শৈলী টাইপরাইটার

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর গল্পমালা: খুঁত ধরা ছেলে

বিলাতে চারিটি ভাই একদিন এক জায়গায় বসিয়া কথাবার্তা কহিতেছিলেন। তাহাদের আলাপের বিষয়, কে কি করিবে। সকলেরই মনে ইচ্ছা, একটা কিছু হওয়া চাই। সকলের ‘একটা কিছু’ত আর একরকম হয় না। তাই চার ভাই চাররকম কথা বলিল। একজন বলিল-‘আমি ইঁটের কারবার করিব। তাহাতে টাকা হইবে, আর ইঁট দিয়া আমার একখানা বাড়ি করিব।’ আর-একজন বলিল-‘দূর হ, তোর নেহাত […]

 শৈলী টাইপরাইটার

সুকুমার রায়ের নাটক: “ঝালাপালা”

জুড়ির গান সখের প্রাণ গড়ের মাঠ পড়ায় নাইকো মন অতি ডেঁপো দুকান কাটা কাউকে নাহি মানে গুরুমশাই টিকিওয়ালা জমিদারের বাড়ি ছাত্র দুটি করেন পাঠ – (সবাই) হচ্ছে জ্বালাতন ! ছাত্র দুটি বেজায় জ্যাঠা, (সবাই) ধর ওদের কানে ! নিত্যি যাবেন ঝিঙেটোলা (সেথা) আড্ডা জমে ভারি ! প্রথম দৃশ্য পণ্ডিত। (স্বগত) রোজ ভাবি জমিদারমশাইকে বলে কয়ে […]

 শৈলী টাইপরাইটার

সুকুমার রায়ের গল্প: “দাশুর কীর্তি”

দাশুর কীর্তি নবীনচাঁদ ইস্কুলে এসেই বলল, কাল তাকে ডাকাতে ধরেছিল । শুনে স্কুল সুদ্ধ সবাই হাঁ হাঁ করে ছুটে এল । ‘ডাকাতে ধরেছিল ? বলিস কিরে !’ ডাকাত না তো কি ? বিকাল বেলায় সে জ্যোতিলালের বাড়িতে পড়তে গিয়েছিল, সেখান থেকে ফিরবার সময় ডাকাতরা তাকে ধরে তার মাথায় চাঁটি মেরে, তার নতুন কেনা শখের পিরানটিতে […]

 শৈলী টাইপরাইটার

সুকুমার রায়ের নাটক: “অ বা ক জ ল পা ন”

অবাক জলপান [ ছাতা মাথায় এক পথিকের প্রবেশ, পিঠে লাঠির আগায় লোট-বাঁধা পুঁটলি, উস্কোখুস্কো চুল, শ্রান্ত চেহারা ] পথিক । নাঃ ‒ একটু জল না পেলে আর চলছে না । সেই সকাল থেকে হেঁটে আসছি, এখন‌‌ও প্রায় এক ঘণ্টার পথ বাকি । তেষ্টায় মগজের ঘিলু শুকিয়ে উঠল । কিন্তু জল চাই কার কাছে ? গেরস্তের […]

 শৈলী টাইপরাইটার

সুকুমার রায়ের গল্প: “হ য ব র ল”

গল্প: হ য ব র ল বেজায় গরম । গাছতলায় দিব্যি ছায়ার মধ্যে চুপচাপ শুয়ে আছি, তবু ঘেমে অস্থির । ঘাসের উপর রুমালটা ছিল ; ঘাম মুছবার জন্য যেই সেটা তুলতে গিয়েছি, অমনি রুমালটা বলল, ‘ম্যাও !’ কি আপদ ! রুমালটা ম্যাও করে কেন ? চেয়ে দেখি রুমাল তো আর রুমাল নেই, দিব্যি মোটা সোটা […]

 শৈলী টাইপরাইটার

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী: গুপি গাইন ও বাঘা বাইন

তোমরা গান গাইতে পার? আমি একজন লোকের কথা বলব, সে একটা গান গাইতে পারত। তার নাম ছিল গুপি কাইন, তার বাবার নাম ছিল কানু কাইন। তার একটা মুদীর দোকান ছিল। গুপি কিনা একটা গান গাইতে পারত, আর সে গ্রামের আর কেউ কিছু গাইতে পারত না, তাই তারা তাকে খাতির ক’রে বলত, গুপি ‘গাইন’। গুপি যদিও […]

 শৈলী টাইপরাইটার

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী: নরওয়ে দেশের পুরান

আমাদের দেশের পুরাণে যেমন দেবতা আর অসুরের গল্প আছে, পুরাতন নরওয়ে আর সুইডেন দেশের পুরাণেও তেমনি সব দেবতা আর অসুরের কথা লেখা আছে। নরওয়ের পুরাণে আছে, সেকালের আগে যখন পৃথিবী বা সমুদ্র বা বায়ু কিছুই ছিল না-তখন কেবল বিশ্ব-পিতা (All Father) ছিলেন। তাঁহাকে কেহ সৃষ্টি করে নাই, কেহ তাঁহাকে দেখিতে পায় না। তিনি যাহা চাহেন, […]

 শৈলী টাইপরাইটার

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: দেবদাস

প্রথম পরিচ্ছেদ একদিন বৈশাখের দ্বিপ্রহরে রৌদ্রেরও অন্ত ছিল না, উত্তাপেরও সীমা ছিল না। ঠিক সেই সময়টিতে মুখুয্যেদের দেবদাস পাঠশালা-ঘরের এক কোণে ছেঁড়া মাদুরের উপর বসিয়া, শ্লেট হাতে লইয়া, চক্ষু চাহিয়া, বুজিয়া, পা ছড়াইয়া, হাই তুলিয়া, অবশেষে হঠাৎ খুব চিন্তাশীল হইয়া উঠিল; এবং নিমিষে স্থির করিয়া ফেলিল যে, এই পরম রমণীয় সময়টিতে মাঠে মাঠে ঘুড়ি উড়াইয়া […]

 শৈলী টাইপরাইটার

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী: চড়াই আর কাকের কথা

চড়াই আর কাকের কথা কাক আর চড়াইপাখিতে খুব ভাব ছিল। গৃহস্থদের উঠানে চাটাই ফেলে ধান আর লঙ্কা রোদে দিয়েছে। চড়াই তা দেখে কাককে বললে, ‘বন্ধু, তুমি আগে লঙ্কা খেয়ে শেষ করতে পারবে, না আমি আগে ধান খেয়ে শেষ করতে পারব?’ কাক বললে, ‘না, আমি লঙ্কা আগে খাব।’ চড়াই বললে, ‘না, আমি ধান আগে খাব।’ কাক […]

 শৈলী টাইপরাইটার

কাজী নজরুল ইসলাম: অভিশাপ

যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে, অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে – বুঝবে সেদিন বুঝবে! ছবি আমার বুকে বেঁধে পাগল হয়ে কেঁদে কেঁদে ফিরবে মরু কানন গিরি, সাগর আকাশ বাতাস চিরি’ যেদিন আমায় খুঁজবে – বুঝবে সেদিন বুঝবে! স্বপন ভেঙে নিশুত্ রাতে জাগবে হঠাৎ চমকে, কাহার যেন চেনা-ছোওয়ায় উঠবে ও-বুক ছমকে, – জাগবে হঠাৎ […]

 শৈলী টাইপরাইটার

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী: জেলা আর সাত ভুত

এক জোলা ছিল সে পিঠে খেতে বড় ভালবাসত। একদিন সে তার মাকে বলল, ‘মা, আমার বড্ড পিঠে খেতে ইচ্ছে করছে,আমাকে পিঠে করে দাও।’ সেইদিন তার মা তাকে লাল-লাল, গোল-গোল, চ্যাপটা-চ্যাপটা সাতখানি চমৎকার পিঠে করে দিল। জোলা সেই পিঠে পেয়ে ভারি খুশি হয়ে নাচতে লাগল আর বলতে লাগল, ‘একটা খাব, দুটো খাব, সাত বেটাকেই চিবিয়ে খাব!’ […]

 শৈলী টাইপরাইটার

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী: পণ্ডিতের কথা

সেই যে হবুচন্দ্র গবুচন্দ্র মন্ত্রী ছিল, সেই হবুচন্দ্র রাজার একটা ভারি জবর পণ্ডিতও ছিল। তার এতই বুদ্ধি ছিল যে, তার পেটে অত বুদ্ধি ধরত না। তাই তাকে দিন রাত নাকে কানে তুলোর ঢিপ্‌লী গুঁজে বসে থাকতে হত, নইলে বুদ্ধি বেরিয়ে যেত। তুলোর ঢিপ্‌লী গুঁজত বলে নাম হয়েছিল ‘ঢিপ্‌লী’ পণ্ডিত। একদিন হয়েছি কি, হবুচন্দ্রের দেশের জেলেরা […]