যেটি অন্তত জাফর ইকবাল স্যারের কাছে আশা করিনি!!

বিষয়: : সংস্কার |

unnamedঅনেক আগের কথা। তখন আমার বয়স কত হবে এখন আর সঠিক খেয়াল নেই। তবে কাহিনী মনে আছে। প্রচন্ড ঝড়ের মধ্য দিয়ে সাভার গিয়েছিলাম বেড়াতে নৌকায় বিশাল বিল পারি দিয়ে। সাভার গিয়ে সম্পর্কে ভাগিনা হয় তার সাথে এবং তার প্রলোভনে তাদেরই গাছের কাঁঠাল চুরি করে সাভার বাজারে নিয়ে বিক্রি করে সেই টাকা সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। ছবির নাম ছিল ”শাপ মুক্তি”। ছবির একটা গানের কথা খুব মনে পড়ছে আজ। ”ধীরে ধীরে চল ঘোড়া সাথী বড় আন কোড়া”। সেখানে গানের দৃশ্যে মনে হয় প্রথম চাবুকের ব্যবহার দেখেছিলাম। এছাড়া আমাদের গ্রামে বছরে দুই একবার যাত্রা পালা হতো, সেখানে দেখতাম রাজা বাদশাহ তাদের গরীব দুঃখী কর্মচারীদের চাবুক দিয়ে পিটাতো। বাস্তবে চাবুক পেটা করতে দেখিনি। সেই দুই সময়ে চাবুকের ব্যবহারই মনে গেঁথে আছে আমার এখনো। যা কখনো কারো সাথে শেয়ার করা হয়নি। পৃথিবীর বড় বড় রাষ্ট্র যারা অস্ত্র তৈরী এবং ব্যবসায় এগিয়ে আছে, সেসব রাষ্ট্র প্রতিযোগীতায় মেতেছে কত দ্রুত আধুনীক অস্ত্র তৈরী করে বাজার জাত করতে পারে তার জন্য আর বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন অস্ত্র প্রয়োগ করার পায়তারায়। সেখানে আমাদের দেশ অস্ত্র ব্যবহারে যে কত পিছিয়ে আছে তারই প্রমাণ আমাদের দেশের একজন সরকারী এমপির চাবুক দিয়ে দেশের জনপ্রিয় শিক্ষককে চাপড়ানোর হুমকীই যথেষ্ট। ডঃ জাফর ইকবাল সাহেবের বাড়ি কোন এলাকায় তা আমাদের দেখার বিষয় না। তার অনেকগুলো পরিচয় আছে যদিও আমি তাকে সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসাবেই মনে করে লিখছি। বাংলাদেশে অনেক গুলো বড় বিশ্ববিদ্যালয় থাকা সত্বেও তিনি কেন সিলেটের মতন জায়গাতে গিয়ে পরে আছেন, জানি না। তবে এর উত্তর হয়তো হবে সিলেট তার কাছে ভালো লাগে কিম্বা সিলেট বাসীদের হয়তো আরো বেশী সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে চান, এ জন্য। তা না হলে দেশে তো স্যারের অন্য কোথাও আর এর চেয়ে ভালো কোন সুযোগের অভাব নেই।

স্যারের জন্য ইচ্ছা করলেই মনে হয় সুযোগ দাতাগণ হুমরী খেয়ে পড়বে। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে কয়েকবার আমি সিলেট গিয়েছি। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশ দিয়ে ঘুরেছিও বেশ কয়েকবার। দরকার ছিল না বিধায় কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করি নি। এবছর একুশের বই মেলাতে প্রায়ই দেখেছি স্যারকে বই মেলাতে ঘুরে বেড়াতে। কথা কখনো হয় নি যদিও। এবার বই মেলাতে আমিও ছিলাম পুরোটা সময়। শিখা প্রকাশনী থেকে আমার একটি উপন্যাস গ্রন্থ বিপরীত ভালোবাসা” প্রকাশিত হয়েছে। যে কারণে স্টলে দাঁড়িয়েছি নিজের বই মেলায় আগতদের কাছে সরাসরি দিয়ে পাঠকদের সাথে ভাব বিনিময় করার উদ্দেশ্যেই ছিলাম। সামনে দিয়ে যখনই স্যারকে দেখেছি হেটে যেতে, তখনই কাউকে ডেকে স্যারের একটা বই ধরিয়ে দিয়ে বলার চেষ্টা করেছি বই কিনে নিয়ে যেন স্যারের অটোগ্রাফ নিয়ে নেয়। এটাই তাঁর প্রতি আমার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। তবে একটা বিষয়, সিলেটে আমার পরিচিত কয়েকজনকে প্রশ্ন করারপর বলেছেন, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়টি আজকের অবস্থানে আসার পিছনে অবদান অনেকটাই জাফর ইকবাল স্যারের। আজকের অবস্থান বলতে সেখান থেকে পাশ করে বের হওয়া প্রতিটি ছাত্রই যে একেক জন দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে বের হবে তা আর বলার অবকাশ রাখে না। একজন সত্যিকারের শিক্ষক এবং ভালো এডমিনিস্ট্রেটর হিসাবে ডঃ জাফর ইকবাল চধমব ২ ড়ভ ৩যা করছেন সেখানে শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ভর্তী পদ্ধতির বেলায় তার জন্য আমি তাকে সস্রদ্ধ সালাম জানাই। একসময় আমি নিজেই নটরডেম কলেজ কিম্বা হলিক্রস কলেজে কারো ভর্তীর জন্য অনুরোধ করতে পেরেছি। এখন আমার সেই অনুরোধ করার সাহস আর নেই। আমি বিষয়টিকে আমার নিজের দুর্বলতা বলছি না। বলছি প্রতিষ্ঠানের এডমিনিস্ট্রেশনের পরিবর্তনের প্রশংসার কথা। শুধু তাই নয়, উপরন্তু বাংলাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের ভর্তীর সময় এমনটিই কড়াকড়ি হোক সেটাই আমার কামনা। আর সেই কাজটিই সেখানে জাফর ইকবাল স্যার করেছেন সেখানে আমি তার প্রশংসাই করবো এক বাক্যে। আর স্যারের কাজটির প্রতি সেখানে আমার পূর্ণ সমর্থণ, সেখানে তো চাবুকের ব্যথা পিঠে না লাগলেও আমার মনেও যে পুরোটা পেলাম। আমার মতন সাড়া জাতির হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। আমি সরকারের বদনাম করছি না।

সরকারের যারা এমপি আছেন, তাদের অবশ্যই জানা আছে, তারা কি ভাবে যে এবার এমপি পদটা পেলেন। অনেকেই বলবেন নির্বাচনে প্রতিযোগি বিহীন। এটাই যদি হয় তাদের সঠিক উত্তর, তাহলে বিদেশ ফেরত আমাদের সেই সুযোগ সন্ধানী এমপি এর বেশী কি আর চাইতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রিয় একজন শিক্ষকের কাছে তার এলাকার ছাত্রদের জন্য। অনেকে বিষয়টি সম্পর্কে জানলেও নতুন করে উল্লেখ করছি। এমপি সাহেবের দাবী, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলেটের স্থানীয় ছাত্রদের ভর্তীর ব্যাপারে আরো বেশী সুযোগ দিতে হবে। অনেকটা তাদের এমপি হবার মতন করে বিনা প্রতিযোগিতায়। এই দাবী কি সরকারের না কি এমপির একান্ত ব্যক্তিগত জানা নেই। কিন্তু একজন এমপি যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষকের গায়ে চাবুক চাপড়ানোর হুমকী বা ক্ষমতা রাখেন, তাহলে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বিশেষ ভাবে ডঃ জাফর ইকবাল স্যারের মতন একজন শিক্ষক যাকে জাতির বিবেকও বলতে শুনি, তার সাথে বসে কথা বলে শলা পরামর্শ করার মতন কি ক্ষমতা বা সৎসাহস এই এমপির নেই? এর মধ্যে একজনের একটি লেখায় পড়েছি স্যার না কি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ পত্র দাখিল করেছিলেন আবার ছাত্রছাত্রীদের অনুরোধের কারণে স্যারের প্রাণের ছাত্রছাত্রীদের কথা চিন্তা করে সেটি আবার তুলেও নিলেন। শোনার পর খুব খারাপ লাগলো। যেটি অন্ততঃ জাফর ইকবাল স্যারের কাছে আশা করিনি। তারপরেও কষ্ট কমালাম এই চিন্তা করে যে, স্যার আমার চেয়ে অনেক ভালো বোঝেন, নিশ্চয় তিনি যা ভালো মনে করেছেন সেটিই করেছেন। আমি ভেবেছিলাম স্যার অন্তত এটুকু প্রমাণ করবেন সরকারী দলের একজন এমপির চাবুকের চেয়ে তার কলমের জোড় বা শক্তি অনেক বেশী। তিনি করলেন না। তারপরেও পৃথিবীতে এখন এটা সত্য কলমের ক্ষমতা যে অনেক বেশী। খুশী আর অখুশীর হিসাবে এখানে আমি সবচেয়ে খুশী হতে পারতাম যদি সেই এমপি কারো কোন চাপের মুখে নয় বরং সেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। তার এই পদত্যাগের বিষয়টি আরো বেশী আশা করেছি এই জন্য যে তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতা যাই হোক দেশী রাজনীতির চর্চা তার মধ্যে নেই। আছে প্রবাসে থাকার ফলে সেই দেশের নিয়ম নীতি ও রাজনীতির চর্চা। বিষয়টি জানার পর থেকে অনেকের সাথেই আলোচনা করেছি। সরকার সমর্থকদের কারো কারো সাথে এখানে আলোচনা করেছি, ফল দেখলাম উল্টো। বিষয়টি নিয়ে কেন যেন আমাকে আলোচনা করতে বা লিখতে বাধা দিচ্ছিলেন। যেই না দেখলাম অস্ট্রেলিয়া থেকে আকিদুল ইসলাম তার স্ট্যাটাস লিখেছেন স্যারের এই বিষয়টি নিয়ে তখনই আমি আমার ফেইসবুকে স্ট্যাটাস লিখে দিলাম, স্যারকে বলছি, ” বাংলাদেশই আপনার।

যে দেশের মাটিতে শুয়ে আছেন আপনার পিতা ও ভাই। সেই দেশের গুটি কয়েক চাবুক মারার কথা বলার মতন লোক আছে বলেই আপনি বুঝতে পারবেন আপনাকে ভালোবাসার মতন মানুষের পরিমান ও যে কত বেশী আছে।” চধমব ৩ ড়ভ ৩দেশে কয়েকজন প্রখ্যাত সাংবাদিকের সাথে যোগাযোগ করে সিলেটের সেই এমপির পিতৃ পরিচয় জানতে পারলাম। জানার পর একটি বিষয়ই ভাবছি দেশে কি আবার আরেকটি (৭৫) পচাত্তর আসছে না কি? প্রকৃত বলতে কি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কেউ নেই। প্রকৃত থাকলে ডঃ জাফর ইকবাল স্যারের মতন ব্যক্তির জন্য কোন সরকারী পদ না থাকুক তার পক্ষে বলার মত কেউ নেই কেন? আমাদের এমপিই বা এতটা লাগাম বিহীন হলেন কেন? উনি এই চাবুক মারার এই শিক্ষা পেলেন কোথায়? এমন কোন প্রশিক্ষণ কি তার আছে না কি? যে মানুষকেও এখন বেতাল হলে ঘোড়া মনে করছেন আর চাবুক দিয়ে চাপড়ানোর কথা ভাবছেন?? তাহলে কি সার সহ যোদ্ধারা এখন হয়ে উঠেছেন বড় আন কোড়া? যে জন্য বলতে চাইছেন, ধীরে ধীরে চল ঘোড়া সাথী বড় আন কোড়া??? তবে একটা বিষয়ই অনুরোধ করে বলতে চাই, এদের দিয়ে সরকার চললেও দেশ বা জাতি যে এক সময় মুখ থুবরে পরে যাবে। সবাইকেই বিষয়টি নিয়ে এখনই ভাবতে হবে। গুনি ব্যক্তিদের সম্মান দিতে পারবেন না ঠিক আছে, তার মানে এই না যে, কেউ তাদের অসম্মান করলে মেনে নিবেন। তাহলে সরকারই নয় শুধু দেশ বা জাতিই হয়ে যাবে একদিন প্রকৃত বিবেক-বুদ্ধিমান লোক শূণ্য। সেটা করতে না দেওয়া আপনার আমার সকলেরই নিশ্চয় কাম্য।

লেখাটি যখন লিখছিলাম তখন আমাদের সময় ডট কম অনলাইন পত্রিকাতে দেখতে পেলাম দেশে দশ জনকে একটি সংগবদ্ধ গ্রুপ হত্যার হুমকী দিচ্ছে। বিষয়টি পড়ে খুব খারাপ লাগলো। দেশের সচেতন মানুষ এখন কতটা অসহায় আর নীরাপত্তা হীনতায় ভোগছে তা বলে শেষ করা যাবে না। এজন্য কেবলই সরকারকে দোষারোপ করলে চলবে না। সকলের চেতনাকে জাগ্রত করতে হবে। সকলের এই সচেতনতা বোধকে সহযোগিতা করতে অনুরোধ জানাতে হবে সকলের। তা না হলে এই দেশ যে হয়ে উঠবে আরেক ভয়ংকর কাবুল বা জালালাবাদের মতন বা সোয়াৎ ভ্যালীর মতন। যা কখনোই মেনে যেওয়া যাবে না।

================ পি.আর.প্ল্যাসিড ঃ জাপান প্রবাসী লেখক সাংবাদিক।========

শৈলী টাইপ-রাইটার অতিথি লেখক অথবা খ্যতিমান কবি সাহিত্যিকদের রচনাসমূহ শৈলীতে পাঠকদের সামনে তুলে ধরার প্রয়াস চালাবে অবিরতভাবে। আড্ডা হোক শুদ্ধতায়, শিল্প আর সাহিত্যে ||
শৈলী.কম- মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফর্ম এবং ম্যাগাজিন। এখানে ব্লগারদের প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। ধন্যবাদ।

মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে। Login