ফকির ইলিয়াস

কবিতার চিত্রকল্প, কালিক চেতনার ধারা / ফকির ইলিয়াস

Decrease Font Size Increase Font Size Text Size Print This Page

বর্তমান কবিতাগুলো কি আসলেই খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে? নাকি ঝাপসা চিত্রকল্প এবং উপমার সমুদ্রে খেই হারিয়ে ফেলছেন পাঠক? ঝাপসা কিংবা কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরের সুর্যোদয় যারা অবলোকন করেন তারা কি শুধুই স্বপ্নবিলাসী? এমন অনেকগুলো প্রশ্ন আজকাল প্রায়ই শোনা যায়| আবার কেউ কেউ আধুনিক অনেক গদ্য কবিতায় তাদের ছন্দের ব্যারোমিটার বসিয়ে দুরবীন দিয়ে দেখার চেষ্টাও করেন| কখনো তারা সফল হন| কখনো তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়| আবার কেউ কেউ নিজেকে ছান্দসিক কবি ভেবে আত্মতৃপ্তি লাভে আটখানা হন| স্বপ্নবিলাস— তা যাই হোক না কেন, কবিতা যে এগিয়ে যাচ্ছে তাই হচ্ছে বর্তমানের প্রকৃত বাস্তবতা| কোন্ কবিতা কালোর প্রতীক হয়ে দাঁড়াবে তা অতীতে যেমন বলা যায়নি, বর্তমানেও বলা যাবে না| উদাহারণ স্বরূপ জীবনানন্দকে আবারো প্রণাম করি| শতাব্দীর একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত তার বিচরণ আমাদেরকে আশান্বিত করেছে বৈকি! তার আধুনিক চেতনা এবং নান্দনিক প্রত্যয় কালের বাহক হয়েই থেকে যাচ্ছে— যাবে বহুবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত| তা এ মুহুর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে| কবিতা লেখাকে অনেক কবি মৌলতাত্বিক এবং সমসাময়িক আর্টিস্টিক বলে মনে করেন| তাদের এমন ধারণার পেছনে যুক্তিও আছে প্রচুর| কারণ অনুভবের অনুসৃতি এবং প্রার্থনার চেতনা তো হৃদয় থেকেই উৎসারিত হয়| একজন মানুষ চোখ খোলা রেখে অনেক কিছু দেখতে পায়| আবার চোখ বন্ধ করেও অনেক কিছু দেখতে পায়| একথা আমরা সবাই জানি এবং বুঝি| কিন্তু হৃদয়ের চোখের আয়নায় দাঁড়াতে পারি কজন? কবিতার কল্পচিত্র সব সময়ই বিশ্বজনীন এবং সার্বজনীন|

এ প্রসঙ্গে আমি কয়েকজন মার্কিন কবির সমসাময়িক কবিতার বাংলা তর্জমার কিছু খন্ডচিত্র তুলে ধরতে চাই| এরা যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃত কবি| যারা কবিতার ব্যঞ্জনা এবং ঘূর্ণায়নের মাধ্যমে শৈল্পিক আবহকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন| ‘সোনালি মানুষ’ কবিতায় কবি ডানা লোভন সোনালি মানুষটিকে এভাবেই নির্মাণ করেন— ‘এবং এসিড এসে ধৌত করে দেয় তাকে,/ হ্যাঁ, আমি ছোট্ট মানুষটিকে নির্মাণ করছিলাম|’ একটি কবিতা তখনই প্রকৃত সার্থকতা পায়, যখন একটি একান্ত ব্যক্তিগত অনুভুতি সার্বজনীনতা লাভ করে| একটি হৃদয়ের আকাঙ্খা হয়ে ওঠে বহূ হৃদয়ের প্রভাষণ| কবি ক্যাথরিন লিডিরার তার ‘বেঁচে থাকার একটি নতুন পথ’ কবিতাটির মুখবন্ধ শুরু করেছেন এভাবে— ‘আমি ক্লান্ত এভাবে ক্ষমা করতে করতে/ একটি রাত, একটি গাম্ভীর্যপূর্ণ ফোরাম যেমন/ একটি মধ্যতর্জনী’।
একটি কবিতায় বহুমাত্রিক অনুযোগ কিংবা অনুপ্রাস কবিতাটিকে সমৃদ্ধ করে নি:সন্দেহে| যেকথা অনেকে বলতে কিংবা লিখতে পারেন না,- তা কবি পারেন| সেক্ষেত্রে কবি তার উত্তর প্রজন্মের জন্য নির্মাণ করেন একটি বিশুদ্ধ নিবাস| কবি জন ইয়াউ-এর তেমনি কিছু কথা আমাদের কানে বাজে, বুকে লাগে| তার ‘রাশিয়ান চিঠি-৩’ কবিতার কয়েকটি পঙক্তি— ‘প্রিয় মেঘের চিত্রকর/ কি প্রমাণ থাকবে সেখানে/ যখন দোকানী/ আমাদের ধুলিচিহ্ন ঝেড়ে ফেলে দেবে ছোট্ট নালীতে’| একইভাবে কবি ডানা লোভন-এর আহ্বান জাগিয়ে তোলে তার সহযাত্রী অনুজদেরকে| ‘কাজ’ কবিতায় তার বাণীগূলো এরকম— ‘এই সেই আমেরিকা—/ তুমি পাত্রের মধ্যে পানি রাখো| এই সেই তোমার শতাব্দী—/ যে চুলোয় তুমি আগুন জ্বালো/ তুমি অনুভব করো, এই শহর, তোমার চারদিকের ধুসর, যেভাবে তুমি কালো চা রাখো কাপের মাঝে|’
যুক্তরাষ্ট্রের সমসাময়িক অন্যতম প্রধান কবি মি. জিরাল্ড স্টার্ন-এর স্বগতোক্তি থেকে কালিক কবিতা নির্মাণে চিত্রকল্পের ব্যবহার সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে| স্টার্ন বলেন, আমার কবিতায় আমি আমার সময়কেই ধরে রাখতে চেয়েছি| বর্তমানই ছিল আমার কাছে মূল বিবেচ্য বিষয়| জীবনের রঙ অনেকটাই তো ফ্যাকাশে| মহাসাগর পাড়ি দিয়ে যে জন এগিয়ে আসতে পারে সেই হয় ভাগ্যবান জীবনের অধিকারী| কবিতায় সমসাময়িক বিষয় এবং চেতনার ব্যাপৃতি— বর্ণনা থাকা স্বাভাবিক| শত বছর আগে
একজন কবি কম্পিউটার, ই-মেইল, ইন্টারনেট সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না| বর্তমানের কবিরা এই গ্লো­বাল ভিলেজে বসবাস করে এসব বিষয়গুলোকে রপ্ত করছেন মনে প্রাণে| তাদের চিন্তা চেতনায় এখন সিলিকন ভ্যালি| আলোর ঝলক| একবিংশ শতাব্দীর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে তাই তো,মাইকেল ও’ নীল বলে যান— ‘আমি ক্রমশ: শব্দগূলোকে বন্দী করছি একটি দুর্দান্ত বাক্সের ভেতর/ ফুলগুলো যেন ফুটছে আমার হাত দিয়ে সবুজ গোপনগুলো স্থির হয়ে দাঁড়াচ্ছে একটি কালো জমিনের বিপরীতে/ এভাবেই মধ্যরাতের আন্ত:জালে (ইন্টারনেটে) আমি খেলছি তোমার সাথে|’
আধুনিক চিত্রকল্পগুলো, আধুনিক মননের বুনন| এ বুনন তখনই আরো সমৃদ্ধ হয় যখন একটি কবিতার শিল্পায়ন ঘটে আন্তর্জাতিকতার নিরিখে| যারা পশ্চিমা সাহিত্যের বিবর্তনকে ধনবাদী আধুনিকায়ন বলে নাক সিটকান তাদের অবগতির জন্য বলতে হয়, যে প্রক্রিয়া পাশ্চাত্যে শুরু হয়েছে অর্ধশতাব্দী আগে, প্রাচ্যে এখন তার অনুকরণ চলছে| অতএব যদি চলমান সময়কে কবিতায় ধারণ করা না যায়, তবে হয়তো দু’ যুগ পরে আজকের কবি এবং কবিতা স্বকীয়তা নিয়ে আলোচনায় আসতে পারবেন না| বাংলা সাহিত্যের অনেক স্বনামধন্য কবি আছেন যারা বলেন, বর্তমানে কবিতার কিছুই হচ্ছে না| প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে— তারা কেন কিছু করছেন না| বা করার চেষ্টা করছেন না| একবিংশ শতাব্দীর শূরুতে দাঁড়িয়ে ক্ষণিক পিছন ফিরে তাকালে বেশ কিছু উত্থান চোখে পড়বে| বেশ কিছু আধুনিক কবি তাদের চিত্রকল্প নির্মাণের মাধ্যমে যে চিহ্নতত্ত্ব সংরক্ষণ করে যাচ্ছেন তা নিয়ে হয়তো বিশদভাবে আলোচনা হবে সময়ে— ভবিষ্যতে| কবিতার চিত্রকল্প সব সময়ই গতিশীল| আর কবিরা সেই গতির শক্তি নিয়েই কালের দিকে ধাবমান|

দুই.
মনে পড়ছে একদিন টিএসসি তে আড্ডা দিচ্ছিলাম আমি , কবি মোহন
রায়হান ও রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ । এ সময় আমার আরেক বন্ধু এগিয়ে আসেন । রুদ্র হাত বাড়িয়ে দেন। বলেন , ”আই এ্যাম রুদ্র মুহম্মদ
শহীদুল্লাহ , দ্যা পোয়েট ।”’
মোহন ভাই হেসে ফেলেন। রুদ্র তার হাসি মুখে বলেন, ইয়েস, আই
এ্যাম দ্যা পোয়েট । তা বলবো না ?
হাঁ, একজন প্রকৃত কবির আত্মপ্রত্যয় এভাবেই সুদৃঢ় । কারণ তিনি জানেন ,তিনি কি করছেন।
এ প্রসংগে ময়মনসিংহের এক প্রখ্যাত বাউল মরমী কবি উকিল মুন্সীর
কথা আমার সব সময় মনে পড়ে। তাঁর একটা নন্দিত গান আছে,
” আমি আগে না জানিয়া সখীরে কইরে পিরীতি /
আমার দু:খে দু:খে জনম গেলো , সুখ হইলো না এক রতি।”
এই গানটি এখনো মুখে মুখে ফিরে । কেন ফিরে? কারন মানুষ এখনো
বাউল উকিল মুন্সীর আত্মায়, প্রতিকৃতিতে নিজেকে খুঁজে পায়।
একজন কবির সার্থকতা সেখানেই।
কবিতার ভাষার প্রকাশভংগী বদলায় কালে কালে। বদলায় কবির বলার
ধরন। কিন্তু চন্দ্র , সূর্য, গ্রহ , নক্ষত্র , সমুদ্র , পর্বত সহ প্রকৃতির সিংহ ভাগ
যেমন ছিল , তেমনি থেকে যায়। কবিতা বার বার আসে কালের আবর্তনে।
কবির নতুন ধ্যানে .. চিত্রনে । #

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।


11 Responses to কবিতার চিত্রকল্প, কালিক চেতনার ধারা / ফকির ইলিয়াস

  1. rabeyarobbani@yahoo.com'
    রাবেয়া রব্বানি জানুয়ারী 23, 2011 at 3:32 পূর্বাহ্ন

    বেশ! :-bd

  2. রাজন্য রুহানি জানুয়ারী 23, 2011 at 5:22 পূর্বাহ্ন

    যুক্তির সাজুয্য আর কালের আবাহন যে পরিবেশের ভিতর পরিক্রমণশীল তারও গভীরে-গহীনে অন্য আলোর বিভা ভিন্ন রূপরসের বাহার তৈরি করে যা কালের মানদন্ডে উত্তীর্ণ। এক রকম দৃষ্টিভঙি যখন সামগ্রিক পরিবেশকে পাল্টে দেয় ত্খন তা সর্বজনীন। অবশ্য এই স্থায়ীত্ব অর্জনে প্রথাগত চিন্তার বেষ্টনি ভেঙেই শির খাড়া রাখতে হয়।
    ………………………………………………………………………………
    যথারীতি এটাও প্রিয়তে স্থান পেল।
    :rose:

  3. bonhishikha2r@yahoo.com'
    বহ্নিশিখা জানুয়ারী 23, 2011 at 6:38 পূর্বাহ্ন

    ভাই ফ.ই., আপনার লেখাগুলো পড়ে আমার মনে হয় আপনি যথেষ্ট প্রজ্ঞাবান। লেখনিও সুন্দরশৈল্পিক। যথেষ্ট পক্কতার ছাপ আছে আপনার মননে। কিন্তু একটি সত্য উপলব্ধি করলাম: আপনাদের মতো লেখকরা লেখা দিয়ে শেয়ার করেন, বেশ ভালো। অন্যের ভালোমন্দ মন্তব্য জমা হয়, এটাও বেশ। অথচ, আপনার মতো অনেকেই অন্যের লেখাপাঠে মন্তব্য-পরামর্শ অথবা দিক-নির্দেশনা সংক্রান্ত উদ্দীপনা সৃষ্টিতে বিরত থাকেন, এটা কি ঠিক? নাকি নিজের বোঝটাই বুঝেন ষোলআনা?
    প্লিজ, রাগ করবেন না। শৈলাররা চান, কোনো একটি লেখার ভালোমন্দ যাচাই হোক, ভুলগুলি ধরা হোক, শোধরানো হোক। মোট কথা: উচুস্তরের লেখকরা অন্যের লেখার মান বিচার করুক; আলোচনা-সমালোচনা হোক। তাহলে যেমন উপকৃত হবেন ব্লগার-লেখকরা অন্যদিকে ব্যাতিক্রমী এক বৈশিষ্ট্য তৈরি হবে নিঃসন্দেহে।
    অগ্রজদের কাছে অনুজদের কি কিছুই পাবার নেই, শেখার নেই? ধুলোমলিন চোখে আপনাদের মতো জনাদের একটি স্বস্নেহ ফুঁ দেখাতে পারে দেখতে না-পাওয়া দিগন্তের রূপছায়া।
    মঙ্গল কামনা করছি।

    • juliansiddiqi@gmail.com'
      জুলিয়ান সিদ্দিকী জানুয়ারী 23, 2011 at 8:56 অপরাহ্ন

      @ বহ্নিশিখা

      আমার মত ঠোঁটকাটা কে আছে এমন? এতদিন বেশ গর্ব বোধ করতাম, যে কারণে হামাক অপছন্দ করার লোকের সংখ্যাও কম না। কিন্তু আপনার কাছে হেরে গেলাম। এমন কথা বললে ভবিষ্যৎ বন্ধুহিন। :D

    • baul98@aol.com'
      ফকির ইলিয়াস জানুয়ারী 24, 2011 at 12:04 পূর্বাহ্ন

      আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।
      আপনি কিছু ভালো বিষয়ের অবতারণা করেছেন।
      দেখুন, আমই লেখালেখি করছি প্রায় ৩৫ বছর যাবৎ।
      আমার অভিজ্ঞতার আলোকেই বলি, সমালোচনা যে আমি কম করেছি
      তা কিন্তু নয়।
      কিন্তু একটি বিষয় খেয়াল করেছি , যখনই কোনো দিকনির্দেশনা মূলক
      কথা কোনো নতুন কবি/লেখককে বলতে গিয়েছি , তখনই দেখেছি
      এটা তারা সহজ ভাবে মেনে নেন নি ।
      কেউ কেউ এমনও বলেছেন – ” তুমি আবার কে ? কোথাকার কোন হনু রে ..।”

      তাই আমি আমার কাজটিই করে যাই।
      বিশেষ কোনো লেখা ভালো লাগলে মন্তব্য করি, না হয় করি না।
      সে যাক, অনুজদের অবশ্যই শেখার পাবার আছে যদি তারা অধ্যবসায়ী হন।
      আমি চেষ্টা করবো আমার সাধ্য মতো
      আবারও ধন্যবাদ আপনাকে

      • bonhishikha2r@yahoo.com'
        বহ্নিশিখা জানুয়ারী 25, 2011 at 10:20 পূর্বাহ্ন

        পাছে লোকে কিছু বলে ভেবে হাতগুটিয়ে বসে থাকা নিরর্থক। অনুজদের পথ দেখাবে কারা? অগ্রগামিতায় এগিয়ে থাকা আপনাদের মতো কবি-লেখকদের কি কোনোই দায়িত্ববোধ নেই পিছিয়ে পড়াদের দিক নিদর্শনের?

  4. imrul.kaes@ovi.com'
    শৈবাল জানুয়ারী 23, 2011 at 2:09 অপরাহ্ন

    অভিনন্দন , বিশ্লেষণধর্মী লেখাটির জন্য ।সাথে পাঠক অনুভূতির সুযোগটাও নিচ্ছি বিনীত ভাবে । আবেগ আর মেধার যৌথ মিথস্ক্রিয়ায় সৃষ্ট চিত্রকল্প বহির্জাগতিক বস্তুরূপে যে নতুন মাত্রা এনে দেয় তাতেই থাকে ব্যঞ্জনার সাজেস্টিভ মিনিং ।A poetic image is word picture charged with emotion and passion : Cecil Day Lewis ।
    তবে কথা হলো অনেকেই বহির্জাগতিক দৃশ্যের সরাসরি অনুকরণকে চিত্রকল্পের মর্যাদা দিতে চায় না , তাও ভালো কথা ! Harmonious faculty of imagination এর চারিত্র্যলক্ষণের যে চতুমাত্রিক সূত্রের ব্যাখ্যা সমালোচক বিশ্বজিত্‍ ঘোষের একটা লেখা থেকে শিখতে পাই তাহলো
    ১ অবয়বত্ব ২রূপক ৩ ইন্দ্রিয়বেদ্যতা ৪ সাদৃশ্যধর্মিতা এই চতুর্মাত্রিক গুণেই চিত্রকল্পের রূপ বিকাশ হয় প্রাণময়তা , আত্যন্তিকতার বেগ আর উদ্দীপনশৈলীতে ।

    আপনার কথাগুলো এর খুব বেশি ভিন্ন কিছু নয় তা কৃতজ্ঞতার সাথে মাথায় নিয়েছি ! কিন্তু সরল পাঠক যেখানটায় আশাহত হলো তা হলো আপনি জীবনানন্দের নাম নিয়েছেন ঠিকই কিন্তু উদাহরণ দিয়েছেন বিদেশী কবিতা থেকে দেখুন করজোড়ে মাফ চেয়ে নিচ্ছি ভুল বুঝবেন না বিদেশী কবি বলে আমি চরমপন্থা দেখাচ্ছি না শুধু বাংলা কবিদের কবিতা না দেখে হত আশার কথা বলছি । আমি আপনাকে বিদেশ সংলগ্নতাকে দোষ বলছি না শুধু বলছি আমাদের কথা যদি আমরাই না বলি তাহলে অন্যদের মুখ থেকে বাংলার কথা শুনবো এমন আশা কি করে করতে পারি ?
    যেমন দুটো উদাহরণ দিচ্ছি …

    নির্জন পাতার মতো আলেয়ার বাষ্পের মতন
    ক্ষীণ বিদ্যুতের মতো ছেঁড়া মেঘে আকাশের ধারে
    আলোর মাছির মতো রুগ্নের স্বপ্নের মতো মন
    একবার ছিল ঐ পৃথীবির সমুদ্রে পাহাড়ে
    ঢেউ ভেঙে ঝরে যায় মরে যায় কে ফেরাতে পারে !
    তবুও ইশারা করে ফাল্গুন রাতের গন্ধে বয়ে
    মৃত্যুরেও তার সেই কবরের গহবরে আঁধারে
    জীবন ডাকিতে আসে হয় নাই গিয়েছে যা হয়ে
    মৃত্যুরেও ডাকো তুমি সেই স্মৃতি আকাঙক্ষার অস্থিরতা লয়ে ।
    …[ জীবন /জীবনানন্দ দাশ ]

    জ্যোত্‍স্না কী ? না জ্যোত্‍স্না হয় জল্লাদের ডিমের মতো চুলহীন জলবায়ুহীন মুণ্ডু জোড়া জোড়া চোখ সাতটি আঙুলের একমুষ্টি হাত রক্তকরবীর অন্ধকার এবং একগুচ্ছ ভুল শিয়ালের সদ্যোমৃত যুবতীকে ঘিরে জ্বলজ্বলে চীত্‍কার
    [জ্যোত্‍স্না / আবদুল মান্নান সৈয়দ ]

    এই দুটো লেখার suggestive meaning এ কোন ঘাটতি আছে !

    সুহৃদ কথাগুলো খুব বিনীত হয়ে বলছি আমি বাংলার ছাত্র না তবে পড়ি নিজের ভালো লাগা থেকে বলিও তাই , তাই ভুল হলে আপনার একজন ছাত্র মনে করে মাফ করবেন আশা করি । আপনি শেষে একটা লোকসংগীতের কথা বলেছেন খুব খুব ভালো লেগেছে , আরেকটু বিস্তারিত চাচ্ছিলাম নেটের সূত্র ধরে না বরং নিজের ভালো লাগার শুরু থেকে । প্রিয় কবি রু .মো . শহিদ্দুলাহ আপনার প্রিয়জন ছিলেন শুনে আহ্লাদিত হয়েছিলাম , কিন্তু তেমন কিছুই শুনতে পাইনি আরেকটু বিস্তারিত জানার ইচ্ছে থাকলো । ভালো থাকবেন …

    • baul98@aol.com'
      ফকির ইলিয়াস জানুয়ারী 24, 2011 at 12:08 পূর্বাহ্ন

      আপনার মন্তব্য খুব ভালো লাগলো।
      রুদ্র নিয়ে অন্য কোনো সময় লিখবো ।
      আমি এই লেখায় ভিনদেশী কবিদের কবিতার
      চিত্রকল্পের ব্যবহার নিয়ে কথা বলতে চেয়েছি।
      জীবনানন্দ দাশ কে ছোট করে দেখার কোনো চেষ্টাই
      করি নি।

  5. baul98@aol.com'
    ফকির ইলিয়াস জানুয়ারী 23, 2011 at 11:51 অপরাহ্ন

    অশেষ ধন্যবাদ

You must be logged in to post a comment Login