কুলদা রায়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা কি রবীন্দ্রনাথ করেছিলেন?

Decrease Font Size Increase Font Size Text Size Print This Page

tagore_at_deskরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন বলে একটি অপপ্রচার রয়েছে। কিন্তু এটা নিছকই অপপ্রচার। এর কোনো ভিত্তি নাই। রবীন্দ্রবিদ্বেষী কিছু ছাগু এটা বানিয়েছে।

সে রকম একটা নমুণা : ২০০০ সনে আহমদ পাবলিশিং হাউস থেকে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারাবাহিকতা এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা’ নামে একটি বইয়ে মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মতিন, বীরপ্রতীক, পিএসসি (তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা) একটি তথ্য জানান যে, ”১৯১২ সালের ২৮শে মার্চ কলিকাতা গড়ের মাঠে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়।” তিনি অভিযোগ করেন যে, রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন।

জেড এম আব্দুল আলী দৈনিক সমকালে লেখেন–শোনা যায়, এই তথ্যটি (লেখক আব্দুল মতিন কর্তৃক উত্থাপিত রবীন্দ্রনাথের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করা) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কোন বইতে আছে। তিনি অনুসন্ধান করে জানান – রবীন্দ্রনাথ ঐ মিটিংএ উপস্থিত থেকে এবং মিটিংএ সভাপতিত্ব করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন বলে একজন লেখক উল্লেখ করেন। লেখকটি এই তথ্যটি কোথায় পেয়েছিলেন তার কোনো সূত্র ব্ইটিতে উল্লেখ করেন নাই। আব্দুল আলী জানান, বইটি ইসলামী ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত হয়। এবং রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে এই বানানো গপ্পটি ব্যবহার করা হয়। ঐ তারিখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোলকাতায়ই উপস্থিত ছিলেন না এবং তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা করেন নাই।

রবীন্দ্রনাথ যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠারই বিরোধিতা করবেন—রবীন্দ্রনাথকেই এই বিশ্ববিদ্যলয় প্রতিষ্ঠার মাত্র পাঁচ বছর পরে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনেই তিনি বিপুলভাবে সংবর্ধিত হন কিভাবে? ১৯১২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ। তখনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা প্রস্তাবটি বিরোধিতা করেছিলেন তিন ধরনের লোকজন–
১. পশ্চিমবঙ্গের কিছু মুসলমান–তারা মনে করেছিলেন, ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের কোনো লাভ নেই। পূর্ববঙ্গের মুসলমানদেরই লাভ হবে। তাদের জন্য ঢাকায় নয় পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়াটাই লাভজনক।
২. পূর্ব বাংলার কিছু মুসলমান–তারা মনে করেছিলেন, পূর্ব বঙ্গের মুসলমানদের মধ্যে ১০০০০ জনের মধ্যে ১ জন মাত্র স্কুল পর্যায়ে পাশ করতে পারে। কলেজ পর্যায়ে তাদের ছাত্র সংখ্যা খুবই কম। বিশ্ববিদ্যায় হলে সেখানে মুসলমান ছাত্রদের সংখ্যা খুবই কম হবে।
পূর্ববঙ্গে প্রাইমারী এবং হাইস্কুল হলে সেখানে পড়াশুনা করে মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষার হার বাড়বে। আগে সেটা দরকার। এবং যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে মুসলমানদের জন্য যে সরকারী বাজেট বরাদ্দ আছে তা বিশ্ববিদ্যালয়েই ব্যয় হয়ে যাবে। নতুন করে প্রাইমারী বা হাইস্কুল হবে না। যেগুলো আছে সেগুলোও অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। সেজন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয় চান নি।
৩. পশ্চিবঙ্গের কিছু হিন্দু মনে করেছিলেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বরাদ্দ কমে যাবে। সুতরাং কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় চলবে কিভাবে? এই ভয়েই তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন।

ইতিহাস ঘেটে এ বিষয়ে যা পাওয়া যায় আসুন একটু দেখা যাক–

কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্ব বাংলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত উদীয়মান মুসলমানদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করে। চব্বিশ পরগণার জেলা মহামেডান এসোসিয়েশন ১৯১২-র ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যায় স্থাপনের বিরোধিতা করে। বলা হয় এর ফলে সমগ্র প্রদেশের মুসলমানদের শিক্ষাগত স্বার্থে পক্ষপাতদুষ্ট প্রভাব পড়বে এবং তাদের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি করবে। (সূত্র : দি মুসলিম পত্রিকা)।

মৌলানা আকরাম খান আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ করলে সাধারণ মুসলমানদের শিক্ষা সংক্রান্ত বিশেষ সুযোগ-সবিধা দানের ক্ষেত্রে অর্থের ব্যবস্থা করবেন না। মুসলমানদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা অপেক্ষা প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক) শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার উপর তিনি গুরুত্ত্ব আরোপ করেন। আবদুর রসুল আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় মুসলমানদের পক্ষে ‘বিলাসিতা’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তার মতে কয়েকজন ভাগ্যবানের জন্য অর্থ ব্যয় না করে বেশিরভাগ মানুষের জন্য তা ব্যয় করা উচিৎ। দি মুসলমানের মতে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যারয় হবে একটি অসাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠান, ফলে বাংলার মুসলমানের বিশেষ কিছু লাভ হবে না। বরং গরীব অথবা যোগ্য মুসলমান ছাত্রদের বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা এবং দু-একটি প্রথম শ্রেণীর কলেজ স্থাপন ইত্যাদি করলে মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষাবিস্তার সম্ভব হবে।

কিন্তু ইস্টার্ন বেঙ্গল এন্ড আসাম মুসলিম লিগ সর্বসম্মতিক্রমে ঐ প্রস্তাবকে স্বাগত জানায়। তাঁরা আশা করেন ঐ কেন্দ্রীয় প্রস্তাব কার্যকরী হলে পূর্ববাংলায় শিক্ষাবিস্তারে নতুন বেগের সঞ্চার হবে। ঐ বছরেই সলিমুল্লাহ সরকারের নিকট বাংলার পূর্বাংশের মুসলমানদের জন্য পৃথক তহবিল সৃষ্টির একটি নতুন প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কিন্তু দি মুসলিম পত্রিকায় ঐ দাবী সমর্থিত হয় নি। বলা হয়েছিল ঐ দাবী ‘শিক্ষাগত বিভাগ’ সৃষ্টি করে পূর্ব ও পশ্চিম বাংলার মধ্যে বিচ্ছিন্নতা বৃদ্ধি করবে। ঐ প্রস্তাবের পরিবর্তে সমগ্র বাংলা প্রেসিডেন্সিতে মুসলিম শিক্ষা বিস্তারে উদ্রোগ গ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য এক ‘স্পেশাল মহামেডান এডুকেশন অফিসার’ নিয়োগের দাবী করা হয়।

এ সময়েই বাংলার বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মুসলমান ছাত্ররা তাঁদের শিক্ষা সংক্রান্ত নানা সমস্যা সমাধানের দাবীতে আন্দোলনের পথে অগ্রসর হয়েছিলেন। ১৯১৪ সালের এক পরিসংখ্যানে জানা যায় প্রতি ১০,০০০ মুসলমান ছাত্রদের মধ্যে মাত্র একজন স্কুলস্তর অতিক্রম করে কলেজস্তরে উন্নীত হত। দি মুসলিম পত্রিকায় মুসলমান ছাত্রদের শিক্ষাবিস্তারের সাহায্যার্থে তাদের আনুপাতিক সরকারি অনুদান দারী করা হলে মুসলমান ছাত্র আন্দোলন এক নতুন মাত্রা লাভ করে।

১৯১৩ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। ঐ প্রতিবেদনে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাদানের ব্যবস্থা কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত শিক্ষার পরিকল্পনাও পেশ করা হয়েছিল। তাছাড়া উচ্চবিত্ত মুসলমানদের জন্য ঢাকায় একটি কলেজ স্থাপনের প্রস্তাবও করা হয়। দি মুসলিম পত্রিকায় উচ্চবিত্তদের জন্য কলেজ স্থাপনের প্রস্তাবটির বিরোধিতা করা হয়। উচ্চবিত্ত শ্রেণীর লোকেরা তাদের সন্তানদের শিক্ষাদানের কোনোই অসুবিধা ভোগ করেন না বলেও যুক্তি দেখানো হয়। শেষ পর্যন্ত ১৯১৭ সালে বরিশালে অনুষ্ঠিত বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি মহামেডান এডুকেশন কনফারেন্সে ঢাকা উইনিভার্সিটি সংক্রান্ত মতবেদের অবসান হলেও ১৯২১ সালের ১ লা জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়।

১৯১২ সনের মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যারিস্টার রবার্ট নাথানের নেতৃত্বে নাথান কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির ২৫ টি সাবকমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে ভারত সরকার প্রস্তাবিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য রুপরেখা স্থির করে। ভারত সচিব ১৯১৩ সালে নাথান কমিটির রিপোর্ট অনুমোদন দেন। কিন্তু, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পথে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে ইমপেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী সরকারের কাছে অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল পেশের আহ্ববান জানান। ১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর লর্ড চেমস্jফোর্ড কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাসমূহ তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। সেই কমিশনের উপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে পরামর্শ দেবার দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এই কমিশনের প্রধান ছিলেন মাইকেল স্যাডলার।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন (স্যাডলার কমিশন) ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করে। কিন্তু, এ কমিশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকারি বা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় করার নাথান কমিটির প্রস্তাব সমর্থন করেনি। কিন্তু, ঢাকা কলেজের আইন বিভাগের সহঅধ্যক্ষ ড. নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত পূর্ণ স্বায়ত্বশাসনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল শক্তিরূপে অভিহিত করেন। একই কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানও অর্থনীতির অধ্যাপক টি সি উইলিয়ামস অর্থনৈতিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ন স্বাধীনতা দাবি করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন ঢাকা শহরের কলেজ গুলোর পরিবর্তে বিভিন্ন আবাসিক হলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিটরুপে গন্য করার সুপারিশ করে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিল হাউসের পাঁচ মাইল ব্যাসার্ধ এলাকাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অওতাভুক্ত এলাকায় গন্য করার কথাও বলা হয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয প্রতিষ্টার ব্যাপারে তেরটি সুপারিশ করেছিল, এবং কিছু রদবদলসহ তা ১৯২০সালের ভারতীয় আইন সভায় গৃহীত হয়। ভারতের তদানীন্তন গভর্ণর জেনারেল ১৯২০ সালের ২৩ মার্চ তাতে সম্মতি প্রদান করেন।স্যাডলার কমিশনের অন্যতম সদস্য ছিলেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক রেজিস্টার পি. জে. হার্টগ। তিনি ১৯২০ সালের ১ ডিসেম্বরঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিক ভাবের কার্যক্রম শুরু করে।

ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ তার ঢাকা সফর শেষে কলকাতা প্রত্যাবর্তন করলে ১৯১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ড. রাশবিহারী ঘোষের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তার সাথে সাক্ষৎ এবং ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতামূলক একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বিরোধী ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় আর রাজনীতিক সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী। ভারতের গভর্ণর জেনারেল লর্ড হার্ডিঞ্জ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কি মূল্যে অর্থাৎ কিসের বিনিময়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধীতা থেকে বিরত থাকবেন? শেষ পর্যন্ত স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চারটি নতুন অধ্যাপক পদ সৃষ্টির বিনিময়ে তার বিরোধীতার অবসান করেছিলেন। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার তার আত্মস্মৃতিতে লিখেছিলেন ১৯১৯ সালের নতুন আইন অনুসারে বাংলার শিক্ষামন্ত্রী প্রভাসচন্দ্র মিত্র শিক্ষকদের বেতন কমানোর নির্দেশ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয প্রতিষ্ঠার সময় রিজর্ভ ফান্ডে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা ছিল। বাংলা সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রদত্ত সরকারী ভবন বাবদ সেগুলো কেটে নেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রতিবছর মাত্র পাঁচ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে। ফলে শিক্ষকদের বেতন কমিয়ে দিতেহয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় পূর্ব বঙ্গের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও শিক্ষাবিদ নানাপ্রকার প্রতিকুলতা অতিক্রম করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য ঢাকার নবাব নবাব স্যার সলিমুল্লাহ। কিন্তু, হঠাৎ করে ১৯১৫ সালে নবাব সলিমুল্লাহের মৃত্যু ঘটলে নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী শক্ত হাতে এই উদ্দ্যেগের হাল ধরেন। অন্যান্যদের মধ্যে আবুল কাশেম ফজলুল হক উল্লেখযোগ্য।

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।


11 Responses to ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা কি রবীন্দ্রনাথ করেছিলেন?

  1. tan@yahoo.com'
    তানভীর অক্টোবর 24, 2010 at 12:03 পূর্বাহ্ন

    আমি প্রথমে লেখককে সাধুবাদ জানাতে চাই, লেখার ভিতর কিছু যুক্তি আছে, কিছুটা আবার নড়বড়ে, তারপরেও বলবো……এই ধরণের লেখা ব্লগে লিখা হলে –অনেক বাঘা বাঘা ব্লগার আছেন যারা এ নিয়ে তাদের যুক্তি দেখাতে পারেন, এবং সেই সাথে আমাদের মতো অক্ষমদের জ্ঞানের আলো দিতে পারেন।

  2. ran_hayder@yahoo.com'
    রনবী হায়দার অক্টোবর 24, 2010 at 12:05 পূর্বাহ্ন

    কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বকবি, বাংলা ভাষার কবি, নোবেল প্রাইজ প্রাপ্ত কবি। বাংলাভাষার প্রতি তাঁর অবদান সীমাহীন। প্রতিটি শিক্ষাবর্ষে তাঁর কবিতা পড়ে বড় হয়েছি। ছোট গল্প রচয়িতা হিসেবে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হাজারের মাঝে অন্যতম। কবি রবীর গান আরেক কবি সুফিয়া কামালের কাছে ছিল এবাদত তুল্য…। বাংলাসাহিত্যের প্রতি তাঁর দান, তাঁর সম্ভার অতুলনীয়।

    তারপরও কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন একজন মানুষ এবং একজন ভারতীয়। তাঁর লিখিত গান, আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে বিগত ৩৮ বছর ধরে চলে আসছে। আমারা দেখব কিসের বিচারে এটাকে জাতীয় সংগীত বলা যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি ও জমিদার। তিনি তাঁর লেখা আমার ছেলেবেলাতে লিখেছেন, পেঠের খিদে, গায়ের জ্বর তাঁকে কখনও আক্রান্ত করেনি। বহু চেষ্টা করেও তিনি সরীরে সর্দি লাগাতে পারেন নি। খিদের অনুভূতির জন্যে না খেয়ে পালিয়েছিল বাঁচতে পারেননি দাদীর কারনে, একটু জ্বর বা সর্দি আসার জন্যে বেশীক্ষন পুকুরে থেকেছেন, সর্দি-জ্বরতো আসেইনি উল্টো দাদী কবিরাজ ঢেকে এনেছেন নাতীকে দেখাতে, এ জাতীয় সোনার চামচ মুখে নেয়া কবির জমিদারী ছিল বর্তমান বাংলাদেশের পাবনা-শাহজাদপুর অঞ্চলে, তাঁর প্রজারা প্রায় সবাই ছিলেন মুসলিম এবং গরীব ও অশিক্ষিত। তিনি বিতর্কিত ভাবে নোবেল পুরষ্কার পান ১৯১৩ সালে বৃটিশ সরকারের ইচ্ছায়, নোবেল কমিটির অনেকেই তাঁর লিখনী নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাকে নির্বাচিত করার জন্যে। যাক, তারপরও তিনি নোবেল পেয়ে দুনিয়াব্যাপী পরিচিতি পেয়েছেন, তাও আবার সাহিত্যে। আশ্চর্য হতে হয় সাহিত্যে নোবেল পাওয়ার পরও তিনি তাঁর প্রজাকুল শিক্ষিত হোক তা চাইতেন না। তিনি তাদের জন্যে অন্তত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় দেওয়ার গরজও অনূভব করেননি। তিনি বলেছেন তাঁর সকল প্রজারা খুব প্রভু ভক্ত, সরল ও সোজা প্রকৃতির। প্রজারা তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করলেও জমিদার তাঁর স্বভাবজাত হীনমন্যতা দেখাতে কখনো কসুর করতেন না। কবি বরীন্দ্রনাথ ঠাকুর খাজনা তোলার জন্যে প্রথমদিকে বছরে একবার করে পাবনায় আসতেন। প্রজারা প্রভুকে পালকিতে বসিয়ে কাঁধে করে বয়ে চলত, কখনও তিনি চৌকিতে আধা হেলানরত অবস্থায় শায়িত থাকতেন, প্রজাকুল চৌকি সমেত তাঁকে জমিদারী দর্শনে নিয়ে যেতেন। প্রজাদের কাঁধে চড়া অবস্থায় তিনি সেই প্রজার খাজনার পরিমান ধার্য্য করতেন। যখন নৌকায় চড়তেন দুকুলে প্রজারা নৌকার রসি টেনে টেনে উজানে নিয়ে যেতেন, তিনি বৈশাখী বাতাস গায়ে লাগিয়ে হারমোনীয়ামে গান চড়াতেন কিংবা নতুন কবিতা লিখতেন। প্রজারা তাঁকে সুখ দিতে পেরে খুবই আহ্লাদিত হত। প্রজাদের হাজারো অনুনয় সত্বেও তিনি কখনও তাদের খাজনার পরিমান লাঘব করতেন না পূর্বের বছরের চেয়ে। তার উপর তিনি নতুন ফন্দি আঁটতে থাকেন কিভাবে প্রজাকুল থেকে আরো বেশী অর্থ আদায় করা যায়। শুভাকাঙ্খীদের পরামর্শে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নতুন কানুন জারী করলেন তাঁর জমিদারী তালুকে। তিনি এখন থেকে বছরে দুবার আসবেন। একবার খাজনা আদায়ের জন্যে দ্বিতীয়বার কালীপূজার টাকা উত্তোলনের জন্যে। আঈন জারী হল, পূজার সকল অর্থ প্রজাদের দিতে হবে, কালীপূজায় অর্থ দিলে ফসল ভাল হবে বলে প্রজাদের উপদেশ দিলেন। এখানে উল্লেখ্য এর আগে বাংলাদেশে কালীপূজার প্রচলন ছিলনা, ভারতেও নেই। প্রজাদের গলায় ছুরি চালানের নিমিত্তে তিনি এই কু-বুদ্ধি শক্ত হস্তে বাস্তবায়ন করেন। শুধু তাই নয়, তিনি অন্যান্য মুসলিম এলাকাতে জমিদারী আছে এমন হিন্দু জমিদারদের নিকট প্রচারনা চালান যাতে তারাও একাজ করেন, তবে অন্য কোন হিন্দু জমিদার এই ডাকাতীতে অংশগ্রহন করেননি, অনেকেই প্রছন্দও করেননি। এই ছিল বাংলাদেশর গরীব প্রজা ও মুসলমান মানুষের প্রতি বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান। যার লিখিত আমার সোনার বাংলা বাংলার মানুষ গাইতে গাইতে গলার পানি তলাতে নিয়ে আসে।

    পাঠকবৃন্দ হয়ত ভাববেন আমাদের জাতীয় সংগীতের সাথে বরী ঠাকুরের জমিদারীর কি সম্পর্ক? আসলে জাতীয় সংগীতের সাথে কবি রবী ঠাকুরের জমিদারীর একটি যোগসুত্র আছে। ১৯০৫ সালে তদানীন্তন বৃটিশের ভাইসরয় মাউন্টব্যাটেন ঘোষনা করেন, রাষ্ট্রিয় কাজের সুবিধার্থে তথা পূর্ব বঙ্গের মানুষের সুবিধার্তে বঙ্গকে ভাগ করা হবে, ঢাকা হবে তার প্রধান কেন্দ্র। উল্লেখ্য এটা কোন স্বাধীনতা কিংবা স্বায়ত্বশাসন নয়, সেরেফ রাষ্ট্রিয় ও পূর্ব বঙ্গের মানুষের সুবিধার্তে এই সিদ্ধান্ত। সাধারন একটা পুস্তিকা কিংবা বিয়ের কার্ড ছাপাতে সদূর সিলেট-চট্টগ্রামের মানুষকে কলিকাতা পর্যন্ত ছুটতে হত। বাংলাদেশে পাট, চা, বেত কাঁচামাল হিসেবে তৈরী হত, তা কলিকাতার মিলে প্রক্রিয়াজাত হয়ে বিদেশে রপ্তানী হত। সেই কলের ম্যানেজার থেকে শুরু করে কুলি পর্যন্ত সবাই হত কলিকাতার এবং জাতে হিন্দু। বাংলার কাঁচামাল দিয়ে তারা উন্নতির চরম শিখরে পৌঁচবে কিন্তু বাংলা থাকবে ফকির হয়ে। এর প্রতিকারে বাংলার মুসলমানেরা দীর্ঘদিন বৃটিশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করে যাচ্ছিল। তাদের দাবী ছিল ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়, আলাদা প্রদেশ, আলাদা স্বীকৃতি। যাতে তাদের কলিকাতায় কম আসা লাগে। পাঠক আজ আধুনিক যুগেও কলিকাতা কাছের কোন শহর নয়, তাহলে ভাবুন তদানীন্তন জামানা কেমন ছিল। এই অসুবিধার জন্যে বৃটিশ ভাইসরয় মাউন্টব্যাটেন উপরোক্ত ঘোষনা দেন।

    ফলে কলিকাতার জমিদার ও ব্যবসায়ী হিন্দুরা প্রবল প্রতিবাদ শুরু করল। কোন অবস্থাতেই বঙ্গকে ভঙ্গ করা যাবেনা। সেরেফ ব্যবসায়ীক চিন্তাধারা থেকে এই প্রতিবাদ। এতে সকল হিন্দুর চাইতে মুষ্টিমেয় কিছু হিন্দুর আর্থিক ক্ষতি হবে। এই সকল হিন্দুরা আবার জমিদার, সমাজপতি ও তাদের ভাষায় উচ্চবর্নের। তদানীন্তন কলিকাতার আদালতে প্রচুর মামলার জট ছিল, যার বেশীরভাগের বাদী ছিল বাংলাদেশের মানুষেরা। ফলে সেখানে একটি আঈনজীবি গোষ্টির জম্ম হয়, তাদেরও বড় লোকসান হবে যদি ঢাকা আলাদা কেন্দ্র হয়। তখন সকল মামলা ঢাকায় চলে আসবে। আরো নানা অসুবিধার কথা চিন্তা করে কলিকাতার বাবুরা বঙ্গ ভঙ্গের বিরোধিতা শুরু করে। পশ্চিম বঙ্গের মানুষ চাইত না পূর্ব বঙ্গের মানুষ লিখাপড়া শিখে স্বচ্ছল হোক। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ সাংস্কৃতি পড়ার জন্যে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। তিনি সকল পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ন হওয়া সত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি করাননি। তার দোষ ছিল সে জাতে মুসলমান এবং পূর্ব বঙ্গের মানুষ। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ছাড়ার পাত্র নন, তিনি আদালতে মামলা রুজু করে দেন, সে মামলা দিল্লী হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। কোর্ট রায় এভাবে দেয় যে, ড. শহীদুল্লাহকে সাংস্কৃতি পড়তে দেওয়া হোক অন্যতায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার একার জন্যে একটি সাবজেক্ট চালূ করে তাকে পড়ানোর ব্যবস্থা করা হোক। পূর্ববঙ্গ বিদ্বেষী এসব শিক্ষার্থী আদালতের প্রথম উপদেশ না মেনে দ্বিতীয় উপদেশ গ্রহন করে এবং ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ র জন্যে নতুর ফ্যাকাল্টি চালূ করেন। তাদের ধারনা ছিল এতে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ আধা মাঠ ছেড়ে পালাবেন কিন্তু তিনি তা হতে দেননি। এই ছিল সেখানকার মানুষের পূর্ববঙ্গের মানুষের ব্যাপারে মনোবৃত্তি।

    যাক বাঙলাকে ভাঙ্গতে দেয়া যাবেনা। তাই সমাজপতি উচ্চবর্নের হিন্দুরা এটাকে একটা ইসু বানাতে লাগল। ১৯০৫ সাল থেকে ১৯০৮ সাল পর্যন্ত শুধু পশ্চিমবঙ্গে তারা ৫ হাজারের মত জনসভা করে সকল হিন্দুকে উসকিয়ে দিল। তারা দেশজুড়ে রাখীবন্ধন উৎসব পালন করল, বাজরং দলকে চাঙ্গা করা হল। প্রতিটি জনসভায় কর্মীদের সাহস জোগাতে কবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিতা উৎসর্গ করলেন। তাদের কে উজ্জীবিত করতে, মুসলমানদের প্রতিহত করতে গান উৎসব চলতে রইল। তাদের উদ্দেশ্য হল হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানো। দাঙ্গা ইচ্ছুক হিন্দুদের সাহস আরো জোড়দার করতে কবি রবীন্দ্রনাথ গাইলেন উদয়ের পথে শুনি কার বাণী, ভয় নাই ওরে ভয় নাই, নিঃশেষে প্রান যে করিবে দান ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই । প্রতিটি জনসভার শুরুতে এই গান গেয়ে কর্মীদের উজ্জীবিত করন চলতে রইল। এই গান বর্তমানে বাংলাদেশের শহীদ মিনারে শোভা পায়। মূলত গানটি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর জন্যে ঐ সময়ে কবি লিখেছেন ও ব্যবহার করেছেন। ফলে কলিকাতায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় ৪৮ হাজার মানুষ প্রান হারায়। তাদের ৯৮ শতাংশ তথা প্রায় ৪৭ হাজার ছিল মুসলিম। এই দাঙ্গার পরে রবী ঠাকুর নতুন রুপ পরিগ্রহ করেন, তিনি বুঝাতে চান বাঙ্গলাকে তিনি ভালবাসেন, বাংলার বিচ্ছেদ তিনি কখনও মেনে নিতে পারেন না। তাই তিনি নতুন চক্রান্তে অংশগ্রহন করেন এবং লিখেন আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি। মূলত তার ভয় ছিল বাংলা যদি দুভাগ হয়ে যায় তাহলে তার জমিদারী পাবনা-শাহজাদপুর তথা বাংলাদেশের ভিতরে পরে যাবে। তাহলে তিনি আর জমিদারও থাকবেননা, প্রজা উতপীড়নও করা যাবেনা, তার ইনকামে হাত পড়বে। বর্তমান বাংলাদেশের প্রিতীর কারনে তিনি এই গান লিখেননি, বরং বঙ্গভঙ্গের ভীতি, বাংলা না হওয়ার জন্যে এবং নিতান্ত জমিদারী রক্ষা করতে এই গান লিখেন।

    ১৯০৮ সালে বৃটিশ শাসন ছিল তখন কেউ পাকিস্থানের স্বপ্নও দেখেনি। পাকিস্থানের স্বপ্ন দেখা শুরু হয় ১৯৩৭ সালে। আর বাংলাদেশের কোন স্বপ্ন দেখার প্রয়োজনও হয়নি। অপরিনামদর্শী পাকিস্থানী আর্মীর অপরাজনিতীর কারনে বাংলাদেশের জম্ম। পাকিস্থান যদি শেখ মুজিবকে প্রধানমন্ত্রী বানাত, তাহলে কি একাত্তর হতো? এটা প্রায় সেধে সেধে একটা দেশ দেওয়ার মতো। সহজে বাংলাদেশকে পাওয়ার কারনে হয়ত এখানকার মানুষ আরো অপরিনামদর্শী। সুতরাং যে বাংলাদেশের স্বপ্ন যখন কোন বাংলাদেশীও দেখেনি, তাহলে হিংসুক, কৃপন স্বভাবের রবী ঠাকুর স্বপ্ন দেখবেন এ কি করে হয়? বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের জন্যে কবি নজরুলের, কবি ফররুখ আহাম্মদ সহ অনেকের গান গিয়েছিল শেখ মুজিবের দরবার হলে। ইতিহাস অনভিজ্ঞ, মুসলিম জাতিসত্বায় বিরক্ত, ইসলাম জ্ঞানে উম্মাদ প্রায়, শেখ মুজিবের ভাল লাগে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই মুসলমানদের বাঁশ দেয়া গান আমার সোনার বাংলা। আজো এই গান উভয় বাংলার মুসলমানদের পরিহাস করে, উপহাস করে যারা পশ্চিম বঙ্গের আনাচে কানাচে কোথাও লুকোবার জায়গা না পেয়ে বরী ঠাকুরের বাজরং দলের পিচাশ কর্মীদের বলীতে পরিনত হয়েছিল। কেউ যদি ঐতিহাসিক উপাত্ত দিয়ে এই সংগীতের বিপক্ষে আদালতে মামলা দিত হয়ত জাতী উপকৃত হত এই ধরনের জঘন্য হীনমন্যতা থেকে আমরা উপকৃত হতাম। আর বিশ্ব কবি হিসেবে বিবেচিত রবী ঠাকুরের নির্ম্মমতা কত জঘন্য ছিল তা জানতে পারত। আসুন আমরা এ দুটো গানকে প্রত্যাখান করি, নিন্দা করি, নিন্দা করি এই গানের সিলেকশন বোর্ডকে। মানুষকে অবহিত করি প্রকৃত সত্য। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আমরা সবাই সর্বত্র হাতে হাতে রাখি, যাতে সকল সত্য উম্মুক্ত হয়, মিথ্যা বিতাড়িত হয়। বিবেক

    • espoll15@gmail.com'
      প্রহরী অক্টোবর 25, 2010 at 4:32 অপরাহ্ন

      এটা প্রায় সেধে সেধে একটা দেশ দেওয়ার মতো। সহজে বাংলাদেশকে পাওয়ার কারনে হয়ত এখানকার মানুষ আরো অপরিনামদর্শী।

      আপনার কি তাই মনে হয়? বাংলাদেশটা আমরা খুব সহজেই পেয়ে গেছি???? আপনার জন্যে হয়তো খুব সহজ ছিল, কারণ আমি নিশ্চিত আপনার ফ্যামিলি থেকে স্বাধীনতার যুদ্ধে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি। যদি হতো তাহলে উক্ত কথা গুলি বলতে পারতেন না। স্বাধীনতা কী জিনিস তা জানতে হলে যাদের রক্তের বিনিময় আজ এই দেশে বসবাস করছেন তাদেরকে জিজ্ঞাস করুন। তারা বলে দিবে স্বাধীনতা কাকে বলে। যাইহোক আপনাকে এইসব কথা বলে লাভ নেই। আপনার অবস্থাও রবীন্দ্রনাথের মত। যে প্রজাদের কাঁধে বসে ঝিমায়, সে কী বুঝবে ক্ষুধার যন্ত্রনা। আসলে আপনি ঠিকই বলেছেন বাংলাদেশটা আমরা খুব সহজেই পেয়ে গেছি। আর তাইতো স্বাধীনতা মানে আমাদের কাছে দিনভর মাইক বাজিয়ে খিচুড়ি খাওয়া। যদি ৭১’এ প্রতিটি ঘর থেকে একজন করেও মারা যেত তাহলে আজ খুব সহজেই স্বাধীনতা পেয়ে গেছি এই কথাও শুনতে হতো না, এবং সারা দিন মাইক বাজিয়ে খিচুড়ি খাওয়াও হতো না। ভালো থাকবেন। আপনার মন্তব্যে অনেক কিছু জানতে পারলাম তাই ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

  3. nabin987@gmail.com'
    নবীন মুস্তাফিজ অক্টোবর 24, 2010 at 12:07 পূর্বাহ্ন

    রবীনন্দ্রনাথের সাহিত্যপ্রতিভা সম্পর্কে আমাদের মনে সৃষ্টি করা হয়েছে অতি উচ্চ ধারণা। রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প সম্পর্কে এবনে গোলাম সামাদ বলেন আরও বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের বহু ছোটগল্পই বিদেশী ছোটগল্পের প্রভাবে প্রভাবিত। যেমন রবীন্দ্রনাথের গুপ্তধন, মহামায়া, নিশিথে ও সম্পত্তি সমর্পণ- এই চারটি গল্প হলো বিখ্যাত মর্কিন সাহিত্যিক অ্যাডগার অ্যালান পোর কাছ থেকে নেয়া। রবীন্দ্রনাথ বিখ্যাত ক্ষুদিত পাষানের ওপর আছে বিখ্যাত ফরাসি সাহিত্যিক তেওফিল গোতিয়ের লেখা- Le Pied de mome (1866) নামক গল্পের ছায়া। এসব দিক থেকে বিচার করলে মনে হয়, রবীন্দ্রনাথ যত না মৌলিক সাহিত্যিক, তার চেয়ে হলেন অনেক বড় নিপুন অনুবাদক।’

    কিন্তু আমরা বাংলাদেশে রবীন্দ্র মূল্যায়ন না করে রবীন্দ্র বন্দনা করে চলছি। বাইরের বিশ্ব রবীন্দ্রনাথকে ভারতের কবি বলেই জানেন; বাংলাদেশের কবি বলে নয়। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে হইচই তাই ভারতের ভাবমর্যাদকেই উজ্জল করবে; বাংলাদেশের নয়। আমাদের জতিসত্তা গঠনে ও বাংলা সহিত্য বিকাশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেয়ে কাঙ্গাল হরিনাথের অবদান অনেক বেশি। তাই কুষ্টিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় হতে হলে রবীন্দ্র না হয়ে কাঙ্গাল হরিনাথ বিশ্ববিদ্যালয় হতে হবে।

    • espoll15@gmail.com'
      প্রহরী অক্টোবর 25, 2010 at 11:48 পূর্বাহ্ন

      শুধু তাই নয়। বাংগালীরা রবী ঠাকুরকে সত্যি ঠাকুর বানিয়ে ফেলেছে। তারা ভুলে গেছে রবী ঠাকুর আসলে ঠাকুর নয়, এটা তার উপাদি মাত্র। শুধু গল্পই নয় অনেক গান এবং সুরও তিনি বাংলার বাউলদের থেকে নিয়েছেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো তিনি তা অকপটে স্বীকারও করেছেন। তিনি বলেছেন
      “আমার অনেক গানেই আমি বাউলের সুর গ্রহন করেছি। এবং অনেক গানে অন্য অনেক রাগরাগিনীর সংগে আমার জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে বাউল সুরের মিল ঘটেছে” ( শান্তিদেব ঘোষ, রবীন্দ্র সংগীত পৃস্ঠা ৮৪)

      তার মত বিশ্বখ্যাত একজন লেখকের পক্ষে এমন স্বীকারোক্তি সত্যি দুঃখজনক।

      এমনকি তিনি পবিত্র কোরানের সুরার কাব্যানুবাদ করেও নিজের কবিতা বলে চালিয়ে দিয়েছেন। যেমন,

      সূরা ত্বা’হা’র ২৫ থেকে ২৮ আয়াত গুলি হলো ক্বা-লা রাব্বিশ্রাহলী সাদরী, ওয়া ইয়াস্সির লী আমরী, ওয়াহলুল উক্বদাতান মিন লিসানী, ইয়াফক্বাহু ক্বাওলী। যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়

      হে আমার পালনকর্তা আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন।
      এবং আমার কাজ সহজ করে দিন।
      এবং আমার জিহবা থেকে জড়তা দূর করে দিন।
      যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।

      রবীঠাকুর উক্ত সুরার কাব্যানুবাদ করেছিলেন নীন্ম রূপে

      প্রভু আমার হৃদয়দুয়ারখানি
      এইবেলা দাও খুলে,
      প্রাণের বীণায় তোমার প্রেমের বাণী
      নিভৃতে দাও তুলে।

      ছন্দ জাগাও পঙক্তিগুলোয়
      ক্লান্তি ঝরুক পথের ধুলোয়
      ভেঙে দিয়ে বন্ধ বলয়
      সব পিছুটান ভুলে,
      জীবনতরী লও হে আমার টানি
      অরূপ তোমার কূলে।

  4. মামদো ভুত অক্টোবর 24, 2010 at 1:14 অপরাহ্ন

    :-bd

  5. kulada_roy@yahoo.co.in'
    কুলদা রায় অক্টোবর 24, 2010 at 1:17 অপরাহ্ন

    আমার লেখাটির সূত্র :
    সূত্র : এ জেড এম আব্দুল আলিম :
    বাঙালি মুসলমান : চণ্ডী প্রসাদ সরকার।

    ঢাকায় রবীন্দ্রনাথ :

    সচলায়তন :

    দি মুসলিম

    বি. বি হোম (পল) কনফিডেনসিয়াল ফাইল নং ২৯০ অব ১৯১২, সিরিয়াল নং ১৪।

    অন্য আলোয় দেখা : চতুর্থ পর্ব
    অন্য আলোয় দেখা–৩ : শান্তি নিকেতনের শান্তিরহস্য :
    ফেসবুকে প্রথম পর্ব–
    সচলায়তনে দ্বিতীয় পর্ব –জমিদার রবীন্দ্রনাথ–
    রবীন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্রনাথ : পুর্ণানন্দ চট্টোপাধ্যায়
    রবীন্দ্রনাথের আত্মীয়স্বজন : সমীর সেনগুপ্ত

    ডঃ তাজ হাশমীর এই এ ধরনের অপপ্রচারমার্কা লেখাটি আমি দেখেছি। তিনি মুক্তমনায় আগে লিখতেন। ডালাসে এমআর জালাল ভাইয়ের সঙ্গে কথা হল। তিনি জানালেন–তাঁর সঙ্গে তাজ হাশমীর আলাপ রয়েছে। তাজ হাশমী বর্তমানে কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি বিহারী। তাঁর পিএইচডির বিষয় পাকিস্তান এবং জিন্নাহ। বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ এবং মুক্তিযুদ্ধের কথা হলেই তার চুল খাড়া হয়ে যায়। তিনি মনে করেন–বাংলাদেশে ১৯৭১ এ প্রথমে বিহারীদের হত্যা করে বাঙালীরা। এই জন্যই ২৫ মার্চ বাঙালিীদের নিধন করা করতে পাক বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে। সুতরাং তাজ হাশমী কী দরের লেখক–আশা করছি বুঝতে পারছেন। সো, এই তাজ হাশমী যে রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে অপপ্রচারটা কোনো সূত্র উল্লেখ ছাড়াই করবেন সেটাই স্বাভাবিক। এই অপপ্রচারের আড়ালের সত্যটাকে বের করার জন্যই এই নোট।

    পূর্ণানন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রবীন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্রনাথ, সমীর সেনগুপ্তর রবীন্দ্রনাথের আত্মীয় বা প্রশান্ত পালের রবীন্দ্রজীবনীতে রাখঢাক না করেই রবীন্দ্রনাথে সকল ত্রুটিবিচ্যুতিসহ জীবনী লেখা আছে। রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করলে তাঁরা সেটা উল্লেখ করতেন।
    তাজ হাশমীর লেখার লিংকে আহমদ শরীফের একটি লেখার উল্লেখ করা হয়েছে। আহমদ শরীফ যদি রবীন্দ্রনাথের এ ধরনের বিরোধিতার কথা জানতেন–তাহলে কি উনি ছেড়ে দিতেন?

    ফরহাদ মজহার, সলিমুল্লাহ খান রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে বাংলাদেশে বিদ্বেষ মুলক মন্তব্য করে লেখেন বিভিন্ন বই। তাঁদের শিষ্য সাদ কামালী রবীন্দ্রনাথের শ্রাদ্ধ করে বই লিখেছেন। তারাও কিন্তু এ বিষয়ে কিছু বলেন নি।

    সরাসরি জামাতী লোকজনই এ বিষয়ে এই হাস্যকর অপপ্রচারগুলো সূত্র ছাড়া এখনো উল্লেখ করেন। এর মধ্যে আরেকজন আছেন–রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক গোলাম এবনে সামাদ। তিনি জামাতি পত্রিকা নয়া দিগন্তে রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে একই অপপ্রচার করেছেন। কিন্তু কোনো সূত্র উল্লেখ করেন নি। পাকহানাদার বাহিনীকে সহযোগিতার কারণে তিনি চাকরীচ্যূত হয়েছিলেন।

    বঙ্গভঙ্গ বিষয়ে আলাদা নোট দেব। সেজন্য এখানে আলাদা করে কিছু বললাম না।

    * নওগাঁর জেলার আত্রাই উপজেলার কালিগ্রামে রবীন্দ্রনাথ প্রতিষ্ঠিত রথীন্দ্রনাথ ইন্সটিটিউট রয়েছে । চাইলে ঘুরে আসতে পারেন।আর সেই স্কুলকে ঘিরে রবীন্দ্রনাথের ভাবনা ছিন্নপত্রে পাবেন।
    * রবীন্দ্রনাথ কেমন হিন্দু এবং কেমন জমিদার ছিলেন–সে সম্পর্কে লিংক দিয়েছি–পড়ে দেখুন।

    রনবী হায়দারের লেখাটির সূত্র উল্লেখ করুন ভাই। আপনার গপ্পটা তুলনা নাই।

  6. espoll15@gmail.com'
    প্রহরী অক্টোবর 25, 2010 at 10:42 পূর্বাহ্ন

    আপনার কাছে কিছু প্রশ্ন না করে পারছি না। সবকিছুতেই সাম্প্রদায়িকতা খুজতে যান কেন? আর যদি তাই খুজতে চান, তাহলে বলতে হয় রবীন্দ্রনাথও অনেক ক্ষেত্রেই সাম্প্রদায়িকতার কুলশিতা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তাঁর অনেক রচনাবলীই সাম্প্রদায়িকতার স্বাক্ষ্য বহন করে। আপনি বলেছেন

    মনে রাখতে হবে ইসলাম বাঙ্গালীর সংস্কৃতি নয়, তা মুসলমানের ধর্ম। কাকে ধর্ম আর কাকে সংস্কৃতি বলতে হবে তা অবশ্য জানা বোঝার বিষয়। আশা করি অপপ্রচারকরা জানার চেস্টা করবেন

    আপনি কি জানেন ইসলাম নিজেই একটি পূর্নাজ্ঞ সংস্কৃতি? তাও আবার এমন একটি সংস্কৃতি যা অন্য কোনো জাতি থেকে ধার করা নয়। আপনি কি সত্যি জানেন প্রতিটি ধর্মেরই আছে একটি নিজস্ব সংস্কৃতি???

    আসলে আমরা গোস্ত খাই না, কিন্তু গোস্তের ঝোল খেতে আমাদের কোনো আপত্তি থাকে না। ইস্লামিক সংস্কৃতিকে গ্রহন করতে আমাদের যত আপত্তি কিন্তু নিজেকে মুসলিম বলতে আমাদের কোনো বাঁধা নেই। সত্যি হাস্যকর।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুসলমানের উন্নতির উদ্দেশ্যে নয় তা করা হয়েছিলো স্বদেশী আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে বাঙ্গালী কে বিভক্ত করতে। কারন স্বদেশী আন্দোলনে বাঙ্গালীদের ভূমিকা ছিলো অপরীসীম। সুতরাং রবীন্দ্রনাথ মুসলমানের শিক্ষার বিরোধী নয় ইংরেজদের উদ্দেশ্যর বিরোধী ছিলেন।

    এই ব্যাপারে দ্বিমতের কোনো অবকাশ নেই। ভালো থাকবেন।

  7. espoll15@gmail.com'
    প্রহরী অক্টোবর 25, 2010 at 10:43 পূর্বাহ্ন

    :-bd

  8. espoll15@gmail.com'
    প্রহরী অক্টোবর 25, 2010 at 12:24 অপরাহ্ন

    লেখক’কে বলছি। প্রথমত উপরের বার লাইন ছাড়া পুরো লেখাটাই শিরনামের সাথে সামজ্ঞস্যহীন। উক্ত বার লাইন ব্যাতিত এই লম্বা রচনা লিখে আপনি কী বুঝাতে চেয়েছেন আমি তা বুঝতে না পারলেও এতটুকু বুঝেছি এই লম্বা রচনা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেননি তা প্রমানিত হয় না।
    রবীঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা করেছিলেন কিংবা করেননি আমি সেই বিতর্কে যাচ্ছি না।

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন বলে একটি অপপ্রচার রয়েছে। কিন্তু এটা নিছকই অপপ্রচার। এর কোনো ভিত্তি নাই। রবীন্দ্রবিদ্বেষী কিছু ছাগু এটা বানিয়েছে।

    তবে আপনি লেখার শুরুতেই বাংলাদেশের একজন মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক’কে ছাগু বলে আখ্যায়িত করেছেন। আমি যার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আপনি কি মনে করেন? তবে কি ছাগুরাই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল? আপনার লেখার শুরুটাই আপনার রুচিহীন মনের সংকির্নতারই পরিচয় বহন করে। রবীঠাকুর কিংবা ভারতকে নিয়ে কেউ কোনো মন্তব্য করলেই আপনাদের মত একটা বিশেষ গোস্ঠী মন্তব্যকারীকে ছাগু বলে সম্ভোদন করতে উঠে পড়ে লাগেন। অবশ্য তাতে অবাক হওয়ার মত কিছু নেই। কারণ, আপনাদের মত গাধাদের পক্ষেই এরকম বলাটা স্বাভাবিক। ভুলে যাবেন না গাধা’রা নিশ্চয় ছাগুদের চেয়ে নিকৃস্ট মানের। ভবিষত’এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত কাউ কে নিয়ে কোনো কিছু লিখতে গেলে ভেবে চিনতে লিখবেন আশা করি।

You must be logged in to post a comment Login