প্রমিত বাংলা বিষয়ে একটি অসম্পূর্ণ আলাপ

Filed under: হ-য-ব-র-ল |

স্কুলের ব্যাকরণ বইয়ে যখন পড়ি ভাষা কাহাকে বলে? বাংলা ভাষা কত প্রকার ও কি কি? তখনই জানতে পাই বাংলা ভাষা দু ধরনের। সাধু ও চলিত। তবে বড় হতে হতে জানতে পেয়েছিলাম আঞ্চলিক আর গুরুচণ্ডালী বলেও বাংলা ভাষার আরো দুটো প্রতিরূপ রয়েছে। তো যাই হোক, আমি যে বিষয়টি নিয়ে বলতে চাচ্ছি তা হলো বাংলাভাষার প্রমিত রূপ সম্পর্কে। স্কুল থেকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় অবধি প্রশ্নপত্রে লেখা থাকতো সাধু অথবা চলিত ভাষায় উত্তর লিখতে হবে। তারপর আস্তে ধীরে সর্বত্র চলিত ভাষাটির প্রয়োগ হয়ে উঠলো গুরুত্বপূর্ণ। সাধু ভাষা হয়ে উঠলো সেকেলে অথবা শরৎচন্দ্রের ভাষা। এখন সর্বত্রই চলিত ভাষার জয়-জয়কার হলেও ইদানীং বাংলা ব্লগের ভয়াবহ রকমের জনপ্রিয়তার কারণে এবং ব্লগারদের বিচিত্র ধরনের শব্দ ব্যবহারের ফলেই হয়তো আমাদের বাংলা ভাষার রক্ষাকর্তারা খানিকটা তেড়ে উঠে বললেন, বাংলা ভাষার চরিত্র হনন চলবে না। বিশেষ করে টেলিভিশনের নাটকে অ-চলিত ভাষার সংলাপ ব্যবহারও হয়তো বিজ্ঞজনদের শঙ্কিত করে তুলেছে। এখন  স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠবে চলিত ভাষা কোনটা বা কাকে বলে?

ছোটবেলায় বাংলা ব্যাকরণ বইয়ে জেনেছি যে, ভারতের ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের ভাষা, তথা কলকাতা অঞ্চলের বাংলাভাষী লোকদের মুখে প্রচলিত কথ্য ভাষাটিই হচ্ছে বাংলা ভাষার কথ্য বা চলিত রূপ। ভাগীরথী নদীর তীরে বা ভারতের নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, কলকাতা অঞ্চলের ভাষাটিই কেন বাংলাদেশের চলিত ভাষা হিসেবে পরিগণিত হবে? বা কেনই বা একে চলিত বা লেখ্য রূপে প্রতিষ্ঠা দিতে হবে?

বাংলার দুটি অংশ। পশ্চিম বাংলা আর পূর্ব বাংলা। পশ্চিম বাংলার মানুষরা পূর্ব-বাংলার লোকদের বলতো ঘটি বা বাঙাল। যাদের মুখের ভাষা তাদের মত অতটা পরিশীলিত নয়। তারা কেমন করে যেন কথা বলে। চাল কে বলে চাউল। মাটিকে বলে মাডি। টাকাকে বলে ট্যাহা। খেয়েছি না বলে বলে খাইসি। তা হলে না বলে বলে তাইলে। এমনি নানা ধরনের বিচিত্র আর নিজস্ব উদ্ভট শব্দে সমৃদ্ধ পূর্ব বাংলার ভাষা।

দীনবন্ধু মিত্রের সধবার একাদশী নাটকে একটি চরিত্রের মুখে আক্ষেপ শুনতে পাই, যে কলকাতায় গিয়ে বাবুদের মত অনেক কিছুই করেছে, এমনকি “মাগীর বাড়ি গেচি, ব্রান্ডি খাইচি, তবু কলকাত্তার মত হবার পারলাম না।“

এই যে কতিপয় ঘটির কলকাত্তার মতো হতে চাওয়া তা কিন্তু এমনি এমনি হয়নি। পূর্ব-বাংলার মানুষদের প্রতি আর তাদের ভাষার প্রতি যে একটি অবজ্ঞার ভাব ফুটে উঠতো কলকাত্তার মানুষদের তা থেকেই হয়তো কিছু ঘটির সে চেষ্টা ছিলো, যা সফল হয় নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও কেন কলকাত্তার ভাষা আমাদের বাঙ্গালদের জন্য চলিত ভাষা হয়ে উঠতে চাচ্ছে বারবার?

উত্তরটি খুব একটা জটিল হয়তো নয়। প্রথমে স্মরণ করা যেতে পারে কলকাতা হিশ্ববিদ্যালয়ের বানান সংস্কার সমিতির কথা। তারপর বলা যেতে পারে যে, এক সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পণ্ডিত সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়কে অনুরোধ করেছিলেন একটি বাংলা অভিধান প্রণয়ন করতে। দীর্ঘকাল সেই অভিধানের প্রভাব এবং পরবর্তী বাংলা অভিধান সমূহ একই অভিধানকে অনুসরণ করাই হয়তো মূল কারণ। বৃটিশ রাজত্বে ইংরেজ কর্মচারীদের বাংলা কথনে পারদর্শী করে তুলতে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং উইলিয়াম কেরি সাহেবের বাংলা চর্চা সহ তার প্রচলন থেকে শুরু করে তখন বাংলা শিক্ষা মুলত কলকাতা কেন্দ্রিকই ছিলো।

সে কালে শিক্ষার জন্য ভালো ছাত্র-ছাত্রীদের যেতে হতো কলকাতা। সেখানে যেয়ে তারা শিক্ষিত হয়ে উঠবার সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার কথ্য বা চলিত ভাষার প্রেমে পড়ে যেতেন। সে ভাষাতেই হয়ে উঠতেন অভ্যস্ত। যে কারণে তাদের কাছে সেই ভাষাটিকেই মনে হয়েছে আদর্শ। তা ছাড়া ১৯৪৭ সালে পাক-ভারত উপ-মহাদেশটি বৃটিশ আর এ দেশীয় ক্ষমতালিপ্সু দু মহারথী নেহেরু এবং জিন্না দ্বি-জাতিতত্ত্বের ধূয়া তুলে, হিন্দু-মুসলিমের জন্য আলাদা রাষ্ট্র বানাতে ভারত-পাকিস্তানে ভাগ করতে তৎপর হলেন। হিন্দুদের মুখে ধ্বণিত হলো, “হিন্দ-হিন্দু- হিন্দুস্তান, মুসলিম ভাগো পাকিস্তান।” অথবা মুসলিমদের মুখে, “হাথো মে বিডি মুমে পান, লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান!”

অই দুই লোভী পুরুষ ক্ষমতার স্বাদ পেতে গিয়ে দেখলেন না যে, দেশ ভাগের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ঘর-বাড়ি জমি-জমা, উঠোনই কেবল ভাগ হচ্ছে না, খণ্ডিত হয়ে যাচ্ছে মানুষের হৃদয় আর ভালোবাসাও। সেই সুবাদে পাঞ্জাব, কাশ্মীর আর বাংলার বুক বরাবর চিরে দু ভাগ হয়ে গেলেও নেহেরু আর জিন্না হয়তো সুখি হয়েছিলেন- দোর্দণ্ড ক্ষমতার অধিকারী হয়ে।

সেই সময় দেশ ভাগের ফলে পশ্চিম বাংলা ভারতে আর পূর্ব-বাংলা পাকিস্তানের অংশ হলে অনেক হিন্দু পুর্ব বাংলা ছেড়ে চলে গেলেন ভারতের পশ্চিম বঙ্গে। তেমনি পশ্চিম বঙ্গের অনেক মুসলিমও চলে এলেন পূর্ব বঙ্গে। কিন্তু ভারত হতে পারলো না শতভাগ হিন্দুস্তান, তেমনি পাকিস্তানও পারলো না শতভাগ মুসলমানের দেশ। দেশ ত্যাগীদের সেই দলে অনেক অ-শিক্ষিত বাঙালি মুসলমানের পাশাপাশি বেশ কিছু শিক্ষিত বাঙালি মুসলমানও ছিলেন। সেই শিক্ষিত বাঙ্গালি মুসলমানরা ভারত ত্যাগের সময় সঙ্গে করে যা আনতে পেরেছিলেন, তার মাঝে আরেকটি প্রধান ব্যাপার ছিলো কলকাতার পরিশিলীত বাংলা ভাষাটি। সেই মহাজনরা পাকিস্তানের বিভিন্ন উচ্চ-পদে আসীন হলেন। আসীন হলেন শিক্ষা বিভাগেও। মূলত: তখন থেকেই ভারত ত্যাগী মুসলিম পণ্ডিতরা পুর্ব পাকিস্তানের বাংলা ভাষাটির রক্ষণাবেক্ষণ আর পরিমার্জনেরও অধিকার পেয়ে যান। ফলে, কলকাতার শিক্ষা কালীন অবস্থা থেকে বুকে লালিত এতদিনকার পরিচ্ছন্ন আর পরিশিলীত বাংলা ভাষাটির বীজ বপনের জন্যও তৎপর হলেন। চাষা-ভূষোর ভাষায় কি শিক্ষিত সমাজের আলাপচারিতা জমে? সে ভাষায় কি গ্রন্থ রচনা চলে? কাজেই পূর্ব বাংলার চাষা-ভূষোদের মতোই তাদের ভাষাটিও পড়ে রইলো ক্ষেতের পাশে, বাড়ির উঠোনে, হাটে-বাজারে, স্টেশনে। কিন্তু সে প্রবেশিধাকার পেলো না শিক্ষাঙ্গনে। সেখানে আধিপত্য পশ্চিম বাংলার সেই মার্জিত ভাষাটি, যা কলকাতা অঞ্চলের ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর ভাষা ছিলো।

সেই ভাষার স্বার্থেই ফের পাকিস্তান ভাগ হলো আবার। পাকিস্তান বা ভারতের মত কেউ নিজের  মনোমতো ম্যাপের উপর দিয়ে পেন্সিলের দাগে আলাদা করে দিয়ে যায়নি বাংলাদেশকে। অনেক প্রাণ আর মর্যাদার বলীদানের ফসল এই বাংলাদেশ। আর স্বাধীনতার পর কালে কালে বাংলা একাডেমীও সে ভাষাটির রক্ষাকর্তা হয়ে উঠলো। গ্রন্থ-প্রনয়ন, পত্রিকা প্রকাশন, সব ক্ষেত্রে কলকাতার ভাষাটি প্রতিনিধি হলেও স্বদেশের মানুষের মুখের ভাষাটি রয়ে গেল অবহেলিত। এখন চারদিকে শোরগোল হচ্ছে, বাংলাভাষা শেষ হয়ে গেল। একে রক্ষা করতেই হবে। বাংলাভাষার একটা প্রমিত রূপ না দিতে পারলে পশ্চিম বঙ্গ থেকে আমদানী করা কূলীন ভাষাটি হারিয়ে যাবে বর্তমানকালের স্বেচ্ছাচারী ভাষাটির স্তুপের আড়ালে। কাজেই একে রক্ষা করতে না পারলে পূর্ব পুরুষের মান আর থাকে না। কিন্তু প্রমিত বা মান বা স্ট্যান্ডার্ড বাংলাভাষার কথা শুনে আসছি স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই হয়তো। কিন্তু আজো চোখে দেখলাম না। বাংলা একাডেমী আর বিজ্ঞজনেরা বলছেন সর্বত্র প্রমিত বাংলা চালুর কথা। অথচ বাংলার প্রমিত রূপটাই যে কী তেমন নির্দিষ্ট কিছু আজো বাংলা একাডেমী বা ভিন্ন কেউ আমাদের কাছে পৌঁছাতে পারলেন না।

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।

28 Responses to প্রমিত বাংলা বিষয়ে একটি অসম্পূর্ণ আলাপ

  1. চাষা-ভূষোর ভাষায় কি শিক্ষিত সমাজের আলাপচারিতা জমে? সে ভাষায় কি গ্রন্থ রচনা চলে? কাজেই পূর্ব বাংলার চাষা-ভূষোদের মতোই তাদের ভাষাটিও পড়ে রইলো ক্ষেতের পাশে, বাড়ির উঠোনে, হাটে-বাজারে, স্টেশনে। কিন্তু সে প্রবেশিধাকার পেলো না শিক্ষাঙ্গনে। সেখানে আধিপত্য পশ্চিম বাংলার সেই মার্জিত ভাষাটি, যা কলকাতা অঞ্চলের ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর ভাষা ছিলো।

    – এখন এই কথার কোন মূল্য আছে বলে মনে হয় না। কেননা, আমরাই ব্যর্থ হয়েছি, আমাদের ভাষার রুপ গড়ে তুলতে। তাই ওটাকে মেনে নিয়েছি। ওটাতে চর্চা করেছি। ওটাকে আমরা ভাল এবং মর্যাদাকর বলেও মেনে এসেছি। ওটার কোন দোষ নেই।

    এখন যদি আমরা আমাদের মতো ভাষা তৈরি করে সর্বজনগ্রাহ্য করে তুলতে পারি, তাই সই। কিন্তু সেটাও আমরা পুরোপরি সার্থকভাবে করতে পারছি কি? নাট্যকর সেলিম আল দীনের মত আরো অনেকে বলেছেন কয়েকদশক আগ থেকে। সফল এখনও এ বাংলা হতে পারেনি। সে কারণটা কি? তাই ভাবা উচিত বেশি করে বলে আমি মনে করি। যদি সেরকম নিজেদের একটা ভাষা সৃষ্টি সম্ভব না হয়ে থাকে এই স্বাধীন বাংলাদেশ, তাহলে সমস্যাটা কোথায় হয়ে আছে? তবে আমার মতে, রাতারাতি কোন কিছু সম্ভব না। সময়ই বলে দেবে। আমাদের নিজেদের ভাষা সৃষ্টির পথে প্রধান অন্তরায়, এত এত আঞ্চলিক ভাষা। যার কিছু কিছু আবার বেশি মানুষের কাছে দুর্বোধ্য।

    ধন্যবাদ। ভাল থাকুন। শুভ কামনা।

    shamanshattik@yahoo.com'

    শামান সাত্ত্বিক
    মে 25, 2011 at 10:47 অপরাহ্ন

    • আমরা ব্যর্থ কে বললো? :-O

      আমাদের ভাষাটা মাথা তুলতেই পারলো না! আমাদের ৬৮ হাজার গ্রামের ৬৮হাজার আঞ্চলিক ভাষা। কলকাতা তখন রাজধানী ছিলো বলে সেখানকার মৌখিক ভাষাটা গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করি। এ হিসাবে আমাদের ঢাকা রাজধানীর ভাষা ছিলো কুট্টিদের ভাষা। বার্দু জবানের ওইসব ঘোড়ার আস্তাবলের ভাষা গুরুত্ব পাওয়ার ছিলো না। আরেকটা হতে পারতো বিক্রম্পুর বা জিঞ্জিরার ভাষা। কিন্তু কোনোটাই লেখ্যরূপে শোভনীয় মনে হয় না। কাজেই কল্কাত্তাই ভাষাটা সে ক্ষেত্রে অনেকগুণে শালীন শোভন। :D

  2. দারুন পোষ্ট।সাথে দারুন মন্তব্য।রাজন্য ভাই ও আসুক।আলাপ জমুক।তর্কে তর্কে জ্ঞানটা ভালো হবে। :D
    তবে এই পোষ্ট শুধু আমার না আমার ধারনা অনেকেরই জন্য উপকারী হয়েছে।অনেকেই এই ব্যাপারে কিছু জানেন না।
    সম্পূর্ন আলাপের অপেক্ষায়।
    :rose:

    rabeyarobbani@yahoo.com'

    রাবেয়া রব্বানি
    মে 26, 2011 at 2:30 পূর্বাহ্ন

    • কেন? আপ্নের রাজন্য ভাই পাহ্লোয়ান নাকি যে, লড়াই কুস্তি ভালো পারে? নাকি ঝগড়া-ঝাটি ভালো পারেন বইল্যা তানির উপ্রে ভরসা কল্লেন?

      (আপনেরে মাইনাস। X-( আপনের অজ্ঞতা হেতু এমন একটা বিরক্তিকর লেখা লেখতাছি। আর ২ পোস্টে শেষ করতে পারি কিনা দেখি। :-( )

      • রাজন্য ভাই এর এফ বি প্রো পিক এ তে তাকে কিছুটা কুস্তিগির ই লাগে #-o
        তয় গুরুজি,
        ভুল বুঝলেন যে! উনাদের মন্তব্যে আপনার একটা উত্তর থাকবে তাতে ব্যাখ্যাটা বেরিয়ে আসবে ভালো।যেমন শামান দার বিপরীত কমেনটস এ দেখতে পাই।রাজন্য ভাই ভালো কমেনটস করবেন উনি ব্যাকরণবিদ।
        আর আমাদের জ্ঞান বাড়বে আর সংশয় কমবে।
        ক্ষমা চাই ।ভুল বুঝবেন না।কৃতজ্ঞতা আকাশ ছোয়া। ^:)^ ।
        ^:)^
        আর আমারে কথায় কথায় মাইনাস দিলে কেমনে হইবো- :-SS :-SS

        rabeyarobbani@yahoo.com'

        রাবেয়া রব্বানি
        মে 26, 2011 at 3:16 অপরাহ্ন

        • প্রথমেই বলে নিই, আমি ব্যাকরণবিদ নই মোটেও। ছিলাম হিসাবের ছাত্র, জীবনের সাথে জড়িয়ে নিলাম বাংলা-সংসার। বাংলাকে ভালোবেসে মূলত কবিতার প্রেমে পড়ে আমার এই উড়নচন্ডী যাপনের ধারায় বাংলার মহাসমুদ্রে সাঁতার দিলাম। অথৈ ঢেউ, হাবুডুবু খেলা— পানির তোড় কিছু ঢুকল নাক দিয়ে, কিছু মুখ দিয়ে; ইচ্ছা-অনিচ্ছায় এই গলধকরণ ক্রিয়া পেটে বদহজমের সৃষ্টি না করলেও আয়াসসাধ্য হয় নি হজমপ্রক্রিয়াও। বাংলার ইতিবৃত্ত উদ্ঘাটনে অনেক মহান মনীষীই সদর্পে দৌড়ে বেড়িয়েছেন মাঠপ্রান্তর, তাঁদের তুলনায় আমার এই মন্থর পায়ের কদম খুবই নগণ্য—হিসেবের মধ্যেও পড়ে না; তাঁদের দৌড়বলিষ্ঠ পা আর আমার খোঁড়া। তাঁদের বলা হয় ব্যাকরণবিদ, আমি অনুসরণকারী। আশা করি, বোধগম্য হবে সবার।
          স্কুল-কলেজে বাংলা ভাষার ইতিহাস, ব্যাকরণ সমীক্ষা সমন্ধে যা শিখেছি তা অনেকটা তোতাপাখির মতো; মুখস্থ বুলি। পরীক্ষাপাশের খাতিরে এই পাঠ ছিল অনেকটাই ভাসাভাসা, কিছু কিছু হ-য-ব-র-ল ধারার স্বপ্নকথনের মতো ধারণাপ্রসূত। এই মজা হাড়ে হাড়ে টের পাই যখন লেখা শুরু করি এবং ব্যাকরণসিদ্ধ হলো কি-না, তা যাচাইয়ের পর। আমি যেহেতু বাংলাদেশে বাস করি সেহেতু প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমীকেই মানতে হয় বাধ্যগত। কেন না, ভাষাব্যাকরণপন্ডিতদের অনেকেই ছিলেন বাংলা একাডেমী নামের নৌকার মাঝি। তাতে একা আমি নই, হাজারও যাত্রীর মুখরিত ভাষাশব্দ আর চিন্তার স্ফূরণে উজান-ভাটির সুর আকাশে-বাতসে ধ্বনিত হয়েছে এবং হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমিও তাই আশ্রয় নিয়েছি বহমান এই নৌকায়, বাধ্যগত।
          বঙ্গভঙ্গ, দ্বি-জাতি তত্ত্ব এক কৌশলী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, যা দিয়ে বাংলাকে নস্যাৎ করার নীল নকশা ছিল। গোত্র রেষারেষি, আঞ্চলিক প্রভেদ ইত্যকার বিষয় আবহমানকাল থেকেই বিরাজমান। সেই সাথে হিংসা-দ্বেষও। ভাষাকে ভৌগলিক সীমারেখায় আটকানো যায় না; মানুষকে আটকানো যায়, সেই সাথে তাদের বহন করা সংস্কৃতিকেও। যাক, ধান ভানতে শিবের গীত গাইলাম যেন অনেকটাই।
          মূল কথা হলো প্রমিত বিষয়ে যা জ্ঞানমান্য ও অভিজ্ঞ লেখক প্রিয় জুলিয়ান সিদ্দিকী ভাই এই লেখায় বিষয়টি বর্ণনা করার প্রয়াস রেখেছেন। লেখাটি কয়েক পর্বে চলবে শুনে আমিও খুশি। তাঁকে আমার আন্তরিক সাধুবাদ।
          বাংলা ভাষারীতি নিয়ে কমবেশি জানি প্রায় সকলেই। তাই এ বিষয়ে আর গেলাম না। বাংলার হাজার বছরের ইতিহাসও হাজার মাইল লম্বা আর অনুমাননির্ভর। পন্ডিতদের মধ্যেও প্রভেদ লক্ষণীয়।
          বাংলা সাহিত্যে কথ্য বা চলিত রীতির প্রচলন শুরু হয় উনিশ শতকের ‍দ্বিতীয়ার্ধের প্রথমেই। বঙ্কিমচন্দ্রগন্ডির সাধুভাষার ভারিক্কি চাল, সংস্কৃতপ্রধান প্রয়োগ আর কেতাদুরস্ত শিক্ষিত লেখকদের পন্ডিতি এই ‘সাধু’ ভাষার গতিশক্তি ক্রমেই সাধারণের জ্ঞানগরিমা-গ্রহণযোগ্যতায় শিথিল ও মন্থর হতে থাকে দিনের পর দিন। সাধুভাষা ঘোরপাক খেতে থাকে বিদ্ব্যজনদের গন্ডির ভিতরেই শুধু। আপামর জনসাধারণের ভাষা আর কেতাবি ভাষার মধ্যে শুরু হয় দূরত্ব, সৃষ্টি হয় দ্বন্দ্ব, তৈরি হয় ভিন্ন চিন্তা। পন্ডিতি গদ্যরীতির বাইরে এসে কথ্য ভাষা’র ঢঙে লেখালেখি শুরু করেন অনেক লেখকেরাই। উনবিংশ শতাব্দিতে চলিত ভাষার সাহিত্যিক রূপের প্রথম আবির্ভাব ঘটে টেঁকচাদ ঠাকুরের ‘আলালের ঘরে দুলাল’ উপন্যাস, পরে কালীপ্রসন্ন সিংহের ‘হুতুম প্যাঁচার নক্সা’র মধ্য দিয়ে। চলিত এই ভাষাটিও ছিল খাস কলকাত্তাই ভাষা। ফলে এটিও সর্বজনীনতা হারিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভে ব্যর্থ হয়। প্রমথ চৌধুরী সদর্পে বললেন, শুধু মুখের কথাই জীবন্ত। যতদূর পারা যায়, যে ভাষায় কথা কই সেই ভাষায় লিখতে পারলেই লেখা প্রাণ পায়। শুরু হলো বিতর্ক। কোন ভাষা টিকে থাকবে এই নিয়ে রীতিমতো গবেষণাও শুরু হলো। সময় যায়, চলিতের পাল্লা ভারি হয়। তৎকালীন ‘কালি-কলম’ ও ‘কল্লোল’ গোষ্ঠীর লেখকদের সঙ্গে অন্নদাশঙ্কর, বিভূতিভূষণ, তারাশঙ্কর প্রমুখ শেষটায় চলিত রীতিকে এক শক্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করেন। পরবর্তীতে এক বিশিষ্ট আসন লাভ করে এই ভাষা।
          মৌখিক বা কথ্য ভাষা আর চলিত ভাষা এক নয় মোটেও। অঞ্চলভেদে বাংলা কথ্য বা মৌখিক ভাষা বিভিন্ন হবার কারণে শব্দ ও শব্দোচ্চারণগত পার্থক্যও দেখা দেয় অনেক বেশি। ফলে চলিত ভাষার মধ্যে দেখা দেয় আরেকপ্রস্থ উদ্বিগ্নতা; এক উপভাষা-অঞ্চলের কথা আরেক উপভাষীদের কাছে দুর্বোধ্য। সেজন্যে একশ্রেণির উপভাষা সকলের গ্রহণীয় হতে পারে না। বহু বিতর্ক, আলোচনা এবং একশ্রেণির ভাষানেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্তে আসলেন যে, সমস্ত উপভাষার ভিতর থেকে কিছু মূল সুর নিয়ে সকলের গ্রহণযোগ্য একটি চলিত রীতির যা লেখ্যরূপে সকলের মান্য। বেশিরভাগ শিক্ষিত জনসমাজে ব্যবহৃত এরকম মার্জিত কথ্য ভাষার মান্য ও স্বীকৃত রূপ হলো প্রমিত চলিত ভাষা। রবীন্দ্রনাথ তাঁর পরিণত বয়সের রচনায় এ চলিত ভাষাকেই স্থান দিয়েছেন।
          ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মত হলো, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গে ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী স্থানের ভদ্র ও শিক্ষিত সমাজের ব্যবহৃত মৌখিক ভাষা, সমস্ত বাঙ্গালাদেশের শিক্ষিত সমাজ কর্তৃক শ্রেষ্ঠ মৌখিক ভাষা বলে গৃহীত হইয়াছে। এই মৌখিক ভাষাকে বিশেষভাবে ‘চলিত ভাষা’ বলা হয়ে থাকে। আর চলিত ভাষায় কথ্যরূপে আমরা যে ভাষা ব্যবহার করি, লেখার সময় তা হুবহু ব্যবহার না করে লেখার যে রূপটি আমরা ব্যবহার করি সেটাকেই প্রমিত চলিত ভাষা বলে আমি জানি।
          জুলিয়ান ভাই ঠিকই বলেছেন, ভাগীরথী নদীর তীরে বা ভারতের নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, কলকাতা অঞ্চলের ভাষাটিই কেন বাংলাদেশের চলিত ভাষা হিসেবে পরিগণিত হবে? বা কেনই বা একে চলিত বা লেখ্য রূপে প্রতিষ্ঠা দিতে হবে?
          আমার মনে হয় এই চিন্তার উদ্ভব বর্তমানের। তখনকার পরিবেশ আর অখন্ড ভৌগলিক ব্যবস্থার কারণেই চলিত প্রমিত রীতির সৃষ্টি। দেশভাগ, ভৌগলিক সীমানা নির্ধারণ আর আচারে সামান্য পার্থক্যের কারণে সামগ্রিক ভাষাচেতনা বিলুপ্ত হবার নয়। ভাষা তো নদীর মতোই প্রবহমান। অতীতে বাংলার রূপও এমন ছিল না, ক্রমাগত কালের মিশ্রণ আর মানুষের কালাকানুন যোগ-বিয়োগ হয়ে আজকের এই পরিস্থিতি। একটি নিয়ম না জানা থাকলে ব্যতিক্রম নিয়ম সৃষ্টি অসম্ভব। তাই আমি মনে করি— একটিকে মূল সূত্র ধরেই এগিয়ে যেতে হয়, নিয়মের মধ্যে থেকেই নিয়ম ভাঙতে হয়। ব্যতিক্রমী ধারা সর্বজনীনতা পেলে টিকে থাকে, নয়তো কালের স্রোতে হারিয়ে যায়। অনুসরণ আর অনুকরণ যেমন এক নয়, তেমনই স্বকীয়তা আর স্বতন্ত্রতা এক হবার কথা নয়। অনুসরণ করে স্বতন্ত্রতা তৈরি করা যায়, অনুকরণ করে স্বকীয়তা বজায় রাখা যায় না। তাই স্বকীয়তাবোধ আর গবেষণালব্ধ কর্ম স্বতন্ত্রতা তৈরি করতে পারবে আমাদের গোটা ভাষা-সাহিত্য ও সংস্কৃতির, এ বিষয়ে আমি নিঃসন্দেহ।
          …………..
          জুলিয়ান ভাই একটি ভালো-গুরুত্বপূর্ণ-শেখার বিষয় নিয়ে শুরু করেছেন, চলুক। জানি-শিখি। কেন না, আমি মনে করি— শেখার অন্ত নেই, জানারও।
          ………….
          লেখার জন্য :-bd
          আপনার জন্য :rose:

          রাজন্য রুহানি
          মে 27, 2011 at 11:36 পূর্বাহ্ন

          • @রা.রা খানের রাজন্য ভাই
            নিয়মের ভেতর থাকলে তো এতটা সমস্যা হতো না। যাই হোক, বড়দের ব্যাপার বলে কথা। সুচিন্তিত মতামতের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

            অ.ট. রাবেয়া তার পাহ্লোয়ান ভাইয়ের জন্য গর্ব বোধ করতেই পারে। আমি একটুও ঈর্ষা করবো না। :D

        • রাগ না কইরা থাকন যায়? এই লেখাটা আমারে মাইরা ফেলতাসে। নেটে তো এত কিছু পাওয়া যায় না। বাঙ্গাল যে এখনও বাঙ্গাল আছে তা হাঁড়ে হাঁড়ে টের পাইতাছি। দেশে থাকলে এতোটা ঝামেলায় পড়তে হইতো না। এখন ভাবচেছি বেশি ডিটেইলে যাওয়ার সাধ থাকলেও সেই সুযোগ নাই। মালামালের (উপাত্ত) বড্ড অভাব বোধ করতেছি। যে কারণে এসমস্ত লেখা থাইক্যা দূরে থাকতে চেষ্টা করি।
          তবে আপনারে ধন্যবাদ জানাইতেই হয় এ কারণে যে, আপনার কমেন্টে উসকানী ছিলো। :rose:

  3. চমৎকার এবং একটি জটিল বিষয়, ভাই,
    :-bd :rose: %%-

    mannan200125@hotmail.com'

    চারুমান্নান
    মে 26, 2011 at 6:05 পূর্বাহ্ন

  4. সত্যি ভাষার অন্তরিক্ষের বিষয়গুলো আমাদের কাছে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। আমরা বুঝে অথবা না বুঝে ভাষার বিন্যাস করছি। অনেক কিছু আমাদের অজান্তে গুলিয়ে যাচ্ছে, অনেক কিছু আবার আমরা না বুঝে প্রয়োগ করছি। আসলে ভাষার সঠিক বিন্যাস সমন্ধে আমাদের যেমন ভালো শিক্ষা নেই, তেমনি আমাদের জানা নেই আমরা কিভাবে বিষয়গুলো সহজ ভাবে জানতে পারি, কিংবা ধরে রাখতে পারি রচনার শিল্পগুণ বজায় রাখতে। ভাষার প্রয়োগ আর রক্ষনা-বেক্ষনের ব্যাপারে আমার যে অভিমত তা হল এই, আমাদের আসলে কোন পথটা ধরে রাখা উচিত আর কোনটা এড়িয়ে চলা উচিত এই ব্যাপারে যথাযথ বোধগম্যতা সৃষ্টিতে সহায়তা করা এবং তা বিস্তারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করা।

    ভাষার বিষয়টি সুস্পষ্ট ধারনা বিস্তারে এই ধরনের লেখা গুরুত্বপূর্ন।জুলিয়ান সিদ্দিকী ভাইয়াকে এই লেখার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।আমার বিশ্বাস সকলের আলোচনা থেকে আমরা ভাষা সমন্ধে অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চার করতে সমর্থ হব।
    :rose: :rose:

  5. খুব ভালো লাগলো দি`মতের কিছু পাইনি সহমত সহমত সহমত , একটা প্রশ্ন ছিলো স্যার কি বাংলা পড়াতেন নাকি ?
    পরের লেকচারের অপেক্ষায় আছি !

    imrul.kaes@ovi.com'

    শৈবাল
    মে 26, 2011 at 4:46 অপরাহ্ন

  6. শৈলী পোস্টটিকে “শৈলী এক্সক্লুসিভ” মর্যাদা প্রদান করল।

    শৈলী
    মে 28, 2011 at 1:49 পূর্বাহ্ন

  7. আসলেই জটিল বিষয়।
    কালকেই এক কবি বন্ধু প্রতীম বলছিল, ভাইয়াম আপনি তো প্রমিত বাঙলা রীতি খুব একটা মানেন না গল্প লেখায়।
    আমি বললাম , কেমন, বলল- এই যেমন আপনি কাজটা লেখেন কাজ টা , টা খানা একসাথে লেখাটাই প্রমিত বাঙলা রীতি। …………..
    ………
    আমি ব্যক্তিগত ভাবে এইকানে দূর্বল। স্বাধীনতাগুলোর এত এত বছর পরেও ভাষা রীতি নির্ণয়ের চিন্তা করতে হয বলেই এ ভাষা এত ভার্সেটাইল আর সে কারনেই সাহিত্যিকগণ নিজস্ব স্টাইল তৈরীর চেষ্টা করে গেছেন বলেই আমার মনে হয়। …
    কলকাতার যে রীতি সেখানে লেখা আর বলার মধ্যে যে পার্থক্য দেখি সেটা আমাকে সংশয়বাদী করে তোলে- আমরা বেশী রীতি তৈরী করতে গিযে বলার আর লেখার মধ্যে বিস্তর তথাৎ করে ফেলবো না তো।
    কলকাতার স্টাইলে একটা উদাহরণ —তারা লেখার সময় লিখছে, এরকম আর উচ্চারণকালে বলছে– এরম।

    • আমরা বেশী রীতি তৈরী করতে গিযে বলার আর লেখার মধ্যে বিস্তর তথাৎ করে ফেলবো না তো।

      একমত মামুন ভাই।
      আমার পশ্চিম বাংলার ভাষাও ভালো লাগে আমাদের টাও।তবুও যখন এফ বি তে আর ব্লগে দেখতে পাই অনেক ভালো লেখকরা (সবসময় মানে ভুলেও এই শব্দগুলোর হের ফের হবে না)পানি কে জল আর ভাই কে দাদা ,সালাম কে নমস্কার বলে ভাষার বনেদীয়ানা পোক্ত করছে। :D ।অবাক হই।কারন এটা তো অঞ্চলের প্রভাব হবার কথা।যারা এটা আঞ্চলিক বা জন্মগত ভাবে অর্জন করেছে তাদের মুখে শুনতেও ভালো লাগে।কিন্তু দেশি আঞ্চলিক কিছু শব্দ বর্জন অর্থে ত্যাগ করলে খারাপ লাগে বলব না অবাক লাগে আমার।এখানে যা জানার তা হলো বনেদী শব্দ কি?
      (আমার কমেন্টস এ কোন বিদ্বেস নাই যাস্ট জিজ্ঞাসা।:D)

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      মে 28, 2011 at 7:26 পূর্বাহ্ন

      • জল আর নমস্কার ব্যাপারটা ধর্মীয় বোধের কারণে হয়। আবার অনেকেই সচেতন ভাবে জল বলতে আর লিখতে অভ্যাস করছে।

        আরেকটা হচ্ছে পারিবারিক সংস্কার। ছোটবেলে থেকে পানি বলে যার অভ্যাস সে চট করে জল বলতে পারবে না। জলের বা দাদার ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার।

  8. জাদুঘরে আসাদের শুকিয়ে যাওয়া রক্তাক্ত সার্ট দেখে…খারাপ লেগেছিল। ‍এই রক্তই আমাকে স্বাধীন ভাষা দিয়েছে। যে ভাষার জন্য যার বুক থেকে এই রক্ত ঝরেছে সে কি জানতো না মরে গেলেই সে আর এই ভাষা বলতে পারবে না। অবশ্যই জানতো। তবুও……………………..
    প্রাণ ‍দিয়েছে। কাদের জন্য ? এই আমার জন্য ! আমাদের জন্য ।
    এত ভাষার কথা, এত ব্যাকরণের কথা। তাদের কথা কই ???
    হাইরে ব্লগ ! বাংলা ব্লগ! বাংলা ভাষার ব্লগ ।
    ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যালকে ফাঁকি দিয়ে শুধু কিছু লেখা আর মন্তব্যই প্রকাশ করতে পারো….
    পারো না অনাহারী পথশিশুর মুখে একবেলা অণ্য তুলে দিতে !!! আরো অনেক কিছু পারো না।
    পারো শুধু ———-(ড্যাশ),———–(ড্যাশ) চর্চা করতে

    >-) হা……হা…..হা..হা..হা…হা……হা…হা..হা…………হা..হাহাহাহাহা…..হাহাহাহা..হা
    লেখার জন্য
    সিদ্দিকী
    ভাইকে :rose: :rose:

  9. দুর্দান্ত
    আমি লেখার বিষয়ে ব্যাকরণের কিছুই বুঝিনা। তবে এখন থেকে বুঝতে হবে।

  10. ভাইজানের কথার বিরুদ্ধাচড়ন করার মত কোন যুক্তি সঙ্গত কারণ নেই। এ ব্যাপারে আমার কিছু অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা পোস্ট লিখতে বাধ্য করলেন।
    বাস্তব সম্মত এই পোস্টের জন্য ধন্যবাদ জানালে অনেক ঘাটতি থেকে যায়। তাই কষ্ট করে লেখার জন্য এক কাপ গরম চা ~O) আর ভাবনার জন্য এক গোছা লাল গোলাপ ব্র্যান্ডের :rose: :rose: :rose: শুভেচ্ছা।

  11. ভালো লাগলো। শুভেচ্ছা জুলিয়ান ভাই।

  12. অনেক কিছু জানা হল এই পোষ্টের দ্বারা।
    অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা নিরন্তর।

    মামুন
    ডিসেম্বর 2, 2014 at 2:48 পূর্বাহ্ন

You must be logged in to post a comment Login