শৈলী বাহক

কিছু কটু কথা এবং একটি বিনীত ঘোষনা!!

Decrease Font Size Increase Font Size Text Size Print This Page

বিশ্বজগতে প্রকৃত সাহিত্যের ভূমিকা এবং তার অবদান অনস্বীকার্য। মননশীল সাহিত্য এবং শিল্প তার নিজস্ব ধারাকেই পুজি করে সময়কে অতিক্রম করতে পারে, নিজেকে সামাজিক দায়িত্ব পালনেও আগ্রহী করে তোলে। কিন্তু সেই সাহিত্য মানেই কখনই শুধু “কবিতা” না। সাহিত্যের বিস্তরণ নানামুখী। সাহিত্যে মননশীল উপন্যাসের মধ্যে ধারাবাহিক উপন্যাস, মধ্যম উপন্যাস, কালোত্তীর্ণ উপন্যাস, গল্পের মধ্যে ছোটগল্প, বড়গল্প, অনুগল্প, ভালবাসার গল্প, রম্যের মধ্যে কৌতুক, গদ্যকার্টুন, রম্যগল্প, এছাড়াও ভ্রমণকাহিনী, অনুবাদ-রচনা, সাহিত্য-সমালোচনা, সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ, প্রথিতযশ কবি-সাহিত্যিক বায়োগ্রাফী, ছবিশৈলী, কথাশৈলী, চিঠি-লেখন, নাট্যরুপ, স্মৃতিরোমন্থন, স্যাটায়ার সহ নানামুখী বিভাগ অথবা বিষয় আছে। এছাড়াও শিল্পের পরিধির আরো বিশাল বিচরন। চিত্রকলা, ফটোগ্রাফী. বিনোদন, থিয়েটার চিত্ররূপ ছাড়াও আরো ক্রমাগত অনেক নতুন নতুন বিয়ষ “শিল্পের” মধ্যে জায়গা করে নিচ্ছে। কিন্তু দু:খের সাথে বলতে হয়, শৈলীতে ঢুকলে মনে হয় শুধু শিল্প এবং সাহিত্যের সকল নির্যাস শুধু “কবিতাতেই” আটকে আছে। প্রকৃতঅর্থে সকল নব্য-সাহিত্য রচনাকারীদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য শৈলীর জন্ম। যা অন্য বেশিরভাগ ব্লগ প্লাটফরমই ব্লগারের অগোচরে নিরুৎসাহিত করে।

১. কিন্তু আমরা চাই সাহিত্যের সকল বিষয় নিয়ে উৎসাহমূলক আলোচনা, রচনা, সকল শিল্প নিয়ে তুমুল বিতর্ক। মনকে নাড়া দেয় এমন রচনা, আবেগী সৃজন। শৈলারসৃষ্ট আবেগী কোন উপন্যাস বা আবেগী কোন রম্যসাহিত্য চোখে পড়ে খুব কম। মনে ভিজিয়ে তুলে এমন গল্প, ভ্রমণকাহিনীও শৈলীতে কম পড়ে। সায়েন্স ফিকশনও সাহিত্যের মধ্যে এক অনন্য অবস্থান করে নিয়েছে। সেরকম কিছুও কেই রচনা করছেন না, এমন সাহিত্য সহজেই পাঠক মনকে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবাতে পারে, মনকে দ্রবীভূত করতে পারে।

২. বিশ্বের বেশিরভাগ প্রথিতযশা শিল্পী সাহিত্যিকদেরই ছিল সাহিত্যঅঙ্গনে নানামুখী বিচরন। কেউ কেউ সমাজ-সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপেও সময় দিতেন প্রচুর। সাহিত্য সমাজসেবার বাইরে তো কিছু নয়। সেখানেও শৈলীর বর্তমান নব্য-কবিদের নীরব ভুমিকা প্রশান্তি নিয়ে আসে না।আর কবিতাও যদি ধরি, বেশিরভাগ কবিতাই কালের অতলে হারিয়ে যেতে পারে এমন কবিতাই নিয়মিত জমা পড়ছে, যাতে শৈলাররা নিজেরাই আগ্রহ পান না, পাঠককে আগ্রহী করবে কি! আমরা শিল্প আর সাহিত্যকে পুজি করেছি কারন প্রকৃত আর মননশীল শিল্প সাহিত্য রচনা কখনও কালের অতলে হারিয়ে যায় না। মননশীল সাহিত্য, বৈশ্বিক সাহিত্য-আকাশে বিচরণ করবে সবসময়। আমরা মনে করছি বেশিরভাগ শৈলারদের নিয়মিত কবিতা রচনা গুনগতমান রক্ষা করে চলে না, পাঠককে ভাবিয়ে তুলে না। শৈলী কার্যনিবার্হী কমিটি এমন গুনগতমানহীন সৃজন এবং একচোখা সাহিত্যকে নিরুৎসাহিত করে। শিল্প সাহিত্য মানেই শুধু “কবিতা” মনে করাকেও প্রবলভাবে অনুৎসাহিত করে। বলতে দ্বিধা নেই, শৈলীতে অনেক ভালো মানের কবিতাও জমা পড়ে, তার মধ্যে শৈলার রাজন্য রুহানি, শৈবাল, চারুমান্না, শামান সাত্ত্বিক ছাড়াও আরো অনেকেই আছেন। তাদের রচনাকে শৈলী সাধুবাদ জানায় এবং সবসময় উৎসাহিত করে।

৩. কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ শুধুই কবিতা লিখেননি। আবার কবিতা লিখেই জনপ্রিয়দের মধ্যে কবি শামসুর রহমান, এবং নির্মলেন্দু গুনও নানমুখী সমাজসেবা মুলক কর্মকান্ডে নিয়োজিত, পাশাপাশি সমাজসেবামুলক, দেশাত্মবোধক সাহিত্য রচনাও। তাদেরকে অনুকরন নয়, কিন্তু অনুসরন করাটা আপনার ভাল সিদ্ধান্তের একটি হতে পারে।

৪. শৈলীতে যারা সাহিত্য বৈচিত্র্য নিয়ে আসছেন তাদেরকে সবসময় শৈলী শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করবে। সাহিত্যে বৈচিত্র নিয়ে যারা আসেন তাদের মধ্যে শৈলার রাবেয়া, তৌহিদ উল্লাহ ছাড়াও অনেক নতুন ব্লগারও এ কাতারে আছেন, উদাহরণস্বরুপ “কাজী হাসান”। সদ্য শৈলার “কাজী হাসান” সাহেবের লেখনী বৈচিত্র্য শৈলী কমিটিকে সন্তুষ্ট করে। এই নবীন শৈলার বিজয়ের মাসে সমসাময়িক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক রচনা লেখনী শৈলীকে সমকালীন পুর্ণতা দিতে সহায়তা করছেন।এতে বৈচিত্র্যের জন ্য পাঠকরা শৈলীতে ফিরে আসতে অনুপ্রেরণা  পান।

৫. শৈলী সম্মানসহকারে শৈলারদেরকে সাহিত্যের অন্যান্য মাধ্যমেকেই সম্মান জানানোর জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছে।শুধু একটি বিষয়কে পুজি করলে সৃজন পঠনে একঘেয়েমিত্ব আসবে এটা সকল নব্য-ব্লগারদেরকে নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

৬. পাশাপাশি আরেকটি বিষয় লক্ষ্যনীয়, কিছু নব্য ব্লগারদের দেখা যাচ্ছে, তারা শুধু নিজেদের কবিতাই পড়তে আসেন, মন্তব্য খুজতে থাকেন! অন্য কারো সৃজনের প্রতি তাদের কোন আকর্ষন থাকে না। তাহলে নির্মলেন্দু গুনের একটি কথাই কি ঠিক?? “কবিরা আজকাল নিজের কবিতা ছাড়া অন্য কারো কবিতা পড়েন না”!! শৈলীতে সামাজিক ভুমিকা (অর্থাৎ যারা নিয়মিত অন্যের সৃজনেও মন্তব্য করেন) যারা পালন তাদেরকে সবসময় শৈলী শ্রদ্ধা সহকারে স্বীকৃতি দিবে, তাদের মধ্যে, তৌহিদ উল্লাহ শাকিলরাজন্য রুহানি, শৈবাল কায়েস, রাবেয়া রব্বানি, কাজী হাসান, মামুন ম. আজিজ, সকাল রয়, চারুমান্নান অন্যতম। তাদেরকে সাধুবাদ জানায় শৈলী। নবীনদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য “সামাজিক শৈলার” নামে একটি নতুন উইজেটও প্রদর্শন করে চলেছে শৈলী।

৭. আজকের শৈলীর প্রথম পাতা দেখলেই পরিস্থিতি অনুধাবন করা যাবে। প্রথম পাতায় ১৫টি সৃজন তার মধ্যে ১১ টি কবিতা”।  যা আদতে লেখকদের জন্যও লজ্জাকর! কবিতাকে আমরা নিরুৎসাহিত করার কোন কথাই নেই। কিন্তু তা হতে হবে প্রকৃতঅর্থেই কবিতা এবং পরিমিত।

৮. এ পরিস্থিতি উত্তোরণে শৈলী নিয়ন্ত্রিত ভুমিকায় যাওয়ার পরিকল্পনা নিচ্ছে। প্রয়োজনে প্রখ্যাত কবি সাহিত্যিকদের বৈচিত্রময় সাহিত্য রচনা নিয়ে হাজির হবে নিয়মিত শৈলী কর্তৃপক্ষ। তাতেও শৈলী গুনগতমানে “জিরো টলারেন্স” পালন করবে শৈলী।

৯. আসছে একুশে বইমেলোয় আমরা “শৈলী সংকলন” বের করার পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। এ ব্যাপারে আমরা “নন্দিতা প্রকাশনী” র কাছে চুক্তিবদ্ধও। কিন্তু কবিতা ছাড়া অন্যান্য বিষযভিত্তিক রচনার লজ্জাজনক ঘাটতি আমাদেরকে নিরুৎসাহিত করছে। কারন সাহিত্য বিষয়ক ব্লগ সংকলনে সাহিত্যের সকল উল্লেখযোগ্য বিষয় থাকাটাই বাঞ্চনীয় বলে মনে করে শৈলী কর্তৃপক্ষ।

পরিশেষে, সকল শৈলারদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ বিনীত জানাচ্ছি, শৈলীকে আপনার সৃজনশীলতা দিয়ে নিয়মিত বৈচিত্রময় করে তুলুন। পাঠককে নাড়া দেয় এমেন সাহিত্য রচনা করুন। কালের অতলে যাতে হারিয়ে না যায় এমন শিল্প নিয়ে ভাবুন। নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে আসুন। সেবামূলক কিছু করার ভুমিকা নিয়ে ভাবুন। এতে শৈলী কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা থাকবে। শীতে মানুষ কাপড় পাচ্ছে না, দুবেলা দুমুটো থেতে পারছে না, তাদের কথা ভাবার সময় এসেছে, তাদের নিয়ে সাহিত্য রচনা করুন। তাতেই হবে সময়কে ছাড়িয়ে যাওয়া, প্রকৃত সাহিত্য রচনা, পাশাপাশি সামাজিকতার দায়িত্ববোধ পালন। আর এর পরিবর্তন না হলে শৈলী শিঘ্রী মডারেশনের আওতায় চলে আসছে। অসামাজিক আচরনে উদ্বুদ্ধ (অর্থাৎ অন্যের সৃজনে আগ্রহ নাই) লেখকদেরকে নিয়ন্ত্রিত রাখা হতে পারে এখন থেকে। শৈলী সীমিত সংখ্যক শৈলার নিয়ে ই চলবে। তবু আমরা মননশীলতা, সৃজনশীলতা ব্যাপারে কোনরকম ছাড় দেব না। এবং সাহিত্যের সকল শাখা নিয়ে এগুব।


– শৈলী বাহক!

“আড্ডা হোক শুদ্ধতায়, শিল্প আর সাহিত্যে”

শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।


17 Responses to কিছু কটু কথা এবং একটি বিনীত ঘোষনা!!

  1. khalid2008@gmail.com'
    শাহেন শাহ ডিসেম্বর 15, 2011 at 12:32 পূর্বাহ্ন

    খুব ভাল বলেছেন্ শৈলী বাহকের দাবীর সাথে আমিও একমত। কবিতা এখন সবাই লিখেন কেউ বাদ নাই এখন। কিন্তু সেখানে প্রকৃত কবিতার সংখ্যা হাতেগুনা। আর শৈলীতে সাহিত্যের অন্যান্য বিষয়গুলোকে সবাই অবজ্ঞা করেন। অথবা সবাই সাহিত্য মানেই কবিতাই ধরে নেন, যা ঠিক না বলেই মনে হয়!!

  2. khalid2008@gmail.com'
    শাহেন শাহ ডিসেম্বর 15, 2011 at 12:32 পূর্বাহ্ন

    লেখনীকে স্যালুট!

  3. quazih@yahoo.com'
    কাজী হাসান ডিসেম্বর 15, 2011 at 1:42 পূর্বাহ্ন

    কঠিন কিন্তু সত্যি কথা। নবীন যারা লিখেন, তাদের ছোট করে বলি, লিখতে হলে পড়তে হবে। আর প্রচুর চর্চা করতে হবে। সাহিত্য আর সব শিল্পের মতই। তাই ভাল লিখতে হলে সময় দিতেই হবে।

  4. touhidullah82@gmail.com'
    তৌহিদ উল্লাহ শাকিল ডিসেম্বর 15, 2011 at 3:45 পূর্বাহ্ন

    অত্যন্ত মনযোগ সহকারে পোষ্টটি পড়লাম । হ্যা আপনি ঠিক বলেছেন । সাহিত্য একটি জায়গায় থেমে থাকলে চলে না এর বিস্তৃতি ব্যাপক এবং একজন লেখক কে মানে শৈলার কে এর ব্যাতিক্রম হলে চলবে না । সময়পযোগী পোস্টের জন্য শৈলীকে অনেক ধন্যবাদ । আর আমি ব্যাক্তিগত ভাবে কথা গুলো মেনে চলার চেষ্টা করব । জানি হাতে সময় কম থাকে তারপর ও চেষ্টা অব্যাহত থাকবে । অনেক শুভকামনা শৈলীর জন্য

  5. mamunma@gmail.com'
    মামুন ম. আজিজ ডিসেম্বর 15, 2011 at 6:40 পূর্বাহ্ন

    একটা ব্যাপার হলো সম্পূর্ণ সাহিত্য ব্লগের ধারনা এখনও নতুন। শৈলার তবুও কিংয়সময় র্পূবে বেশ জমেছিল। হঠাৎ একটু ঝিম ঝিম ভাব চলে এসেছে। আমি খুব কম সময় পাচ্ছি, যে কারনে আমার ইদানিং মন্তব্য এবং লেখা বলতে গেলে নেইই। খুব শীঘ্রই আমি আবার পুরোদমে শৈলীতে নিয়মিত হব আশা করছি। ….বইমেলায় সংকলণ প্রকাশ হলে শৈলীরদের আগ্রহটি পূনর্জীবিত হবার একটা উছিলা পেত। নিরুৎসাহিত না হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।
    ধন্যবাদ সুন্দর অনুপ্ররেণা জাগানো কথাগুলো বলার জন‌্য।

    • শৈলী ডিসেম্বর 15, 2011 at 3:45 অপরাহ্ন

      শৈলার মামুন আজিজ, আপনার লেখালেখির বৈচিত্র্যও শৈলী কমিটিকে মুগ্ধ করে। আপনার লেখনি পাঠকের মনকে নাড়া দেয়। অনেক পাঠকের মেইলও আমরা পেয়েছি, আপনার লেখা তাদের কাছে প্রিয় উদ্বৃতি দিয়ে।

      আমরা শুধুমাত্র শিল্প ও সাহিত্য বিষয়কে পুজি করেছি. যা চ্যালেঞ্জিং । শুধু এ বিষয়কে পুজি করে কোন ব্লগ ওথরিটিই আসেনি, আসবে বলেও মনে হয়না, কারন এখানে সস্তা বিষয়, অর্থাৎ সহজে চোখ আকৃষ্ট হয় এমন বিষয় অনুপস্থিত।

      আর বইমেলার বই এর ব্যাপারে শৈলী প্রথম থেকেই আগ্রহী। আমাদের চুক্তিবুক্ত প্রকাশনী সংস্থাও প্রস্তুত। কিন্তু আমরা শৈলারদের লৈখনী বৈচিত্র্য অনুধাবন না করলে, অথবা পর্যাপ্ত মননশীল লেখা না পেলে কখনই এটা নিয়ে এগুব না। একমাত্র সকল শৈলারের এগিয়ে আসাই সফলতার দ্বার খুলে দিতে পারে। আপনাকে ধন্যবাদ।

  6. rabeyarobbani@yahoo.com'
    রাবেয়া রব্বানি ডিসেম্বর 15, 2011 at 8:17 পূর্বাহ্ন

    ব্যস্ততার জন্য পিসিতে বসা না হলেও মোবাইলে প্রায় প্রতিদিন ই ঘুরে যাওয়া হয়।ডিসেম্বর মাসটাই ব্যস্ততার।ইনশাল্লাহ জানুয়ারী থেকে নিয়মিত হতে পারব।আমার মনে হয় শুধু সাহিত্য বিষয়ক না নিয়মিত ব্লগারদের হাল্কা আড্ডার পোষ্ট হলেও একঘেয়েমী কাটে।লেখায় আর মনে দোলা লাগে।এই ক্ষেত্রে অন্য একটি ব্লগে সাহাদাত উদরাজীর আত্মকথন বা ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গীর একটি লেখা ছোট ছোট কথামালায় অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্ররোচনা ব্যাতিরেকে একটা রেগুলার এলোমেলো পোষ্ট করতে চাচ্ছি।শৈ্লী কি সম্মতি জানাবে?

    • শৈলী ডিসেম্বর 15, 2011 at 3:51 অপরাহ্ন

      আপনিও আমাদের প্রিয় তালিকার একজন। আপনার গল্প, ছোটগল্প পাঠককে আবেগঘন করে তুলে।

      শৈলীনীতি মোতাবেক শৈলীকে যে কোন বিষয়কে পুজি করে লেখালেখি করা যাবে। এতে কোন বাধা নেই, যদিও শিল্প সাহিত্য বিষয়ক লেখাকে উৎসাহ দেয় বেশি। আপনার নিম্নোক্ত কথাগুলোর সাথে আমরাও একমত।

      আমার মনে হয় শুধু সাহিত্য বিষয়ক না নিয়মিত ব্লগারদের হাল্কা আড্ডার পোষ্ট হলেও একঘেয়েমী কাটে।লেখায় আর মনে দোলা লাগে। আত্মকথন বা ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গীর একটি লেখা ছোট ছোট কথামালায় অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্ররোচনা ব্যাতিরেকে একটা রেগুলার এলোমেলো পোষ্ট করতে চাচ্ছি।

      এরকম লেখা আমরাও চাই। আপনাকে আপনার মত করে লেখা প্রদানে আমরা উৎসাহিত করছি। ধন্যবাদ আপনাকে।

  7. obibachok@hotmail.com'
    অবিবেচক দেবনাথ ডিসেম্বর 15, 2011 at 7:35 অপরাহ্ন

    প্রিয় শৈলী,
    কেউ বিশ্বাস না করলে এটা সবচেয়ে কঠিন সত্য আমার ব্লগ জীবনের শুরূ শৈলীর হাত ধরে। মনের টানে আমার লেখালেখি, কখনো লেখেছি স্বপ্নের টানে, কখনো আবেগে। কিন্তু, সাহিত্যের বাস্তবধারায় অবগত ছিলাম না বলে, আমি একটু থতমত খেয়ে গেছি। সবচেয়ে বেশী বোকাবনে গেছি, যখন এখানকার সকল শৈলারদের সান্নিধ্যে এসেছি তখন। এখানে এসে আমার বর্তমান সাহিত্য জগত সমন্ধে ধ্যানধারণা ছিল তা বদলে যেতে লাগল, আমি বুঝতে পারলাম আমার আবেগের টানে লেখা কিংবা স্বপ্নের গোছরে লেখা বর্তমান সাহিত্যের ধারকিনারা স্পর্শ করার যোগ্যতা রাখে না। তাই আস্তে-আস্তে নিজের ধারা পরিবর্তন করতে লাগলাম। আমি জানি আমি এখনো শিল্পমাত্রার দৌড়গোয়ায় পৌঁছুতে পারিনি। কিন্তু আমার মনেপ্রানে একটা বদ্ধমুল বিশ্বাস স্থাপন করতে পেরেছি আমি পারব। কিন্তু এই পারার সময়টাতে আমার লেখাগুলো শিল্প-সাহিত্যের এমন একটা ব্লগকে কিছুটা রূচিহীন করছে বিধায় আমি শৈলী থেকে কিছুটা সরে এলাম।
    শৈলী এইপোষ্টে যে ভাবনাগুলো প্রকাশ করেছে, তার সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। যে, সাহিত্যের স্থায়িত্ব নেই সে সাহিত্যে লিখে সাহিত্যের পাতা ভারী করার কোন মানে হয় না। আমি চাই, সাহিত্য হবে সাহিত্যের মতো, যাতে থাকবে শিক্ষা, চিন্তা আর শুদ্ধতা। আর সে সাহিত্যের কর্ণ্বধার হিসেবে শৈলী আপন বিন্যাসে সমুজ্জল হোক।
    আমি শৈলীতে আবারও নিয়মিত হবার আশা করি, তবে অবশ্যই ভিন্ন আঙ্গিকে লেখা নিয়ে, যার স্থায়িত্বমান মোটামুটি হলেও দৃড় হবে আশা করি। কিছুদিনের মধ্যে আমি আমার গল্প “ম্লান-মোহিনীর ছায়ানটে ”- শেষখন্ড দিয়ে কিছুটা বিরাম নেব। তবে এই সময়টাকে আমি শৈলীর একজন পাঠক হিসেবে শৈলীতে অবস্থান করব।

    শেষান্তে, শৈলীকে অসংখ্য ধন্যবাদ
    আমার মতো নতুন একজন ব্লগারকে সুযোগ দেওয়ার জন্য।

    • শৈলী ডিসেম্বর 16, 2011 at 4:34 অপরাহ্ন

      সুপ্রিয় শৈলার, আপনার কথাগুলো আমাদের অনুপ্রাণিত করল। আপনিসহ সকলের ঐকান্তিক সহযোগিতাই শৈলীকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ধন্যবাদ।

  8. rabeyarobbani@yahoo.com'
    রাবেয়া রব্বানি ডিসেম্বর 17, 2011 at 5:15 পূর্বাহ্ন

    প্রিয় শৈলী,
    ভালোবাসার টানেই কথাগুলো বলছি ভুল মনে হলে ক্ষমা করবেন।বেশ কিছুদিন আগে শৈ্লী এই কবিতা আর বিজ্ঞাপনের পোষ্ট নিয়েও বেশ সচল ছিল।আমি কিছু কারনের কথা বলবো,
    একজন লেখক মাত্র পাঠকের চাহিদা বোধ করেন।অনেক ভালো লেখকরাই উপযুক্ত কমেন্টস এর অভাব বোধ করে বিষন্ন হয়ে চলে গেছেন। অবশ্য আসছেন ও অনেক নতুন ভালো লেখক ।তারা যেন বহাল থাকে তার জন্য চাই পাঠক। কবিতার কিছু নিষেদাজ্ঞা যাতে কবিতা ভীতি হয়ে না দাড়ায়। আমরা যেন ভালো কবিদের না হারাই।গল্প পোষ্ট হলেও তার পাঠক চাই কিংবা কমেন্টস। তা না হলে কোন লেখকই ব্লগিং এ মজা পাবেন না বা উৎসাহিত হবেন না।শৈ্লী কর্তৃপক্ষ যেমন লেখার মান নিয়ে কঠোরতা পালন করছে।একজন শৈ্লার হিসাবে আমি অনুরোধ করব পাঠক বৃদ্ধির জন্য কিছু চমক কিছু ইভেন্টস আর ব্যাপক প্রচারণা করা যতটুকু সম্ভব।পাশাপাশি সঞ্চালকের সরব উপস্থিতি।একজন সঞ্চালকের নিয়মিত উপস্থিতিই ব্লগকে অনেকটা সজীব রাখে।কথাগুলো বেশি মনে হলে ক্ষমাপার্থী।

  9. sokal.roy@gmail.com'
    সকাল রয় ডিসেম্বর 17, 2011 at 10:27 পূর্বাহ্ন

    পড়লাম। খুব ভালো লাগলো কথা গুলো । সময় খুব কম থাকে হাতে তাই নিয়মিত আসতে পারিনা

    চেষ্টা করবো ভালো কিছু উপহার দিতে

  10. মাহবুব আলী ডিসেম্বর 18, 2011 at 7:20 পূর্বাহ্ন

    বেশ কিছু সময় পরে লগইন করে এই অতি বাস্তব কথা পড়লাম। খুব ভালো লাগল। আসলে সাহিত্যের নামে কী হচ্ছে? শৈলী অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ব্লগ। এখানে কোনো খাজুড়ে আলাপ নেই, যা অত্যন্ত অপছন্দ আমার। প্রথমে একটু সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ইন্টার-এ্যাকশনস কম। শুধু স্তুতি দিয়ে নিজেকে উন্নত করা যায় না। একটু দিকনির্দেশনা ও সঠিক মূল্যায়ন দরকার। শুভকামনা।

  11. রাজন্য রুহানি ডিসেম্বর 23, 2011 at 3:49 অপরাহ্ন

    প্রথমে শূলের মতো বিধঁলেও পরে কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়েছে এই কারণে যে, শিল্প ও সাহিত্য বিষয়ক একমাত্র ব্লগ তার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সমুন্নত রেখে পথ চলবে, একটা নীতি ও আদর্শের ভিতর বর্ধিত হবে তার পরিমণ্ডল, এই মহৎ পথচলায় যদি নানা শাখার বন্ধুরা সরব থাকে তবেই মাইলফলকে উদ্ভাসিত হবে শৈলীর গুণগত মান।

    হ্যাঁ, এ কথা মানতে দ্বিধা নেই— সাহিত্যের বিস্তরণ নানামুখী।

    শৈলীর মানবতা বিষয়ক কর্মকাণ্ড এবং তারই ধারাবাহিকতায় এই পোস্টে সেবামূলক আহ্বানকে শ্রদ্ধা জানাই আমি।

    শৈলী এগিয়ে যাক তার প্রত্যাশিত পথে…। আড্ডা হোক শুদ্ধতায়, শিল্প আর সাহিত্যে।

You must be logged in to post a comment Login