্‍কার স্বাদ পেলাম ।বেশ ভালো লাগল ।

    rabeyarobbani@yahoo.com'

    রাবেয়া রব্বানি
    অক্টোবর 20, 2011 at 7:53 পূর্বাহ্ন

You must be logged in to post a comment Login