তারেক আহমেদ

প্রথম দফা কেমোথেরাপি নিলেন হুমায়ূন আহমেদ

Decrease Font Size Increase Font Size Text Size Print This Page

ক্যান্সার চিকিৎসায় প্রথম দফা কেমোথেরাপি নিলেন হুমায়ূন আহমেদ। শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে প্রথম পর্বের কেমোথেরাপি শেষ হয়।

বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারে আক্রান্ত হুমায়ূন আহমেদ উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৩ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক যান। সেখানে ক্যান্সারের বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান মেমোরিয়াল স্লোয়ান- কেটারিং ক্যান্সার সেন্টারে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হুমায়ূনের কেমোথেরাপি শুরু হয়েছে। প্রতি দফা কেমোথোরাপি প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে চলে।

“কেমোথেরাপির কারণে লেখকের সামান্য ক্ষুধামান্দ্য দেখা দিয়েছে। তবে তিনি নিয়মিত খাচ্ছেন। এ কেমোথেরাপির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও অনেক কম বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।”

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বর্তমানে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে অবস্থান করছেন এই কথা সাহিত্যিক।

চলতি মাসের শুরুর দিকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় বৃহদান্ত্রে ক্যান্সার ধরা পড়ে জনপ্রিয় এই লেখকের।

মাজহার বলেন, কেমোথেরাপির শুরুতে তিন ঘণ্টা হাসপাতালে উপস্থিত থেকে চিকিৎসা নিতে হয়। বুকের ওপরের দিকে একটি নল (ক্যানুলা) ঢুকিয়ে তার শরীরে ওষুধ প্রবেশ করানো হয়। কোমরের দিকে বেধে রাখা একটি কনটেইনারে থাকা ওষুধ ওই নলের মধ্য দিয়ে শরীরের ভিতরে যায়।

“এই কেমোথেরাপিতে দুটি ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দফা কেমোথেরাপি শেষ হলে ওই কনটেইনারটি শরীর থেকে সরিয়ে ফেলতে তিনি আবার হাসপাতালে যাবেন।”

মাজহার বলেন, হুমায়ূন আহমেদকে এভাবে ছয় দফা কেমোথেরাপি নিতে হবে। পরবর্তী দফা শুরু হবে ১১ দিন পর।

প্রথম দফা কেমো শেষে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হতে পারে। তবে কেমোথেরাপিতে কাজ হচ্ছে কি না তা বোঝার জন্য দ্বিতীয় দফা কেমোথেরাপি শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এ ধরনের চার দফা কেমোথেরাপি শেষে আরেক দফা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে।

“তখন চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন চিকিৎসকরা। কেমোথেরাপি চালিয়ে যাওয়া হবে, না অস্ত্রোপচারের দিকে যেতে হবে- তা তখনই ঠিক করা হবে।”

হুমায়ূন আহমেদের শরীরের অন্য কোনো অংশে ক্যান্সার ছড়িয়েছে কি না জানতে চাইলে মাজহার বলেন, “লিভারে স্পট দেখা গেছে। তবে চিকিৎসকরা এখনো সেগুলোকে ক্যান্সার বলে নিশ্চিত করেননি।”

লেখকের ক্যান্সার কোন পর্যায়ে আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চিকিৎসকরা এখনো এ বিষয়ে তেমন কিছু বলেননি।

হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময়ের রসায়ন বিভাগের এ অধ্যাপক উপন্যাস দিয়ে লেখালেখি শুরু করেন। পরে তিনি তার প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটিয়েছেন নাটক, ছোট গল্প ও চলচ্চিত্রেও।

হুমায়ূন আহমেদের অসুস্থতার খবরে তার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল দেশের প্রকাশনা জগতে উদ্বেগের ছায়া নেমে আসে। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাঠক-ভক্তরাও। সবারই আশা, সুস্থ হয়ে আবারও লেখায় ফিরবেন তিনি।

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।


One Response to প্রথম দফা কেমোথেরাপি নিলেন হুমায়ূন আহমেদ

  1. রাজন্য রুহানি সেপ্টেম্বর 27, 2011 at 6:59 পূর্বাহ্ন

    আরোগ্য হয়ে ফিরুন, তাঁর প্রতি এই শুভ কামনা।

    পোস্টের লেখককে ধন্যবাদ।

You must be logged in to post a comment Login