অণুগল্পঃ-একনগর ফানুস

বিষয়: : অণুগল্প,সাহিত্য |

একনগর ফানুস


ঘরে নীলচে আলো জ্বলছে।সোফায় পা ছড়িয়ে আঁধশোয়া হয়ে আছেন রাশেদ সাহেব। প্রায় শব্দহীন টিভিটিতে চলছে হিন্দি গানের দৃশ্য।টিভি থেকে চোখ না সরিয়েই তিনি হাল্কা স্বরে ডাকলেন,
-তোফাজ্জল সাহেব!
নীল সার্ট, সাদা টাঈ পড়া একটা পেট মোটা লোক তৎক্ষনাৎ ঘরে ঢুকে গেল। মুখে তেলতেলে ভাবটা আরো তৈলাক্ত করে বলল,
-স্যার! কাজ শুরু করব স্যার?
-হুম।
-এক পেগে কয়টা আইস দিব স্যার?
-একটা। আপনি এক কাজ করুন তোফাজ্জল, তিন পেগ একবারে রেডী করে চলে যান।
-জি স্যার। স্যার টাকাটা যে দিতে হবে।
-কত?
-সাড়ে-তিন হাজার টাকা স্যার।
জনাব তোফাজ্জল টাকাটা নিলেন। বিদুৎ গতিতে তিন পেগ সোনালী পানি তৈ্রি করে রাশেদ সাহেবের সামনে রেখে আবার ঘরের বাইরে গিয়ে দাঁড়ালেন। তৃষ্ণার্তের মত প্রথম চুমুকটা দিতেই মুখ বিকৃত করে ফেললেন রাশেদ সাহেব। পর পর আরো দু-চুমুক খেয়ে তিনি বাজখাই কন্ঠে ডাকতে লাগলেন,
-তোফাজ্জল।এই তোফাজ্জল!
জনাব তোফাজ্জল এবার একটু হেলেদুলে ঘরে ঢুকলেন।একটু দুর থেকেই হাত কচলে বললেন,
-জি স্যার।
-তুমি শালা এটা কি জিনিস দিয়েছ। এত ধরলো কেন?
-তাহলে স্যার আর না খেলেন আজ।।
-খাবো না তো কি করব? মাল ছাড়া সারা রাত যাবে নাকি!এটা কোথা থেকে এনেছ?
-আপনি যেখান থেকে আনতে বলেন সেখান থেকেইতো। আর ঐ একি ব্রান্ড। স্যার কি বোতলটা দেখবেন?
-রাখ তোমার বোতল। যত্তসব স্টুপিড এসে জোটে।
জনাব তোফাজ্জল আর দেরি না করে ঘর থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। একটু পর আবার তার ডাক পড়ল। এবার আরো দেরিতে ঘরে ঢুকলেন জনাব তোফাজ্জল। একটু বিষন্ন মুখেই দুর থেকে বললেন,
-জি স্যার।
-ওই হারামজাদা এইটা কি আনছিস রে।তিন পেগ পড়তেই হাত-পা নাড়াতে পারছি না।
-স্যার তাহলে উপরে চলে যান। আর খেতে হবে না।
-তুই আমাকে শিখাস খেতে হবে কি না হবে!আরো তিন পেগ বানিয়ে দিয়ে চলে যা। এই বাড়ির ত্রিসিমানায় তোকে যেন আর না দেখি।
রাশেদ সাহেবের গালাগালে জনাব জনাব তোফাজ্জল পিঠ পেতে দিলেন। আরো তিন পেগ বানিয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসলেন। গাড়ি বারান্দায় এসে সেও রাশেদ সাহেবের মত বাজখাই স্বরে ডাকতে লাগলেন,
-সোহেল!এই সোহেল।
টাঈট জিন্স আর টি-সার্ট পড়া একটা ছেলে প্রায় দৌড়ে এল।
-জি স্যার।
-স্যারকে উপরে নিয়ে যেতে হবে। নেশা ধরে গেছে মনে হচ্ছে।
-এত তাড়াতাড়ি!কিন্তু বেশি নেশা ধরলে ম্যাডামতো উপরে উঠতে দিবেন না।
হঠাৎ জনাব তোফাজ্জল সোহেলের একটু কাছ ঘেসে ফিসফিসিয়ে বললেন,
-কি মাল আনছো মিয়া? ধাগ বেশি।
-আরে কি কন স্যার !আমি এক নম্বর জায়গা থেকে আনছি। মেড ইন বাংলাদেশ আর কি; তাই একটু ইয়ে মানে…
-হুম।
-স্যার দামটা দিতে হবে তো।
-কত যেন?
-দুই হাজার।
-মিয়া ইয়ার্কি কর? দুই-নাম্বার মাল দুই হাজার!
-স্যার মিছা কইলে নিজের মাথা খাই। তাছাড়া কালার আর গন্ধ দেখছেন? একদম ডুপ্লিকেট। স্যার টাকাটা দেন নিজের পকেট থেকে নিজে গিয়া নিয়া আইছি।আমি ছোট ভাই, এক-দুইশো টাকাতো লাভ করমুই তো।
তোফাজ্জল সাহেব এদিক ওদিক তাকিয়ে টাকাটা বের করে দিয়ে চলে গেলেন। সোহেল শীষ দিতে দিতে টাকাটা টাঈট জিন্সের পকেটে গুজতে থাকে।সে এই মূহুর্তে রাশেদ সাহবের ঘরে যাবে কি যাবে না ঠিক করতে পারছে না।হঠাৎ তাকে দাঁড়োয়ান হাঁক দিয়ে বলল,
-সোহেল সাব একজন আপনারে ডাকে।
-ভেতরে আইনো না। আমি আসতাছি।
একটা হাড় জিড়জিড়ে বুড়ো গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। সোহেলকে দেখতেই সে পান খাওয়া লাল দাঁত দেখিয়ে একটা বিরাট আকারের একটা হাসি দিল কিন্তু সোহেল তাতে খুশি হল না।তাকে নিয়ে একটু দুরে গিয়ে ঝাঝালো কন্ঠে বলল,
-বাড়ির সামনে ঘুরঘুর করতাছ কে হরিপদ? তোমারে না কইছি বাড়ির আশেপাশে আসবা না। আমিই গিয়া দিয়া আমু। তোমরা ছোটলোক মেথর তাই কথার দাম দাও না।
-কি বোলেন যে বাবু। ছেলে-মেয়ে লিয়ে দুটো রোটি খেতে পাইনা। টাকাটা লিয়েই চলিয়া যাব।
-কত হইছে জানি?
-ছক্কাল ছক্কাল ইতো বলে গেলাম পন্দারোছো টেকা। দিয়ে দিন না বাবু বাজার লিয়ে যাইতে হবে।
সোহেল আশেপাশে তাকিয়ে গুনে গুনে সাতশো টাকা হরিপদের হাতে দিয়ে বলল,
-নে। সাতশো টাকা রাখ। এইটাই বেশি দিছি আর কোন কথা কবি না।
-নেহি বাবু। বাকি টেকাটা দিয়ে দিন। বহুত বড়া পরিবার,পেট জিয়াদা।
হরিপদের চাপাচাপিতে সোহেল তার মানিব্যাগ থেকে খুচরা আড়াইশো টাকা বের করে হরিপদের হাতের মুঠিতে টাকাটা গুজে দিল,
-আর একটা আওয়াজ করবি না বুইড়া। চুপচাপ রাস্তা মাপ।
হরিপদ মুখ ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে কিছুক্ষণ পেছন থেকে অনুরোধ করতে থাকে সোহেলকে। তারপর চোখের আড়াল হতেই একটা কুৎসিত গালি দিয়ে হাটতে থাকল। নিজেকে এখন রাজার মত লাগছে তার। ঘরে না ফিরে গিয়ে পিয়ারির ঝাপরিতেই আজ রাতটা কাটাটে পারে। ভাবতে ভাবতে বড়রাস্তা পাড় হয়ে চিকন গলিটাতে ঢুকতেই তার কাধে শক্ত করে চাপড় পড়ল,
-কি অল্ড ম্যান!টাকাটা দিতে আমার ঘরে যাওয়ার কথা ছিল না?
হরিপদ আমতা আমতা করতে করতে থাকে।
-ছাব। টেকাটা এখনো পাইনি। কাল যাকে লিয়ে আসবো। আপকো ভী দিয়ে আছবো।
-শালা মাউড়া। তোর হাড্ডি-গুড্ডি গুড়া করে টুথ-পাওডার বানিয়ে ফেলবো কিন্তু। আমার সাতশো টাকা দে চুপচাপ।
ল্যাম্পপোষ্টের ম্লান আলোয় নিরবকে একটু দেখে নেয় হরিপদ। তার যতটুকু মনে হয় ছেলেটা বড়লোকের ঘর তাড়ানো,তার উপর গাজাখোড়। এর শরীরের জোড় তার চেয়ে কমই হবে।এক ঝলক দেখেই আর অনুনয় বিনিনয় না করে একটু জোড়ই দেখায়,
-বলাতো সাব কাল লিবেন। আপকা হাত উঠাতো মেরা ভী উঠেগা।
মুখের কথা শেষ না হতেই পেটের কাছে ধাতুর ঠান্ডা নলটার পরশে তোতলাতে থাকলো হরিপদ।
-আসলেই টেকা আজ পাই নি বাবু। ঠিক আছে পকেটে যিতনা হ্যায় তাই লিয়ে যান।
হরিপদ পকেট থেকে খুব কায়দা করে পাঁচশো টাকা বের করে।নিরবের পুরিয়া নেয়ার সময় হয়ে গেছে। তাই আপাতত সে কিছুটা সন্তুষ্ট হয়েই আর কথা বাড়াল না। হাত উঁচিয়ে বলল,
-ঠিক আছে আমি কাল এসে বাকিটা নিয়ে যাব আঙ্কেল।
হরিপদ অন্যমনস্কক মাথা নাড়ে।সে বাকি সাড়ে চারশো টাকা দিয়ে বাসায় যাবে না পিয়েরির ঝুপরিতে যাবে ঠিক করতে থাকল। আর নিরব দ্রুত পায়ে ছুটতে থাকল সামনের বস্তির দিকে। একই রকম চেহারার ঝুপরি হতে বিশেষ ঝুপরিটা চিনে নিতেই আরো দ্রুত প্রায় দৌড়ে ঢুকে যায় ভেতরে।ঘরের ভিতর কুপির ম্লান আলো জ্বলছে।কিছু লোক ছড়িয়ে ছিটিয়ে যে যার কাজে ব্যস্ত।মাঝ বয়সী একলোকের দিকে নিরব টাকাটা ছুড়ে দিয়ে বলল,
“চারশো টাকা তোমার মালের দাম।বাকি টাকা ভাঙ্গতি করে আমার পুরিয়া দাও”।
নিজের পুরিয়াটা বুঝে নেয়ার আগেই সে আর একজনের হাত থেকে একটা নিয়েজোর টান দিল। অপরিচিত মুখটি তাতে রাগ না হয়ে খুব পরিচিত একটি হাসি দিল।হাসিটা তাকে ভাবালো না।দূর্ভিক্ষের ক্লিষ্ট মানুষের মত নিজেরটা তাড়াতাড়ি শেষ করে বাইরে এসে দাঁড়াল। সাথে সাথেই তার পাশে ছায়ার মত এসে দাঁড়াল সেই অপরিচিত মুখের ছেলেটি। নেশার আমেজে এবার সে হাসিটা ফিরিয়ে দিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ল। অপরিচিত ছেলেটিও খুব সাবলীলভাবে পিছু নিল।রাতের মেঘহীন আকাশে পূর্নিমার ঝকঝকে চাঁদ।ছড়ানো ছিটানো অল্পদুয়েক তারা।ল্যাম্পপোষ্টের আলোয় নিজের ছায়ার খেলা দেখতে দেখতে হঠাৎ সে থেমে দাঁড়াল। উত্তেজিত ভাবে হাত উঁচিয়ে অচেনা ছেলেটিকে বলতে লাগল,
-ওই যে! আমার হৃদয় পৃথিবী ছেড়ে উড়ে গেল।একটা বেলুনের মত, দুরন্ত শকুনের মত।ওই যে!
ছেলেটির মুখও বিস্ময়ে হা হয়ে গেল। সেও হাত উচিয়ে উচ্চস্বরে চিৎকার করতে লাগল,
-হ্যা ওই তো! ওই তো ঊড়ে গেল।

……………………………………………………………………………………………………………

(বিঃদ্রঃ- নিরবের উচ্চারণ করা এই লাইনটি “আমার হৃদয় পৃথিবী ছেড়ে উড়ে গেল।একটা বেলুনের মত, দুরন্ত শকুনের মত।ওই যে”!
জীবন আনন্দ দাশের হাওয়ার রাত থেকে ।)
এটা আমার লেখা প্রথম অণুগল্প।চর্চা শুরু করলাম।:)

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।

35 টি মন্তব্য : অণুগল্পঃ-একনগর ফানুস

  1. অভিনন্দন , আশ্চর্যজনক । সত্যিই আপনি পারেন …

    imrul.kaes@ovi.com'

    শৈবাল
    জুন 25, 2011 , 5:03 পূর্বাহ্ন

  2. চেষ্টায় কী-না হয়, আপনি তার জাজ্বল্য প্রমাণ। প্রতি পদক্ষেপে উত্তীর্ণ হবার মন্ত্রণা নিয়েই বোধকরি ছুটছেন পথ; লেখকের জন্য এটিই আশাব্যঞ্জক, সফলতার সিঁড়ি বেয়ে ওঠা। অভিনন্দন; অব্যাহত প্রচেষ্টা সাফল্যের নিয়ামক।
    শুভ হোক।

    রাজন্য রুহানি
    জুন 25, 2011 , 5:38 পূর্বাহ্ন

    • ধন্যবাদ আমাদের প্রিয় শৈলার, কবি রাজন্য ভাই।আমার চেষ্টায় আপনার শুভ কামনাই অনেক।ভালো থাকবেন।তবে আমি অনেক কম লেখা পড়েছি।সব চেয়ে পড়েছি হুমায়ুন আহমেদ।তার লেখার প্রভাব থেকে দূরে থাকি।আর নিজের অবসরে লিখি তাই পড়া আসলেই কম হয়।এবার পড়ার চেষ্টাটাও করতে হবে।দোয়া রাখবেন।ভালো থাকবেন।

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      জুন 25, 2011 , 6:05 পূর্বাহ্ন

      • ………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………….. :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: এক্সক্লুসিভ শুভেচ্ছা :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: :rose: :rose:

        রাজন্য রুহানি
        জুলাই 10, 2011 , 5:47 পূর্বাহ্ন

  3. দারুন!!! গতির অনুগল্পটি,চতৎকার :-bd :rose: %%-

    mannan200125@hotmail.com'

    চারুমান্নান
    জুন 25, 2011 , 8:16 পূর্বাহ্ন

  4. এ গল্প বাস্তব জীবনের নৈমিত্তিক ঘটনাপ্রবাহ, যা প্রদীপের দীপ্ত শিখায় গল্পকারের লিখনিতে দীপ্তমান।
    :rose: :rose:

  5. ইহা অনুগল্প না ইহা ছোট গল্প হইছে মনে হয়। । …..
    দিদি জুলিয়ান ভাই আপনার বড় গল্পে আপনাকে বড় গল্পের লেখক বলেছেন তাই কি এটা তার প্রতিউত্তর………..দারুন দেখাইলেন, নেশা আজকাল এত বেশী সহজলভ্য চারপাশে কি আর বলব….সেই বিষয় দিয়ে ছোট গল্পের সূচনা আপনার , আপনার কল্পনা সূদূঢ় থেকে দিগন্ত প্রসারি….

    • ইহা ছোটগল্প না অণুগল্প এটা কমেন্টস থেকেই বুঝতে চেষ্টা করছি । আপনার কথাটা ভাবছি ।সাহিত্যের নিয়মে আমার জ্ঞান কম ।আমি ছোটথেকেই মানুষের আচরণ আর বৈশিষ্ঠ্য বুঝতে আগ্রহী ।আর এটুকু ই পুজি ।
      জুলিয়ান ভাই একে আমার গুরু তার উপর ভাই ।উনার চমত্‍কার ব্যাখ্যায় বুঝলাম ব্রাশ নির্বাচন করাটা জরুরী ।অনুভব লিখে নিজের ভেতর কি যেন দ্বন্দ কাজ করছিল ।উনার কমেন্টস টা আমি পড়ি ভোর ছয়টায় । আর তখনি বুঝতে পারি সমস্যাটা কোথায় ।সেটা আমার চর্চায় আর চেষ্টায় ।তখনি লিখি গল্পটা ।এটাকে যদি জবাব ধরেন তবে এটা নিজেকে নিজে দিলাম । আপনার লেখাও আমাকে উত্‍সাহিত করে ।আর সব লেখায় আপনাকে পাই সেটা অনেক বড় কথা ।ভালো থাকবেন দাদা ।

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      জুন 25, 2011 , 4:44 অপরাহ্ন

  6. ভালো লাগছে এই ভেবে যে আপনার লেখায় ফুল ফুটছে

    roy.sokal@yahoo.com'

    অরুদ্ধ সকাল
    জুন 25, 2011 , 2:48 অপরাহ্ন

  7. গল্প নিয়ে যদি বলি তাহলে বলা যায় গল্প জিনিসটা অনেক রকমের হতে পারে আপনার লেখা গল্পটা অনুগল্প হলেও এর বিস্তৃতি অনেকখানি। যদিও খন্ড খন্ড আকারে চরিত্রগুলো ছড়িয়েছে গল্পের জমিনে সে ক্ষেত্রে পাঠক হয়তো আরো একটু আশা করতে পারে তবে এখানে যে কথাটি আসে তা হলো অনুগল্প এমন টাইপেরই হয় তাই এই গল্পে এর চে বেশি আশা করা যায়না।
    এখানে নেশার জগতের বর্ণনা ভালো লাগলো আর আমাদের সমাজে এরকমই তো হচ্ছে হরদম এই বিষয় নিয়ে লেখার জন্য শুভেচ্ছা
    আপনার প্রথম লেখাটা অন্য আর দশটা লেখার চেয়ে ভালোই হয়েছে আপনার চেষ্টা যদি চলতে থাকে তাহলে আমরা আপনার হাত থেকে আরো ভালো কিছু পাবো। আপনার লেখনি, বর্ণনা , স্টাইল আমার কাছে ভালোই লাগলো।

    এখন আপনার হঠাত ভুতে পাওয়া রোগে না ধরলেই হলো তাহলে আশা করছি নিয়মিত আপনার গল্প পাবো।

  8. আমি তো আগেও আপনার লেখা পড়েছি কিন্তু চর্চা শুরু করার কথা বলছেন কেন? লেখা ভালো হচ্ছে এগিয়ে যান। আরো প্রাণবন্ত, হৃদয়ছোঁয়া লেখা লিখুন। ধন্যবাদ।

    novelistzillur@gmail.com'

    জিল্লুর রহমান
    জুন 26, 2011 , 7:01 পূর্বাহ্ন

    • ওগুলো চর্চা হিসাবে লেখিনি চেষ্ট ছিল । আর এগুলো চর্চা ।:-D ।সময় নিয়ে পড়েছেন বিস্মিত আর কৃতজ্ঞ ।শুভ কামনা ।

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      জুন 26, 2011 , 12:14 অপরাহ্ন

  9. এককথায় বলবো, অপূর্ব একটা লেখা। যেভাবে শাখা-প্রশাখায় বিস্তার ঘটিয়েছেন অপূর্ব না বলে উপায় নেই। আপনি দেখছি, এক শ্রেণীর মানুষের জীবনের এই দিকটির বেশ ভালই খোঁজ নিয়েছেন এবং চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। অভিনন্দন।

    আপনার আগের বড় গল্পটা পড়ে ফেলেছিলাম আগেই। মন্তব্য হয়নি। একসময় মন্তব্য করে আসবো। ভাল থাকুন।

    shamanshattik@yahoo.com'

    শামান সাত্ত্বিক
    জুন 28, 2011 , 12:37 পূর্বাহ্ন

    • মানুষ বুঝতে চাওয়াই নেশা।সাহিত্য জ্ঞান খুব কম।এটা বার বার স্বীকার করি।তবে জানা উচিত এটাও বুঝতে পারছি।
      আপনার পর্বটি তো শেষ হয় নি আগেই দৌড়ে বেড়ানো কেন?
      এই ব্যস্ততা মাড়িয়ে পড়ে গেলেন গল্পটি অনেক কৃতজ্ঞতা।সালাম আর শুভ কামনা।
      :rose: :rose:

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      জুন 28, 2011 , 3:10 পূর্বাহ্ন

  10. প্রথম অনুগল্পে আপনার সপ্রতিভ উপস্তিতিতে মুগ্ধ হলাম। সম্পুর্ন ভিন্ন চিন্তা আমাকে মুগ্ধ করলো

    pasha0191@yahoo.com'

    পাশা
    জুন 28, 2011 , 8:59 পূর্বাহ্ন

    • অনেকদিন পর এলেন। :-) ।পড়ার জন্য কৃতজ্ঞতা পাশা।ভালো থাকবেন। নিয়মিত হবেন আশা করি।পোষ্ট করবেন।শুভ কামনা। :rose: :rose:

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      জুন 29, 2011 , 3:14 পূর্বাহ্ন

  11. আমার মনে হচ্ছে এটা রাবেয়া রব্বানির লেখা হলেও লেখকের স্বকীয়তা অনুপস্থিত।

    • আপনাকে সম্মান।
      হ্যা ভালো মন্দ সব বলতে পারেন।কিন্তু স্বকীয়তার কথা না।কক্ষনো না।আমি অতি ক্ষুদ্র লেখক তবে অনুপ্রাণিত বা ধার করা লেখা লেখি না।যদি মিলে গিয়ে থাকে তা আমার অজানা বা কাকতাল। এই ব্লগে প্রথম থেকে আপনার সাহচার্যে থেকেছি।শিখতে চেয়েছি।স্বকীয়তার প্রশ্নে একটু বিব্রত আর কষ্ট ই পেলাম।কিছুটা আশ্চর্য ও।
      আমাকে ক্ষমা করবেন।ভালো থাকুন।

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      জুলাই 1, 2011 , 2:45 অপরাহ্ন

  12. কী বুঝলেন কে জানে।

    অনুপ্রাণিত বা ধার করা লেখা লেখি না।

    -এইটা কোন অর্থে কইলেন তাও ধরতে পারলাম না। তবে এইটা বুঝলাম আপ্নের লেখার সমালোচনা করা যাবে না। সামান্যতে যে লেখক কাইন্দা ফালায় সে কঠিন সমালোচনার মুখে লেখালেখি ছাইড়া দিবে সন্দেহ নাই। ভালো থাইকেন। :rose:

  13. শৈলী গল্পটিকে “এক্সক্লুসিভ” মর্যাদা প্রদান করল। আপনাকে অভিনন্দন

    শৈলী
    জুলাই 9, 2011 , 6:49 অপরাহ্ন

  14. কে কি বলল তা না ভেবেই বলছি- গল্পটা অনেক সুন্দর হইছে। গল্পকারের দায়িত্ব ছোট একটা ঢেউ আঁকা নদী নয় আর আপনি তা খুব সুন্দর করেই পেরেছেন। মানুষের সমস্যা কি জানেন? তারা বিনয়কেও দুর্বলতা ভাবে।আর সাহিত্যের মানুষেরা এর বাইরে ভাববে আপনি তা কেন ভাবেন? লিখে চলুন আর অনেক ভালো থাকুন।

    Khn.Rubell@gmail.com'

    খন্দকার নাহিদ হোসেন
    জুলাই 10, 2011 , 3:08 পূর্বাহ্ন

    • তারা বিনয়কেও দুর্বলতা ভাবে।

      অতি সত্য কথা।খাটি কথা বলেছেন।লিখে আনন্দ পাচ্ছি তাই লিখছি। আনন্দ না পেলেই খতম।আমার বাড়ি প্রথম এলেন এক কাপ চা খান
      ~O) ।
      ভালো থাকবেন।সর্বাত্মক মঙ্গল কামনা। :rose: :rose:

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      জুলাই 11, 2011 , 9:18 পূর্বাহ্ন

  15. মোটামুটি লাগল ।

    প্রথমেই বলব, অণুগল্পের সঙ্গায় এটা পড়ে না । অণুগল্প বলতে হয়ত একটা দৃশ্যকল্প, খুব ছোট একটা চিত্রকে বোঝায় । এটা কিন্তু ছোটগল্পে রূপ নিয়েছে ।

    শুরুতে ভাল লাগেনি । তোফাজ্জল সাহেব! বলে ডাকার কারণ কি ? সে কি অফিসের কর্মচারী না কি বাড়ির ?? যাই হোক তোফাজ্জল সাহেব বলার যুক্তি নেই ।

    মাঝের অংশ ভাল ভাবেই এগিয়েছে । শেষে গিয়ে আবার একটু যেন মনে হল খেই হারিয়ে ফেলল । গল্পের যা পরিবেশ তার সঙ্গে কাব্যিকতার রিলেশন পেলাম না ।

    সব মিলিয়ে মোটামুটি । আর জুলিয়ান ভাই আমার মনে হয় আপনাকে লেখনীর সাতন্ত্র্যের কথা বলেছেন, যেটা কিন্তু অত সহজে অর্জণ করা যায় না । কারো লেখা আপনি কপি করেছেন এমন টা বলেন নি বলেই তো মনে হল ।

    ব্লগে মুগ্ধপঠন যত হয়, তার চেয়ে সমালোচনা পঠন বেশি হওয়াই দরকার মনে করি । সে জন্যেই এত কথা বলা ।

    আহত হন নি নিশ্চয়ই । প্রথম কমেন্ট এত ভারিক্কি চালে করে ফেললাম

    tanim.tech@yahoo.com'

    রেজওয়ান তানিম
    জুলাই 10, 2011 , 7:31 অপরাহ্ন

    • মোটামুটি লাগতেই পারে ভাই।এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নাই।আপনার আর অন্যের পছন্দ এক হবে না।একেক জনের একেক রকম পছন্দ।দশ জনের মধ্যে এক জন আলাদা বলতেই পারে।

      তোফাজ্জল সাহেব! বলে ডাকার কারণ কি ?

      সমাজের এই স্তরের লোকের কিছু অধীনস্থ মানুষ থাকে যাদের পজিশান ঠিক ধরা যাবে না।তারা একই সাথে চাকর একই সাথে কর্মচারী এবং কু কর্মে সাহায্যকারী বন্ধু।তোফাজ্জল সাহেব বলার যথেষ্ট কারন আছে। এখানে বোঝানো হয়েছে উনি কিছুটা শিক্ষিত এবং বয়সে মদ্যপায়ীর সমগোত্রীয়।এবং মাতলামি বাড়ার সাথে সাথে সম্বোধন পরিবর্তন হচ্ছে। সেই যাই হোক ধন্যবাদ আমার ব্লগ বাড়িতে এলেন।
      অণুগল্প না ছোটগল্প এ নিয়ে এখানে প্রথম দিকের মামুন ম আজিজের কমেন্টস এ বলে ফেলেছি।আর বলতে চাচ্ছি না।

      আর জুলিয়ান ভাই আমার মনে হয় আপনাকে লেখনীর সাতন্ত্র্যের কথা বলেছেন, যেটা কিন্তু অত সহজে অর্জণ করা যায় না । কারো লেখা আপনি কপি করেছেন এমন টা বলেন নি বলেই তো মনে হল ।

      এ ব্যাপারটা এত ছোট লাইনে বোঝা যায় নি।আর বড় ভাই ছোট বোনের মধ্যে কত কথাই হবে।এগুলো খেয়াল করতে নেই। :-)

      গল্পের যা পরিবেশ তার সঙ্গে কাব্যিকতার রিলেশন পেলাম না ।

      :D।কাব্যিকতার রিলেশান না পেলেই ভালো।
      ভাই আপনার সমালোচনায় মুগ্ধ। আবার আসবেন আমার ব্লগ বাড়ি।
      শুভ কামনা। :rose:

      rabeyarobbani@yahoo.com'

      রাবেয়া রব্বানি
      জুলাই 11, 2011 , 9:13 পূর্বাহ্ন

মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে। Login