মামুন ম. আজিজ

সৃষ্টি এবং ধ্বংস

Decrease Font Size Increase Font Size Text Size Print This Page


একজন খুনী যদি সৃষ্টি করতে পারত তাহলে সে কখনই খুন করতে পারতনা।
তাই নাকি? বলতো পারুল , তোকে কে সৃষ্টি করেছে?
আল্লাহতায়ালা।
আবার তোকে মারবে কে? সেই একই আল্লাহতায়ালা, নাকি?
হুম ।
তাইলে বোঝ , সৃষ্টি করতে পারলেই মারা যাবেনা সে কথা মহাশক্তির জন্য সত্য নয় আর সামান্য একজন খুনী মানুষের ক্ষেত্রে কেমন করে সত্যি হয়!
বাদ দে তো ঝুমা । তওবা তওবা , পরে আবার কোন কথায় কি গুনাহ হবে।
কেনো, আলোচনাও করা যাবেনা, এত পাপের দুনিয়ায় মানুষ তাহলে পাপের সাথে ডস দিয়ে চলবে কেমন করে রে? ওত সহজ না। না বললে জানবি কি করে।
আমার জানার দরকার নেই। তুই থাক, ঐ যে পুলক আসছে, আমি গেলাম।

লাইব্রেরীর সামনে বসে এইসব কথা বলছিল দুই বান্ধবী- পারুল আর ঝুমা । পারুল তার প্রেমিকার ডাকে চলে যাবার পরে ঝুমার একটু একা একাই লাগছিল। ক্লাশ শুরু হতে আরও আধঘন্টা বাকী। কিন্তু অপেক্ষা করতে ইচ্ছে করছে না। তার উপর পারুল ক্লাশও করবেনা । বাসার পথেও একসাথে আজ আর যাওয়া হবে না দু’জনের।
‘পিরিতের ছ্যামড়া পাইছে না’ — মুখ থেকে অস্ফুট স্বরে কথাটুকু ঝুমার বের হয়েই এলো।

বিরক্তি আরেকটু বাড়তে লাগল,  আকাশের মেঘগুলোর দুষ্টুমী ভরা চেহারার দ্রুত পরিবর্তনের মাঝেও বিরক্তি উড়ে এসে লাগছে হাওয়ার ভর করে। মুখে ধুলোর স্পর্শ জানান দিচ্ছে বৃষ্টি আসবেই। ও মেঘ তেমনই রূপের। প্রকৃতি ধোঁকা খুব কমই দেয়। এই যে বৃষ্টি আসবে , হয়তো আরও আধ ঘন্টা পরে , কিন্তু জানান দিচ্ছে এখনই।

না, আর থাকা যায় না, ও এমন কোন ইমপর্টেন্ট ক্লাশনা। উঠেই গেলো। এগোতে লাগল গেটের দিকে। দু একটা রিকশা চোখে পড়ছে। খিলগাঁও যেতে রাজী হলে হয়।

ঝড়ো গতিইে হেঁটে আসতে লাগল পারুল ঠিক সেই সময়। এল যেদিক দিয়ে গিয়েছিল সে দিক দিয়েই। তার অদ্ভুত হাঁটার ভঙ্গির পানে অবাক হয়ে তাকাতেই হলো। থমকে গেলো ঝুমার।
আরেকটু কাছে আসতেই ধরা পড়ল চেহারায় এক কালো মেঘের প্রতিচ্ছবি।
কাছে আসতেই ঝুমার কণ্ঠে তাই দ্রুত যেই উচ্চারিত হলো–কি হয়েছে?
মুহূর্তে কালো মেঘ তার মুখের চোখের জল হয়ে ঝরে পড়ল। সে কি কান্না।

আরে পারুল! কাঁদছিস কেনো? মানুষ কি বলবে। চুপ কর বল, কি হয়েছে।
ওই তো ভালবেসেছিল প্রথমে, আমি কি বাসতে চেয়েছিলাম। বল , ঝুমা বল। তবে কেনো, কেনো আমাকে আজ  এই অপমান। বলে কিনা,  ‘কাল আমার বিয়ে, মেয়ে ইউএস থেকে এসেছে, সম্পর্কে কাজিন । বাসার অবাধ্য হতে পারলাম না। তুমি আমাকে ভুলে যাও।… ’
এত সহজ। আমি কি ভালবাসতে চেয়েছিলাম। তুই তো সবই জানিস। সে কত কান্ড । আমার জন্য মরতে নেমে পড়ল বিজি রাস্তায় অত গাড়ীর গতির সামনে…তার পর ঐ যে …
থাম, তুই কিছু বললিনা, শুনে চলে এলি, চল আমি যাব।
না, যাওয়ার দরকার নেই। আমি বুঝতে পেরেছি। তোর কথাই ঠিক। ওটাই সত্য।
কোনটা ?

ঐ যে বললি তখন- যে সৃষ্টি করে সে হত্যাও করতে পারে। ও ভালবাসা তৈরী করেছিল, দেখ কত সহজে কত দ্রুত ওই খুন করল সেই ভালবাসা।

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।


5 Responses to সৃষ্টি এবং ধ্বংস

  1. রাজন্য রুহানি এপ্রিল 5, 2011 at 9:21 পূর্বাহ্ন

    হুম। যে সৃষ্টি করতে পারে, সে ধ্বংসও করতে পারে নির্দ্বিধায়; যদি তার ভিতর দয়ামায়ার দায় না থাকে!
    ……….
    :rose:

  2. khalid2008@gmail.com'
    শাহেন শাহ এপ্রিল 5, 2011 at 6:24 অপরাহ্ন

    ভাল লাগল বেশ

  3. rabeyarobbani@yahoo.com'
    রাবেয়া রব্বানি এপ্রিল 6, 2011 at 3:30 অপরাহ্ন

    হুম ।আপনার লেখায় মেয়েদের মন ভাল ফুটে উঠে ।
    সৃষ্টিকর্তার ধ্বংস নতুন সৃষ্টির ইংগীত দেয় , কিন্তু মানুষের ধ্বংস তার হামবড়া ভাব স্পষ্ট করে আর অকল্যান ই আনে ।
    গল্পের এই পুরুষ চরিত্রটি আসলে নিজেকেই নিজে ধ্বংস করল ।

You must be logged in to post a comment Login