রাজন্য রুহানি

প্রজন্মান্তরের বৃষ্টি

পুবের মেঘ পশ্চিমে যায় গো উত্তরের মেঘ দক্ষিণে মাঝখানে দৃষ্টিবাণবিদ্ধ ত্রিভঙ্গত্রাহি চাতকের চোখ উচাটন ভাবন হুতাশন ঘেরা এখন স্মৃতির সংসার অনুগতা বৃষ্টি আমারও ছিল একদা মক্করমগ্ন বয়ঃসন্ধি বিলাপে মেঘের কনিষ্ঠা কন্যা বৃষ্টি আকাশের বজ্রহুঙ্কারিত নিষেধ উপেক্ষা করে নাড়ির টান ছেড়ে বাড়ি পালানোর পরে  ঋতুমতী বর্ষায়  ফলনের বিশ্বাস  বার্তায় তখন বিগলন মাটির শরীরে সুহালে গর্ভবতী  হলে […]

 রাজন্য রুহানি

নির্বাসিত স্বপ্নমন্থন

শেষ বিকেলের বিষাদ ভেঙে তবু ছুটে আসে রেলগাড়ি; মনের নগরে তখন ব্যস্ততা চরম— এই বুঝি এলো ! সারাদিন চোখে চোখে ঘুরেফিরে চাতক পাখি যুগল পায়ের বন্দনা…………পথই শুধু শোনে ধুকপুক কলজে………………..পায় না বল যে আর ইঁদুরকেই বা কী দোষ দেওয়া যায় তখন মাঝরাতে যখন বেজে ওঠে তালপাতার বাঁশি বেহায়া………………………………বেশরম মৃদু হাওয়া এসে রহস্য করে হরদম চশমায় […]

 রাজন্য রুহানি

ইচ্ছেসৃষ্ট পথের কাঠগড়া

অজৈব বস্তুকণার জৈব-পরিক্রমণ সূক্ষ্ম স্পন্দনের সুঁতোয় গাঁথা আমার আমি সম্ভাবনার বরপুত্র অথবা ঈশ্বর বেঁচে-থাকা-মানচিত্রের অন্তর্চেতনা দেহকাণ্ডে তথ্য-চেতনার উৎসব নির্দেশে পন্ড কামনায় পুনরুজ্জীবিত ধারণা-সহায় রক্তে অজৈব অণুর জৈব-জাগরণ যোগ-বিয়োগে বাইনারি দেহ ইন্দ্রিয়রা এভাবে বস্তুকণার উপহার প্রয়োজন যা লিখে ভরাই তথ্য-ভান্ডারের পাতা প্রকাশ্য গোপন দেহ এবং মনের জাগতিক সংগ্রাম যাপনের রোজনামচা দৃশ্যমান ধারণায় আমার রসায়ন অক্ষম নিয়ন্ত্রণে […]

 রাজন্য রুহানি

ভাবসংগীত

নিজের ভিতর ডুব দিয়ে মন নিজেকে কর অন্বেষণ; তোরই হাতে সোনার চাবি খুললে তালা দেখতে পাবি অপরূপের দর্শন। জগতজোড়া ছুটছে ঘোড়া; লুটে করে নেয় ওই ছয়চোরা সম্পদ যত, নিঃস্ব হয়ে ছুটিস কোথা কার চরণে রাখিস মাথা বোকার মতো? দৃষ্টির ভিতর উঠলে রবি অদৃশ্যেরই দৃশ্য পাবি সিদ্ধ হবে জীবন।। ধর্ম ধর্ম করে সবাই; দিবানিশি ধর্মের দোহাই […]

 রাজন্য রুহানি

ফাঁদের ফায়দা

কী মন্তর দিয়া টান মারিলা আকাশে এখন মেঘের সাথে ভাসি; সরল বেলারা পন্ডিতি খেলায় তরলতায়, হাওয়ায় পাল্টি খেয়ে মাল্টিকালার মন নিয়ে যাই যতদূর— যেতে থাকি— হে অবাধ্য সূর্যকন্যা, দুরুদুরু আবল্যে বক্ষে আগল দিয়া আজ ফেরারি মনের বাৎস্যায়ন; ক্যান তার থাকিতে পারে কারণ, জানা নাই… মোডা ভাত মোডা কাপড়ের অভাবে কোনদিন ঘুমবউ নাগরের হাত ধরে হয়েছে […]

 রাজন্য রুহানি

পরাবৃত্তের জ্যামিতি

অজান্তে আকাশপ্রান্তে মায়াবী মেঘকুমারী দেখায় চাঁদের চাপল্য; ঘুমঘোর মনে পালাবদলের দিন এলে নাহয় আমিও পাখি হবো— পূর্ণদুপুর রোদে বাষ্পিত ঘামের ডানায় উড়ে যাবো বৃষ্টিভেজা বাসনায় যোজন যোজন দূর এদিকে পায়ের নূপুর কোনো এক প্রান্তের আকাশে ছড়ায় নিক্কন ফলে মেঘকুমারীর ধন তারল্য দোষে বর্ষণমুখর অযথা পাত্রে আকার পেয়ে যায় ধরিত্রীকেও কাঁদায়; কাঁধে কবেকার মেঘরৌদ্রের ঘানি— ঠাঁইহীন […]

 রাজন্য রুহানি

সংগ্রাম

আর একবার ঊর্ধ্বপানে তোল মুষ্টিবদ্ধ হাত আকাশ কেঁপে যাক থেমে যাক ইলেকট্রিক বাতাস কবেকার মরচে পড়া দরোজা ভেঙে পড়ুক নিমেষে টুইন টাওয়ারের মতো পাখিদের গানে না মুখরিত আনন্দ-বাজার না বসন্তের ওম দিয়ে কেনা জলপাইগুঁড়ো দিন অনুভূত না হোক রাতের আদর না পদ্য লেখা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চোখ মেলে ভোর দেখা নতজানু সিজদায় নতজানু […]

 রাজন্য রুহানি

খুঁজবো তাকে

যদি পূর্ণিমা চাঁদ লুকায় আঁধার-ফাঁকে, সেই আঁধারের বুকের ভিতর খুঁজবো তাকে। মিটিমিটি তারাগুলো বলবে কথা সরে যাবে ছিল যত দুঃখ-ব্যথা। যদি আকাশ ধরে রাখে মেঘের মেলা, আমার সাথে চলবে যে তার নীরব খেলা। বেঁচে থাকার মধুর সুরে চাইছি যাকে।। যদি আমার মনের মাঝে সুবাস ছড়ায় স্বপ্নগুলো সেই সুবাসে দু-হাত বাড়ায়, দিনে-রাতে খুঁজবো তাকে পথের বাঁকে।।

 রাজন্য রুহানি

বহ্নি আর আমি

চোখের জল বৃষ্টি হয়ে ফিরে এলে ক্বচিৎ কাঁকভেজা হয়ে দাঁড়াই মুখোমুখি— বহ্নি আর আমি। জানি, জলের ছোঁয়ায় লবণের লীন হওয়া বাসনা-রূপ পরস্পরের—একরত্তি ঘোরকে ঘুমন্ত রেখে তাই দুজনের মাঝখানে ডেকে আনি পড়শী-বিহ্বলতা—বিমুগ্ধ চন্দ্রাবতী সময় তবুও আঁচলের গিঁটে ভুতে পাওয়া পদাবলি বাতাসে এপাশ ওপাশ করে… ছুঁ-মন্তর দিলেই—জানি—ফারাক্কার বাধ ভেঙে যায় প্রবল বানের স্রোতে, প্লাবিত জ্যোৎস্নায় অথৈয়তা পাওয়া […]

 রাজন্য রুহানি

যাপনের জীবিত যাতনা

এপাড়ে বাসনাদের বাস শোষিত স্বরলিপি— অনাগত বিড়িপোড়া দিন তাঁতানো বালির বাড়ি— লেজ গুটানো দৌড় পালাই পালাই ওপাড়ে সোনাবন্দের সোনামাখা ত্বকে সোনালি ঝিলিক অধরকান্ত ভোর; ছিপজাল মনে মন্ত্র দিয়া জলসখ্যের সাধ চোখনদীর নাব্যপাড়ে গাছপাপড়ির উথালি বিথালি মনোহরণ ডাক প্রাণপুষ্টি দ্যোতনায় আমি যে সাঁতার জানি নে ও জাওলা… ও হারান মাঝি… ওপাড়ের পরশ পাথরিত রং যখন মুমূর্ষু […]

 রাজন্য রুহানি

বৃত্ত

বৃত্তের ব্যাসার্ধে কাটে আমার প্রাত্যহিক সময়। এ্যাকুরিয়ামের মাছ যেমন বন্দী দুঃসাধ্য বাক্সে, আমাকেও শক্ত শেকল পরায় ঘাতকের হন্তারক হাত। জানালার গ্রিল গলিয়ে বাষ্প হয় আকাশে কড়া দীর্ঘশ্বাস— আহা, মানুষ না হয়ে পাখি হলাম না কেন, একমাত্র পাখিরাই বোধহয় মুক্তমনে করে ওড়াউড়ি স্বপ্নচোখে উপভোগ করে স্বাধীনতা। নাকি, পাখিরাও অসহায় বন্দী জগতের বৃত্তে! (২১ মে ১৯৯৯ তারিখে […]

 রাজন্য রুহানি

বসন্ত শেষের বেলায়

ফুল তুলে মালা গেঁথে যে ভুল করেছি ভুলটা ঘুচাতেই আবার মালা গেঁথেছি; বসন্ত শেষের বেলায় সখি, প্রাণেরই খেলায়। দোলাচলে পড়ে নিজেরে হারাইছি। আকাশটা জানে না তো বৃষ্টি কারে কয়, মাটির বুকেতে বৃষ্টির স্রোতধারা বয়। সেই ধারাতে আঁখিজল মিশে যায় যদি দোষ কি বলো তাতে হয়ে গেলে নদী; জলের নদী ঢেউ উথাল, হাল নাই নাওয়ের, নাইও […]